১ নভেম্বর ২০২৬

দেশ থেকে টাকা পাচার করে কাতারে শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান হান্নান

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
দেশ থেকে টাকা পাচার করে কাতারে শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান হান্নান

বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে কাতারের শীর্ষ ব্যবসায়ী বনে গেছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নান।

একই সঙ্গে সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিও পেয়েছেন। কানাডা, দুবাই ও কাতারে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য মিলেছে।

কাতারে রয়েছে ট্রাভেল চ্যানেল ও ট্যুরস নামে একটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নানা অভিযোগে সম্প্রতি কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নান। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

গোয়েন্দা সূত্রে সংস্থাটি জানতে পারে, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে নিয়ে গিয়ে সেই দেশে বিনিয়োগ করে শীর্ষ ব্যবসায়ীর তালিকায় উঠেছেন শেখ আবদুল হান্নান। গত বছরের ২৭ জুলাই শেখ আবদুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শেখ আবদুল হান্নান ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও রয়েছে। তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে আবদুল হান্নানের কাতারের কিছু নথি ও ছবি এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। রেসিডেন্সি পারমিটে ‘ঝযধরশয অনফঁষ ঐধহহধহ’ নামটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে তার জন্ম তারিখ ১ জুন ১৯৬৩। সেখানে তার পেশা আরবি ভাষায় ‘মুহান্দিস মাশরু’ লেখা, এর অর্থ প্রকল্প প্রকৌশলী। নিয়োগকর্তা হিসেবে একটি ব্যবসা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কথা রয়েছে। পারমিটটির মেয়াদ ছিল ১৪ জুন ২০২৫ পর্যন্ত। তার পাসপোর্টের মেয়াদ ২০৩৪ সাল পর্যন্ত রয়েছে। আরেকটি ন্যাশনাল অ্যাড্রেস সার্টিফিকেটে একই নাম ও একই আইডি নম্বর দেখা যায়। এটি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট ইস্যু করা হয়েছিল এবং এর মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। ঠিকানা হিসেবে দোহার আল ফুরুসিয়া এলাকার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া দোহায় তার ‘ট্রাভেল চ্যানেল অ্যান্ড টুরস’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির ছবিও পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির সামনে ঢাকা-দোহা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নানই বলে জানিয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে অর্জিত সম্পদ থেকে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগটি আইন ও বিধি মোতাবেক তদন্ত করা হচ্ছে। কাতারের সম্পদ বা ব্যবসার উৎসও খোঁজা হচ্ছে।

দুদকের অনুসন্ধানে শেখ আবদুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদার নামে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭১৭ টাকার। তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়।

এ ছাড়া আদালতের আদেশে শেখ আবদুল হান্নান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এসব হিসাবের মধ্যে আবদুল হান্নানের পাঁচটি, ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের নামে একটি এবং স্ত্রী তাহমিদা বেগমের নামে ৩২টি হিসাব রয়েছে। ওই সময় এসব হিসাবে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩২২ টাকা ছিল। দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা জানান, তাহমিদার কানাডার ভিজিটর (ই-১) ভিসার তথ্য পাওয়া গেছে।

ভিসাটি ২০২২ সালে সিঙ্গাপুরে ইস্যু করা হয়েছিল এবং এর মেয়াদ ছিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত। শেখ আবদুল হান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কানাডা, দুবাই ও কাতারে সম্পদ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিদেশে থাকা অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহে চলতি বছরের ২৩ মে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে এবং ২১ জুন পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিদেশে সম্পদ অর্জন এবং দেশে অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগে গত বছরের ৫ মে শেখ আবদুল হান্নান ও তার পরিবারের তিন সদস্যের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

পরদিন ৬ মে তার জমি, ফ্ল্যাট, ভবন ও ব্যাংক হিসাব জব্দ বা অবরুদ্ধ করার বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে খিলক্ষেতের একটি ছয় তলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় থাকা ৬৯৯ ও ৮২৩ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুর ডিওএইচএসের ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরে একটি আবাসন প্রকল্পে নির্মাণাধীন সাত তলা একটি ভবন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

দুদক জানায়, গত ১৫ অক্টোবর কাতারে শেখ আবদুল হান্নানের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার আবদুল হান্নানকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। জানা যায়, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কমিশন পাওয়া শেখ আবদুল হান্নান ২০২১ সালের ১২ জুন বিমানবাহিনীর ১৬তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।

২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের ভালোবাসার গল্পে নির্মিত ‘সনদ’: ঢাকা থেকে লন্ডন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত কাতারি চলচ্চিত্র
প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং অমলিন ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কাতারি প্রখ্যাত নির্মাতা নূর আল-নাসর (Noor al-Nasr) পরিচালিত এই ছবিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছে।

লন্ডন থেকে ঢাকা: বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার

কাতারি এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ এবং সুইডেনের ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Best Short Film) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ লাভ করেছে সেরা চিত্রনাট্যের (Best Screenplay) পুরস্কার।

এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিংভাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিংভাল এবং বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (Dhaka International Film Festival) পর্দায় প্রদর্শিত হয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এটি। নিজ দেশ কাতারেও এটি জনপ্রিয় ‘আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিংভাল’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হয়।

কী গল্প বলছে ‘সনদ’?

আরবি ‘সনদ’ শব্দটির অর্থ হলো ‘আস্থা বা ভরসার জায়গা’— যে প্রতিকূল সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায়। ছবির মূল গল্পটি আবর্তিত হয়েছে আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গল্প ঘিরে।

একটি সামান্য ও নির্দোষ প্র্যাংক বা কৌতুক কীভাবে আস্তে আস্তে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং শেষপর্যন্ত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাদের রক্তের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়— তা-ই এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাস্যরস, টানটান উত্তেজনা এবং আবেগের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি তুলে ধরেছে যে ভাইয়ে-ভাইয়ে যত দ্বন্দ্বই থাকুক না কেন, বিপদের দিনে ভাইয়ের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই মূল স্তম্ভ।

পরিচালকের অনুভূতি

পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই অর্জন পুরো টিমের। ছবির দক্ষ অভিনয়শিল্পী, ক্রু সদস্য এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (DFI)-এর অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের জন্যই আজ বিশ্বজুড়ে এই গল্পটি এত মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে।”

‘সনদ’-এর এই বিপুল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাতারি চলচ্চিত্র শিল্প ও গল্প বলার ধারাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির পর কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে এক ইরানি প্রতিনিধিদল। কাতারের একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আল-আরাবি আল-জাদিদের প্রতিবেদনে এক ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির একজন উপপ্রতিনিধিসহ পুরো প্রতিনিধিদলটি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে দোহায় অবস্থান করছে।

তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদলের নিবিড় আলোচনার পরই এই সাফল্য আসে, যার ভিত্তিতে ইরানি আলোচক দল কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গেই দোহায় ফিরে যায়। সংবাদমাধ্যমটিকে ওই ইরানি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা কোনও সরাসরি প্রক্রিয়ায় নয়, বরং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোহায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলও যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমনকি দোহায় পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ইরানি আলোচকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল এবং তেহরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা সংক্রান্ত প্রাথমিক বিষয়াবলীতে ঐকমত্য হতে পারে, যা উভয় পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পুনরারম্ভের পথ দেখাবে।

এ ছাড়া এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চীন ও রাশিয়া গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা 'কাতারএনার্জি' (QatarEnergy) নভেম্বর ২০২৬ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন বাজারদর ঘোষণা করেছে।

নতুন নির্ধারিত এই তালিকায় দেখা গেছে, চলতি মাসে প্রিমিয়াম পেট্রোল, সুপার পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি; অর্থাৎ অক্টোবর মাসের দরই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নভেম্বর ২০২৬ মাসের জ্বালানি তেলের নির্ধারিত মূল্য:

  • প্রিমিয়াম পেট্রোল (91): ১.৯৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • সুপার পেট্রোল (95): ২.১০ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • ডিজেল: ২.০৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

মাসের প্রথম দিন থেকেই কাতারের সমস্ত ফিলিং স্টেশন বা পেট্রোল পাম্পগুলোতে এই নতুন মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারএনার্জি প্রতি মাসের শেষে পরবর্তী মাসের জন্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রতি বছরের ন্যায় আজ ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শহর দিবস ২০২৬’ (World Cities Day 2026)। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন”।

দ্রুত নগরায়ণ ও দূরদর্শী আবাসন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে দেশজুড়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ আশগাল।

আবাসিক এলাকাগুলোর ব্যাপক আধুনিকায়ন

আশগালের প্রজেক্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর প্রকৌশলী খালিদ সাইফ আল-খায়ারীন কাতার নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, কাতারের বিভিন্ন আবাসন অঞ্চলগুলোতে নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

বর্তমানে ওয়েস্ট উম্মে সালাল, আল ইব, আল সুমামা, আল ওয়াব, আল মেশাফ, আল মামুরা, দক্ষিণ-পশ্চিম মুয়াইদার, আল খারাইতিয়াত এবং রওজাত আল হামামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন ও পুরোনো সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন এবং পাবলিক সার্ভিস আধুনিকায়নের কাজ জোরকদমে চলছে।

টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল ক্ষেত্রসমূহ:

স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: আশগালের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৭৫ শতাংশেরই যোগান দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় দেশীয় শিল্প থেকে, যা আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

পুনর্ব্যবহার ও সৌরশক্তি: নির্মাণকাজে তোলাপাথর, কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা হচ্ছে এবং প্রজেক্ট সাইট ও সাইনবোর্ডে ব্যাপকভাবে সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানি জমার সমস্যা সমাধানে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও পাম্পিং স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত পানি উন্নয়ন কাজে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিরাপদ পদচারণ ও সাইকেলিং: নাগরিক জীবনে সুস্থ অভ্যাসের অংশ হিসেবে এলাকাগুলোতে নিরাপদে হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক ও সবুজ পার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

আগামী ৫ বছরে ৩৩ হাজার প্লটে উন্নয়ন প্রকল্প

‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে আশগাল।

আগামী ৫ বছরের মহাপরিকল্পনার আওতায় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৩,০০০ আবাসিক প্লটে সুনির্দিষ্ট নাগরিক সুবিধা ও সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি মেগা রোড ও অবকাঠামো প্রজেক্টের দরপত্র (Tender) আহ্বান করা হবে। কাজের গতি বৃদ্ধি ও নির্ভুল নগর পরিকল্পনার জন্য আশগাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যখন আবার নতুন করে চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কায়, ঠিক তখনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারি প্রতিনিধিদলের এ তেহরান সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করছেন।

গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী সফর করেছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে পাঠানো একটি বার্তা পেয়েছে তেহরান। চিঠিটি মূলত ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চিঠিতে এখনই কোনো সরাসরি শান্তিচুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসা যায় বা আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে, সেটার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বিশেষ যোগাযোগের উদ্যোগ নেন এবং চিঠিটি সফলভাবে জেনারেল মহসdন রেজাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকে শান্তি আলোচনাকে গতিশীল রাখতে কাতার ও পাকিস্তান জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরানি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ করেছিল।

এমনকি গত মঙ্গলবার মস্কোয় একটি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন।

শুধু কাতারই নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরানে এসে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্প্রতি আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এই তিন দেশ।

তবে পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যা দেশটির তেল রপ্তানি ও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চরম সংকটে ফেলেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হলে ওয়াশিংটনকে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জাতীয় সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।

সূত্র: আল জাজিরা