১০ অক্টোবর ২০২৬

হাতির মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
হাতির মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি

কফি মানেই সুগন্ধ আর স্বাদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে পৃথিবীতে এমন কিছু কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম ‘ব্ল্যাক আইভরি’ ও ‘কোপি লুওয়াক’, যেগুলো যথাক্রমে হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া কফি বিন প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয়।

থাইল্যান্ডে তৈরি হয় ‘ব্ল্যাক আইভরি কফি’। এ কফি তৈরির জন্য আরাবিকা কফি চেরি হাতির খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। হাতি খাবারটি খাওয়ার প্রায় ১৫ থেকে ১৭ ঘণ্টা পর মলত্যাগ করে। পরে সেই মল সংগ্রহ করে সেখান থেকে কফির বিন আলাদা করা হয়। এরপর বিনগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় বিশেষ এই কফি।

দাবি করা হয়, হাতির পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কফি বিনে থাকা কিছু উপাদানের পরিবর্তন ঘটে। এতে কফির তেতোভাব তুলনামূলক কমে এবং মাটির গন্ধের পাশাপাশি চকলেট ও ক্যারামেলের মতো স্বাদের অনুভূতি পাওয়া যায়।

তবে এই কফির দামই একে আরও আলোচিত করেছে। প্রতি কেজি ব্ল্যাক আইভরি কফির দাম প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এক কাপ কফির দামও কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। উচ্চমূল্যের অন্যতম কারণ হলো, হাতির মল থেকে কফি বিন আলাদা করার পুরো প্রক্রিয়াটি শ্রমসাধ্য এবং এতে খুব অল্প পরিমাণে উপযোগী বিন পাওয়া যায়।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় জনপ্রিয় ‘কোপি লুওয়াক’ তৈরি হয় এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের মল থেকে। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে বোঝানো হয় গন্ধগোকুলকে। দেখতে বিড়ালের মতো হলেও প্রাণীটি আসলে বিড়াল নয়; এটি একটি নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী।

গন্ধগোকুল কফি গাছের পাকা ফল খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে ফেলে। তবে কফি বীজ পুরোপুরি হজম হয় না। প্রাণীটির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের প্রভাবে ওই বীজের স্বাদ ও গন্ধে পরিবর্তন আসে বলে মনে করা হয়। পরে মল সংগ্রহ করে সেখান থেকে কফি বিন আলাদা, পরিষ্কার ও শুকিয়ে ভাজা হয়। এরপর সেগুলো গুঁড়ো করে তৈরি করা হয় ‘কোপি লুওয়াক’।

আন্তর্জাতিক বাজারে কোপি লুওয়াকের দাম প্রতি পাউন্ড কয়েকশ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিরলতা, উৎপাদনের জটিলতা এবং বিশেষ স্বাদের কারণে এ কফি বিশ্বের অন্যতম দামি কফি হিসেবে পরিচিত।

হাতির মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
হাতির মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি

কফি মানেই সুগন্ধ আর স্বাদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে পৃথিবীতে এমন কিছু কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম ‘ব্ল্যাক আইভরি’ ও ‘কোপি লুওয়াক’, যেগুলো যথাক্রমে হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া কফি বিন প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয়।

থাইল্যান্ডে তৈরি হয় ‘ব্ল্যাক আইভরি কফি’। এ কফি তৈরির জন্য আরাবিকা কফি চেরি হাতির খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। হাতি খাবারটি খাওয়ার প্রায় ১৫ থেকে ১৭ ঘণ্টা পর মলত্যাগ করে। পরে সেই মল সংগ্রহ করে সেখান থেকে কফির বিন আলাদা করা হয়। এরপর বিনগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় বিশেষ এই কফি।

দাবি করা হয়, হাতির পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কফি বিনে থাকা কিছু উপাদানের পরিবর্তন ঘটে। এতে কফির তেতোভাব তুলনামূলক কমে এবং মাটির গন্ধের পাশাপাশি চকলেট ও ক্যারামেলের মতো স্বাদের অনুভূতি পাওয়া যায়।

তবে এই কফির দামই একে আরও আলোচিত করেছে। প্রতি কেজি ব্ল্যাক আইভরি কফির দাম প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এক কাপ কফির দামও কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। উচ্চমূল্যের অন্যতম কারণ হলো, হাতির মল থেকে কফি বিন আলাদা করার পুরো প্রক্রিয়াটি শ্রমসাধ্য এবং এতে খুব অল্প পরিমাণে উপযোগী বিন পাওয়া যায়।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় জনপ্রিয় ‘কোপি লুওয়াক’ তৈরি হয় এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের মল থেকে। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে বোঝানো হয় গন্ধগোকুলকে। দেখতে বিড়ালের মতো হলেও প্রাণীটি আসলে বিড়াল নয়; এটি একটি নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী।

গন্ধগোকুল কফি গাছের পাকা ফল খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে ফেলে। তবে কফি বীজ পুরোপুরি হজম হয় না। প্রাণীটির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের প্রভাবে ওই বীজের স্বাদ ও গন্ধে পরিবর্তন আসে বলে মনে করা হয়। পরে মল সংগ্রহ করে সেখান থেকে কফি বিন আলাদা, পরিষ্কার ও শুকিয়ে ভাজা হয়। এরপর সেগুলো গুঁড়ো করে তৈরি করা হয় ‘কোপি লুওয়াক’।

আন্তর্জাতিক বাজারে কোপি লুওয়াকের দাম প্রতি পাউন্ড কয়েকশ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিরলতা, উৎপাদনের জটিলতা এবং বিশেষ স্বাদের কারণে এ কফি বিশ্বের অন্যতম দামি কফি হিসেবে পরিচিত।

যে ভুলগুলো শুষে নিচ্ছে আপনার সারাদিনের শক্তি

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
যে ভুলগুলো শুষে নিচ্ছে আপনার সারাদিনের শক্তি

সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে পুরো দিনটি কতটা প্রাণবন্ত কাটবে। অনেকেই আছেন যারা ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই এক চরম ক্লান্তি অনুভব করেন এবং সারা দিনই এক ধরনের অবসাদ ভর করে থাকে। বাইরে থেকে একে সাধারণ অলসতা মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এর পেছনে দায়ী আমাদের সকালের কিছু ভুল অভ্যাস, যা অলক্ষ্যেই শরীরের ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দকে ওলটপালট করে দিচ্ছে।

কিডনির ওপর অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই কর্টিসল হরমোন আমাদের ঘুম থেকে ওঠা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি উৎপাদনের প্রধান নিয়ামক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু এই সময়েই আমরা এমন কিছু ভুল করে বসি, যা আমাদের অজান্তেই ক্লান্তির দিকে ঠেলে দেয়।

ওজনের ভয়ে শর্করাকে ‘না’ বলা

আজকাল ওজন কমানোর হিড়িকে অনেকেই সকালের খাবার থেকে ভাত বা রুটির মতো শর্করা পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি একটি বড় ভুল। পরিমিত শর্করা শরীরে ‘সেরোটোনিন’ হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে ভালো ঘুমে ভূমিকা রাখে। তাই সকালের খাবার থেকে শর্করা পুরোপুরি ছেঁটে না ফেলে সুষম খাবার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

নাশতা ফাঁকি দিয়ে কফি বা ধূমপান

অনেকেরই সকাল শুরু হয় স্রেফ এক কাপ কফি কিংবা ধূমপানের অভ্যাসে। পুষ্টিকর নাশতা না খেয়ে ক্যাফেইন বা নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করালে কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে আটকে থাকে। এর ফলে মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পেটের চারপাশে চর্বি জমার পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।

ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও খালি পেটে শুধু ফল খাওয়া কিংবা ওজনের ভয়ে ফল পুরোপুরি এড়িয়ে চলা—দুটিই ক্ষতিকর। ফলের প্রাকৃতিক চিনি খালি পেটে দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সকালের নাশতায় ফলের সাথে প্রোটিন, আঁশ বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখা উচিত, যাতে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ক্লান্তিহীন দিনের জন্য করণীয়

সকালের এই ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার পাশাপাশি সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে প্রয়োজন কিছু ছোট সচেতনতা। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস এবং সকালের সময়টায় পরিবারের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা কর্টিসল হরমোনকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কঠোর নিয়মের বেড়াজালে না জড়িয়ে প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অভ্যাসই আপনাকে দিতে পারে একটি ক্লান্তিহীন ও প্রাণবন্ত দিন।

মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত কুনাফা তৈরির সহজ উপায়

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত কুনাফা তৈরির সহজ উপায়

মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মিষ্টান্নগুলোর মধ্যে কুনাফা অন্যতম। মচমচে কুনাফা, নরম চিজের স্তর আর সুগন্ধি সিরার মিশ্রণে তৈরি এই মিষ্টি স্বাদে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অতিথি আপ্যায়নেও হতে পারে দারুণ একটি পদ। খুব সহজ কিছু উপকরণ দিয়েই ঘরে তৈরি করা যায় কুনাফা।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • কুনাফা/কাদায়েফ সেমাই – ২৫০ গ্রাম
  • মোজারেলা বা কুনাফা চিজ – ২০০ গ্রাম
  • মাখন – ১০০ গ্রাম
  • গুঁড়া দুধ – ২ টেবিল চামচ
  • পেস্তা বা কাজুবাদাম কুচি – পরিমাণমতো

সিরা তৈরির জন্য

  • চিনি – ১ কাপ
  • পানি – আধা কাপ
  • লেবুর রস – ১ চা চামচ
  • গোলাপজল – সামান্য, চাইলে

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে একটি পাত্রে চিনি ও পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিতে হবে। চিনি পুরোপুরি গলে গেলে লেবুর রস দিয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন। চাইলে শেষে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে সিরাটি ঠান্ডা করে রাখতে পারেন।

এরপর কুনাফার সেমাই হাত দিয়ে ছোট ছোট করে ভেঙে নিন। এর সঙ্গে গলানো মাখন ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, যাতে প্রতিটি সেমাইয়ে মাখন ভালোভাবে লাগে।

এবার একটি বেকিং ট্রে বা ওভেন-উপযোগী পাত্রে মাখন মাখিয়ে তার ওপর অর্ধেক কুনাফা সেমাই সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। হাত বা চামচ দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে স্তরটি ভালোভাবে বসিয়ে দিন।

এর ওপর মোজারেলা বা কুনাফা চিজ সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। এরপর বাকি সেমাই দিয়ে চিজের স্তরটি পুরোপুরি ঢেকে আবার হালকা চাপ দিন।

বেক করার পদ্ধতি

আগে থেকে গরম করা ওভেনে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ২৫–৩০ মিনিট বেক করুন। ওপরের অংশ সোনালি ও মচমচে হয়ে এলে বের করে নিন।

ওভেন থেকে বের করার পর গরম কুনাফার ওপর ঠান্ডা বা হালকা গরম সিরা ঢেলে দিন। কিছুক্ষণ রেখে ওপর থেকে পেস্তা বা কাজুবাদাম কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

কুনাফার আসল আকর্ষণ হলো এর মচমচে বাইরের স্তর ও ভেতরের নরম চিজ। তাই সেমাইয়ের সঙ্গে মাখন ভালোভাবে মেশানো এবং অতিরিক্ত সিরা না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশনের সময় চাইলে সামান্য পেস্তা কুচি দিয়ে সাজালে দেখতে আরও আকর্ষণীয় হবে।

ঘরে তৈরি এই কুনাফা গরম গরম পরিবেশন করলে সবচেয়ে ভালো লাগে। চাইলে পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ কোনো আয়োজনেও এটি সহজেই তৈরি করতে পারেন।