কাতারের রাজধানী দোহার আল তুমামায় প্রবাসী ভারতীয়দের একটি সংগঠনের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনায় দীর্ঘ এক বছর পর মূল অভিযুক্তদের একজন আত্মসমর্পণ করেছেন।
ভারতের কেরালা রাজ্যের কোইলান্ডি থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে নিজেকে সোপর্দ করেছেন পারাপ্পিল বালাকৃষ্ণন নামের এক স্থানীয় বিজেপি নেতা। তিনি সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
কাতার ও ভারতের পুলিশি নথিতে তাঁর চুরির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা (৩১ লাখ কাতারি রিয়াল) উল্লেখ করা হলেও, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি গোপন অডিও বার্তায় আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা দাবি করায় প্রবাসী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কাতারে অবস্থিত ‘কেরালা মুসলিম কালচারাল সেন্টার’ (কেএমসিসি)-এর কার্যালয়ে গত বছর ঘটেছিল এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রবাসীদের জরুরি কল্যাণ তহবিলের জন্য সংরক্ষিত সেই অর্থ সিন্দুক ভেঙে লুট করে চারজনের একটি চক্র। ঘটনা ঘটিয়েই অভিযুক্তরা কাতার থেকে এসে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আত্মগোপনে চলে যান।
তবে থানায় আত্মসমর্পণের ঠিক আগে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত বালাকৃষ্ণন বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, ‘শাজি বম্বে’ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে কাতারে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। দোহায় পৌঁছানোর পর তাঁকে একটি কক্ষে বন্দি করে রাখা হতো।
চুরির দিন তাঁকে জোরপূর্বক কেএমসিসি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সিন্দুক ভাঙতে বাধ্য করা হয়। আর পুরো বিষয়টি কলকাঠি নেড়ে পরিচালনা করেছিলেন ‘কামারু’ নামের আরেক ব্যক্তি।এদিকে ঘটনার তদন্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্ত শাজি ও কামারুর একটি কথিত ফোনালাপ। ওই অডিও বার্তায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে ভারতে স্থানান্তরের বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
পুলিশি নথির ৮ কোটি টাকার জায়গায় ২৫ কোটি টাকার নতুন হিসেব সামনে আসায় প্রবাসী কল্যাণ তহবিলটির আসল অর্থের পরিমাণ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।
ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধটি কাতারের মাটিতে ঘটলেও অভিযুক্তরা ভারতীয় নাগরিক এবং ঘটনাটি প্রবাসীদের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় স্থানীয় আইন অনুযায়ী মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া অডিও টেপের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এ ঘটনার সাথে জড়িত বাকি পলাতকদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
কেরলের কন্নুর জেলার থালাসেরির বাসিন্দা তথা কেএমসিসির কাতার শাখার সহ-সভাপতি আবদুল রহিম পি কে-র অভিযোগের ভিত্তিতে গত মাসে এফআইআর নথিভুক্ত হয়।
কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে দুদক