১০ অক্টোবর ২০২৬

পিটিআই ঠেকাতে ইসলামাবাদ এখন ‘কনটেইনারাবাদ’

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
পিটিআই ঠেকাতে ইসলামাবাদ এখন ‘কনটেইনারাবাদ’

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন সাধারণ কোনো শহর নয়, সাধারণ মানুষের ভাষায় এর নতুন নাম দাঁড়িয়েছে ‘কন্টেইনারাবাদ’। রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও বিরোধী দলের দীর্ঘযাত্রা (লং মার্চ) ঠেকাতে সরকারের বসানো হাজার হাজার ভারী শিপিং কন্টেইনারের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো রাজধানী। এতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আর প্রতিদিন কোটি কোটি রুপির আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

পরিবহন সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইসলামাবাদের সড়ক অবরোধে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ভারী কনটেইনার ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর অনেকগুলোই ব্যক্তিমালিকানাধীন ট্রাক ও কনটেইনার। আবার কিছু কনটেইনার বিদেশি শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের সড়কে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ভারী কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। প্রায় চার টন ওজনের এসব কনটেইনারের কিছুতে বালু ভরে ভারী করা হয়েছে, যাতে সহজে সরানো না যায়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে এমন পরিস্থিতি চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেইনারে ঘেরা ইসলামাবাদকে অনেকে ‘কনটেইনারাবাদ’ নামেও অভিহিত করছেন।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পরিকল্পিত ইসলামাবাদমুখী মিছিলকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। দলটি প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলেও পরে তা পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করে। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিও দলটির কর্মসূচির অন্যতম বিষয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির তারিখ বিবেচনায় নিয়ে নয়, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে এই নিরাপত্তাব্যবস্থার অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

উত্তরমুখী ট্রাক চলাচল বন্ধ

কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহন খাতে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে কর্তৃপক্ষ ২ হাজারের বেশি যানবাহন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসব গাড়ির অনেকগুলোতেই তখন পণ্য ছিল।

এতে ট্রাকচালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ বা পাঞ্জাবের দিকে গেলে তাদের গাড়ি ও কনটেইনারও জব্দ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক চালক উত্তরমুখী যাত্রা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, জেহলাম, পেশোয়ার ও অ্যাটকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এর প্রভাব পড়েছে। কোনো কোনো পরিবহনকারী বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যাত্রা থামিয়ে দিচ্ছেন। এতে ট্রাকচালকদের আয় কমার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে।

দিনের পর দিন ট্রাক আটকে থাকায় চালকদের স্বাভাবিক আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে মালিকদের। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরাও।

করাচি বন্দরে জমছে কনটেইনার

রাজধানীর সড়ক অবরোধের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে করাচি বন্দরে। ইসলামাবাদমুখী পথে কনটেইনার জব্দ হওয়ার আশঙ্কায় ট্রাকচালকদের একটি অংশ উত্তর দিকে যাওয়া বন্ধ রাখায় বন্দরে পণ্যবোঝাই কনটেইনারের জট তৈরি হচ্ছে।

এর ফলে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহনকারীদের ব্যয়ও বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জব্দ থাকা একটি কনটেইনারের জন্য প্রতিদিন ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত ডেমারেজ দিতে হতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছাতে না পারার ক্ষতি এবং ট্রাক অলস পড়ে থাকার ব্যয়। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থার আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত পরিবহন ব্যবসা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর গিয়ে পড়ছে।

বাড়ছে পরিবহন ব্যয়ের চাপ

পাকিস্তানের পরিবহন খাত এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে রয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে পরিবহন মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ রুটে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিবহনকারীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। চালকদের আয় কমার পাশাপাশি অলস ট্রাকের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে গাড়ির মালিকদের। পণ্য পরিবহনে বিলম্বের কারণে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

শুধু পরিবহন নয়, ক্ষতি নগর অর্থনীতিতেও

অর্থনীতি ও নগর ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর এই অচলাবস্থার ক্ষতি কেবল কন্টেইনার ভাড়া বা সরাসরি পরিবহন খাতের লোকসানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজধানীর ব্যবসা, পর্যটন ও বিনিয়োগ পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ে।

সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, একটি দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র দীর্ঘদিন অচল থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন ও সার্বিক বাজার ব্যবস্থার ওপর তার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি মিলে পাকিস্তানের অন্যতম বড় মহানগর অঞ্চল। নগরবিষয়ক গবেষক ড্যানিয়াল আদম খানের মতে, রাজধানীর যোগাযোগ ও ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হলে এর প্রভাব দেশের অন্য অঞ্চলগুলোর সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে কনটেইনারগুলো এখন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ঠেকানোর ব্যারিকেড নয়, রাজধানীর দৈনন্দিন জীবনেরও অংশ হয়ে উঠেছে। তরুণ পার্কুর ও ক্যালিসথেনিকস খেলোয়াড় মুজাদ্দাদ আসরার সেসব কনটেইনারের ওপর কসরতের ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, প্রতিবছরই কোনো না কোনো সময় ইসলামাবাদে কনটেইনার আসে—এ কারণেই অনেকে মজা করে রাজধানীটিকে এখন ‘কনটেইনারাবাদ’ বলে ডাকছেন।

তবে কনটেইনারের ওপর কসরত করা তরুণদের কাছে এটি নিছক বিনোদন হলেও, সেগুলোর পাশে দিনের পর দিন অপেক্ষা করা ট্রাকচালকদের কাছে এটি জীবিকা ও অনিশ্চয়তার গল্প।

কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে বহুজাতিক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার মদিনাত আশ শামাল থেকে ৯৪ কিলোমিটার (৫৮ মাইল) উত্তরে সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। ইউকেএমটিও এই ঘটনায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত জাহাজটি কোন দেশের সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় বা পশ্চিমাংশে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ। কাতার তাদের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘটা এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, যা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করত। তবে যুদ্ধের পর ইরান প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে এবং ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরে অবরোধ বজায় রাখে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে ৯টি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের মোট আক্রমণের প্রায় অর্ধেক। তথ্য সংস্থা কেপলারের মতে, এসব হামলা সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ে ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ! দেওয়া হলো ১ মাসের সময়সীমা

ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ! দেওয়া হলো ১ মাসের সময়সীমা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬

গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে কাতারের ড্রাইভিং স্কুলগুলোর জন্য নতুন ও কঠোর নিয়মকানুন প্রবর্তন করেছে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (MoCI)। ২০০৮ সালের ৮ নম্বর ভোক্তা সুরক্ষা আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ড্রাইভিং স্কুল এবং প্রশিক্ষণার্থী বা গ্রাহকদের মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল করা।

নতুন নীতিমালার মূল দিকসমূহ:

  • লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক: সেবা প্রদানের জন্য স্পষ্ট ও লিখিত চুক্তি ছাড়া কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না ড্রাইভিং স্কুলগুলো।

  • প্রশিক্ষণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ: চুক্তির মধ্যে অবশ্যই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরুর প্রকৃত তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • পারমিট নম্বর প্রাপ্তির সুযোগ: সাধারণ ডাইরেক্টরেট অব ট্রাফিক (General Directorate of Traffic) কর্তৃক ইস্যুকৃত পারমিট নম্বর যেন গ্রাহকরা সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সময়সীমা ও নজরদারি:

নিয়ম লঙ্ঘনকারী ড্রাইভিং স্কুলগুলোকে তাদের বর্তমান অবস্থা সংশোধন এবং নতুন শর্তাবলী মেনে চলার জন্য নোটিশ জারির তারিখ থেকে এক মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, কাতার জুড়ে মাঠপর্যায়ে বিশেষ পরিদর্শণ অভিযান পরিচালনা করবে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চলছে কি না তা যাচাই করা যায়।

কোনো ড্রাইভিং স্কুল নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো অনিয়ম দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অভিযোগ বা তথ্যের জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ১৬০০১ নম্বরে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অফিশিয়াল পেজে যোগাযোগ করা যাবে।

সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত

কাতারে বাংলাদেশি কর্মী ফখরুল ইসলামকে সম্মাননা জানালেন পৌরসভা মন্ত্রী

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশি কর্মী ফখরুল ইসলামকে সম্মাননা জানালেন পৌরসভা মন্ত্রী

কাতারের পৌরসভামন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন হামাদ বিন আবদুল্লাহ আল আত্তিয়াহ-এর কাছ থেকে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফখরুল ইসলাম দুদু। সিলেটের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম কাতারের পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের পরিচ্ছন্নতা বিভাগে কর্মরত।

ফখরুল ইসলামের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৮ নং ঝিঙ্গাবাড়ি ই্উনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাখাইরপাড় গ্রামে। তার বাবার নাম লাল মিয়া।

কাতারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিবেশ বিষয় সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন ফখরুল ইসলাম। এই বিশেষ অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা জানান কাতারি মন্ত্রী।

কাতার পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের প্রচেষ্টা ও প্রতিভার স্বীকৃতি দেওয়ার অংশ হিসেবেই এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের নিজস্ব দক্ষতা ও প্রতিভা তুলে ধরতে এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করাও এর উদ্দেশ্য।

কাতারের পরিচ্ছন্নতা বিভাগে কর্মরত একজন বাংলাদেশি হিসেবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে নিজের প্রতিভা তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পাওয়া ফখরুল ইসলাম দুদুর জন্য যেমন বিশেষ অর্জন, তেমনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এটি আনন্দের খবর।

২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে প্রস্তুত কাতার: ৯৫ শতাংশ অবকাঠামো আগেই তৈরি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে প্রস্তুত কাতার: ৯৫ শতাংশ অবকাঠামো আগেই তৈরি

ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে এবার অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস ২০৩৬ আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে কাতার। বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়াযজ্ঞ দোহায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশটি তাদের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ক্রীড়া অবকাঠামো এবং দক্ষ সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই বিড বা দরপ্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

২০৩০ এশিয়ান গেমস: প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা

কাতারের অলিম্পিক যাত্রায় পরবর্তী বড় মাইলফলক হতে চলেছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ। আসন্ন এশিয়ান গেমস দেশটির অবকাঠামো ও সাংগঠনিক কাঠামোর সার্বিক প্রস্তুতি এবং মহাদেশীয় পর্যায়ের বৃহৎ পরিসরের প্রতিযোগিতা আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি চমৎকার ব্যবহারিক পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। এশিয়ান গেমসের এই আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এশিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিল এবং ক্রীড়া সম্প্রদায়ের সেই আস্থারই প্রতিফলন, যা কাতারের ওপর প্রতিনিয়ত বজায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির স্বীকৃতি ও জোয়ান বিন হামাদের নেতৃত্ব

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩৬ সালের গেমস আয়োজনে আগ্রহী দেশগুলোর তালিকায় কাতারের অন্তর্ভুক্তি এই বিডের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। কাতারের এই উদ্যোগ কেবল একটি একক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের চেয়ে অনেক বড়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং বিড কমিটির চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সাথে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।

বিদ্যমান অবকাঠামো ও অপারেশনাল প্রস্তুতি

কাতারের অলিম্পিক বিডের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর উন্নত ক্রীড়া ইকোসিস্টেম। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেমস আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশই ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ভেন্যু, আধুনিক স্টেডিয়াম, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জলক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং অ্যাথলেটিক্স ও দলগত ক্রীড়ার উন্নত সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি আবাসন, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, সড়ক ও পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং লজিস্টিক সেবার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে কোনো অলিম্পিক সিটি বা অবকাঠামো শূন্য থেকে গড়ে তোলার পরিবর্তে, বিদ্যমান অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার ও রূপান্তরই এই বিডের মূল ভিত্তি।

আরব বিশ্বের সর্বাত্মক সমর্থন

কাতারের এই অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক বিড কেবল প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক শক্তির ওপরই দাঁড়িয়ে নেই, বরং এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরব লীগ কাউন্সিলের মন্ত্রিপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন। এই আঞ্চলিক সমর্থন কাতারের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকারকে সাথে নিয়ে এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের মাধ্যমে কাতার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনার পথে রয়েছে।

সৌদির নিরাপত্তায় মক্কা জোটকে সমর্থন, কাতার-ইরান বৈঠক সম্পন্ন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সৌদির নিরাপত্তায় মক্কা জোটকে সমর্থন, কাতার-ইরান বৈঠক সম্পন্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপ ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। সংঘাত নিরসন ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতার যৌথভাবে দুটি পরাশক্তির মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-হাশেমি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি অগ্রগতির ভিত্তি তৈরির চেষ্টা চলছে, যার ওপর ভর করে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, দুই পক্ষের মধ্যে দোহার এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে এবং কোনো পর্যায়েই তা বন্ধ হয়নি।

ইতোমধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি কাতার সফর করছেন। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ছাড়াও স্পর্শকাতর সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময় ভূপাতিত ইরানি বিমান ও পাইলটদের উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল দোহায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।

এদিকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি প্রসঙ্গে কাতারি মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপকে কাতার স্বাগত জানায়। এ প্রসঙ্গে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত ‘মাক্কাহ অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্স’ বা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। রিয়াদের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সৌদি সরকারের নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপের প্রতি দোহার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।