১ নভেম্বর ২০২৬

প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠ পার্লামেন্টে পেশ করেছে আঙ্কারা। তুরস্কের সরকার গতকাল মঙ্গলবার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠটি দেশটির পার্লামেন্ট পেশ করে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চুক্তির মূল পাঠের তথ্য প্রকাশ করেছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত আগস্টে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হয়, যা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর মতো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, জোটভুক্ত কোনো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একে অপরকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকি বা বিপদের মুখে পড়ে, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ অবলম্বন করবে।’ ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।’ একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা জোটের মাধ্যমে সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত দেশকে সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়ার মতো সব ধরনের সহযোগিতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।”

এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়, কী পরিমাণ ও কেমন সাহায্য প্রয়োজন—তা একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। এরপর দেশগুলো তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা সামরিক ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ দিয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

এ ছাড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে এতে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো তৈরির বিধানও এই চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

১৬টি অনুচ্ছেদবিশিষ্ট এই চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ বা সমাপ্তির তারিখ নেই। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ১০ বছর পার হলে তবেই কোনো দেশ এতে থেকে নাম প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে এর জন্য অন্য দেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।

নিচে চুক্তিটির পুরো পাঠ দেওয়া হলো

এই চুক্তির পক্ষগুলো হলো তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের বিদ্যমান আইনের মূল নীতিগুলোকে বিবেচনায় রেখে; এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণ ব্যবস্থাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপান্তর করতে সম্মত হয়ে,

যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে,

একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা রক্ষার নীতিগুলোর গুরুত্ব আবারও নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, কোনো পক্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি,

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের গুরুত্বের কথা প্রকাশ করে,

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘পক্ষগুলোর‘ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে,

আন্তর্জাতিক বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ‘পক্ষগুলোর‘ মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে,

‘পক্ষগুলোর’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা-শিল্পের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে,

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে

অনুচ্ছেদ ১

‘পক্ষগুলো’ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা নিশ্চিত ও রক্ষা করতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপন্ন হয়, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ ২

বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের মাধ্যমে সশস্ত্র আক্রমণ বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত ‘পক্ষকে’ সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়া যায় এমন সব ধরনের সহায়তার পুরো ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সাহায্য চাওয়ার পর একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার পরিধি ও ধরণ নির্ধারণ করা হবে। ‘পক্ষগুলো’ তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সম্পদসহ উপলব্ধ সব উপায়ের মধ্য থেকে সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৩

এই চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘পক্ষগুলো‘ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে; নিজ নিজ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সম্মত হওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুচ্ছেদ ৪

চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো (পক্ষগুলো) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করবে। তারা নিজ নিজ এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং যে কোনো হুমকি ও বিপদ দূর করতে সাধারণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পারস্পরিক সহায়তার ধারা বজায় রাখবে।

অনুচ্ছেদ ৫

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশগুলো কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান সহযোগিতা আরো জোরদার করবে।

অনুচ্ছেদ ৬

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুদ্ধ ও শান্তি—উভয় সময়েই দেশগুলো তাদের সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম উৎসাহিত করবে।

অনুচ্ছেদ ৭

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সাহায্য করা হবে—

ক) প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

খ) বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা।

গ) অংশগ্রহণকারী যে কোনো দেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অন্য দেশের ভূখণ্ডে সামরিক শিল্পের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া।

ঘ) প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বিনিময় করা।

ঙ) পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গৃহীত অন্যান্য ক্ষেত্র।

অনুচ্ছেদ ৮

১. চুক্তি বাস্তবায়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাধা দূর করতে প্রধান দেশগুলো (কোর পার্টিস) একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। এতে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানগণ থাকবেন। এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারেন।

২. প্রয়োজন মনে করলে এই কমিটি সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে।

৩. চুক্তির বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশগুলোর মধ্যে আলাদা চুক্তি বা প্রোটোকল সই হতে পারে।

৪. প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নতুন কোনো দেশের এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার নিয়ম ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা কমিটির থাকবে।

৫. কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় থাকবে। সচিবালয় পরিচালন সংক্রান্ত নিয়ম, কাঠামো ও মূল নীতিগুলো পরে প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মতিতে ঠিক করা হবে।

৬. সচিবালয়ের প্রধান হবেন একজন মহাসচিব, যিনি তিন বছরের মেয়াদে প্রধান দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিযুক্ত হবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একজন নাগরিক।

৭. এই অনুচ্ছেদের নিয়মগুলো দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা কমিটির কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ৯

গোয়েন্দা সহযোগিতা আরো গভীর করতে তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা মেনে দেশগুলো নির্ধারিত নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুচ্ছেদ ১০

সরঞ্জাম ও রসদ সহায়তার প্রাপ্যতা ও উপযোগীতার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ, শান্তি কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশগুলো একে অপরকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশসহ প্রয়োজনীয় রসদ সহায়তা দেবে।

মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

অনুচ্ছেদ ১১

আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন বজায় রেখে, দেশগুলো এই চুক্তিকে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব করবে।

অনুচ্ছেদ ১২

এই চুক্তিটি দেশগুলোর পূর্বে করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকার বা বাধ্যবাধকতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ১৩

১. এই চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া সমস্ত গোপন তথ্য ও দলিলের গোপনীয়তা দেশগুলো রক্ষা করবে এবং জাতীয় আইন মেনে চলবে।

২. এসব গোপন তথ্য ও দলিল অন্য কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে শেয়ার করা যাবে না।

৩. কেবল যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো) এবং যাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে, তারাই এসব গোপন তথ্য দেখার সুযোগ পাবেন।

অনুচ্ছেদ ১৪

এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

অনুচ্ছেদ ১৫

প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তি সংশোধন করা যাবে।

অনুচ্ছেদ ১৬

১. নিজ নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তিটি অনুমোদিত হতে হবে। সচিবালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের দলিল জমা দেওয়ার দিন থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

২. এই চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

৩. চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর, যেকোনো দেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে বের হয়ে যেতে (অব্যাহতি নিতে) পারবে।

৪. চুক্তির সমাপ্তি বা কোনো দেশের বের হয়ে যাওয়া—পূর্বে গৃহীত ও চলমান কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।

৫. গোপন তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব চুক্তি শেষ হওয়ার পরও বজায় থাকবে।

মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা

মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হবে। এর আগে কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বা করানো যাবে না। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা খুব শিগ‌গিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈ‌দে‌শিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই তথ‌্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হলো। কোনো মেডিকেল সেন্টার সরকারি নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

৩১ অক্টোবরের আগে করা কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না।

কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বা করাতে পারবে না। কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অনুমতি ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের নিকট থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার এবং অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারও কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং ভিডিআর ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাসম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।

অবৈধ বা অনুমোদনহীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য জানা থাকলে ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে (ইমেইল[email protected])।

কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখবে। সব সংশ্লিষ্ট কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

জনস্বার্থে সরকারি এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ প্রবাসী বাংলাদেশি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ প্রবাসী বাংলাদেশি
লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন

লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক থাকা আরও ১৭২ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে তাঁদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মিসরাতা শহর থেকে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন অসুস্থ রয়েছেন।

দেশে ফেরার আগে লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি এবং এর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিবিয়ায় আটক এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা বন্দিশালায় আটক বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের দ্রুত দেশে ফেরাতে আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।

কুয়েতে ভারতকে হারিয়ে 'কিংস প্রিমিয়ার লিগ' চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কুয়েতে ভারতকে হারিয়ে 'কিংস প্রিমিয়ার লিগ' চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব
চ্যাম্পিয়ন ‘জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব’, ছবি: আরব টাইমস, কুয়েত।

কুয়েতে অভিবাসীদের নিয়ে আয়োজিত ‘কিংস প্রিমিয়ার লিগ’ (কেপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দল ‘জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব’।

শুক্রবার কুয়েতের সুলাইবিয়া ক্রিকেট মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতীয় প্রবাসীদের দল ‘এশিয়ান ব্রাদার্স’-কে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় তারা।

কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মোট ১২টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দীর্ঘ ছয় মাসের লড়াই শেষে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনালে টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন। আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে পড়ে এশিয়ান ব্রাদার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৪ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায়।

জবাবে ১২৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সূচনা করে জিলিব প্রবাসী দল। ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। ফাইনালে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন রাজু আহমেদ।

জয়ের পর অধিনায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “এই টুর্নামেন্টটি কুয়েতে অবস্থানরত বহুভাষী ও বহুজাতির প্রবাসীদের মাঝে ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানের এসব দলের বিপক্ষে লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের পুরো স্কোয়াডের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি কুয়েতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রেও এটি এক দারুণ অর্জন।”

বাংলাদেশিদের এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সভাপতি মইন উদ্দিন সরকার সুমন।

তিনি বলেন, “প্রবাসে কঠোর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমাদের শ্রমজীবী প্রবাসী ভাইয়েরা যেভাবে খেলার মাঠে দক্ষতা, একাগ্রতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সঠিক সহায়তা ও সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রবাসীদের এই সম্ভাবনা আরও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।”

১২ দিন পর কুয়েতে দুর্ঘটনায় নিহত জিয়ার মরদেহ দেশে ফিরল

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
১২ দিন পর কুয়েতে দুর্ঘটনায় নিহত জিয়ার মরদেহ দেশে ফিরল

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এক যুগ আগে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জিয়াউর রহমান জিয়া (৪৫) ১২ দিন পর দেশে ফিরলেন নিথর দেহে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে তাঁর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাহুবল উপজেলার নিভৃত পল্লী আব্দুল্লাহপুর গ্রামের পরিবেশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো গ্রামের পরিবেশ। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিস্থিতি।

নিহত জিয়াউর রহমান জিয়া বাহুবল উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর কুয়েতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন জিয়া। এরপর থেকেই প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে ১২ দিন পর তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।

আব্দুল্লাহপুর গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে স্বজনদের মায়া ছেড়ে আবার পরবাসে ফিরেছিলেন শাহেদ আহম্মেদ আশিক (৩২)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগমুহূর্তেই নিভে গেল তার জীবনের আলো।

প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো শেষ স্মৃতিগুলোর রেশ কাটার আগেই সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাকে। আর যে দিনটিতে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের কথা ছিল, সেদিনই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শাহেদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে শাহেদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। এরপর সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

গত ৯ অক্টোবর ছুটি শেষে সৌদির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন শাহেদ। পরদিন ১০ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে ফোনে কথাও বলছিলেন তিনি।

শাহেদের স্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিমানবন্দরে নেমে ফোনে স্বামী তাকে বলেছিলেন, 'আমি রিয়াদে এসে পৌঁছেছি। আর এক-দেড় ঘণ্টা পর জেদ্দায় পৌঁছাব। তোমাকে ফোন দেব।'

এ সময় বাচ্চাদের সঙ্গেও কথা বলেন শাহেদ। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ফোন কেটে যায়। স্ত্রী প্রথমে নেটওয়ার্কের সমস্যা মনে করলেও পরে জানতে পারেন, সেই মুহূর্তেই বিমানবন্দরে ঘটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তার স্বামী। সেটিই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শাহেদের দুই সন্তান কাউছার (১১) ও আবদুল্লাহ (৬)। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তাকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের শত শত মানুষ ভিড় জমান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শাহেদ। তার বাবা রফিকুল ইসলামও প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদিতে থাকেন। ছেলের অকালমৃত্যুর পর মা দেশে ফিরতে পারলেও ভিসা জটিলতায় বাবা এখনো আসতে পারেননি। শাহেদকে হারিয়ে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।

শাহেদের ফুপা আমজাদ হোসেন জানান, শাহেদের মৃত্যুতে তার স্ত্রী বিধবা ও দুই সন্তান এতিম হয়ে পড়েছে। পরিবারের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দুই সন্তান ও তাদের মায়ের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শাহেদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজায় অংশ নেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।