১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কায়রো বিমানবন্দরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ছবি: আল-জাজিরা থেকে সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব ও মিসরের ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাম্প্রতিক বৈঠক এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন লোহিত সাগরের নৌপথ, সৌদি তেল অবকাঠামো এবং সুয়েজ খাল—তিনটিই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে ঝুঁকির মুখে।

১৫ সেপ্টেম্বর কায়রোতে সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠকে দুই নেতা বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সিসি একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান এবং ইয়েমেন সংকটের একটি ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ পক্ষে অবস্থান নেন।

বৈঠকের কয়েক দিন আগেই ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেবের আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। একই সময়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির তেল অবকাঠামোও হুতিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ফলে রিয়াদ এখন নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সৌদির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ মিসর?

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরব ও মিসরের স্বার্থ অনেকটাই অভিন্ন। কারণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশ করে। ফলে এই নৌপথে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রফতানি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তেমনি সুয়েজ খালের আয়ও কমে যেতে পারে।

মিসরের সিনেট সদস্য ও কায়রোর নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ আবদেল মোনেম সাঈদ মনে করেন, হুতিদের অগ্রযাত্রা সরাসরি মিসরের অর্থনীতি ও সুয়েজ খালের ওপর চাপ তৈরি করছে। তার মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত ও সামরিক সমন্বয় প্রয়োজন।

কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, কায়রো এখন সুয়েজ খাল থেকে বাব আল-মানদেব পর্যন্ত এলাকাকে একটি ধারাবাহিক নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে দেখছে। বাব আল-মানদেব অনিরাপদ হয়ে পড়লে মিসর জাহাজ চলাচল, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কৌশলগত প্রভাব—তিন ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

‘নতুন আরব ব্যবস্থা’র ইঙ্গিত

সিসি ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের আগে মিসরের পার্লামেন্টের আরববিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাহ আবু হেমিলা বলেছিলেন, এই সফর আরব ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি নতুন রূপরেখার সূচনা করতে পারে।

তার মতে, মিসর-সৌদি সম্পর্ক একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত নতুন আরব আঞ্চলিক কাঠামোর ভিত্তি হতে পারে। এর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা। পাশাপাশি ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সুদানের পরিস্থিতিও আলোচনায় থাকবে।

সিসির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতেও মিসর ও সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে বৃহত্তর আরব নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কতটা সামরিক সহায়তা দেবে মিসর?

এখন পর্যন্ত সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনও নতুন সামরিক চুক্তি বা ইয়েমেনে যৌথ সামরিক অভিযান নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তবে মিসর ইতোমধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন লোহিত সাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের অংশ। আগস্টে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সময়ে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়েই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর-সৌদি সামরিক সহযোগিতা বাড়লে তার আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামুদ্রিক নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং লোহিত সাগরে সামরিক সমন্বয় বাড়তে পারে।

তবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে মিসরের সীমা থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি। অর্থাৎ, কায়রো লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চাইবে না।

এর পেছনে মিসরের অতীত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন মিসরীয় নেতা গামাল আবদেল নাসের উত্তর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সেই সামরিক অভিযানে মিসরের উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটে এবং প্রত্যাশিত ফলও আসেনি।

ফলে ইয়েমেন নিয়ে কায়রোর নীতিতে সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রা

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। তারা বাব আল-মানদেবের কাছের মায়ুন দ্বীপ ও ধুবাব এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, হুতিরা গত কয়েক দশকে একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যারা নৌপথ ও তেল অবকাঠামোয় হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের নিরাপত্তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিসর-সৌদি সমঝোতার সঙ্গে সুদানের যোগসূত্র

ইয়েমেন ছাড়াও মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে সুদানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে।

মিসরের সরকারি তথ্যসেবা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ সুদানের ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার যেকোনও হুমকিকে মিসর, সৌদি আরব ও পুরো অঞ্চলের সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, দুই দেশই রাষ্ট্রের বিভক্তি, সশস্ত্র মিলিশিয়া, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং বাইরের শক্তির সমর্থন পাওয়া অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া ও এখন ইয়েমেনেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্বে কঠিন ভারসাম্য

তবে মিসরের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো পুরোপুরি সহজ নয়। কারণ মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

সুদানের যুদ্ধে আমিরাতের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে মিসর সুদানের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইয়েমেনেও সৌদি আরব ও আমিরাতের নীতিতে পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে কায়রোকে রিয়াদ ও আবুধাবির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর সম্ভবত নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, কিন্তু একই সঙ্গে আমিরাতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ধরে রাখবে।

এখানে অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে মিসরে আমিরাতের নিট বিনিয়োগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দ্বিগুণেরও বেশি—যা কায়রোর জন্য আবুধাবির অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো?

সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। পাকিস্তান ও তুরস্ককে যুক্ত করে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, লোহিত সাগরে বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়ার মতো পদক্ষেপ তারই অংশ।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা দেখিয়েছে, বিভিন্ন নিরাপত্তা অংশীদার থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবকে এখনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
মিসরের সঙ্গে নতুন করে নিরাপত্তা সমন্বয় সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হতে পারে—যেখানে সৌদি আরব একক কোনও পরাশক্তির ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক একাধিক অংশীদারকে নিয়ে নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।

ইয়েমেনে সামরিক সমাধানের বদলে রাজনৈতিক পথ

সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মিসর ইয়েমেন সংকটের ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে, লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় সামরিক সহযোগিতা বাড়লেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে কায়রো সতর্ক থাকবে।

অর্থাৎ, সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের নিরাপত্তায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে মিসরের ভূমিকা সম্ভবত গোয়েন্দা তথ্য, নৌ নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা থাকবে। ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোই কায়রোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাম্প্রতিক বৈঠক তাই শুধু মিসর-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং বাব আল-মানদেব, সুয়েজ খাল, সৌদি তেল রফতানি এবং বৃহত্তর আরব নিরাপত্তাকে ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মিসর শেষ পর্যন্ত কতটা সামরিকভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে হুতিদের অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগরের নৌপথের পরিস্থিতি এবং ইয়েমেন সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সম্ভাবনার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

খেলার ছলে নদীতে ডুবে প্রবাসীর ৪ বছরের একমাত্র কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
খেলার ছলে নদীতে ডুবে প্রবাসীর ৪ বছরের একমাত্র কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালিতে নদীতে ডুবে হাসনা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মধুখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চন্দনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। হাসনা নলেপাড়া মহল্লার কুয়েত প্রবাসী পাপ্পা বিশ্বাসের ৪ বছরের একমাত্র শিশুকন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছ, সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পরিবারের অজান্তে শিশুটি চন্দনা নদীর পাশে চলে যায়। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত নদীর পানিতে পড়ে ডুবে যায় হাসনা। শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মধুখালী পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান লিটন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসনা নলেপাড়া মহল্লার কুয়েত প্রবাসী পাপ্পা বিশ্বাসের একমাত্র শিশু কন্যা। সে অসাবধানতাবশত চন্দনা নদীর পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তার মৃত্যু মেনে নেওয়ার মত নয়।

স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ
নিখোঁজ গৃহবধূ রুপা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে মাদারীপুরের ডাসারে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রবাসীর পরিবার জানায়, নিখোঁজের চারদিন পার হলেও ওই গৃহবধূর কোনো সন্ধান না মেলায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ওই গৃহবধূর নাম রুপা আক্তার (১৯)। তিনি ডাসার উপজেলার পশ্চিম কোমলাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশিক মাতুব্বরের স্ত্রী এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ফেরদাউস মোল্লার মেয়ে।

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের পশ্চিম কোমলাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশিক মাতুব্বরের স্ত্রী রুপা আক্তার গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর বাড়িতে ফেরত আসেননি।

এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজা-খুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে তাকে না পেয়ে ওই গৃহবধূর বাবা ফেরদাউস মোল্লা নিরুপায় হয়ে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ডাসার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার ডায়েরি নং-৫১৯।

নিখোঁজ গৃহবধূ রুপা আক্তারের স্বামী সৌদী প্রবাসী আশিক মাতুব্বর জানান, তার স্ত্রী রুপা আক্তার স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে আসেননি। তাই তার সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন রুপার বাবা।

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. সোলায়মান মাহমুদ জানান, গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চলছে।

মৃত্যুর ১৭ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরল প্রবাসী উজ্জ্বলের মরদেহ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
মৃত্যুর ১৭ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরল প্রবাসী উজ্জ্বলের মরদেহ

যশোরের শার্শায় মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার দিবাগত রাত মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং একটু সুখের আশায় প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল হোসেন । কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর এক দেহ হয়ে-মাটির টানে ফিরলেন তিনি, তবে জীবিত নয় কফিনবন্দি হয়ে।

দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর বিয়ে করেন। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন রঙিন হয়ে ওঠে জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই স্ত্রীকে রেখে আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে। প্রিয়তমাকে স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন- ফিরে এসে সাজাবেন তাদের সংসার, পূরণ করবেন স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তি যেন লিখে রেখেছিল অন্য গল্প।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।

স্বজনেরা বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ সকাল ১১ টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

যে মানুষটি একদিন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, আজ সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। তাঁর মৃত্যুতে গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

মা প্রবাসে:

তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু

তাহিরপুরে জুয়া ও মাদকের বিষাক্ত থাবায় নিমজ্জিত এক বাবার হাতে প্রাণ গেল তার নিজেরই তিনটি নিষ্পাপ শিশুর। তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেছেন শিশুদের বাবা।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের বাবা সরাফত আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো—রজনী লাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো একসময় সরাফত আলী তার তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে সরাফত আলীকে বাদাঘাটের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্স থেকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ বলেন, সকাল ৮টার দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের বিষপান করানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ভোরে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘটনাটি জানান। তাদের বাবা সন্তানদের বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেছেন বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের মা প্রবাসে থাকতেন। তিন-চার দিন আগে তিনি দেশে এসে আবার চলে গেছেন। শিশুদের বাবা জুয়া ও মাদকে আসক্ত ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে তিন শিশুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। এর আগেই তাদের পিতাকে স্বজনরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, তিন শিশুর মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, ছেলের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, ছেলের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে ডাকাতির পর এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে ওই নারীর ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্তরা এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজিব (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি মোফাজ্জলের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২) নামে পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়ির কাছে যায়। সেখানে থাকা ১৪ বছর বয়সী ছেলের কাছে পানি চায় তারা। পানি নিয়ে দরজার কাছে আসার পর তাকে ধরে ফেলে অভিযুক্তরা। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে ঘরের পাশে একটি গাছের সাথে বেঁধে জিম্মি করে রাখা হয়।

এরপর তারা ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলমারি ভেঙে সেখানে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় তারা। একইসাথে গৃহবধূর গলার হার, কানের দুলসহ প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ টাকা, এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

লুটপাট শেষে অভিযুক্তরা কিশোরের গলায় চাপাতি ধরে তার মাকে ঘরের দরজার সামনে নিয়ে আসে। সেখানে কয়েকজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এ সময় রাজিব মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

পরে অভিযুক্তরা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলেকে হুমকি দিয়ে বলে, তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে গফরগাঁও থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে।