১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, এমআরপি যুগের অবসান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, এমআরপি যুগের অবসান
টপ স্টোরিজ

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) যুগের অবসান ঘটিয়ে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশে। বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের প্রায় ৯৯ শতাংশই এখন ই-পাসপোর্ট নিচ্ছেন।

এ অবস্থায় যেসব মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেখানে এমআরপি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব মিশনে পর্যায়ক্রমে এমআরপি সেবা গুটিয়ে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা কার্যকরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

গত ২৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় এমআরপি, ই-পাসপোর্ট ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী দেশের ৭১টি পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশের ৭১টি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর অগ্রগতি এবং বিতরণ করা ই-পাসপোর্টের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমআরপি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এমআরপি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে।

দেশে ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও বিদেশে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মীর একটি বড় অংশ তখনো এমআরপির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। জন্মনিবন্ধনের তথ্য দিয়ে তৈরি অনেক এমআরপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডির তথ্যের অমিল ছিল। আবার অনেক প্রবাসীর এনআইডিই ছিল না। ফলে হঠাৎ এমআরপি সেবা বন্ধ করা হলে বিশেষ করে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এতে অনেকের দেশে ফিরে আসার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারত। এ কারণে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পরও প্রবাসীদের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়েছিল।

পর্যালোচনা সভায় বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার জানান, বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে এমআরপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এর পুরনো যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও মেরামত করা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, বর্তমানে আর এমআরপি সিস্টেম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে অর্থাৎ ৩০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার ১টি ই-পাসপোর্টের বিপরীতে মাত্র একটি এমআরপি ইস্যু হয়েছে। ওই এমআরপিটিও বিদেশের একটি কনস্যুলেট থেকে ইস্যু করা হয়েছে। তাদের মতে, চাহিদা প্রায় না থাকায় এমআরপি ব্যবস্থা চালু রাখার কার্যকারিতাও এখন অনেকটাই কমে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, এমআরপি সেবা পুরোপুরি বন্ধে ধাপভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে বিদেশের যেসব বাংলাদেশ মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেসব মিশনে এমআরপি সুবিধা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ পরিবর্তনের সুযোগে প্রবাসীরা যাতে হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোকে সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীকে দ্রুত পাসপোর্ট সেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি রাশিয়ার মস্কো মিশনের ধারাবাহিকতায় ভারতের দিল্লি ও কলকাতা মিশনে দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব সার্ভার এবং এমইকের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে যাদের হাতে এমআরপি রয়েছে কিন্তু ই-পাসপোর্ট নেয়া হয়নি, তাদের জন্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন করে আর এমআরপি করা যাবে না। তবে যাদের বৈধ এমআরপি রয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবাসীদের সুবিধার্থে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমআরপি সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যে বয়সের অমিল থাকলে সর্বোচ্চ আট বছর পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ আট বছরের ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র কর্তৃপক্ষের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, এটি এনআইডি অনুবিভাগের নিজস্ব নীতি নয়; বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অংশ। তিনি বলেন, ‘আট বছরের সংশোধনের এ সুযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সার্কুলার অনুযায়ী দিয়েছে। এটি এনআইডি অনুবিভাগের সার্কুলার নয়।

আমাদের ক্ষেত্রে বয়স সংশোধন বা তথ্য যাচাই সবসময় এসওপি অনুযায়ী করা হয়। জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদ, পারিবারিক সনদ এবং ভাই-বোন বা পিতা-মাতার এনআইডিসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’ এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট রূপান্তর প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে এমআরপি করা যাবে না। তবে যাদের হাতে এমআরপি আছে তারা যেকোনো সময় ই-পাসপোর্ট করতে পারবেন। শর্ত হলো, এনআইডির তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমআরপি বন্ধের বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। দুই বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরে এমআরপি ইস্যু বন্ধ রয়েছে। বিদেশে পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এর ব্যবহার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশের মিশনগুলোকে এমআরপি বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

তবে অনেক প্রবাসীর এনআইডি ও অন্যান্য নথির তথ্যে গরমিল থাকায় এবং সরাসরি মিশনে গিয়ে ই-পাসপোর্টের আবেদন করাকে ঝামেলাপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা এখনো এমআরপি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’ ওই কর্মকর্তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন মিশনে কনস্যুলার সার্ভিস সেন্টার ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়িয়ে ই-পাসপোর্ট সেবার গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। তাহলেই এমআরপি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়
টপ স্টোরিজ

গত বছর সার্চ অপশনে এআই মোড চালু করেছিল গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় লিংকসহ প্রাসঙ্গিক উত্তর পান। এবার এই অপশনে আরও নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল, যার মাধ্যমে ভ্রমণপ্রেমীরা বেশ উপকৃত হবেন। গুগল ভ্রমণকেন্দ্রিক নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করে এআই মোডের পরিধি বাড়াচ্ছে বলে গ্যাজেট ৩৬০-এর প্রতিবেদনে জানা যায়।

গুগল এআইর সর্বশেষ হালনাগাদে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে, পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য তুলনা করতে এবং এআই মোডের মাধ্যমেই থাকার জায়গা খুঁজে বুক করতে পারবেন। নতুন এসব সুবিধার ফলে গুগল সার্চ থেকে বের না হয়েই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনীয় বুকিং দেওয়া যাবে।

নতুন এক ব্লগ পোস্টে সার্চের এআই মোডে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ সুবিধাগুলোর ঘোষণা দিয়েছে গুগল। গুগল ফ্লাইটসের জনপ্রিয় মূল্য ট্র্যাকিং সুবিধাটি সরাসরি এআই মোডে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কথোপকথনের সময়ই ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দামের সতর্কবার্তা (প্রাইস অ্যালার্ট) চালু করতে পারবেন। কোথা থেকে যাত্রা করবেন, কোথায় যাবেন এবং কখন উড়বেন—এসব তথ্য দিলে এআই মোড ৩শটির বেশি এয়ারলাইন ও ভ্রমণসাইটের সর্বশেষ মূল্যের ভিত্তিতে পাওয়া বিকল্পগুলো দেখাবে।

গুগল আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা এআই মোডেই পুরো ভ্রমণসূচি তৈরি করতে পারবেন এবং এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইট বা পছন্দের বুকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন।

ব্যবহারকারীরা এআই মোডকে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে বলতে পারবেন। নির্বাচিত গন্তব্য ও ভ্রমণের তারিখের ভাড়ায় পরিবর্তন হলে প্রতিবার ব্যবহারকারীর কাছে ই-মেইল পাঠানো হবে। এআই মোডে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করার সুবিধা এখন বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোড এখন ব্যবহারকারীদের ফ্লাইট ও হোটেলের খরচ পয়েন্ট বা মাইলে দেখাতে পারবে। এই সুবিধা ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে তাঁর ভ্রমণের বিবরণ দিতে হবে এবং কোন লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে চান, তা উল্লেখ করতে হবে।

এরপর গুগলের ভ্রমণ অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এআই মোড যোগ্য ফ্লাইটের জন্য কত মাইল প্রয়োজন, তা দেখাবে। হোটেলের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের লিংকে গিয়ে সার্চ থেকেই সরাসরি তাঁদের রিওয়ার্ড ব্যবহার করে বুকিং সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য দেখার সুবিধা এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, আলাস্কা এয়ারলাইনস, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, হিলটন এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসসহ বিভিন্ন লয়্যালটি ও ভ্রমণ অংশীদার এই সুবিধার আওতায় থাকবে। শিগগিরই অ্যাঙ্কর, ফ্লাইং ব্লু, হায়াত, লাতাম এয়ারলাইনস এবং লুফথানসা গ্রুপের জন্যও এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়ছে তারা।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোডের মাধ্যমে সরাসরি হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা চালু করেছে গুগল। ব্যবহারকারীরা তাঁদের গন্তব্য, ভ্রমণের তারিখ এবং হোটেলসংক্রান্ত পছন্দ জানালে এআই মোড অতিথিদের দেওয়া পর্যালোচনা এবং তুলনা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ বিভিন্ন বিকল্পের তালিকা দেখাবে।

কোনো হোটেল পছন্দ হওয়ার পর ব্যবহারকারী এআই মোডকে বুকিংয়ে সহায়তা করতে বলতে পারবেন। কোনো সমন্বিত হোটেল চেইন বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির পাশে ‘কনটিনিউ অন গুগল’ নির্বাচন করলে ব্যবহারকারী বুকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং গুগল পের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই বুকিং ডটকম, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, এক্সপিডিয়া, হিলটন, হোটেলস ডটকম, আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল, প্রাইসলাইন, ট্রিপ ডটকম এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের মতো অংশীদারদের মাধ্যমেও এই সুবিধা চালু করা হবে।

বাজারে এল স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কিলার ‘গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
বাজারে এল স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কিলার ‘গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’
টপ স্টোরিজ

প্রিমিয়াম গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের নতুন ফোন বাজারে এনেছে টেক জায়ান্ট স্যামসাং। নতুন মডেলটির নাম গ্যালাক্সি এস২৬ এফই (ফ্যান অ্যাডিশন)। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

স্যামসাংয়ের তথ্যানুযায়ী, এস২৬ এফইতে রয়েছে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস ডাইনামিক অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে। ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ ও পিক ব্রাইটনেস ১৯০০ নিটস পর্যন্ত। ধুলো ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য ডিভাইসে রয়েছে আইপি৬৮ রেটিং। ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সিনোস ২৫০০ প্রসেসর দিয়ে ফোনটি পরিচালিত হবে। এতে ৮ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ১২৮ জিবি থেকে ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।

ছবি তোলার জন্য ফোনটির পেছনে তিনটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মূল ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের, যাতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস) সুবিধা আছে। এছাড়া ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং তিন গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধার ৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে দেয়া হয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ফোনটিতে ৪৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি রয়েছে। এটি ৪৫ ওয়াটের দ্রুত চার্জিং ও ১৫ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে।

৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার পুরুত্বের ফোনটির ওজন প্রায় ১৯৩ গ্রাম। এটি ব্লুবেরি, গ্রাফাইট ও পেস্তা রঙে পাওয়া যাবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু বাজারে ফোনটির বিক্রি শুরু হবে বলে জানান কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

ইউরোপের বাজারে ৮ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হচ্ছে ৭৯৯ ইউরো থেকে (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ১ লাখ টাকার ওপরে)।

দক্ষিণ কোরিয়ান টেক জায়ান্ট স্যামসাংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজ হলো ‘এস’। নতুন উদ্ভাবন, সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর, বিশ্বমানের ডিসপ্লে ও সেরা ক্যামেরা প্রযুক্তি স্যামসাং প্রথম এএস সিরিজের ফোনগুলোয়ই নিয়ে আসে।

বিনামূল্যে গুগল এআই ব্যবহারের সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
বিনামূল্যে গুগল এআই ব্যবহারের সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
টপ স্টোরিজ

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের বিনা মূল্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে গুগল। ‘ব্যাক টু স্কুল’ কর্মসূচির আওতায় এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে অফারটি নিতে হলে শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় যাচাই করতে হবে।

এই সুবিধার আওতায় শিক্ষার্থীরা গুগলের জেমিনাইয়ের উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেমিনাই ব্যবহারের সীমা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ এবং ৪০০ জিবি বিনা মূল্যের ক্লাউড সংরক্ষণ সুবিধা দেওয়া হবে।

কারা পাবেন
বাংলাদেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন হবে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার প্রমাণপত্র। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া পরিচয়পত্রও ব্যবহার করা যাবে।

যেভাবে নিতে হবে
প্রথমে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে গুগল ওয়ানের শিক্ষার্থী পেজে যেতে হবে। সেখানে ‘শিক্ষার্থী সুবিধা গ্রহণ করুন’ অপশনে ক্লিক করে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন করতে হবে।

এরপর শিক্ষার্থীর নাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। গুগল যে তথ্য ও কাগজপত্র চাইবে, সেগুলো জমা দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

পড়াশোনায় মিলবে বাড়তি সুবিধা
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে জেমিনাইয়ে যুক্ত হচ্ছে বেশ কিছু নতুন সুবিধা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাসের নোট ও পাঠ্যসূচি আপলোড করলে সেগুলোর ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পড়ার নোট, ছোট শিক্ষামূলক পাঠ এবং কুইজ তৈরি করতে পারবে এআই।

শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণেও সহায়তা করবে এই প্রযুক্তি। জটিল বিষয় সহজে বোঝাতে তৈরি করা যাবে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন ও তথ্যের সারণি। ফলে বিজ্ঞান, গণিতসহ বিভিন্ন কঠিন বিষয় শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বাড়তি সহায়তা পাবেন।

এ ছাড়া জেমিনাই লাইভ ও গভীর গবেষণার সুবিধাও থাকছে এ অফারে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

খেলা দেখলেই উপহার! কাতারে এল ‘হায়োহ’ অ্যাপ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
খেলা দেখলেই উপহার! কাতারে এল ‘হায়োহ’ অ্যাপ
টপ স্টোরিজ

স্টেডিয়ামে গিয়ে সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করা ক্রীড়াপ্রেমীদের পুরস্কৃত করতে কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে সম্পূর্ণ নতুন স্পোর্টস লয়ালটি প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ‘হায়োহ’ (Hayoh)। এই বিনামূল্যের অ্যাপটির মাধ্যমে দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন যোগ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে টিকিট ক্রয় এবং শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা আকর্ষণীয় পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন।

আয়োজকদের মতে, ভক্তরা যত বেশি ম্যাচে সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকবেন, তাঁদের সংগৃহীত পয়েন্টের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তীতে এসব পয়েন্ট দিয়ে আকর্ষণীয় নানা ডিজিটাল ও ভৌত উপহার সংগ্রহ করা যাবে।

পয়েন্ট অর্জনের পদ্ধতি ও সদস্যপদ

‘হায়োহ’ অ্যাপে ব্যবহারকারীদের মূল পয়েন্ট ব্যবস্থা দুটি ভাগে বিভক্ত:

টিয়ার পয়েন্ট (TP): প্রতিটি যোগ্য ইভেন্টে অংশ নিলে ১টি করে টিয়ার পয়েন্ট পাওয়া যাবে, যা সদস্যের মেম্বারশিপ লেভেল বা স্তর নির্ধারণ করবে। এই পয়েন্ট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর বা রিডিম করা যাবে না।

হায়োহ পয়েন্ট (HP): স্টেডিয়ামে নিশ্চিত উপস্থিতির জন্য প্রতি ম্যাচে ১,০০০ হায়োহ পয়েন্ট জমা হবে। এই পয়েন্টগুলো সরাসরি ক্যাটাগরি অনুসারে পুরস্কার পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

রিওয়ার্ডস ক্যাটালগ ও টিকিট লিঙ্কিং প্রক্রিয়া

সহজ কয়েকটি ধাপে টিকিট লিঙ্কিং সম্পন্ন করে পয়েন্ট দাবি করা যাবে:

১. টিকিট লিঙ্কিং: টিকিট কেনার সময় ব্যবহারকারীকে তাঁর ‘হায়োহ আইডি’ (Hayoh ID) ইনপুট দিতে হবে অথবা অ্যাপের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট পার্টনারের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট কিনতে হবে।

২. উপস্থিতি যাচাই: স্টেডিয়ামে উপস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত ও যাচাই হওয়ার পরেই কেবল অ্যাকাউন্টে পয়েন্ট জমা হবে।

৩. পুরস্কার ক্যাটালগ: অর্জিত পয়েন্ট দিয়ে খাদ্য ও পানীয়, ফ্যাশন ও রিটেইল, টেলিকমিউনিকেশন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, হোটেল, অটোমোবাইল সার্ভিস এবং বিনোদন খাতের বিভিন্ন বিশেষ ডিসকাউন্ট বা পণ্য গ্রহণ করা যাবে।

অ্যাকাউন্ট ও রেজিস্ট্রেশনের শর্তাবলী

অ্যাপটিতে অভিভাবকেরা তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের (Dependents) অ্যাকাউন্টও যুক্ত করার সুযোগ পাবেন।

অ্যান্ড্রয়েডের গুগল প্লে (Google Play) এবং আইওএসের অ্যাপ স্টোর (App Store)—উভয় প্ল্যাটফর্মেই অ্যাপটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যবহারকারীর একটি বৈধ কাতার আইডি (QID) থাকা বাধ্যতামূলক।

এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোতে জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!
টপ স্টোরিজ

ভারতে জেমিনিকে নিয়ে নতুন একটি প্রচারণা শুরু করেছে গুগল ইন্ডিয়া। এতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। প্রচারণাটির থিম ও চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রসূন যোশি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনির বহুভাষিক সক্ষমতা তুলে ধরাই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। গুগল, ম্যাকক্যান ইন্ডিয়া ও নির্ভানা ফিল্মস যৌথভাবে প্রচারণাটি তৈরি করেছে।

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোয় জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। জেমিনি টেক্সট, ভিডিও, কণ্ঠস্বর ও ছবি—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করলেও প্রচারণার সৃজনশীল কাজটিতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, এআইকে মানুষের কাছে কম ভীতিকর ও আরো স্বাভাবিক করে তোলা।

গুগল ইন্ডিয়ার মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখর খোসলা বলেন, প্রযুক্তি তখনই সত্যিকার অর্থে তার জাদু ছড়ায়, যখন এটি শুধু একটি হাতিয়ার হিসেবে না থেকে জীবনের প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোর সঙ্গী হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, গুগল জেমিনির মাধ্যমে আমরা শুধু আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের মধ্যকার দূরত্ব কমাচ্ছি না; আমরা ভারতের হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলছি—আমাদের নিজেদের ভাষায়, নিজেদের আবেগে এবং নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের পরিসরে। শাহরুখ খান ও প্রসূনের সঙ্গে কাজ করে এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা আশা করি, এটি আপনাদের প্রতিদিনের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে উঠবে এবং প্রতিটি মুহূর্তে নতুন ভাবনা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।’

প্রসূন যোশি বলেন, ‘এগুলো শুধু দৈনন্দিন জীবনের গল্প নয়। এগুলো এমন কিছু মুহূর্ত থেকে এসেছে, যেগুলো আমার মনে থেকে গেছে। আশা করি, দর্শকরাও এগুলোর সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।’