২৬ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেই কুয়েত; মার্কিন মিডিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেই কুয়েত; মার্কিন মিডিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কুয়েত। দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত শেখা আল-জাইন আল-সাবাহ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানায়, পত্রিকাটির সম্পাদকীয় বোর্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে রাষ্ট্রদূত বলেন, কুয়েত ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি এবং দেশটির ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি।

এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর কুয়েত ও বাহরাইন ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তাদের হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিভিন্ন শহরে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়া। আরব দেশগুলোতে হামলার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, রাডার-ব্যবস্থা ধ্বংস, বিমানে আগুন

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, রাডার-ব্যবস্থা ধ্বংস, বিমানে আগুন

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার-ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

এছাড়া, পৃথক হামলায় একটি বিমান সরঞ্জাম গুদাম ও মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার একটি হ্যাঙ্গারে আঘাত হানা হয়েছে, এতে বেশ কয়েকটি বিমানে আগুন লেগে যায়।

এদিকে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কারমানশাহ প্রদেশের এসলামাবাদ-ই ঘার্ব এলাকায় একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে ইরান।

মেহর নিউজ জানায়, ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স। সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত একটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।

বিদ্যুৎ ও পানি স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করল কুয়েত

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
বিদ্যুৎ ও পানি স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করল কুয়েত

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ইরানকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছে কুয়েত। দেশটি এ হামলার আইনি, নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির জন্য তেহরানকে দায় বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে।

শাফাক নিউজ জানায়, রোববার এক বিবৃতিতে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয় ধারাবাহিক ও ইচ্ছাকৃত হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন।

কুয়েত আরও জানায়, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার ব্যবহার করে দেশের নিরাপত্তা, ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র। হামলায় সেখানে আগুন লাগে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কুয়েতের সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা, আহত বেশ কয়েকজন সেনা

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
কুয়েতের সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা, আহত বেশ কয়েকজন সেনা

ইরানের ড্রোন হামলায় শুক্রবার সকালে কুয়েতের কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

এক বিবৃতিতে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ইরানি ড্রোন দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনা ও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালালে কুয়েত ল্যান্ড ফোর্সের কয়েকজন সদস্য আহত হন। তবে কতজন আহত হয়েছেন বা কোন কোন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালেদ দিরজ সাদ আল-শুরাইয়ান এবং ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ এয়ার ভাইস মার্শাল সাবাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ আহত সেনাসদস্যদের হাসপাতালে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

এ সময় চিকিৎসকরা আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।

এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আলোচনা চালাচ্ছে কুয়েত। বিনিময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের অনুরোধ

একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কুয়েত তাদের দেশে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করতে চায়। এছাড়া যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছে তারা। আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ইরানের হামলা ও কুয়েতের দুর্বলতা

চলমান যুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলায় তেলসমৃদ্ধ কুয়েত মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত শুক্রবারও ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুয়েত সহজেই ইরান ও ইরাকি মিলিশিয়াদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি ও পাকিস্তানের ভূমিকা

কুয়েতের এই পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। সেখানে ‘ক্যাম্প আরিফজান’ ও ‘আলি আল-সালেম’ নামের দুটি বড় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা অংশীদার। পাশাপাশি ইরানের সাথেও তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সুসম্পর্কের কারণে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে।

সৌদি আরবের পর কুয়েতের উদ্যোগ

কুয়েতের এই আলোচনা প্রমাণ করে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বা সহযোগী শক্তি হিসেবে পাকিস্তান উঠে আসছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবও মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল।

সৌদি আরব ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছ থেকে বড় সামরিক সুবিধা পাচ্ছে। রয়টার্সের মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সৌদিতে ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান এবং একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

ঝুঁকিতে পাকিস্তান

কুয়েত ও পাকিস্তান ২০২৩ সালে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করেছিল। তবে সৌদি আরবের মতো কুয়েতের সঙ্গেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা ইসলামাবাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ এবং ইরানের ওপর তাদের প্রভাব কুয়েতের চেয়ে অনেক বেশি। মাত্র ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ কুয়েত সামরিক দিক থেকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’।

কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।

ওয়াশিংটনের সামরিক অবস্থান ধ্বংস করতেই এই নতুন আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি-র প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে তাদের চলমান ‘নাসর ২’ নামক বিশেষ সামরিক অভিযানের অষ্টম তরঙ্গের অংশ হিসেবে এই আকস্মিক হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর একটি সি-র‍্যাম আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া রাডার ব্যবস্থা এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সৈন্যদের একটি প্রধান সমাবেশস্থলকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে।

বিবৃতিতে তেহরানের সামরিক কমান্ড সেন্টকমের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেছে যে মার্কিন প্রশাসন ইরানের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানোর জন্য কুয়েতের মাটিকে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে।

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কুয়েতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি তাদের দেশ থেকে সমস্ত মার্কিন সৈন্য ও সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি জানানোর জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে ইরান।