২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক দশকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় দ্বিগুণ, জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
এক দশকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় দ্বিগুণ, জানাল জাতিসংঘ

বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৫ সালে এসব দেশে মোট ৭২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৯৪ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো থেকে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ার কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে—বিষয়টি এমন নয়; বিদেশে থাকা প্রবাসীরা গড়ে আগের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।

আইএফএডির হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ২২ কোটি প্রবাসী ও প্রবাসী-সম্প্রদায়ের মানুষ আনুমানিক ১১০ কোটি স্বজনকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। সাধারণত প্রতিবার ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার পাঠানো হয় এবং বছরে গড়ে ৯ থেকে ১০ বার অর্থ পাঠানো হয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৈশ্বিক সরকারি উন্নয়ন সহায়তার চার গুণেরও বেশি ছিল। একই সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে রেমিট্যান্স।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ লাখ লাখ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইএফএডির হিসাবে, রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খাবার, বাসস্থান ও ইউটিলিটি বিলের মতো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়।

বাকি প্রায় এক-চতুর্থাংশ অর্থ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, সঞ্চয় ও ব্যবসায় ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালে প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রামীণ অর্থনীতিতে পৌঁছেছে। এর একটি অংশ কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায়ও বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

আইএফএডির ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি ফর রেমিট্যান্সের ব্যবস্থাপক পেদ্রো দে ভাসকনসেলোস বলেন, রেমিট্যান্সের পরিমাণ বিপুল হলেও এর পেছনে রয়েছে পরিবারগুলোর প্রয়োজন। পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সরকারি বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা বা জলবায়ু অর্থায়নের বিকল্প হতে পারে না।

রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে হন্ডুরাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩০ শতাংশের সমান ছিল। এল সালভাদরে এই হার ২৮ শতাংশ এবং নিকারাগুয়ায় ২৭ শতাংশ।

আইএফএডির উদ্ধৃত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গুয়াতেমালায় জরিপে অংশ নেওয়া দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের ৬১ শতাংশই তাঁদের পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। ফলে কোনো প্রবাসী বাধ্য হয়ে দেশে ফিরলে তাঁর পরিবারের আয় হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে রেমিট্যান্স সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এক দশকে অঞ্চলটিতে রেমিট্যান্স ১৩২ শতাংশ বেড়ে ১৬৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে মোট রেমিট্যান্স পাওয়ার দিক থেকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল শীর্ষে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলে গেছে ৩৮৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক মোট রেমিট্যান্সের ৫৩ শতাংশ। আফ্রিকার দেশগুলো পেয়েছে ১২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা এক দশকে ৮৬ শতাংশ বেশি। আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাওয়া দেশের তালিকায় নাইজেরিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠেছে মিসর।

রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে অর্ধেকের বেশি রেমিট্যান্স ডিজিটাল মাধ্যমে শুরু হয়। তবে প্রেরক থেকে গ্রহীতা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হয় এমন সেবার হার ২০২৫ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অ-ডিজিটাল সেবায় এ হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ আরও কমানো এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আইএফএডি। পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিবারের জন্য সঞ্চয়, বিমা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে প্রবাসীদের ওপর নির্ভরশীল পরিবার ও অর্থনীতিগুলো বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে। প্রবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো, কর্মসংস্থানে বিধিনিষেধ কিংবা বিদেশের শ্রমবাজারে চাহিদা কমে গেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএফএডি।

দে ভাসকনসেলোসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বড় ধরনের সামগ্রিক পতন দেখা যায়নি। সংকটের সময়ও পরিবারের প্রয়োজন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকে।

সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তাদের ওপর বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো। সৌদি ও তার মিত্ররা সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ আজ রোববার এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সামরিক জোট হুথিদের হুমকির বিরুদ্ধে একত্রিত হচ্ছে এবং হুথিরা যা করছে তার সঠিক জবাব কীভাবে দেওয়া যায় সেটির পরিকল্পনা করছে। হুথিদের বিরুদ্ধে জবাব আসছে। এই জবাব হবে বিশাল। হামলা হবে একসঙ্গে— স্থলে, সমুদ্রে এবং আকাশে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, দেশগুলো ইতিমধ্যে সৌদি আরবে তাদের অস্ত্রসস্ত্র জড়ো করা শুরু করেছে এবং লোহিত সাগরে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে তুরস্ক অন্যতম অংশগ্রহণকারী দেশ। এছাড়া সীমিতভাবে মিসরও এতে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া সৌদি ও ইয়েমের সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নওয়াফ ওবায়েদ বলেছেন, সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব একা। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। অদক্ষ চোখে যদি আপনি দেখেন তাহলে মনে হবে সৌদি একা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আসলে কী হচ্ছে, আপনি যদি গভীরভাবে দেখেন, তাহলে ভিন্ন চিত্র দেখতে পারবেন।

আর হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে সময় নেওয়া হচ্ছে, কারণ এত তীব্রতর অভিযানের ক্ষেত্রে, যেখানে একাধিক বাহিনী অংশ নেবে, সেটি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ধীরেসুস্থে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে অক্টোবর মাসে কোনো অপরিশোধিত তেল না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরামকো।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত সৌদি আরব থেকে তেল কেনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। এসব চুক্তিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে।

তবে আগামী মাসে সেই সরবরাহ রিফাইনাররা পাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

তবে এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত সপ্তাহে হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

বিষয়টি সঙ্গে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ বলছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগতে পারে ছয় সপ্তাহ।

ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। ওই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরামকোর কিছু ক্রেতার মধ্যে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যায়।

পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ওরলেন গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য দশটির বেশি দরপত্র ডেকেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে জানিয়েছে, জুনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম
মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যের ওপর আঘাত এবং একটি ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের ইমামগণ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মক্কার মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা শুক্রবারের খুতবায় জানান, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা করা একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর ও নবীর মসজিদকে লক্ষ্য বস্তু বানানোর স্পর্ধা যাদের রয়েছে, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ধ্বংসাত্মক কাজ ঢাকতে হুথিরা ধর্মীয় স্লোগানকে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা হুথিদের এই আক্রমণগুলো তাদের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতারই অংশ। এই হামলাগুলো নিরপরাধ মুসলিমদের রক্তপাত ঘটানো এবং শান্তিতে থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করার অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তাকারী সামরিক জোট জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছটা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় আক্রমণ ছিল।

শেখ বালিলা আরও বলেন, এসব হামলা সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যকে কেবল শক্তিশালীই করবে এবং দেশটি চিরকাল মুসলিমদের কিবলা হিসেবে অটুট থাকবে।

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শহরের বাসিন্দারা প্রথমে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। এর কিছুক্ষণ পরই ট্যাংকে আগুন ধরতে দেখা যায়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদ থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিনি নিজের চোখে আরামকোর ওই জ্বালানি ট্যাংকে আগুন দেখেছেন। স্থানীয়রাও একই কথা বলছেন। তবে কী কারণে আগুন লাগল, সে বিষয়ে আরামকো বা সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি।

এএফপির ওই প্রতিনিধি আরও জানান, আরামকোর লোগোসংবলিত পুড়ে যাওয়া ট্যাংকটির আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এর আগে বিমানবন্দরের কাছে মনুষ্যবিহীন ড্রোন আঘাত হানার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সেই হামলার পর আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। ফলে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ওয়েবসাইটটি বিমানবন্দরটিকে ফ্লাইট ডিসরাপশন ইনডেক্সে ৫.০-এ রেখেছে, যার মানে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

এর জেরে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিমান চলাচল। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দরটি থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের সূচি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা তাদের ডিসরাপশন ইনডেক্সে এটিকে ৫.০ তে রেখেছে। অর্থাৎ ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের মাত্রা অনেক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের দিক থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি ও আগুন দেখা গেছে। এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, বিমানবন্দরের দিকে আমরা কালো ধোঁয়া আর আগুন দেখতে পাচ্ছি।

এর আগে সৌদি আরব বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। তার পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দরে এই সমস্যা শুরু হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

ইরানে জনসমাবেশ: দেশরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত ৬ লাখ ইরানি

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন