২৬ জুলাই ২০২৬

তবে কি পরমাণু বোমা তৈরির পথে ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
তবে কি পরমাণু বোমা তৈরির পথে ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রয়াত পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে বহুগুণ বেশি আগ্রহী বলে মনে করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ বিষয়ে বাবার নীতি বদলে নিজের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছেন মোজতবা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, প্রকাশ্য মঞ্চে মোজতবা খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পক্ষে সরাসরি কোনো অবস্থান না নিলেও, তিনি এবং তেহরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ইরানকে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করতে বেশ আগ্রহী।

মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার মুখে তেহরানের এই সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ও আগ্রাসী পদক্ষেপের এক মারাত্মক বিপরীতমুখী পরিণতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরান শাসন করা তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আলি খামেনির শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দূর এগিয়ে নেওয়া হলেও, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র নির্মাণের নীতিগত বিরোধী ছিলেন।

তবে তার মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার শীর্ষভাগে আসা তার পুত্র মোজতবা খামেনি এবং নতুন নেতৃত্ব সেই দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। যদিও চলতি সংঘাতের সময় মোজতবা খামেনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং এরপর থেকে তার জনসমক্ষে আসা অনেকটাই কমে গেছে, তবু তিনিই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের আসনে সমাসীন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আয়াতুল্লাহ মোজতবার মানসিকতা ও চিন্তাভাবনা-সংক্রান্ত বেশির ভাগ তথ্যই বর্তমান সংঘাত শুরুর আগে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তার বাবা যে নিরঙ্কুশ ও একক কর্তৃত্ব ভোগ করতেন, মোজতবা এখনো সেই সমপর্যায়ের প্রভাব তৈরি করতে পারেননি।

ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার মেরুকরণের পাশাপাশি মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত।

একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ দর-কষাকষিতেও ইরান এক অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন রূপ ধারণ করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন, ঠিক তখনই আমেরিকান গোয়েন্দাদের এই নতুন মূল্যায়ন প্রকাশিত হলো।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবার পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের এই নতুন সম্ভাবনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ইরানে সামরিক অভিযান বাড়ানোর আরও একটি অতিরিক্ত যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করেনি। তবে আমেরিকান বিমান হামলার হাত থেকে নিজেদের অবশিষ্ট পারমাণবিক সম্পদ ও পরিকাঠামো রক্ষা করতে তেহরান অত্যন্ত সতর্ক ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এর অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্পর্শকাতর সেনট্রিফিউজ স্থানান্তর করতে শুরু করেছে। মধ্য ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে এসব পারমাণবিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত।

সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন তেহরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে দেওয়ার বদলে বরং তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথেই চালিত করছে।

তবে কি পরমাণু বোমা তৈরির পথে ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
তবে কি পরমাণু বোমা তৈরির পথে ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রয়াত পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে বহুগুণ বেশি আগ্রহী বলে মনে করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ বিষয়ে বাবার নীতি বদলে নিজের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছেন মোজতবা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, প্রকাশ্য মঞ্চে মোজতবা খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পক্ষে সরাসরি কোনো অবস্থান না নিলেও, তিনি এবং তেহরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ইরানকে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করতে বেশ আগ্রহী।

মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার মুখে তেহরানের এই সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ও আগ্রাসী পদক্ষেপের এক মারাত্মক বিপরীতমুখী পরিণতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরান শাসন করা তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আলি খামেনির শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দূর এগিয়ে নেওয়া হলেও, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র নির্মাণের নীতিগত বিরোধী ছিলেন।

তবে তার মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার শীর্ষভাগে আসা তার পুত্র মোজতবা খামেনি এবং নতুন নেতৃত্ব সেই দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। যদিও চলতি সংঘাতের সময় মোজতবা খামেনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং এরপর থেকে তার জনসমক্ষে আসা অনেকটাই কমে গেছে, তবু তিনিই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের আসনে সমাসীন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আয়াতুল্লাহ মোজতবার মানসিকতা ও চিন্তাভাবনা-সংক্রান্ত বেশির ভাগ তথ্যই বর্তমান সংঘাত শুরুর আগে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তার বাবা যে নিরঙ্কুশ ও একক কর্তৃত্ব ভোগ করতেন, মোজতবা এখনো সেই সমপর্যায়ের প্রভাব তৈরি করতে পারেননি।

ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার মেরুকরণের পাশাপাশি মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত।

একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ দর-কষাকষিতেও ইরান এক অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন রূপ ধারণ করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন, ঠিক তখনই আমেরিকান গোয়েন্দাদের এই নতুন মূল্যায়ন প্রকাশিত হলো।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবার পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের এই নতুন সম্ভাবনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ইরানে সামরিক অভিযান বাড়ানোর আরও একটি অতিরিক্ত যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করেনি। তবে আমেরিকান বিমান হামলার হাত থেকে নিজেদের অবশিষ্ট পারমাণবিক সম্পদ ও পরিকাঠামো রক্ষা করতে তেহরান অত্যন্ত সতর্ক ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এর অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্পর্শকাতর সেনট্রিফিউজ স্থানান্তর করতে শুরু করেছে। মধ্য ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে এসব পারমাণবিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত।

সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন তেহরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে দেওয়ার বদলে বরং তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথেই চালিত করছে।

বেন গাভিরের নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালালো ইসরায়েলিরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
বেন গাভিরের নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালালো ইসরায়েলিরা

জোর করে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঢুকেছে ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যরা।

ইহুদিদের একটি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর এটিই মসজিদটিতে ইসরায়েলিদের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর পুলিশ পাহারায় আল-আকসায় ঢোকেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইহুদিদের শোক দিবস ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে তিনি সেখানে যান।

মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ঢুকেই ইহুদি ধর্মীয় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। তারা সেখানে গান গেয়েছে, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং প্রার্থনা করেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।

প্রাচীনকালে জেরুজালেমে ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিনটি পালন করা হয়। সেই মন্দির মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণেই ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। যেটি ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বহু সাধারণ ফিলিস্তিনি ও শিক্ষার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অনেকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে চরম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। বয়স্করা ছাড়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার তল্লাশিচৌকিতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।

টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক নগরী ও উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা কেঁপে উঠেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর আরো বিধ্বংসী ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে অসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে ইরানে টানা ১৩ রাতের মতো অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানজুড়ে নতুন দফায় এই হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করছে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন হামলার জেরে ইরানের মূল ভূখণ্ডের একাধিক শহরে পর পর বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, খোন্দাব শহরের বাইরের একটি এলাকায় শত্রুপক্ষের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খোররামাবাদ ও কোনারাক শহরেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ ও আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত অত্যন্ত কৌশলগত বন্দরনগরী জাস্কেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানায়, রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আকাশে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে উচ্চ সতর্কতাবস্থায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত

উপকূলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আবাসিক এলাকা ‘তাপ্পে আল্লাহ-ও-আকবর’-এ চালানো হামলায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন।

হরমুজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতিকে উদ্ধৃত করে ফারস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়ে শহরের আশপাশের এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে মেহর বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

সংঘাতের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং খুজেস্তানের প্রধান শহর আহভাজেও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপের আকাশে একটি উড়ন্ত বস্তু বা ড্রোন ভূপাতিত করার প্রাথমিক অসংবাদিত তথ্যও পাওয়া গেছে।

আরো বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আক্রমণ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হলে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাবে।

ইরানের সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না থামলে প্রতিবার আরো বিধ্বংসী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সামনে আরো শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

পারমাণবিক চুক্তি ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস; সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
পারমাণবিক চুক্তি ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস; সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার, ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে বলেন যে, সৌদি আরবের সাথে একটি যুগান্তকারী চুক্তি হয়েছে। এটি রিয়াদকে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দিচ্ছে। এর বিপরীতে উপসাগরীয় দেশটি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের শর্তে রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কী

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’।

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাব্য শর্ত হিসেবে "সব দেশকে অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করার" আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে করা একগুচ্ছ চুক্তি, যা ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত হয়।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।

এর আগে বুধবার চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অবশ্য বলেননি যে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমঝোতা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তান আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের স্বাক্ষরকারী দেশ।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে শুরু হওয়া একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। সৌদি আরবের যোগদান হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তেলবাহী জাহাজে আগুন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
তেলবাহী জাহাজে আগুন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করল ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রণালিটির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা একটি পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে এক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে থাকা আরও দুটি জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় পড়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করলে অন্য জাহাজগুলোর পরিণতিও একই হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট ও সার সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। তাদের ২৫তম পর্বের 'অপারেশন নাসর ২'-এর অংশ হিসেবে ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই জোরালো আঘাত হানা হয়। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিল শহরে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পরপরই অন্তত ছয়টি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

পাশাপাশি জর্ডানের বাদশাহ ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান ঘাঁটিতে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-ফিফটিন প্রস্তুতকরণ কেন্দ্র এবং কনটেইনারে থাকা আটটি নতুন এমকিউ-নাইন ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, একটি হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে হামলায় দুটি ভারি মার্কিন হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি সামরিক আউটপোস্টে আঘাত হানার ফলে বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়েছে।