২০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণ কী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণ কী

কিছুদিন আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে কর্তব্যরত অবস্থায় মুকসেমুল হাকিম স্ট্রোক করেন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে বাসায় ফেরার পর অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানেই মারা যান ৪২ বছর বয়সী মি. হাকিম।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের জানান, দুপুরে একবার তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।

হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের মি. হাকিম জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টায় অফিসে শরীর খুব খারাপ হয়েছিল।

স্বজনদের তিনি জানিয়েছিলেন, দুপুরে ঘাড় ও হাত-পা ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিম ঝিম করার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। তবে, আগে থেকে তার বড় কোন অসুস্থতা ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগ, ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজ বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতার মত রোগে। আর এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যু বাড়ছে।

এই ৭১ শতাংশের প্রায় অর্ধেক মানুষেরই আকস্মিক বা অকাল মৃত্যু হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে, বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের এক গবেষণাপত্রে, মানসিক সমস্যাও আকস্মিক মৃত্যুর একটি কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসংক্রামক রোগ কী

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) বা অসংক্রামক রোগ। এটিকে দীর্ঘমেয়াদী রোগও বলা হয়। জিনগত, শারীরিক, পরিবেশগত এবং আচরণগত বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত প্রভাবে এ রোগগুলো হয়ে থাকে।

বয়স, অঞ্চল বা দেশ নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষই অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ - যেমন ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ ও হাঁপানি, ক্যান্সার এবং কিডনি জটিলতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ রোগগুলোকে সাধারণত বয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হলেও, প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় ৭০ বছর বয়স হওয়ার আগেই।

এ বয়সে অন্য সব কারণে যত মানুষ মারা যায়, অসংক্রামক রোগের কারণে তার চেয়ে বেশি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এসব অকাল মৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

বিশ্বের মোট অসংক্রামক মৃত্যুর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বা তিন কোটি ২০ লাখ মানুষই এসব দেশে মারা যায়।

বাংলাদেশে ইদানীং প্রায়ই এমন ঘটনার কথা শোনা যায় যে, অফিসে কাজ করছিলেন, হঠাৎ ঢলে পড়ে সেখানেই মারা গিয়েছেন তিনি।

পরে চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, কী কারণে ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছেন।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী দেড় কোটি লোক অসংক্রামক রোগে মারা যান।

হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা সিভিডি রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারীর রূপ নিচ্ছে।

একইসঙ্গে, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ দরকার হয়।

হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী যদি বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে যদি রক্ত হার্টে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে হার্টের মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। আর তখনই হয় হার্ট অ্যাটাক।

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার জন্য আগে থেকেই অসুস্থ থাকাটা জরুরি নয়। বরং আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের প্রথম উপসর্গই হচ্ছে বুকে ব্যথা। বুকের ডান বা বাম পাশে ব্যথা হবে না। একেবারে বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা হবে। একে 'সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন' বলে থাকেন চিকিৎসকরা। এ ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে।

বুকের ব্যথা একসময় বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া যদি চোয়াল ও পিঠেও ব্যথা অনুভব হয়, তাহলে সেটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের মধ্যে এই উপসর্গ বেশি দেখা দেয়।

এছাড়া পেটে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব ও বমিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।

দেরি না করে এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

স্ট্রোক

হৃদরোগের পর স্ট্রোক মৃত্যুর আরেকটি বড় কারণ। অনেকে স্ট্রোকের সাথে হার্ট অ্যাটাককে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা।

স্ট্রোক মূলত মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে গেলে স্ট্রোক হয়।

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। কারণ এই রক্তের মাধ্যমেই শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়।

কোন কারণে মস্তিষ্কের কোষে যদি রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায় তখনই স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

সাধারণত ৬০-বছরের বেশি বয়সী রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকলেও তবে ইদানীং তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।

স্ট্রোক, মস্তিষ্কে কতোটা ক্ষতি করবে এটা নির্ভর করে এটি মস্তিষ্কের কোথায় ঘটেছে এবং কতোটা জায়গা জুড়ে হয়েছে, তার ওপর।

তবে এখানে সবচেয়ে জরুরি হল 'সময়'। যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে মৃত্যুমুখ থেকে রোগীকে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগী যতো দ্রুত চিকিৎসা পাবে, ক্ষতির আশঙ্কা ততোই কমবে।

স্ট্রোকের সাধারণ কিছু লক্ষণ হল:

* আচমকা হাত, পা বা শরীরের কোনও একটা দিক অবশ হয়ে যাওয়া। হাত ওপরে তুলতে না পারা।

* চোখে ঝাপসা দেখা।

* কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।

* ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া।

* জিহ্বা অসাড় হয়ে, মুখ বেঁকে যাওয়া।

* শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে পড়ে যাওয়া/জ্ঞান হারানো।

* বমি বমি ভাব, বমি, খিঁচুনি হওয়া।

ডায়াবেটিস

বাংলাদেশে সব বয়সী মানুষের মাঝেই ডায়াবেটিস রোগের হার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের(আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখেরও বেশি।

ডায়াবেটিস রোগীর মোট সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে।

আইডিএফের এক অনুমান করছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই অবস্থান সাত নম্বর স্থানে চলে যাবে অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে দুই কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাবে।

এই সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ মানুষই জানেন না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্থাৎ রোগ নির্ণয়ের বাইরে রয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২০২২ সালে দেশের আটটি বিভাগে একটি গবেষণা পরিচালনা করে।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রতি একশো তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাতজনেরও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

পুরুষদের তুলনায় তরুণ নারীরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ওই গবেষণায় পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত ওজন, স্থুলতা এবং উচ্চ রক্তচাপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পৃক্ত বলেও জানিয়েছে আইডিএফ।

দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগ

সাধারণত অ্যাজমা এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা ফুসফুসজনিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হন।

বাংলাদেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী জানতেই পারেন না যে তারা অনিরাময়যোগ্য ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন।

এ রোগের হার শহুরে মানুষদের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মাঝে বেশি দেখা যায়। গোবর, ঘুঁটে, লাকড়ি এমন সব জ্বালানির ব্যবহার এবং ধূমপান এ দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগের সাথে সম্পর্কিত বলে আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

নারীর তুলনায় পুরুষরা বেশি এ রোগে আক্রান্ত হন।

ক্যান্সার

বাংলাদেশে প্রতিবছরই বাড়ছে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে বাংলাদেশে মৃত্যুর ষষ্ঠতম কারণ ক্যান্সার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে ভুগে এক লাখ ১৬ হাজার পাঁচশ' জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

সংস্থাটির হিসাবে, একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন এক লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। যদিও বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

শুধু ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেই গত বছর সাড়ে ৪২ হাজারের মতো ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজারই নতুন রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজারের মতো, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় আট শতাংশ।

পুরুষদের মাঝে ফুসফুস ও মুখের এবং নারীদের মাঝে স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

গত বছর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় পাওয়া গেছে, বছরে ১১ দশমিক ৯ শতাংশের মৃত্যুর কারণ ক্যান্সার।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ৩৮ ধরনের ক্যান্সার থাকলেও ফুসফুসের ক্যান্সার, কণ্ঠনালীর ক্যান্সার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারন।

গবেষণায় যে পাঁচটি ক্যানসার বেশি দেখা গেছে তার মধ্যে ছিল স্তন ক্যান্সার, ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার, পাকস্থলীর ক্যান্সার, কণ্ঠনালীর ক্যান্সার এবং সার্ভিক্স ক্যান্সার।

রোগের কারণ এবং প্রতিরোধ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার পদ্ধতিতে পরিবর্তন, তামাক ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাসে বদল, বায়ু দূষণসহ নানা কারণ ইদানীং তুলনামূলকভাবে কম বয়সীদের ভেতর আকস্মিক মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা এই তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মি. হোসেন বলছিলেন, বাংলাদেশে জরুরী স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য না। তাই রোগ মোকাবেলায় সুস্থ থাকার জন্য ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নিতে হবে।

* প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা - শৈশব থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

* আর্লি ডিটেকশন - উপসর্গ বা লক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব যদি রোগ নির্ণয় করা যায়, তাহলে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। এজন্য নিয়মিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা, প্রস্রাব পরীক্ষা ইত্যাদি করা দরকার।

* জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। তাহলে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু কমিয়ে আনা যাবে।

ইসরায়েলের গণহত্যা

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনিকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে রোববার।

দখলদার ইসরায়েলের চালানো হামলায় ভবন ধসে এসব মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সেগুলোর ভেতর পড়ে ছিলেন।

এখন এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে একসঙ্গে সবার জানাজা পড়ে তাদের কবরস্থ করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সিটির দারাজ এলাকা থেকে ৭৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু করে দখলদাররা। তিন বছর ধরে চালানো তাদের হামলায় ফিলিস্তিনের এ উপত্যকায় ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন।

ধারণা করা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সরকারি হিসাবের তুলনায় আসল নিহত ও আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের তিন অঞ্চলে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন।

গত জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার হামলার শিকার হয়েছে। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে ইয়েমেন সরকার।

শুক্রবার ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করে।

সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’-এ সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনাসহ হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে দেশটি।

সৌদিকে সুরক্ষায় প্রস্তুত মিসর

শনিবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে দেশটিকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে কায়রো।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের ক্ষতি করা হলে মিসর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।

আল-সিসি স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করা বা কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে নয়; বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষার প্রশ্ন।

প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইরান উৎসাহ জোগাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস নাগরিকদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এ ছাড়া হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০৩০ সালেই শেষ হচ্ছে তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ। এই বিষয়টি নিয়ে কোনো রকম আলোচনার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানেও আর কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

শনিবার মিসরীয় মিলিটারি একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭১ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ২০৩০ সালটি তাঁর মেয়াদের চূড়ান্ত সময় হিসেবে নির্ধারিত এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে সক্ষম নেতৃত্ব তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন উল্লেখ করে সিসি জানান, নতুন প্রজন্মের যোগ্য নেতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে মিসরীয় সামরিক একাডেমি।

২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিসি ক্ষমতায় আসেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মিসরের বিভিন্ন কারাগারে ৬০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজারের বেশি নারী।

এছাড়া চিকিৎসা অবহেলা ও মানবেতর পরিবেশের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি সহ একাধিক বিরোধী নেতার কারাগারে মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে এসব সংস্থার প্রতিবেদনে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ‘বেপরোয়া হামলাও’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরওদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিজস্ব অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার এ খবর সামনে এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।

হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?
হরমুজ প্রণালিতে সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। বুধবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড ডুবে যাওয়ার পর এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট নৌকা নিয়ে সাগরে নামতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও ধরনের প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানের দাবি, ‘জাহাজটি নৌমাইনের আঘাতে ডুবেছে’।

ইন্ডিয়া টুডে টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের আশপাশে সাগরে ছড়িয়ে থাকা পণ্য ছোট নৌকায় সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

জিএফএস প্রাইডে দুবাই থেকে পরিবহন করা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে দামি পারফিউম ও আইফোনও ছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, নৌমাইনের আঘাতে জাহাজটি ডুবে গেছে। তবে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সূত্র: দ্য সিএস জার্নাল