১ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপের সব সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের ওপর

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ইউরোপের সব সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের ওপর

সম্প্রতি ফ্রান্সে বিক্ষোভ যখন সহিংস হয়ে ওঠে, তখন সেখানকার উগ্র ডানপন্থীরা এর জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করতে শুরু করে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে, মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী স্পেনের সিউটা শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে স্প্যানিশ ডানপন্থীরা একে মরক্কানদের ‘আগ্রাসন’ বলে দাবি করে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই সুরে বলেছেন, ‘ইসলাম সবকিছু দখল করে নিতে চাইছে।’

উগ্র ডানপন্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে যেকোনো সংকটকে কাজে লাগিয়ে ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া) ছড়াবে—এটাই হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো, এই প্রবণতা এখন আর শুধু চরমপন্থীদের মধ্যেই আটকে নেই। ইউরোপের যেকোনো বড় সংকটের জন্য ইসলাম ও মুসলিমদের দোষী বানানোর এই মানসিকতা এখন ইউরোপীয় রাজনীতির মূলধারায় ঢুকে পড়েছে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে যখন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল, ঠিক তখনই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নীরবে একটি প্রস্তাব পাস করে। প্রস্তাবটির বিষয় ছিল—‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ এবং মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল।’ পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় মধ্য-ডানপন্থী দল ‘ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি)’ এটি উত্থাপন করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন নিজেও এই দলের একজন সদস্য।

উগ্র ডানপন্থী ও রক্ষণশীলদের মিলিত ভোটে (৩৮১-১৬৭) প্রস্তাবটি পাস হয়। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, বামপন্থী এবং গ্রিন পার্টি এর বিরোধিতা করলেও তারা এটি আটকাতে ব্যর্থ হয়।

ফরাসি সরকারের ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ বিষয়ক একটি অত্যন্ত বিতর্কিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এখানে এমন কিছু ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে, যা ইউরোপের মুসলিমদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ বলতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলকে বোঝানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের আড়ালে ইসলামপন্থীরা নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।

সহজ কথায়, তাদের অভিযোগ হলো—সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায় বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছদ্মবেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনগুলো ইউরোপীয় সমাজে ঢুকে পড়ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এই প্রস্তাব মানতে আইনত বাধ্য নয়। তবে এটি এমন একটি ধারণাকে আইনি বৈধতা দিচ্ছে, যা ইউরোপের মুসলিমদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এর ফলে রাষ্ট্রের বাইরে স্বাধীনভাবে পরিচালিত মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো অযথাই সন্দেহের মুখে পড়বে। এমনকি মুসলিম নাগরিকদের যেকোনো স্বাভাবিক সামাজিক কর্মকাণ্ডকেও রাষ্ট্রের ভেতর ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে দেখা হতে পারে।

এই অস্পষ্ট ধারণাকে কাজে লাগিয়ে যে কাউকেই ফাঁসানো সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে, বর্ণবাদবিরোধী সংস্থা ‘ইএনএআর’-কেও এই প্রস্তাবে ইসলামপন্থী আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করে তাদের ইইউ তহবিল বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাইরের দেশগুলোও এই সুযোগ নিচ্ছে। যেমন—সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরোপে মুসলিম ব্রাদারহুড ও তাদের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় প্রচুর টাকা খরচ করেছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবে কাতার বা তুরস্কের মতো দেশগুলোর আর্থিক সাহায্যকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে, যা এর পেছনের ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে পরিষ্কার করে দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো, মুসলিমদের বর্ণবাদ থেকে বাঁচানোর চেষ্টাকেও এই প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশের ষড়যন্ত্র’ বলা হয়েছে। এটি ইউরোপের ডানপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষীদের জন্য বড় জয়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, ইউরোপের মধ্য-ডানপন্থীরা এখন উগ্র ডানপন্থীদের চিন্তাধারা পুরোপুরি লুফে নিয়েছে এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাতে সেগুলোকে বৈধতা দিচ্ছে।

এর মধ্য দিয়ে ইউরোপে ইসলামভীতির একটি নতুন রূপও সামনে আসছে। আগে তাদের ভয় ছিল ওইসব অভিবাসীদের নিয়ে, যারা সমাজের সাথে ঠিকমতো মিশতে পারে না। আর এখন তাদের ভয় সেই সব শিক্ষিত ও সচেতন মুসলিমদের নিয়ে, যারা নিজেদের কথা গুছিয়ে বলতে পারে এবং নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার।

এই ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান থেকে মধ্য-ডানপন্থীরা রাজনৈতিক সুবিধাও পাচ্ছে। তারা একদিকে মুসলিমভীতি ছড়িয়ে নির্বাচনে ভোট টানছে, অন্যদিকে বামপন্থীদের ওপরও আক্রমণ করতে পারছে (কারণ বামপন্থীরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ও মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে)।

ফ্রান্সে এখন ‘ইসলামো-লেফটিজম’ বা ইসলামি-বামপন্থা নামের একটি তত্ত্বের খুব প্রচার চলছে। জনপ্রিয় বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলাঁশঁকে এখন ‘দাঙ্গাকারীদের’ (মূলত মুসলিমদের ইঙ্গিত করে) উসকে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। বামপন্থী ও মুসলিমদের ওপর এই যৌথ আক্রমণ পুরোনো সেই ‘জুডিও-বলশেভিক’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন পশ্চিমা সভ্যতা ধ্বংসের জন্য ইহুদিদের দায়ী করা হতো।

আজ এই ‘ইসলামো-লেফটিজম’-এর ধুয়া তুলে রক্ষণশীল, উদারপন্থী ও উগ্র ডানপন্থীরা একজোট হয়েছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে বর্ণবাদ ও বৈষম্য দূর করতে পশ্চিমা বিশ্ব যেটুকু এগিয়েছিল, এরা মূলত সেই অর্জনটুকুও মুছে ফেলতে চায়। তাদের আসল লক্ষ্য হলো একটি ‘মুসলিমমুক্ত ইউরোপ’ গড়ে তোলা।

‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ নামের এই প্রস্তাবটির ভিত্তি যতই দুর্বল হোক না কেন, ভবিষ্যতে রক্ষণশীল জোটগুলোর কাছ থেকে এমন আরও আইনি পদক্ষেপ আসার আশঙ্কা রয়েছে। তারা মুসলিমদের স্বাধীন নাগরিক অধিকার চর্চার পথ আরও ছোট করে আনার চেষ্টা করবে। যেকোনো যৌক্তিক বিক্ষোভের দায় তারা ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেবে। রাজনীতিকরা নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের রাগ ও ক্ষোভ সুকৌশলে মুসলিমদের দিকে ঘুরিয়ে দেবেন।

এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার একটিমাত্র পথ রয়েছে। সেটি হলো, সবার নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য আওয়াজ তোলা এবং রক্ষণশীলদের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

ফরিদ হাফেজ: সিনিয়র গবেষক, জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি এবং সহকারী অধ্যাপক, লিমেরিক ইউনিভার্সিটি, আয়ারল্যান্ড।
(আল-জাজিরা থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা

মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হবে। এর আগে কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বা করানো যাবে না। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা খুব শিগ‌গিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈ‌দে‌শিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই তথ‌্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হলো। কোনো মেডিকেল সেন্টার সরকারি নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

৩১ অক্টোবরের আগে করা কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না।

কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বা করাতে পারবে না। কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অনুমতি ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের নিকট থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার এবং অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারও কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং ভিডিআর ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাসম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।

অবৈধ বা অনুমোদনহীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য জানা থাকলে ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে (ইমেইল[email protected])।

কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখবে। সব সংশ্লিষ্ট কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

জনস্বার্থে সরকারি এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ প্রবাসী বাংলাদেশি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ প্রবাসী বাংলাদেশি
লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন

লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক থাকা আরও ১৭২ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে তাঁদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মিসরাতা শহর থেকে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন অসুস্থ রয়েছেন।

দেশে ফেরার আগে লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি এবং এর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিবিয়ায় আটক এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা বন্দিশালায় আটক বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের দ্রুত দেশে ফেরাতে আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।

কুয়েতে ভারতকে হারিয়ে 'কিংস প্রিমিয়ার লিগ' চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কুয়েতে ভারতকে হারিয়ে 'কিংস প্রিমিয়ার লিগ' চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব
চ্যাম্পিয়ন ‘জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব’, ছবি: আরব টাইমস, কুয়েত।

কুয়েতে অভিবাসীদের নিয়ে আয়োজিত ‘কিংস প্রিমিয়ার লিগ’ (কেপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দল ‘জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব’।

শুক্রবার কুয়েতের সুলাইবিয়া ক্রিকেট মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতীয় প্রবাসীদের দল ‘এশিয়ান ব্রাদার্স’-কে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় তারা।

কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মোট ১২টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দীর্ঘ ছয় মাসের লড়াই শেষে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনালে টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন। আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে পড়ে এশিয়ান ব্রাদার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৪ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায়।

জবাবে ১২৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সূচনা করে জিলিব প্রবাসী দল। ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। ফাইনালে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন রাজু আহমেদ।

জয়ের পর অধিনায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “এই টুর্নামেন্টটি কুয়েতে অবস্থানরত বহুভাষী ও বহুজাতির প্রবাসীদের মাঝে ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানের এসব দলের বিপক্ষে লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের পুরো স্কোয়াডের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি কুয়েতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রেও এটি এক দারুণ অর্জন।”

বাংলাদেশিদের এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সভাপতি মইন উদ্দিন সরকার সুমন।

তিনি বলেন, “প্রবাসে কঠোর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমাদের শ্রমজীবী প্রবাসী ভাইয়েরা যেভাবে খেলার মাঠে দক্ষতা, একাগ্রতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সঠিক সহায়তা ও সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রবাসীদের এই সম্ভাবনা আরও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।”

১২ দিন পর কুয়েতে দুর্ঘটনায় নিহত জিয়ার মরদেহ দেশে ফিরল

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
১২ দিন পর কুয়েতে দুর্ঘটনায় নিহত জিয়ার মরদেহ দেশে ফিরল

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এক যুগ আগে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জিয়াউর রহমান জিয়া (৪৫) ১২ দিন পর দেশে ফিরলেন নিথর দেহে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে তাঁর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাহুবল উপজেলার নিভৃত পল্লী আব্দুল্লাহপুর গ্রামের পরিবেশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো গ্রামের পরিবেশ। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিস্থিতি।

নিহত জিয়াউর রহমান জিয়া বাহুবল উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর কুয়েতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন জিয়া। এরপর থেকেই প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে ১২ দিন পর তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।

আব্দুল্লাহপুর গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে স্বজনদের মায়া ছেড়ে আবার পরবাসে ফিরেছিলেন শাহেদ আহম্মেদ আশিক (৩২)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগমুহূর্তেই নিভে গেল তার জীবনের আলো।

প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো শেষ স্মৃতিগুলোর রেশ কাটার আগেই সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাকে। আর যে দিনটিতে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের কথা ছিল, সেদিনই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শাহেদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে শাহেদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। এরপর সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

গত ৯ অক্টোবর ছুটি শেষে সৌদির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন শাহেদ। পরদিন ১০ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে ফোনে কথাও বলছিলেন তিনি।

শাহেদের স্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিমানবন্দরে নেমে ফোনে স্বামী তাকে বলেছিলেন, 'আমি রিয়াদে এসে পৌঁছেছি। আর এক-দেড় ঘণ্টা পর জেদ্দায় পৌঁছাব। তোমাকে ফোন দেব।'

এ সময় বাচ্চাদের সঙ্গেও কথা বলেন শাহেদ। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ফোন কেটে যায়। স্ত্রী প্রথমে নেটওয়ার্কের সমস্যা মনে করলেও পরে জানতে পারেন, সেই মুহূর্তেই বিমানবন্দরে ঘটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তার স্বামী। সেটিই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শাহেদের দুই সন্তান কাউছার (১১) ও আবদুল্লাহ (৬)। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তাকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের শত শত মানুষ ভিড় জমান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শাহেদ। তার বাবা রফিকুল ইসলামও প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদিতে থাকেন। ছেলের অকালমৃত্যুর পর মা দেশে ফিরতে পারলেও ভিসা জটিলতায় বাবা এখনো আসতে পারেননি। শাহেদকে হারিয়ে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।

শাহেদের ফুপা আমজাদ হোসেন জানান, শাহেদের মৃত্যুতে তার স্ত্রী বিধবা ও দুই সন্তান এতিম হয়ে পড়েছে। পরিবারের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দুই সন্তান ও তাদের মায়ের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শাহেদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজায় অংশ নেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।