২৬ জুলাই ২০২৬

২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবট নামাচ্ছে জাপান

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবট নামাচ্ছে জাপান

২০৪০ সালের মধ্যে ১৮টি ভিন্ন খাতে ১ কোটি এআই-চালিত রোবট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এই ঐতিহাসিক রোবোটিকস অভিযানের জন্য দেশটির সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।

জাপানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় রোবোটিকস চালুর উদ্যোগ। ২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবটের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা জাপানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশটির চরম শ্রমিকসংকট মেটাতে ফিজিক্যাল এআই-ভিত্তিক এই রোবট প্রযুক্তিই হতে চলেছে তাদের টিকে থাকার মূল কৌশল।

নোয়েত্রা কী এবং কারা এটি তৈরি করছে
জাপানের ‘অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়’ এবং উদ্ভাবনী সংস্থা ‘এনইডিও’-এর অধীনে গঠিত হয়েছে একটি নতুন কনসোর্টিয়াম। এর নাম দেওয়া হয়েছে নোয়েত্রা। সফট ব্যাংক, এনইসি, সোনি এবং হোন্ডার যৌথ মালিকানাধীন এই কনসোর্টিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো একটি ফিজিক্যাল এআই ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করা। এটি এমন একটি মাল্টিমোডাল এআই সিস্টেম, যা ভাষা, ছবি, ভিডিও এবং সেন্সর ডেটা একসঙ্গে প্রসেস করবে এবং রোবটকে বাস্তব পরিবেশে সিদ্ধান্ত নিতে ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। ফুজিতসু ও রাকুটেনও এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নোয়েত্রার প্রথম ব্যবহারিক মডেল উন্মোচন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

কেন এই রোবট সেনা
১৯৯৫ সালে জাপানের কর্মক্ষম জনসংখ্যা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর থেকে তা ক্রমাগত কমছে। ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে ৭৩ দশমিক ৭ মিলিয়নে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। রিক্রুট ওয়ার্কস ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিকের ঘাটতি দাঁড়াবে ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লাখে।

অন্যদিকে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে জাপানের ৬৫ লাখ বা ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু দেশটির অত্যন্ত কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এটি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জাপানের এই বিশাল রোবট বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত কেবল প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

১৮টি অগ্রাধিকার খাতের রোবট বাহিনী
এই পরিকল্পনার অধীনে মূলত ১৮টি শিল্প ও সেবা খাতকে রোবট দিয়ে সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো খাবার তৈরি ও রেস্তোরাঁয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবার তৈরি, প্যাকেজিং ও পরিবেশন করা।

হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে রোগীদের সেবা দেওয়া, তাদের গতিশীলতায় সহায়তা করা এবং নিয়মিত কাজের তদারকি।

ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি নিষ্ক্রিয় করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সংগৃহীত ডেটা ব্যবহার করে দুর্যোগকালীন উদ্ধার কাজ পরিচালনা।

এশিয়ার রোবট যুদ্ধ
জাপানের এই ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রযুক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তারা ২০২৮ সালের মধ্যে ১০টি প্রধান শিল্পে হিউম্যানয়েড অর্থাৎ মানুষের মতো রোবট বাণিজ্যিকভাবে নামাতে চায়। বর্তমানে প্রতি ১০ হাজার কর্মীর বিপরীতে ১ হাজার ১২টি রোবট নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রোবট ব্যবহারকারী দেশ। এ ছাড়া হুন্দাই তাদের বোস্টন ডায়নামিকস সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে প্রতিবছর ৩০ হাজার অ্যাটলাস রোবট তৈরির পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি চীনও এজিবোট ও ইউনিট্রির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ ঢোকার ফ্রিজ বানাল জাপান! ৫ মিনিটেই দূর হবে প্রচণ্ড গরমের ক্লান্তি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
মানুষ ঢোকার ফ্রিজ বানাল জাপান! ৫ মিনিটেই দূর হবে প্রচণ্ড গরমের ক্লান্তি

আপনি প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছেন? খুব বেশি বিরক্ত হচ্ছেন? এই সমস্যার সমাধানে নতুন এক ফ্রিজ আবিষ্কার করেছে জাপান। ভিন্নধর্মী এই ফ্রিজের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে মানুষ। আর মুহূর্তের মধ্যেই গরমেও আরাম পাওয়ার বিষয়টি অনুভব করতে পারব আমরা।

আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করার কথা তো সবাই জানে, কিন্তু প্রচণ্ড রোদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে চাঙ্গা করার এমন আজব কায়দা আগে কখনো শুনেছেন? বিশ্ব জুড়ে যখন একের পর এক দাবদাহের রেকর্ড ভাঙছে, তখন চরম তাপের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করে বসেছে উদীয়মান সূর্যের দেশ।

সাধারণ এসির হাওয়ায় যখন আর স্বস্তি মিলছে না, ঠিক তখনই জাপানের প্রখ্যাত রেফ্রিজারেশন সংস্থা ‘এসডিআরএস’ সামনে এনেছে তাদের বিশেষ পিলে চমকানো আবিষ্কার ‘ডো হিয়েমন বক্স’। লোকে বলছে,‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’।

রহস্যটা লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরের ক্যারিশমায়। বুথের ভেতরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে সবসময় ঝুলতে থাকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ভেতরের একটি আরামদায়ক চেয়ারে গিয়ে বসামাত্রই শুরু হয় আসল খেলা। শরীরের যেসব অংশ দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেমন মাথা, ঘাড়, কাঁধ আর পিঠ, ঠিক সেদিক লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। গবেষকদের মতে, প্রখর রোদে পুড়ে আসার পর মাত্র ৫ মিনিট এই ফ্রিজে বসলেই দেহের ভেতরের তাপ এক ধাক্কায় নেমে আসে স্বাভাবিক মাত্রায়।

কারখানার শ্রমিক, নির্মাণকর্মী কিংবা সারা দিন রোদে ঘুরে কাজ করা মানুষের হিটস্ট্রোক এবং সানস্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতেই এই বুথের জন্ম। গবেষণায় দেখা যায়, ১০ মিনিট ভেতরে কাটালে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়।

মজার ও বিস্ময়ের বিষয় হলো, সাধারণ এসির তুলনায় এটি প্রায় অর্ধেক বিদ্যুত্ খরচ করে এবং সুরক্ষার খাতিরে ২০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের মায়েবাশি সিটি হলসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সাধারণ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেশন অব আরব স্কুলের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী অবৈধ বা ‘হারাম’ ঘোষণা করে একটি বিস্তারিত ফতোয়া জারি করেছেন।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি বিধিবিধানে বর্ণিত ‘মাল’ বা সম্পদের শর্তাবলি পূরণ করে না, যার ফলে এটি কেনাবেচার জন্য বৈধ কোনো সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশেষজ্ঞ মতামত ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এতে উল্লেখ করা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়, বরং ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার সমষ্টি মাত্র।

মুফতি তাকি উসমানি স্পষ্ট করেছেন যে ইসলামি আইনে মালিকানার জন্য যেসব শর্ত থাকা আবশ্যক, ক্রিপ্টোকারেন্সি সেগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ লেনদেন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এই ফতোয়া অনুযায়ী, বিটকয়েন, ইউএসডিটি, স্টেবলকয়েন কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে পণ্য কেনা বা লেনদেন করা শরিয়াহসম্মত নয়। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ক্রিপ্টো টোকেন কিংবা স্টেবলকয়েন—যে নামেই এই ডিজিটাল সম্পদগুলো বাজারজাত করা হোক না কেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই শরিয়াহ নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং এগুলো সবই অবৈধ বলে গণ্য হবে।

ফতোয়া প্রদানকারী আলেমরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বৈধ মালিকানা এবং সম্পদের যে সংজ্ঞা রয়েছে, এই ডিজিটাল সম্পদগুলো তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বা লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলামি বাণিজ্যিক নীতিমালার আলোকে মুফতি তাকি উসমানির দেওয়া এই রুলিংটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

সূত্র: সামা টিভি।

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’

দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একক এই কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে, কমবে নগদ টাকার ব্যবহার ও প্রতারণার ঝুঁকি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই নিয়মের ফলে ছোট থেকে বড় সব ধরনের ক্যাশলেস লেনদেন সহজ হবে। এখন থেকে একজন বিক্রেতার দোকানে নগদ, বিকাশ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখতে হবে না। একটিমাত্র সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করেই যেকোনো গ্রাহক সহজে তার পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।

ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ যেমন কমবে, তেমনি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে আরেক ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল- সবখানেই নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাবে এই বাংলা কিউআর। এর মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনে মোট প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে ৮১ হাজার ৪২৩টি। এসব জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। বাধ্যতামূলকভাবে সর্বজনীন বাংলা কিউআর চালু হলে এই ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দেবে আপনার হাতের স্মার্টফোন!

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দেবে আপনার হাতের স্মার্টফোন!

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো পূর্বাভাস না থাকলেও, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন কয়েক সেকেন্ড আগেই পাওয়া সম্ভব ভূমিকম্পের মারাত্মক কম্পনের খবর। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো যেখানে টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় ঘন ঘন ভূকম্পনের ঝুঁকিতে থাকে, সেখানে এই প্রযুক্তি জীবন রক্ষাকারী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল নিয়ে এসেছে একটি বিশেষ ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম’, যা ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে ব্যবহারকারীকে সতর্ক বার্তা পাঠায়।

গুগলের এই বিশেষ প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো একেকটি ছোট সিসমোমিটার (ভূকম্পন মাপক যন্ত্র) হিসেবে কাজ করে। ফোনের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর যখন কোনো অস্বাভাবিক কম্পন বা প্রাথমিক ধাক্কা সনাক্ত করে, তখন এটি তাৎক্ষণিকভাবে তার আনুমানিক লোকেশনসহ গুগলের মূল সার্ভারে ডেটা পাঠিয়ে দেয়। যখন একই নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অনেকগুলো ডিভাইস একসাথে এই ধরণের সিগন্যাল পাঠাতে শুরু করে, তখন গুগলের কেন্দ্রীয় সিস্টেমটি ভূমিকম্প নিশ্চিত করে আক্রান্ত এলাকার মানুষের ফোনে দ্রুত অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাঠায়।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনের মতো উন্নত অঞ্চলে গুগল সরাসরি ‘সেকঅ্যালার্ট‌’ নামক একটি নেটওয়ার্কের ১,৬০০টিরও বেশি শক্তিশালী সিসমিক সেন্সরের সাথে যুক্ত হয়ে এই সেবা দিয়ে থাকে।

গুগলের দুই ধরণের সতর্কবার্তা
১। ভূমিকম্পের তীব্রতা বা ম্যাগনিচিউডের ওপর ভিত্তি করে গুগল সাধারণত দুই ধরণের অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাঠায়।

২। বি অ্যাওয়ার অ্যালার্ট সাধারণত ৪.৫ বা তার বেশি মাত্রার মৃদু কম্পনের ক্ষেত্রে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এটি ফোনের সাধারণ নোটিফিকেশনের মতোই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে।

৩। টেক অ্যাকশন অ্যালার্ট অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ও মারাত্মক কম্পনের ক্ষেত্রে এই জরুরি অ্যালার্টটি পাঠানো হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার ফোনটি যদি ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডেও থাকে, তবুও এই নোটিফিকেশনটি ফোনের সব সেটিংস ভেদ করে অত্যন্ত জোরালো ও জরুরি সাইরেন শব্দে বেজে উঠবে, যাতে ব্যবহারকারী দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার সময় পান।

আপনার ফোনে যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
গুগলের এই আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার জন্য আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সেটিংসটি চালু করতে হবে: আপনার ফোনটি অবশ্যই ‘অ্যান্ড্রয়েড ৫.০’ বা তার পরবর্তী সংস্করণের হতে হবে। ফোনে সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ এবং লোকেশন সার্ভিস চালু থাকতে হবে।

চালু করার সহজ ধাপ:
১. প্রথমে আপনার ফোনের (সেটিংস) অপশনে প্রবেশ করুন।
২. স্ক্রল করে নিচে নেমে (নিরাপত্তা ও জরুরি অবস্থা) অপশনটিতে ট্যাপ করুন।
৩. যদি আপনার ফোনে এই অপশনটি সরাসরি না থাকে, তবে ‘লোকেশন’ অপশনে গিয়ে ‘অ্যাডভান্সে’ ক্লিক করুন।
৪. এবার মেনু থেকে ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।
৫. সেখানে থাকা মূল সুইচ বা টগল বাটনটি বন্ধ থাকলে, তা ক্লিক করে চালু ‘অন’ করে দিন।

একবার এই সেটিংসটি সচল হয়ে গেলে, আপনি যখন ফোন ব্যবহার করবেন না বা ফোন লক করা থাকবে, তখনও ব্যাকগ্রাউন্ডে এটি সক্রিয় থাকবে।

ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে উচ্চগতির ইন্টারনেট কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। অনলাইন মিটিং, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা সাধারণ ব্রাউজিং—সবকিছুর জন্যই একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, চড়া মূল্য চুকিয়ে বেশ ভালো গতির ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ ব্যবহার করার পরেও কাঙ্ক্ষিত স্পিড বা গতি পাওয়া যায় না।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

ইন্টারনেট ডাউন বা ধীরগতির এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের খরচ ছাড়াই কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল অবলম্বন করে ইন্টারনেটের কার্যকারিতা এবং গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।

ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান যে কারণটি কাজ করে, তা হলো ওয়াই-ফাই রাউটারটি ঘরের ঠিক কোন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। অনেকেই রাউটারকে আলমারি, টিভির পেছন বা মোটা দেয়ালের পাশে রাখেন, যা ওয়াই-ফাই সিগন্যালের পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সংযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই রাউটার এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে চারপাশ খোলা থাকে এবং সিগন্যাল সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

রাউটারটি মাসের পর মাস দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা একটানা চালু থাকার কারণে এর অভ্যন্তরীণ প্রসেসর ও মেমোরির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা ডিভাইসটির সার্বিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রাউটার বন্ধ করে পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুনরায় চালু করলে এর ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির সমস্যা দূর হয়।

রাউটারের অবস্থানও ইন্টারনেটের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসার এক কোণে রাউটার স্থাপন করলে দূরের কক্ষগুলোতে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ঘরের কেন্দ্রীয় স্থানে রাউটার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুরো বাসায় তুলনামূলকভাবে সমান সিগন্যাল পৌঁছায়।

যদি এসব পদ্ধতিতেও সমস্যার সমাধান না হয়, অন্যান্য উপায়েও ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো সম্ভব। প্রয়োজন হলে রাউটারের রিসেট অপশন ব্যবহার করা যেতে পারে। অধিকাংশ রাউটারে একটি ছোট রিসেট বাটন থাকে, যা চেপে ধরলে ডিভাইসটি ডিফল্ট সেটিংসে ফিরে যায়। এতে অনেক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর হতে পারে। তবে রিসেট করার পর পুনরায় নেটওয়ার্ক সেটআপ করতে হবে।

এ ছাড়া রাউটারের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা উন্নত করতে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে। পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ধীরগতির ইন্টারনেট মানেই যে নতুন বা আরও ব্যয়বহুল প্যাকেজ নিতে হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে রাউটারের সঠিক ব্যবহার, অবস্থান পরিবর্তন, পুনরায় চালু করা, রিসেট করা কিংবা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে সংযোগের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।