২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লোহিত সাগরে হুথি সংকট, বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
লোহিত সাগরে হুথি সংকট, বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

লোহিত সাগর ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালী ঘিরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা নতুন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের জেরে এই জলপথে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিকেও এর চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব বাণিজ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন বা প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত লোহিত সাগর। এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালী আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মূলত এই পথ পাড়ি দিয়েই পণ্যবাহী জাহাজগুলো সুয়েজ খালের মাধ্যমে খুব সহজেই ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে পারে। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম দূরত্বে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম এই সমুদ্রপথ।

কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে জাহাজগুলো যদি এই রুট এড়িয়ে চলতে বাধ্য হয়, তবে তাদের আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে কেপ অব গুড হোপ (Cape of Good Hope) হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হয়। এর ফলে জাহাজের স্বাভাবিক যাত্রাপথ কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বিকল্প রুটের বাড়তি চাপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি

লোহিত সাগর এড়িয়ে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগছে:

  • সময় বৃদ্ধি: যে পণ্যগুলো সাধারণত স্বাভাবিক রুটে প্রায় ২৮ দিনে গন্তব্যে পৌঁছাত, বিকল্প রুটে সেখানে প্রায় ৪৫ দিন বা তার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

  • লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধি: দীর্ঘ দূরত্বের কারণে জ্বালানি খরচ, জাহাজের ভাড়া, ক্রু বা নাবিকদের বেতন এবং সামুদ্রিক বিমা বা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও রপ্তানি খাতে বড় আঘাত

বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তৈরি পোশাক (RMG) খাত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে আমাদের পোশাকের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথেই রপ্তানি করা হয়। লোহিত সাগরের এই সংকট প্রলম্বিত হলে পোশাক রপ্তানিকারকদের নানামুখী সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে:

  • নির্ধারিত সময়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে না পারার ঝুঁকি।

  • কন্টেইনার ও জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

  • সময়মতো চালান না পৌঁছালে অনেক সময় ক্রেতাদের জরিমানা গুনতে হয় বা কার্যাদেশ (অর্ডার) বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়।

  • সার্বিক উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা।

আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

বাংলাদেশ কেবল রপ্তানির জন্যই নয়, বরং বিভিন্ন নিত্যপণ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। সমুদ্রপথের দূরত্ব ও সময় বাড়ার কারণে শুধু জাহাজভাড়া নয়, আমদানিকৃত পণ্যের সামগ্রিক লজিস্টিক ব্যয়ও বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আমদানিকারকরা বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপর ফেলেন, যা দেশের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করে।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত গ্যাস (LNG) ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও জ্বালানির স্থানীয় দাম কেবল পরিবহন খরচের ওপর নির্ভর করে না—এর সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও জড়িত; তবুও এই নৌপথের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

সংকট উত্তরণে ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা

মূলত গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে হুথিদের এই লোহিত সাগরমুখী আগ্রাসন। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও হুমকি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। আর তাই বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সুরক্ষায় বিকল্প বাণিজ্যিক রুট সন্ধান এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।

সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তাদের ওপর বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো। সৌদি ও তার মিত্ররা সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ আজ রোববার এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সামরিক জোট হুথিদের হুমকির বিরুদ্ধে একত্রিত হচ্ছে এবং হুথিরা যা করছে তার সঠিক জবাব কীভাবে দেওয়া যায় সেটির পরিকল্পনা করছে। হুথিদের বিরুদ্ধে জবাব আসছে। এই জবাব হবে বিশাল। হামলা হবে একসঙ্গে— স্থলে, সমুদ্রে এবং আকাশে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, দেশগুলো ইতিমধ্যে সৌদি আরবে তাদের অস্ত্রসস্ত্র জড়ো করা শুরু করেছে এবং লোহিত সাগরে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে তুরস্ক অন্যতম অংশগ্রহণকারী দেশ। এছাড়া সীমিতভাবে মিসরও এতে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া সৌদি ও ইয়েমের সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নওয়াফ ওবায়েদ বলেছেন, সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব একা। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। অদক্ষ চোখে যদি আপনি দেখেন তাহলে মনে হবে সৌদি একা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আসলে কী হচ্ছে, আপনি যদি গভীরভাবে দেখেন, তাহলে ভিন্ন চিত্র দেখতে পারবেন।

আর হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে সময় নেওয়া হচ্ছে, কারণ এত তীব্রতর অভিযানের ক্ষেত্রে, যেখানে একাধিক বাহিনী অংশ নেবে, সেটি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ধীরেসুস্থে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে অক্টোবর মাসে কোনো অপরিশোধিত তেল না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরামকো।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত সৌদি আরব থেকে তেল কেনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। এসব চুক্তিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে।

তবে আগামী মাসে সেই সরবরাহ রিফাইনাররা পাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

তবে এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত সপ্তাহে হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

বিষয়টি সঙ্গে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ বলছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগতে পারে ছয় সপ্তাহ।

ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। ওই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরামকোর কিছু ক্রেতার মধ্যে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যায়।

পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ওরলেন গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য দশটির বেশি দরপত্র ডেকেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে জানিয়েছে, জুনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম
মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যের ওপর আঘাত এবং একটি ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের ইমামগণ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মক্কার মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা শুক্রবারের খুতবায় জানান, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা করা একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর ও নবীর মসজিদকে লক্ষ্য বস্তু বানানোর স্পর্ধা যাদের রয়েছে, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ধ্বংসাত্মক কাজ ঢাকতে হুথিরা ধর্মীয় স্লোগানকে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা হুথিদের এই আক্রমণগুলো তাদের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতারই অংশ। এই হামলাগুলো নিরপরাধ মুসলিমদের রক্তপাত ঘটানো এবং শান্তিতে থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করার অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তাকারী সামরিক জোট জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছটা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় আক্রমণ ছিল।

শেখ বালিলা আরও বলেন, এসব হামলা সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যকে কেবল শক্তিশালীই করবে এবং দেশটি চিরকাল মুসলিমদের কিবলা হিসেবে অটুট থাকবে।

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শহরের বাসিন্দারা প্রথমে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। এর কিছুক্ষণ পরই ট্যাংকে আগুন ধরতে দেখা যায়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদ থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিনি নিজের চোখে আরামকোর ওই জ্বালানি ট্যাংকে আগুন দেখেছেন। স্থানীয়রাও একই কথা বলছেন। তবে কী কারণে আগুন লাগল, সে বিষয়ে আরামকো বা সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি।

এএফপির ওই প্রতিনিধি আরও জানান, আরামকোর লোগোসংবলিত পুড়ে যাওয়া ট্যাংকটির আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এর আগে বিমানবন্দরের কাছে মনুষ্যবিহীন ড্রোন আঘাত হানার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সেই হামলার পর আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। ফলে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ওয়েবসাইটটি বিমানবন্দরটিকে ফ্লাইট ডিসরাপশন ইনডেক্সে ৫.০-এ রেখেছে, যার মানে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

এর জেরে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিমান চলাচল। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দরটি থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের সূচি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা তাদের ডিসরাপশন ইনডেক্সে এটিকে ৫.০ তে রেখেছে। অর্থাৎ ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের মাত্রা অনেক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের দিক থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি ও আগুন দেখা গেছে। এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, বিমানবন্দরের দিকে আমরা কালো ধোঁয়া আর আগুন দেখতে পাচ্ছি।

এর আগে সৌদি আরব বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। তার পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দরে এই সমস্যা শুরু হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

ইরানে জনসমাবেশ: দেশরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত ৬ লাখ ইরানি

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন