কাতারের কৃষিখাত ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সুক ওয়াকিফের ইস্টার্ন স্কোয়ারে শুরু হয়েছে '১১তম স্থানীয় খেজুর উৎসব ২০২৬'। দেশীয় কৃষকদের সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি ও খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে আয়োজিত এই উৎসব চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত।
২০১৬ সালে মাত্র ১৯টি খামার নিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে এবার অংশ নিয়েছে রেকর্ড ১২৫টি স্থানীয় খামার।
সুক ওয়াকিফের পরিচালক ও উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-সালেম জানান, প্রতি বছর খামারের সংখ্যা বাড়াই প্রমাণ করে যে কৃষকদের আস্থা কতটা বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফে আয়োজনের ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষই কেনাকাটায় সুবিধা পাচ্ছেন।
এক ছাদের নিচে তাজা খেজুর ও ফলমূল
উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা সরাসরি খামার থেকে আনা সেরা জাতের খেজুুর কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইখলাস, খুনাইজি, শিশি ও বারহি।
খেজুরের পাশাপাশি এখানে মিলছে কাতারেই চাষ হওয়া তাজা ডুমুর, পেঁপে, লেবু ও বাদাম। সবই বিক্রি হচ্ছে খামার মূল্যে।
কাতারি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন
পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিভাগের প্রধান আহমেদ সালেম আল-ইয়াফি জানান, খেজুর কাতারের আতিথেয়তা ও ঐতিহ্যের বড় এক অংশ। দেশের যেকোনো মজলিসে অতিথি আপ্যায়নে খেজুর থাকবেই, আর এই উৎসব সেই ঐতিহ্যকেই বাঁচিয়ে রাখছে।
উৎসবে বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যেও দারুণ আগ্রহ দেখা গেছে। নিয়মিত আসা উম্ম সারা নামের এক ক্রেতা জানান, রাসায়নিকমুক্ত তাজা খেজুর কম দামে কেনার পাশাপাশি সন্তানদের দেশীয় কৃষির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চমৎকার পরিবেশ মিলছে এখানে।
ভাঙতে পারে বিক্রির সব পুরনো রেকর্ড
গত বছর ১০ম খেজুর উৎসবে ১ লাখের বেশি মানুষ এসেছিলেন এবং বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কেজি খেজুর। আয়োজকদের আশা, এবার খামারের সংখ্যা বাড়ায় বিক্রি ও দর্শনার্থী—দুই দিক দিয়েই আগের সব রেকর্ড পার হয়ে যাবে।