১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিসা আবেদনে ভুয়া নথির ছড়াছড়ি:

আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট
টপ স্টোরিজ

বছর দুই আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান বাংলাদেশী তরুণ আকিব হোসেন (প্রকৃত নাম নয়)। ভিসার জন্য তাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্রের জোগান দেয় গুলশানের একটি শিক্ষা ও ক্যারিয়ার কনসালট্যান্সি ফার্ম। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের এ তরুণের পক্ষে ব্যাংকে ৬০ লাখ টাকার আমানত স্থিতি দেখানো সম্ভব ছিল না।

সেজন্য ওই ফার্মটির মধ্যস্থতায় দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের শরিয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংকে ৩ লাখ টাকা জমা দেয়া হয়। বিনিময়ে ওই ব্যাংক থেকে দেয়া হয় ৬০ লাখ টাকার সলভেন্সি সার্টিফিকেট। এজন্য জমাকৃত টাকা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সার্ভিস ফি কেটে নেয় ব্যাংকটি।

আকিব হোসেনের মতো উচ্চ শিক্ষার জন্য গত বছর যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান রাফসান আহমেদ। স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হতে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় তাকে ব্যাংক স্টেটমেন্টও কম দেখাতে হয়। তার প্রয়োজন ছিল ১২ লাখ টাকার সলভেন্সি সার্টিফিকেট। তবে সেই সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য রাফসান আহমেদকে কোনো ব্যাংকেই যেতে হয়নি। উত্তরার একটি স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং সেন্টার তাকে ওই স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দিয়েছিল। এজন্য তাকে পরিশোধ করতে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যান। এ শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেখাচ্ছেন। ব্যাংকে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আমানত আছে, এমন স্টেটমেন্ট দেখানোর জন্য দেশের অনেক ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২-৫ লাখ টাকা নিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এটি ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা ও কনসালট্যান্সি ফার্মের বড় ব্যবসা হয়ে উঠেছে। ভুয়া স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতারণামূলক এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস উদ্বেগ জানিয়েছে। নিজেরা বিবৃতি দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে অনেক দেশের দূতাবাস। আর এসব দেশে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীসহ ভ্রমণ ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

চলতি বছরের ৭ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সাক্ষাৎ করেন। ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেয়ার বিষয়টি সেই সাক্ষাতে তুলে ধরেন সারাহ কুক।

উদ্বেগজনক এমন প্রেক্ষাপটে গত ১২ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর পরও ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক স্টেটমেন্ট দেয়ার কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি।

বরং অভিনব কৌশলে বিদেশগামী শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের নামে ঋণ সৃষ্টি করে, পরবর্তী সময়ে সে অর্থই আমানত দেখিয়ে ব্যাংকগুলো সলভেন্সি সার্টিফিকেট দিচ্ছে। বেশকিছু ব্যাংক নানা মাধ্যমে এ ধরনের ঋণ দেয়ার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। উচ্চ শিক্ষাবিষয়ক কনসালট্যান্সি ফার্মসহ ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ বিদেশ গমনেচ্ছুদের সলভেন্সি সার্টিফিকেট জোগাড় করে দেয়ার প্রচারণা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থী, কনসালট্যান্সি ফার্ম, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে বণিক বার্তা। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা নিরুপায় হয়ে অর্থের বিনিময়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন। আর কনসালট্যান্সি ফার্ম ও ব্যাংকগুলোর বক্তব্য হলো, গত এক দশকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের স্টেটমেন্ট কিংবা সার্টিফিকেট ইস্যু করা অনেকটা ব্যবসা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।

এক্ষেত্রে ভালো ব্যাংকগুলো কিছু নীতি মেনে চললেও করপোরেট সুশাসন উপেক্ষা করে চলা ব্যাংকগুলো এটিকে অনেকটা সার্টিফিকেট ব্যবসায় রূপান্তর করেছে। এ কারণে বেশকিছু দূতাবাস এখন নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের স্টেটমেন্ট প্রত্যাখ্যান করছে। বণিক বার্তার অনুসন্ধানে এ ধরনের বেশকিছু ব্যাংকের নামও উঠে এসেছে।

চতুর্থ প্রজন্মের একটি ব্যাংকের একজন শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ একেবারেই স্থবির। এজন্য স্টুডেন্ট ফাইল খোলা বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেয়া “‍কাঁচা টাকা আয়ের” বড় উৎস হয়ে উঠেছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনেই এটি হচ্ছে। এক্ষেত্রে দূতাবাসগুলো থেকে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলে প্রধান কার্যালয় থেকে সত্যায়ন সার্টিফিকেট দেয়া হয়।’

ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইস্যুকে নৈতিকতা বিরুদ্ধ ও অপরাধ বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘বেশকিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

আমরা এরই মধ্যে ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। তার পরও কেউ বিদেশী দূতাবাসগুলোকে বিভ্রান্ত করতে প্রতারণামূলক সার্টিফিকেট ইস্যু করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরিফ হোসেন খান আরো বলেন, ‘ব্যাংক একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসাই যেন অনৈতিক না হয়, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। আইন দিয়ে অনেক সময় সব অপরাধ দমন করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে নৈতিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি ব্যাংক নির্বাহীদের পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।’

বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এ খাতে ব্যয়ও গত কয়েক বছরে দ্বিগুণ থেকে ত্রিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশগামী উচ্চ শিক্ষার্থীরা ব্যয় করেছেন ৮৯ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরলে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা, যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক দেশের ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বরাদ্দের সমান।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর পরিসংখ্যান বলছে, কেবল ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য ৫৫টি দেশে গিয়েছেন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৫১।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভুয়া বা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেয়া এবং বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা না করা শিক্ষার্থীদের হার বেড়ে যাওয়ার প্রভাব ভিসা ইস্যুর ওপর পড়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বিদেশ গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার নামে দেশে শতাধিক কনসালট্যান্সি ফার্ম গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিক্ষা ও ক্যারিয়ার কনসালট্যান্সি ফার্মগুলোর জাতীয় সংগঠন হলো ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফএসিডি-সিএবি)।

সংগঠনটির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী জুয়েল বলেন, ‘ভারত ও শ্রীলংকার শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈধ উপায়ে ঋণ নেয়া কিংবা ব্যাংক সলভেন্সি দেখানোর সরকারি ব্যবস্থা আছে। এমনকি নেপালের শিক্ষার্থীরাও এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। এ কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষায় বিদেশযাত্রার জন্য অনৈতিক নানা উপায় অবলম্বনে বাধ্য হচ্ছেন।’

শিক্ষার্থীদের জন্য ভুয়া বা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্টের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে এফএসিডি-সিএবির সদস্যভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্ত কিনা জানতে চাইলে জুলফিকার আলী জুয়েল বলেন, ‘কনসালট্যান্সি ফার্মের পক্ষে তো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট ইস্যু করে দেয়া সম্ভব নয়। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তারাই যুক্ত।

অনেক ব্যাংক ও ব্যাংকার ফেসবুকে এ ধরনের স্টেটমেন্ট জোগাড় করে দেয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। নিজেদের মোবাইল নাম্বার বা ভিজিটিং কার্ড ফেসবুকে দিয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেয়ার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে অনিয়ম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এগিয়ে আসতে হবে।’

বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ‘ফান্ড সাপোর্ট’ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জোগাড় করে দেয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। এ ধরনেরই একটি পেজের নাম ‘হলিডে হ্যাভেন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’। পেজটিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য ফান্ড সাপোর্ট নিয়ে চিন্তিত? ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করবেন, কিন্তু ২০-৪০ লাখ টাকার ফান্ড নেই? তাহলে পরামর্শ পেতে এ নম্বরে যোগাযোগ করুন।’ ওই বিজ্ঞাপনে তহবিল জোগানো বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের ছয়টি ব্যাংকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ধরনের সহযোগিতার কথা বলে বিজ্ঞাপন দেয়া বেশকিছু পেজ ও আইডি খুঁজে পাওয়া যায় ফেসবুকে। এর মধ্যে রয়েছে টিম এডুকেশন, ব্যাংক সাপোর্ট ফর বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, বিডি ব্যাংক স্পন্সর সাপোর্ট, ফাইন্যান্স এইড বিডি, ব্যাংক সাপোর্ট, স্টাডি সাপোর্ট বিডি, ইনস্ট্যান্ট ব্যাংক সাপোর্ট বিডি, ব্যাংক সাপোর্ট অ্যান্ড স্পন্সর বিডি প্রভৃতি।

বিডি ব্যাংক স্পন্সর সাপোর্ট নামে ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে গতকাল ফোন করা হয়। এ সময় সুমন নামের এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। ৫০ লাখ টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দরকার—এমন সহযোগিতা চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, তারা যেকোনো অংকের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট জোগাড় করে দিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে তিনি ১২টি ব্যাংকের নাম উল্লেখ করে কোন ব্যাংকের সার্টিফিকেট পেতে কত টাকা লাগবে, সে তথ্যও জানান। একই সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তার ভিজিটিং কার্ডও এ প্রতিবেদককে পাঠিয়েছেন। একইভাবে অন্য কয়েকটি ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা নম্বরে যোগাযোগ করলে তারাও বিভিন্ন অংকের অর্থের বিনিময়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট জোগাড় করে দেয়ার আশ্বাস দেন।

কিছু ব্যাংক প্রতারণামূলক স্টেটমেন্ট ইস্যু করলেও এক্ষেত্রে কেউ কেউ অভিনব কৌশল বের করেছেন। এ বিষয়ে কথা হয় দেশের অন্তত ছয়টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তারা জানান, প্রক্রিয়াটি এমন—কোনো শিক্ষার্থী ৫ লাখ টাকা ব্যাংকে আমানত হিসাবে জমা রাখেন। ব্যাংক ওই টাকা জামানত দেখিয়ে, তার বিপরীতে আরো ৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়। এতে আমানতের অর্থের পরিমাণ বেড়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। আর এ টাকা আবারো জামানত দেখিয়ে নতুন করে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেয়। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখে।

এভাবে একই অর্থ কয়েক দফায় জামানত দেখিয়ে টাকার স্থিতি ৫০-৬০ লাখে উন্নীত করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ওই ব্যাংক হিসাবের নিয়ন্ত্রণ পান না। বরং পুরো হিসাবটি পরিচালনা করেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এভাবে অনেকটা বৈধ উপায়ে ব্যাংকের সিভিএস থেকে শিক্ষার্থীর নামে সলভেন্সি ও স্টেটমেন্ট ইস্যু করা হয়। পরে শিক্ষার্থী বিদেশে যাওয়ার পর প্রথমে জমাকৃত ৫ লাখ টাকা থেকে সুদ ও সার্ভিস চার্জ কেটে রেখে পুরো ঋণটি সমন্বয় বা আদায় দেখানো হয়।

এ বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর এ ধরনের অনৈতিক কাজে যুক্ত হওয়াকে অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখি। যদি কোনো ব্যাংক প্রকৃত আমানত না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীর নামে ৫০-৬০ লাখ টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ইত্যাদি তৈরি করে দেয় এবং এর বিনিময়ে অর্থ নেয়, তাহলে সেটা শুধু অনৈতিক ব্যবসা নয়, সেটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার অপব্যবহার। তবে কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার বৈধভাবে অর্থ ব্যাংকে জমা দিলে তার ভিত্তিতে স্টেটমেন্ট বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট ইস্যু করলে তাতে সমস্য নেই।’

সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘কেবল কিউআর কোড ব্যবহার করে এ ধরনের সমস্যার সমধান হবে না। এর সঙ্গে কার্যকর ভেরিফিকেশন আর্কিটেকচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইযোগ্য ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োজন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে কমন ভেরিফিকেশন গেটওয়ে চালু করা যেতে পারে।’

কয়েক বছর ধরেই ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ জাল নথি ব্যবহার করে ভিসা আবেদনের অভিযোগ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় অবস্থানরত ১৩টি পশ্চিমা দেশের মিশন গত বছর যৌথভাবে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের ভুয়া নথি ব্যবহার না করার আহ্বান জানায়। ওই সময় বলা হয়, জাল নথি ব্যবহার করলে শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা ও সীমান্তে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও তৈরি হবে।

চলতি বছরের ৭ মে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় সারাহ কুকের পক্ষ থেকে ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেয়াসহ জাল নথিপত্রের বেশকিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়। এসব প্রতারণা প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্রিটিশ দূত। এক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ নথিপত্র যাচাইয়ে কিউআর কোডভিত্তিক পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রস্তাব আসে। ওইদিনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারীকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটসহ সংশ্লিষ্ট নথিতে অনলাইন যাচাইযোগ্য কিউআর কোড থাকতে হবে। ওই কোড স্ক্যান করে ন্যূনতম পাঁচটি তথ্য যাচাই করা যাবে।

এগুলো হলো অ্যাকাউন্ট নাম্বার, হিসাবধারীর নাম, স্টেটমেন্ট শুরুর স্থিতি (ওপেনিং ব্যালান্স), স্টেটমেন্টের শেষ স্থিতি (ক্লোজিং ব্যালান্স) ও স্টেটমেন্ট তৈরির তারিখ। এসব তথ্য কমপক্ষে ছয় মাস সংরক্ষণ ও যাচাইযোগ্য রাখার নির্দেশও দেয়া হয়। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা কার্যকরে ব্যাংকগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। যদিও এখনো নির্দেশনা অনুযায়ী কিউআর কোড চালু করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য দুই ধরনের ঋণ চালু করেছি। শিক্ষার্থীরা রীতিনীতি মেনেই এসব ঋণসেবা নিয়ে বিদেশে যেতে পারছেন। সারা বিশ্বেই শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ নেয়ার সুযোগ আছে। সমস্যা হলো, অনেক ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষার্থী বিদেশে যাওয়ার পর লেখাপড়া চালিয়ে যান না। আর ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন না। এ কারণে বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, জাল নথিপত্রের ব্যবহার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশী পাসপোর্টের মানেও অবনমন হচ্ছে। গ্রহণযোগ্যতার বিচারে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া।

গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়
টপ স্টোরিজ

গত বছর সার্চ অপশনে এআই মোড চালু করেছিল গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় লিংকসহ প্রাসঙ্গিক উত্তর পান। এবার এই অপশনে আরও নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল, যার মাধ্যমে ভ্রমণপ্রেমীরা বেশ উপকৃত হবেন। গুগল ভ্রমণকেন্দ্রিক নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করে এআই মোডের পরিধি বাড়াচ্ছে বলে গ্যাজেট ৩৬০-এর প্রতিবেদনে জানা যায়।

গুগল এআইর সর্বশেষ হালনাগাদে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে, পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য তুলনা করতে এবং এআই মোডের মাধ্যমেই থাকার জায়গা খুঁজে বুক করতে পারবেন। নতুন এসব সুবিধার ফলে গুগল সার্চ থেকে বের না হয়েই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনীয় বুকিং দেওয়া যাবে।

নতুন এক ব্লগ পোস্টে সার্চের এআই মোডে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ সুবিধাগুলোর ঘোষণা দিয়েছে গুগল। গুগল ফ্লাইটসের জনপ্রিয় মূল্য ট্র্যাকিং সুবিধাটি সরাসরি এআই মোডে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কথোপকথনের সময়ই ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দামের সতর্কবার্তা (প্রাইস অ্যালার্ট) চালু করতে পারবেন। কোথা থেকে যাত্রা করবেন, কোথায় যাবেন এবং কখন উড়বেন—এসব তথ্য দিলে এআই মোড ৩শটির বেশি এয়ারলাইন ও ভ্রমণসাইটের সর্বশেষ মূল্যের ভিত্তিতে পাওয়া বিকল্পগুলো দেখাবে।

গুগল আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা এআই মোডেই পুরো ভ্রমণসূচি তৈরি করতে পারবেন এবং এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইট বা পছন্দের বুকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন।

ব্যবহারকারীরা এআই মোডকে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে বলতে পারবেন। নির্বাচিত গন্তব্য ও ভ্রমণের তারিখের ভাড়ায় পরিবর্তন হলে প্রতিবার ব্যবহারকারীর কাছে ই-মেইল পাঠানো হবে। এআই মোডে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করার সুবিধা এখন বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোড এখন ব্যবহারকারীদের ফ্লাইট ও হোটেলের খরচ পয়েন্ট বা মাইলে দেখাতে পারবে। এই সুবিধা ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে তাঁর ভ্রমণের বিবরণ দিতে হবে এবং কোন লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে চান, তা উল্লেখ করতে হবে।

এরপর গুগলের ভ্রমণ অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এআই মোড যোগ্য ফ্লাইটের জন্য কত মাইল প্রয়োজন, তা দেখাবে। হোটেলের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের লিংকে গিয়ে সার্চ থেকেই সরাসরি তাঁদের রিওয়ার্ড ব্যবহার করে বুকিং সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য দেখার সুবিধা এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, আলাস্কা এয়ারলাইনস, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, হিলটন এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসসহ বিভিন্ন লয়্যালটি ও ভ্রমণ অংশীদার এই সুবিধার আওতায় থাকবে। শিগগিরই অ্যাঙ্কর, ফ্লাইং ব্লু, হায়াত, লাতাম এয়ারলাইনস এবং লুফথানসা গ্রুপের জন্যও এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়ছে তারা।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোডের মাধ্যমে সরাসরি হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা চালু করেছে গুগল। ব্যবহারকারীরা তাঁদের গন্তব্য, ভ্রমণের তারিখ এবং হোটেলসংক্রান্ত পছন্দ জানালে এআই মোড অতিথিদের দেওয়া পর্যালোচনা এবং তুলনা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ বিভিন্ন বিকল্পের তালিকা দেখাবে।

কোনো হোটেল পছন্দ হওয়ার পর ব্যবহারকারী এআই মোডকে বুকিংয়ে সহায়তা করতে বলতে পারবেন। কোনো সমন্বিত হোটেল চেইন বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির পাশে ‘কনটিনিউ অন গুগল’ নির্বাচন করলে ব্যবহারকারী বুকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং গুগল পের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই বুকিং ডটকম, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, এক্সপিডিয়া, হিলটন, হোটেলস ডটকম, আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল, প্রাইসলাইন, ট্রিপ ডটকম এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের মতো অংশীদারদের মাধ্যমেও এই সুবিধা চালু করা হবে।

বাজারে এল স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কিলার ‘গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
বাজারে এল স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কিলার ‘গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’
টপ স্টোরিজ

প্রিমিয়াম গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের নতুন ফোন বাজারে এনেছে টেক জায়ান্ট স্যামসাং। নতুন মডেলটির নাম গ্যালাক্সি এস২৬ এফই (ফ্যান অ্যাডিশন)। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

স্যামসাংয়ের তথ্যানুযায়ী, এস২৬ এফইতে রয়েছে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস ডাইনামিক অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে। ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ ও পিক ব্রাইটনেস ১৯০০ নিটস পর্যন্ত। ধুলো ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য ডিভাইসে রয়েছে আইপি৬৮ রেটিং। ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সিনোস ২৫০০ প্রসেসর দিয়ে ফোনটি পরিচালিত হবে। এতে ৮ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ১২৮ জিবি থেকে ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।

ছবি তোলার জন্য ফোনটির পেছনে তিনটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মূল ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের, যাতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস) সুবিধা আছে। এছাড়া ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং তিন গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধার ৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে দেয়া হয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ফোনটিতে ৪৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি রয়েছে। এটি ৪৫ ওয়াটের দ্রুত চার্জিং ও ১৫ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে।

৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার পুরুত্বের ফোনটির ওজন প্রায় ১৯৩ গ্রাম। এটি ব্লুবেরি, গ্রাফাইট ও পেস্তা রঙে পাওয়া যাবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু বাজারে ফোনটির বিক্রি শুরু হবে বলে জানান কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

ইউরোপের বাজারে ৮ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হচ্ছে ৭৯৯ ইউরো থেকে (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ১ লাখ টাকার ওপরে)।

দক্ষিণ কোরিয়ান টেক জায়ান্ট স্যামসাংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজ হলো ‘এস’। নতুন উদ্ভাবন, সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর, বিশ্বমানের ডিসপ্লে ও সেরা ক্যামেরা প্রযুক্তি স্যামসাং প্রথম এএস সিরিজের ফোনগুলোয়ই নিয়ে আসে।

বিনামূল্যে গুগল এআই ব্যবহারের সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
বিনামূল্যে গুগল এআই ব্যবহারের সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
টপ স্টোরিজ

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের বিনা মূল্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে গুগল। ‘ব্যাক টু স্কুল’ কর্মসূচির আওতায় এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে অফারটি নিতে হলে শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় যাচাই করতে হবে।

এই সুবিধার আওতায় শিক্ষার্থীরা গুগলের জেমিনাইয়ের উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেমিনাই ব্যবহারের সীমা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ এবং ৪০০ জিবি বিনা মূল্যের ক্লাউড সংরক্ষণ সুবিধা দেওয়া হবে।

কারা পাবেন
বাংলাদেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন হবে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার প্রমাণপত্র। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া পরিচয়পত্রও ব্যবহার করা যাবে।

যেভাবে নিতে হবে
প্রথমে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে গুগল ওয়ানের শিক্ষার্থী পেজে যেতে হবে। সেখানে ‘শিক্ষার্থী সুবিধা গ্রহণ করুন’ অপশনে ক্লিক করে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন করতে হবে।

এরপর শিক্ষার্থীর নাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। গুগল যে তথ্য ও কাগজপত্র চাইবে, সেগুলো জমা দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

পড়াশোনায় মিলবে বাড়তি সুবিধা
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে জেমিনাইয়ে যুক্ত হচ্ছে বেশ কিছু নতুন সুবিধা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাসের নোট ও পাঠ্যসূচি আপলোড করলে সেগুলোর ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পড়ার নোট, ছোট শিক্ষামূলক পাঠ এবং কুইজ তৈরি করতে পারবে এআই।

শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণেও সহায়তা করবে এই প্রযুক্তি। জটিল বিষয় সহজে বোঝাতে তৈরি করা যাবে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন ও তথ্যের সারণি। ফলে বিজ্ঞান, গণিতসহ বিভিন্ন কঠিন বিষয় শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বাড়তি সহায়তা পাবেন।

এ ছাড়া জেমিনাই লাইভ ও গভীর গবেষণার সুবিধাও থাকছে এ অফারে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

খেলা দেখলেই উপহার! কাতারে এল ‘হায়োহ’ অ্যাপ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
খেলা দেখলেই উপহার! কাতারে এল ‘হায়োহ’ অ্যাপ
টপ স্টোরিজ

স্টেডিয়ামে গিয়ে সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করা ক্রীড়াপ্রেমীদের পুরস্কৃত করতে কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে সম্পূর্ণ নতুন স্পোর্টস লয়ালটি প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ‘হায়োহ’ (Hayoh)। এই বিনামূল্যের অ্যাপটির মাধ্যমে দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন যোগ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে টিকিট ক্রয় এবং শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা আকর্ষণীয় পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন।

আয়োজকদের মতে, ভক্তরা যত বেশি ম্যাচে সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকবেন, তাঁদের সংগৃহীত পয়েন্টের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তীতে এসব পয়েন্ট দিয়ে আকর্ষণীয় নানা ডিজিটাল ও ভৌত উপহার সংগ্রহ করা যাবে।

পয়েন্ট অর্জনের পদ্ধতি ও সদস্যপদ

‘হায়োহ’ অ্যাপে ব্যবহারকারীদের মূল পয়েন্ট ব্যবস্থা দুটি ভাগে বিভক্ত:

টিয়ার পয়েন্ট (TP): প্রতিটি যোগ্য ইভেন্টে অংশ নিলে ১টি করে টিয়ার পয়েন্ট পাওয়া যাবে, যা সদস্যের মেম্বারশিপ লেভেল বা স্তর নির্ধারণ করবে। এই পয়েন্ট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর বা রিডিম করা যাবে না।

হায়োহ পয়েন্ট (HP): স্টেডিয়ামে নিশ্চিত উপস্থিতির জন্য প্রতি ম্যাচে ১,০০০ হায়োহ পয়েন্ট জমা হবে। এই পয়েন্টগুলো সরাসরি ক্যাটাগরি অনুসারে পুরস্কার পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

রিওয়ার্ডস ক্যাটালগ ও টিকিট লিঙ্কিং প্রক্রিয়া

সহজ কয়েকটি ধাপে টিকিট লিঙ্কিং সম্পন্ন করে পয়েন্ট দাবি করা যাবে:

১. টিকিট লিঙ্কিং: টিকিট কেনার সময় ব্যবহারকারীকে তাঁর ‘হায়োহ আইডি’ (Hayoh ID) ইনপুট দিতে হবে অথবা অ্যাপের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট পার্টনারের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট কিনতে হবে।

২. উপস্থিতি যাচাই: স্টেডিয়ামে উপস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত ও যাচাই হওয়ার পরেই কেবল অ্যাকাউন্টে পয়েন্ট জমা হবে।

৩. পুরস্কার ক্যাটালগ: অর্জিত পয়েন্ট দিয়ে খাদ্য ও পানীয়, ফ্যাশন ও রিটেইল, টেলিকমিউনিকেশন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, হোটেল, অটোমোবাইল সার্ভিস এবং বিনোদন খাতের বিভিন্ন বিশেষ ডিসকাউন্ট বা পণ্য গ্রহণ করা যাবে।

অ্যাকাউন্ট ও রেজিস্ট্রেশনের শর্তাবলী

অ্যাপটিতে অভিভাবকেরা তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের (Dependents) অ্যাকাউন্টও যুক্ত করার সুযোগ পাবেন।

অ্যান্ড্রয়েডের গুগল প্লে (Google Play) এবং আইওএসের অ্যাপ স্টোর (App Store)—উভয় প্ল্যাটফর্মেই অ্যাপটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যবহারকারীর একটি বৈধ কাতার আইডি (QID) থাকা বাধ্যতামূলক।

এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোতে জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!
টপ স্টোরিজ

ভারতে জেমিনিকে নিয়ে নতুন একটি প্রচারণা শুরু করেছে গুগল ইন্ডিয়া। এতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। প্রচারণাটির থিম ও চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রসূন যোশি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনির বহুভাষিক সক্ষমতা তুলে ধরাই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। গুগল, ম্যাকক্যান ইন্ডিয়া ও নির্ভানা ফিল্মস যৌথভাবে প্রচারণাটি তৈরি করেছে।

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোয় জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। জেমিনি টেক্সট, ভিডিও, কণ্ঠস্বর ও ছবি—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করলেও প্রচারণার সৃজনশীল কাজটিতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, এআইকে মানুষের কাছে কম ভীতিকর ও আরো স্বাভাবিক করে তোলা।

গুগল ইন্ডিয়ার মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখর খোসলা বলেন, প্রযুক্তি তখনই সত্যিকার অর্থে তার জাদু ছড়ায়, যখন এটি শুধু একটি হাতিয়ার হিসেবে না থেকে জীবনের প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোর সঙ্গী হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, গুগল জেমিনির মাধ্যমে আমরা শুধু আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের মধ্যকার দূরত্ব কমাচ্ছি না; আমরা ভারতের হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলছি—আমাদের নিজেদের ভাষায়, নিজেদের আবেগে এবং নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের পরিসরে। শাহরুখ খান ও প্রসূনের সঙ্গে কাজ করে এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা আশা করি, এটি আপনাদের প্রতিদিনের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে উঠবে এবং প্রতিটি মুহূর্তে নতুন ভাবনা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।’

প্রসূন যোশি বলেন, ‘এগুলো শুধু দৈনন্দিন জীবনের গল্প নয়। এগুলো এমন কিছু মুহূর্ত থেকে এসেছে, যেগুলো আমার মনে থেকে গেছে। আশা করি, দর্শকরাও এগুলোর সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।’