২৬ জুলাই ২০২৬

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি: দাবি বেবিচকের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি: দাবি বেবিচকের

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকল্পের সব ব্যয় যথাযথ সরকারি অনুমোদন এবং চুক্তির শর্ত মেনেই করা হয়েছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে বেবিচক বলেছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন ওয়ার্ক, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা খণ্ডিত ও প্রেক্ষাপটবিহীন। এসব তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

বেবিচক বলছে, প্রায় দুই বছর আগে তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়েছে। এর কারণ ছিল পরিচালনাগত প্রস্তুতি, কারিগরি পরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময়।

এসব প্রস্তুতির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বেবিচক বলেছে, এ দাবি 'তথ্যগতভাবে ভুল'। ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকার মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০১৭ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পায়। পরে আন্তর্জাতিক দরপত্র মূল্যায়নের পর ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকার সংশোধিত ডিপিপি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সরকার অনুমোদন দেয়।

এরপর দ্বিতীয়বার সংশোধিত ডিপিপি ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দেয়। যেখানে মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা এবং ভেরিয়েশন ওয়ার্কের জন্য ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা।

এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যেই রয়েছে।

সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যবহৃত গাছপালা অতিরিক্ত দামে কেনার অভিযোগও অস্বীকার করেছে বেবিচক। সংস্থাটির দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে নির্ধারিত একক দর অনুযায়ীই সব অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। চুক্তিতে প্রায় ১৪ হাজার ৮২৪টি বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) আইটেম রয়েছে এবং সামগ্রিক চুক্তি থেকে আলাদা করে কোনো একটি আইটেমের মূল্যায়ন করা যায় না।

পুকুর উন্নয়ন, মাটি অপসারণ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে দেওয়া অর্থ এবং ভেরিয়েশন ওয়ার্কে অনিয়মের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে বেবিচক। সংস্থাটি জানায়, এসব কাজ ফিডিক চুক্তির আওতায় সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের আন্তর্জাতিক প্রকৌশল পরামর্শক এনওসিডি জেভি তা অনুমোদন করেছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের যে আপত্তি তুলেছে, সে বিষয়ে বেবিচক বলেছে, সরকারি প্রকল্পে নিরীক্ষা আপত্তি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ নয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, মন্ত্রণালয় গঠিত সমঝোতা কমিটি ইতোমধ্যে প্রকল্প ব্যয় থেকে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকি অডিট আপত্তিগুলোর জবাবও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কথিত ভুয়া ভেরিয়েশন ওয়ার্কে কারা অনুমোদন দিয়েছেন, অনিয়মের মাধ্যমে কত অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয় হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন—সব বিষয়ই সরকার খতিয়ে দেখবে।

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'যেই জড়িত থাকুক না কেন, আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেল বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেল বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কহার পেয়েছে। এর ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও শক্তিশালী হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার আওতায় জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত শেষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেছে।

২৩ জুলাই ঘোষিত এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ওয়াশিংটন সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায় পূর্বে আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশও এ তালিকায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানি বাজারে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। ফলে এসব দেশের তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০১ ধারার অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফ করা হতে পারে।

এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আরও একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলোর টেকসই প্রবৃদ্ধি, নীতিমালা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সরকার।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬% বাংলাদেশির: জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬% বাংলাদেশির: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ পাঁচটি সহযোগী সংস্থার এক যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার এক উদ্বেগজনক তথ্য।

‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৩৮.৬ শতাংশ মানুষেরই স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই।

সাধ্যের বাইরে থাকা উচ্চমূল্যের কারণে দেশের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ এই মারাত্মক আর্থিক ও পুষ্টিসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত 'হেলদি ডায়েট বাস্কেট' (স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার) মূলে রয়েছে দৈনন্দিন মাথাপিছু অন্তত ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরির সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা। এর আওতায় শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শাকসবজি, ফলমূল, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও তেল-চর্বির মতো ছয়টি মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কেবল পেট ভরানো নয়, বরং শরীরের সঠিক বিকাশ ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এসব উপাদানের উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় এই খাদ্যতালিকা জোগাড় করা দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

কেবল বাংলাদেশেই নয়, খাদ্য নিরাপত্তার এই বৈশ্বিক সংকট পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই দৃশ্যমান। এ অঞ্চলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক, যেখানে প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার ক্ষমতা নেই। পাকিস্তানের পরপরই দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য সংকটের বিচারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ সুষম খাবার জোগাড় করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, যার মধ্যে আফ্রিকায় এই হার সর্বোচ্চ ৬৬.৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের অযৌক্তিক ও আকাশছোঁয়া দামই এই সংকটকে নিয়মিত উসকে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস এবং ফলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে।

তাছাড়া বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত তা কার্যকর হলেও বিশ্ববাজারে দাম কমার সুফল স্থানীয় ভোক্তারা সহজে পান না। ফলে সাধারণ মানুষের আয় সামান্য বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার কেনা তাদের নাগালের বাইরেই রয়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে দেশে স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশে একজন মানুষের জন্য প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালে যেখানে ৩.০৯ ডলার পিপিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে।

খরচের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে মূলত প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে, আর শর্করাজাতীয় খাবারে ব্যয় হচ্ছে তুলনামূলক কম। এ অঞ্চলে খরচের বিচারে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পরই বাংলাদেশের অবস্থান হলেও পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবারের সার্বিক খরচ মাত্র ৩.৯৪ ডলার।

অবশ্য এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মধ্যেও আশার একটি আলো খুঁজে পাওয়া গেছে পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারার সক্ষমতার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে। ২০১৭ সালে যেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬২.৮ শতাংশ অর্থাৎ ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারতেন না, ২০২৫ সালে সেই হার কমে ৩৮.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে খাবারের দাম বৃদ্ধির হারের চেয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্য বাবদ বরাদ্দের আয় কিছুটা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই সামর্থ্যহীন মানুষের মোট সংখ্যায় এই ইতিবাচক পতন সম্ভব হয়েছে।

বৈশ্বিক পরিসরেও স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ সাম্প্রতিক সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী দৈনিক সুষম খাবারের গড় খরচ ২.৯৪ ডলার থাকলেও ২০২১ সালে তা বেড়ে ৩.৪৪ ডলার এবং ২০২৫ সালে এসে দাঁড়ায় ৪.২৮ ডলারে।

বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই দৈনন্দিন খরচ ৪.৯১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পরও বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের মোট সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে নেমে এসেছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে নিয়ে আসতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।

একই সাথে পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত সংসংরক্ষণাগার নির্মাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির সার্বিক উন্নয়ন, নিখুঁত বাজার তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্যের যেকোনো ধরণের অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে ফিলিপাইনের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে ফিলিপাইনের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ানের (আসিয়ান) বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় ফিলিপাইনের সমর্থন চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন (টিএসি)-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে আজ ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা. থেরেসা পি. লাজারোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ জানান।

বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নার্সিং, চিকিৎসা পর্যটনের জন্য ভিসা সহজীকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পরিবার পুনর্মিলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. খলিলুর রহমান দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায়ও ফিলিপাইনের সমর্থন কামনা করেন।

দুই মন্ত্রী বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা গভীর করা এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তদারকির অভাবে থামছে না ভিসা বাণিজ্য ও প্রবাসী প্রতারণা

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
তদারকির অভাবে থামছে না ভিসা বাণিজ্য ও প্রবাসী প্রতারণা

চলতি বছর দেশে নিবন্ধন পেয়েছে নতুন ২১৬টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এই নিয়ে আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে শ্রমিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সরকারি সংখ্যা। যা প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল শ্রীলঙ্কা থেকে তুলনামূলক বেশি। সরকারি নিবন্ধন নিয়েও অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভিসা বিক্রি ও প্রতারণার নানা অভিযোগ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সমন্বয়হীনতার অভাবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে এজেন্সিগুলো। তবে বিএমইটি বলছে, অভিযোগ পেলে নেয়া হবে ব্যবস্থা।

সাব এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগী ধরে বিদেশ যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রিক্রুটিং এজেন্সিকে বেছে নেন অনেকেই। চলতি বছর দেশে নতুন লাইসেন্স পেয়েছে ২১৬টি রিক্রুটিং এজেন্সি। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেও বিদেশে কাজের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের লাইসেন্সধারী এসব এজেন্সি। রাজধানী জুড়ে এক হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও অর্ধেকেরও কম প্রতিষ্ঠান সরাসরি শ্রম অভিবাসনে ভূমিকা রাখছে। অভিযোগ আছে, অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স বাড়ার কারণে বেড়েছে ভিসা বিক্রি ও প্রতারণা।

শ্রমিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকে তুলনামূলক বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সবশেষ তথ্য মতে, দেশে রিক্রুটিং এজেন্সি ২ হাজার ৮৪১টি। এরমধ্যে সক্রিয় ২ হাজার ১৭৫টি ও লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২৯৭টির।

ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, ‘রিক্রুটিং এজেন্সি লাইসেন্স দিলেই যে রিক্রুটমেন্ট ফেয়ার অ্যান্ড ইথিক্যাল হবে তা তো না। যারা রিক্রুটিং এজেন্সি লাইসেন্সধারী, তারা সবাই কিন্তু মার্কেটিং করে না। তারা বিদেশে কিন্তু লোক সেভাবে পাঠায় না। আমরা যেভাবে পুরনো কথা বলে আসছি—যারা ভিসা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে ভিসা কিনে এনে এখানে লোক পাঠায়, সেই কাজে নিয়োজিত। দ্যাট ইজ, তারাও ওয়ান কাইন্ড অফ মিডলম্যান।’

লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে বায়রার সদস্য প্রায় আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্তির প্রতিযোগিতা থাকলেও অধিকাংশ এজেন্সি কাজ করে মূলত সাব এজেন্টের।

বায়রার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেড় থেকে ২০০ রিক্রুটিং এজেন্সি সৌদি আরবে সরাসরি রিক্রুটমেন্টের সাথে জড়িত। এখন আমাদের লাইসেন্স সংখ্যা বাড়ার কারণে সেটি হয়তো ৩০০ এর মধ্যে গিয়ে পড়বে। বায়রারকে আমরা একটা পরিবার বলে থাকি। বায়রার কোনো একজন লোকের কাছে যদি ডিমান্ড আসে, সেই ডিমান্ডের মানে পরিবারের সদস্য হিসেবে ডিমান্ডের হক সবারই থাকে। এজন্য সবাই সবাইকে সহায়তা করে, আমরা বিষয়টাকে ওভাবেই দেখি।’

লাইসেন্সধারী অনেক এজেন্সির বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রতারণার ফাঁদ পাতার অভিযোগ। তাই মেয়াদ নবায়নের আগে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘যদি সরকার টাফ থাকে এবং তারা যদি চেক করে যে এই রিক্রুটিং লাইসেন্সের নামে কোনো কমপ্লেইন নাই, বা এক বছরে সে ১০০ লোক মিনিমাম পাঠিয়েছে, তাদের লাইসেন্সগুলি রিনিউ করা উচিত। এবং যেগুলো তারা লোক পাঠায় নি, এগুলো ক্লোজ করে দিলেই অটোমেটিক লাইসেন্স কমে আসবে।’

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সমন্বয়হীনতার কারণেই এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতারণার এড়াতে কাজের মূল্যায়নের পাশাপাশি যত্রতত্র লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করতে হবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ‘এতগুলো রিক্রুটিং এজেন্সি হওয়ার কারণে সেটা অনলাইন হোক আর অফলাইন হোক, সেগুলো মনিটর করা কিন্তু সরকারের পক্ষে কঠিন। যেটা ইমিডিয়েটলি করা দরকার—যে এক ধরনের একটা মূল্যায়ন করা দরকার, যে এতগুলো রিক্রুটিং এজেন্সি আসলেই তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে কিনা। যারা খুবই তাদের পারফরম্যান্স খারাপ, তাদেরকে একটা আলাদা তালিকায় ফেলে রাখা যেতে পারে। যে এদেরকে খুব বেশি অনুমোদন দেয়া যাবে না বা এদের ব্যাপারে আসলেই খুব নজরদারি বেশি রাখতে হবে। আর যারা ভালো কাজ করছে, তাদের সাথে হয়তো আরও নিয়মিতভাবে কাজ করা যায়।’

ভিসা বিক্রি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলছেন বিএমইটির এই কর্মকর্তা।

বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘যদি আমরা এরকম সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাই যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গিয়েছে কিন্তু সে কাজ পাচ্ছে না, তাহলে অভিযোগ পাইলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।’

নিরাপদ শ্রম অভিবাসন ও কর্মীদের কাজের নিরাপত্তা দিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও বেশি জবাবদিহিতা ও নজরদারির আৱওতায় আনতে হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি তার পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তার কার্যকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। এ সময়ে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকাল এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের ইতিহাস তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি একই মেয়াদে আলাদা সময়ে ৩ জন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।