১ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলে রেকর্ড আসন পেয়েও কেন ‘কিংমেকার’ হতে পারছে না আরব দলগুলো?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ইসরায়েলে রেকর্ড আসন পেয়েও কেন ‘কিংমেকার’ হতে পারছে না আরব দলগুলো?

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন কোনও জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কিন্তু ইসরায়েলের প্রধান ইহুদি দলগুলোর বিরোধিতায় নির্বাচনী সাফল্য সত্ত্বেও সরকার গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আংশিক ফল ও বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল দুটি মিলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ১৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, ইহুদি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেতে পারে ৫৩ আসন। আর আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮ আসন।

সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শেকের মতে, এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আরব ভোটের পুনরুত্থান। তার ভাষায়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক সমীকরণে এত বড় জনগোষ্ঠীকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সামনে বড় বাধা রাজনৈতিক অঙ্ক নয়, বরং ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অনীহা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিন স্টাডিজবিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের মহাপরিচালক হোনাইদা ঘানাম বলেন, আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে সরকার গঠনের বৈধ অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে অধিকাংশ ইসরায়েলি দলের আপত্তি রয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ

টাইমস অব ইসরায়েল-এর হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকটের বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে তাদের আসনসংখ্যা ৬৬-তে পৌঁছাতে পারে। এতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব।

তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে বিরোধীদের অনীহা মূলত আদর্শিক। আইজেনকট আরব দলগুলোর প্রতি আনুগত্যের শর্ত আরোপ করেছেন এবং তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন।

রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস অবশ্য আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার শর্ত, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে আরব দলকে দায়িত্ব দিতে হবে। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখার কথা বলেছেন।

সমঝোতায় বাধা কোথায়?

নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যানও সরকারে কেবল ‘জায়নবাদী’ দল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তবে বিরোধী জোটের অংশ ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে। তার মতে, ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রাখার নীতি আর মেনে নেওয়া উচিত নয়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে অবশ্য এর আগেও এমন সহযোগিতার নজির রয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর রা’আমের সমর্থন নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে সেই সরকার বেশিদিন টেকেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে নতুন নির্বাচন, বাইরে থেকে আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার, বিরোধী জোট থেকে নেতানিয়াহুর শিবিরে দলবদল কিংবা জাতীয় ঐক্যের সরকার- এই চারটি সম্ভাবনা সামনে রয়েছে।

ফলে রেকর্ড আসন পাওয়ার পরও আরব দলগুলো শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ওপর।

সূত্র: আল-জাজিরা

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে

গত মাসে সহ-পাইলটের হামলা মোকাবিলা করে দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় এবং তার ক্রু সদস্যদের সর্বোচ্চ সাহসিকতাসূচক সম্মাননায় ভূষিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মাঝ-আকাশের ওই ঘটনায় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ।

এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্লাইদুবাই কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

ওই হামলায় মাচ্ছাড় গুরুতর আহত হন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করার জন্য ক্রু সদস্য, ছুটিতে থাকা পাইলট এবং যাত্রীদেরও কৃতিত্ব দেন তিনি। ককপিটে সংঘর্ষের পর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনজীবীরা ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আবিবগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত করে।

বিমান সংস্থাটি এখনো ইসরায়েলি শহরটিতে পরিষেবা পুনরায় চালু করেনি এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইট স্থগিতাদেশ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

সূত্র: নিউ আরব

ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই দুই এলাকার সৈকত বন্ধের এক দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস আল খাইমাহ পুলিশের সদর দফতরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয় আমিরাতটির পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট। তবে, এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্র উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করছে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত উম্ম আল কুয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উম্ম আল কুয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন আল হামরিয়াহ সৈকতও সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।

শারজাহ, আজমান ও উম্ম আল কুয়াইনের কয়েকটি এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার উম্ম আল কুয়াইনেও তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। তবে ইউএইর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জড়িত ট্যাংকারটির নাম প্রকাশ করেনি আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি এ সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত রাস আল খাইমাহর আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি ক্যাসিনো রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইউএইর প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও গত মার্চে উইন জানায়, সাময়িক বিরতির পর রিসোর্টটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের
আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গালগাশ অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরিভিত্তিতে ‘যৌথ উপসাগরীয় পদক্ষেপ’ বা যৌথ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আমরা একটি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আক্রমণকারীদের ভুল ধারণার কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর পরপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা সবাই এখন প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা নয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত আক্রমণ কেবল একক কোনো দেশের বিষয় নয়, বরং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আনোয়ার গালগাশের মতে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উপসাগরীয় উদ্যোগগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোকে সুদৃঢ় করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষার এই দিকটিতে মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে শত্রুপক্ষ আজ আমাদের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সুযোগ পাচ্ছে।

যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকে বাইকের পাশে বসে গভীর মনোযোগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া।

তবে তার কাছে এটি স্রেফ নেটিজেনদের নজর কাড়ার বিষয় নয়, বরং পরিবার ছেড়ে প্রবাসে কাজের মাঝে নিজের ঈমান ও প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি আঁকড়ে রাখার এক দৈনন্দিন প্রচেষ্টা।

গত দুবছর ধরে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন মনসুর। আর গত পাঁচ মাস ধরে তিনি জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘তালাবাত’-এর ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন।

দেশে থাকা স্ত্রী ও দুই সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অর্ডারের ফাঁকে বাইকটি দাঁড় করিয়ে হাতে একটি কুরআন শরীফ নিয়ে পরম তৃপ্তিতে তিলাওয়াত করছেন মনসুর।

তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এটি নিয়মিত করে আসছেন। এর পেছনে রয়েছে তার জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায়।

তিন বছর আগে মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে নিজের বাবা-মা এবং ভাইকে হারান মনসুর। প্রিয়জনদের হারানোর এই গভীর শোক ও বেদনা তাকে ইসলামের অনুশাসনের আরও কাছে নিয়ে আসে এবং তিনি পুরো কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেন।

ডেলিভারির কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে রাস্তায় বাইক চালিয়ে পার করতে হয়। কুরআন যেন ভুলে না যান, তাই বাইক চালানোর সময় তিনি মোবাইলে তিলাওয়াত শোনেন। আর রাইডের মাঝে যখনই খানিকটা অবসর মেলে, সাথে রাখা কুরআন শরিফ খুলে তিলাওয়াত করতে বসে যান।

মনসুর বলেন, ‘কাজের বিরতিতে কুরআন পড়লে তা আমাকে গভীরভাবে মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে আল্লাহর কাছাকাছি অনুভব করি।’ প্রয়াত মা-বাবার মাগফিরাত কামনা করেই মূলত তার এই তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনার নিয়তেই কোরআন পাঠ ও চর্চা করি।’

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহপাইলটের হামলার পর ১৭২ যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার।

সাক্ষাতের পর মাচ্ছারের প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা’ জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের ইতিহাসের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’

ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে ও তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার। তাঁর সহপাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। গত বুধবার উড্ডয়নের পর হামাম ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সতর্ক করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।

মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার পেছনে হামামের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কট্টরপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে ওমানে হামামকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।