যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর শুক্রবার ইরানে সরকার আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নিয়েছে লাখো মানুষ। এ সময় দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় এ ধরনের সমাবেশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি আরও চাপে পড়ার মধ্যে সরকার জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা দিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে। একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরান।
‘জানফাদায়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’ নামে কর্মসূচির আওতায় সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহীদের শুক্রবার তেহরানের কেন্দ্রীয় সড়কে সামরিক পোশাকে মিছিল করতে দেখা যায়। তাদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা। সমাবেশে উপস্থিত দর্শকেরা তাদের স্বাগত জানান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কয়েক দিন ধরে নাগরিকদের এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। শিগগিরই তাদের অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানানো হয়। সরকারের দাবি, নতুন স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ মিলিশিয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করবে।
তেহরানের আইআরজিসি প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ৬ লাখের বেশি মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের হিসাবে, তেহরানের রাস্তায় ৩ লাখের বেশি মানুষ ছিল।
সমাবেশ শুরুর সময় বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেন, স্বেচ্ছাসেবকেরা ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার’জন্য প্রস্তুত থাকবে। শিগগিরই অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমাবেশ হবে বলে জানান তিনি।