২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাকিমির সাথে নোরা ফাতেহির প্রেমের গুঞ্জন!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
হাকিমির সাথে নোরা ফাতেহির প্রেমের গুঞ্জন!

বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী, অভিনেত্রী ও গায়িকা নোরা ফাতেহি এখন শুধু ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনেই নন, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সমান পরিচিত এক নাম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত অফিশিয়াল গান ‘সির সির’-এ তার পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে ক্যারিয়ারের এই বৈশ্বিক সাফল্যের পাশাপাশি সম্প্রতি নোরার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক তোলপাড়। ক্রীড়া ও বিনোদন দুনিয়ায় এখন বড় প্রশ্ন মরক্কোর ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমির সঙ্গে কি সত্যিই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন নোরা ফাতেহি?

এই গুঞ্জনের সূত্রপাত মূলত গত ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (এএফকন) টুর্নামেন্ট থেকে। সে সময় মরক্কোর একটি ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নোরা। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে দাবি ওঠে, তিনি নাকি এক ‘রহস্যময় ফুটবলারকে’ সমর্থন জানাতেই বিশেষ আমন্ত্রণে মাঠে গিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমে সেই ফুটবলারের নাম হিসেবে উঠে আসে মরক্কো জাতীয় দল ও ফরাসি ক্লাব পিএসজি’র তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির নাম। জল্পনায় আরও ইন্ধন জোগায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ঘটনা। ভক্তদের নিখুঁত নজর দাবি করছে, সম্প্রতি হাকিমি নোরার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লাইক জানিয়েছেন। এরপর থেকেই দুজনকে নিয়ে সম্পর্কের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচেও সরাসরি মাঠে উপস্থিত ছিলেন নোরা ফাতেহি। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মরক্কো দলকে সমর্থন জানিয়ে একাধিক ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেন, যা এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।

ম্যাচ শুরুর আগে মরক্কোর খেলোয়াড়দের অনুশীলনের একটি ভিডিও পোস্ট করে নোরা ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা এখানে।’ পরে মরক্কো গোল করলে চরম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সেই মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। অন্যদিকে, ব্রাজিলের হয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে সমতা ফেরানোর পর সেই গোলের ভিডিও পোস্ট করে নোরা কেবল এক শব্দে নিজের হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, ‘নো’।

তবে নোরার এমন কর্মকাণ্ডকে প্রেমের নিরেট প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ নোরা নিজে বংশোদ্ভূতভাবে মরক্কান, ফলে নিজ দেশের প্রতি তার এই টান থাকতেই পারে। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত নোরা ফাতেহি কিংবা আশরাফ হাকিমি—কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তাদের একসঙ্গে তোলা কোনো ছবি, যৌথ উপস্থিতি বা আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতিও এখনো সামনে আসেনি।

উল্লেখ্য, আশরাফ হাকিমি ২০২০ সালে স্প্যানিশ অভিনেত্রী হিবা আবুককে বিয়ে করেছিলেন। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে তাদের এক আলোচিত বিচ্ছেদ ঘটে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পরে সন্তানদের যৌথভাবে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নেন তারা। হিবা আবুকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হাকিমির সঙ্গে ডাচ-মরোক্কান সুপারমডেল ইমান হাম্মামের সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, যদিও সেবারও দুজনের কেউ মুখ খোলেননি। এবার দেখার বিষয়, নোরা ফাতেহির সঙ্গে এই গুঞ্জন জল কতদূর গড়ায়!

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, মুখ খুললেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত অভিনেতা পাভেল

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, মুখ খুললেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত অভিনেতা পাভেল

আলোচিত ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেল। তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি আপত্তিকর ভিডিও।
ভিডিওটি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন এই অভিনেতা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে থাকা নারী সম্পর্কে পাভেল জানান, তিনি তার বান্ধবী।

তবে তাদের সম্পর্ককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে, সেটির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।

পাভেলের কথায়, ভিডিওতে থাকা ওই নারী তার বান্ধবী। এর বাইরে তাদের মধ্যে অন্য কোনো সম্পর্ক নেই।

ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হলেও পাভেলের বক্তব্যে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তার দাবি, ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও আলোচনা তৈরি হয়। পাভেলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে ভিডিওটি ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকে ‘বজরা বাজারের জাকির’ চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি লাভ করেন পাভেল। বর্তমানে নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি।

ফাঁসতে পারেন জয়া, চঞ্চল ও শাওনসহ ৯০ জন, দুদকে অনুসন্ধানের আবেদন

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ফাঁসতে পারেন জয়া, চঞ্চল ও শাওনসহ ৯০ জন, দুদকে অনুসন্ধানের আবেদন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগে অভিনেত্রী জয়া আহসান, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের’ সভাপতি আলম আয়াসের নেতৃত্বে সংগঠনটির সদস্যরা দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জমা দেন।

আবেদনে বলা হয়, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাপ্রাপ্ত গণমাধ্যমকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষাবিদ রয়েছেন। গত ১৭ বছরে সরকারি সুনজরে থেকে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অর্জিত অর্থের একটি অংশ রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস যাচাই, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং তদন্ত করে দুদক আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আবেদনটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দুদক সচিব।

আবেদনে বিনোদন অঙ্গনের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, মেহের আফরোজ শাওন, সুবর্ণা মুস্তাফা, রোকেয়া প্রাচী, জায়েদ খান, তারানা হালিম, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, নিপুণ আক্তার, তানভিন সুইটি, মাহিয়া মাহি, ভাবনা, স্বাগতা, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাইমন সাদিক ও পরিচালক বজলুর রশিদ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া গণমাধ্যম অঙ্গনে নাইমুল ইসলাম খান, সুভাষ সিংহ রায়, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, নাসিমা খান মন্টি ও আশরাফুল আলম খোকন এবং ক্রীড়া অঙ্গনে মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, নাইমুর রহমান দুর্জয়, কাজী নাবিল আহমেদ ও আরিফ খান জয়সহ কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডিসেম্বরে বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র নৌবাহিনীর সদস্য!

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ডিসেম্বরে বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র নৌবাহিনীর সদস্য!

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী চলতি বছরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন—এমন খবর প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও সংবাদ প্রতিদিন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরেই পাহাড়ি শহর কালিম্পঙে বসতে পারে মিমির বিয়ের আসর।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চলছে শপিং ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির কাজ। এমনকি বিয়ের আগে নভেম্বরেই আংটিবদল হতে পারে বলেও জানা গেছে। তবে বিয়ে নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি মিমি।

গুঞ্জনের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে অভিনেত্রীর হবু স্বামীর পরিচয়ও। শোনা যাচ্ছে, সিদ্ধার্থ নামের এক ব্যক্তি মিমির জীবনসঙ্গী হতে যাচ্ছেন, যিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য। টালিপাড়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে মিমি কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।

মিমির প্রেম ও বিয়ে নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে অভিনেত্রী বরাবরই এসব বিষয়ে নীরব থেকেছেন। কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে পাত্র খুঁজতে হবে, দেখা-সাক্ষাতের জন্যও সময় প্রয়োজন—যেটা তখন তাঁর ছিল না। এবার সেই ব্যস্ত অভিনেত্রীর জীবনেই নাকি চুপিসারে এসেছেন বিশেষ কেউ।

২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে ‘পুপে’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান মিমি। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। ২০২৪ সালে শাকিব খানের বিপরীতে রায়হান রাফীর ‘তুফান’ সিনেমায় অভিনয়ের পর বাংলাদেশেও তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।

অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে রাজনীতিতেও পা রাখেন মিমি। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’।

প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে নাট্যকার আজাদ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে নাট্যকার  আজাদ

একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বরেণ্য অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী আজাদ আবুল কালাম। বিশেষ করে প্রবাসীদের একাংশ তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর মন্তব্যের ভিডিও ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ অভিনেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তৈরি করছেন নানা মিমও।

সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতাকর্মীদের এমন আচরণের প্রতিবাদে দেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই বাঁধনের পাশে দাঁড়ান।

এরই ধারাবাহিকতায় বাঁধনের প্রতি সংহতি ও ভালোবাসা জানিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কথা বলেন অভিনেতা ও টেলিভিশন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম। সেখানে একপর্যায়ে প্রবাসীদের উদ্দেশে ‘ইউরোপে কামলা খেটে চলে’ মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

প্রবাসীদের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার ও দেশের জন্য অর্থ পাঠানো মানুষদের এভাবে সম্বোধন করা অসম্মানজনক।

তাঁদের অনেকে আজাদ আবুল কালামের ছবি ও বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, প্রবাসীরা পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই একজন বরেণ্য অভিনেতার কাছ থেকে প্রবাসীদের নিয়ে এমন মন্তব্য তাঁরা প্রত্যাশা করেননি।

শুধু প্রবাসীরাই নন, দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অনেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন শিল্পী ও কলাকুশলীও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোনো পেশাকেই অবজ্ঞা বা ছোট করে দেখা উচিত নয়।

এদিকে আজাদ আবুল কালামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছেন।

তাঁদের দাবি, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় অভিনেতার কণ্ঠ শোনা গেছে। ফলে এখন ভেনিসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজাদ আবুল কালামের পক্ষেও অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অভিনেতা ইউরোপে থাকা সব প্রবাসীকে উদ্দেশ করে মন্তব্যটি করেননি। বরং আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের প্রসঙ্গেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে তাঁদের মত।

সব মিলিয়ে আজাদ আবুল কালামের মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিজের বক্তব্য নিয়ে আজাদ আবুল কালামের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

মিশরে টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাদক তৈরি ও পাচারের মামলায় মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি, মাদক উৎপাদন ও পাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, কায়রোর একটি আদালত সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ করে তা দিয়ে মাদক উৎপাদন ও পাচারের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগও রয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিসরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সারাহ খলিফার দাবি, মাদকবিরোধী সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে মাদকের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, জীবনে এর আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আখবার এল-ইয়োম জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও তা পাচারের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় আসামিদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির জন্য ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্টকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখান থেকে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিচারকাজে ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ড ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সারাহ খলিফাসহ কয়েকজনকে এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের পৃথক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।