২০ অক্টোবর ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুকে কেন বাধা দিলেন সৌদি যুবরাজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুকে কেন বাধা দিলেন সৌদি যুবরাজ

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে যুক্ত করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।

তবে সৌদি জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় যুবরাজ এতে আপত্তি জানান বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু সরকারের ধারণা ছিল যে ইয়েমেনে সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথও তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

রিয়াদের অবস্থান হলো, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ নিশ্চিত না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর মধ্যেই হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করে।

সৌদি আরবের যুবরাজের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। ফলে তার সম্মতি ছাড়া ইয়েমেনের যুদ্ধে ইসরায়েলের অংশ নেওয়ার অনুমতি পাওয়া কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শরৎকালে দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ওই বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নেতানিয়াহু হামাসের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ানো এড়াতে চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে প্রথম সতর্ক করেছিলেন সৌদি যুবরাজ নিজেই। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সেই সতর্কবার্তা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ কার্যত থমকে যায়। হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়াকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখেছিল ইসরায়েল। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহের পেছনেও এই হিসাব কাজ করে থাকতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ইরান রিয়াদকে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় এ প্রস্তাব দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আরাগচি বলেন, ‘সামরিক পন্থার ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।’

তিনি আরও বলেন, অঞ্চলের সংকটগুলোর সামরিক সমাধান নেই। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা দিতে তেহরান প্রস্তুত।

সূত্র : মিডলইস্ট আই

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের তিন অঞ্চলে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন।

গত জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার হামলার শিকার হয়েছে। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে ইয়েমেন সরকার।

শুক্রবার ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করে।

সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’-এ সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনাসহ হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে দেশটি।

সৌদিকে সুরক্ষায় প্রস্তুত মিসর

শনিবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে দেশটিকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে কায়রো।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের ক্ষতি করা হলে মিসর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।

আল-সিসি স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করা বা কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে নয়; বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষার প্রশ্ন।

প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইরান উৎসাহ জোগাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস নাগরিকদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এ ছাড়া হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০৩০ সালেই শেষ হচ্ছে তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ। এই বিষয়টি নিয়ে কোনো রকম আলোচনার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানেও আর কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

শনিবার মিসরীয় মিলিটারি একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭১ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ২০৩০ সালটি তাঁর মেয়াদের চূড়ান্ত সময় হিসেবে নির্ধারিত এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে সক্ষম নেতৃত্ব তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন উল্লেখ করে সিসি জানান, নতুন প্রজন্মের যোগ্য নেতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে মিসরীয় সামরিক একাডেমি।

২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিসি ক্ষমতায় আসেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মিসরের বিভিন্ন কারাগারে ৬০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজারের বেশি নারী।

এছাড়া চিকিৎসা অবহেলা ও মানবেতর পরিবেশের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি সহ একাধিক বিরোধী নেতার কারাগারে মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে এসব সংস্থার প্রতিবেদনে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ‘বেপরোয়া হামলাও’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরওদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিজস্ব অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার এ খবর সামনে এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।

হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?
হরমুজ প্রণালিতে সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। বুধবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড ডুবে যাওয়ার পর এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট নৌকা নিয়ে সাগরে নামতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও ধরনের প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানের দাবি, ‘জাহাজটি নৌমাইনের আঘাতে ডুবেছে’।

ইন্ডিয়া টুডে টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের আশপাশে সাগরে ছড়িয়ে থাকা পণ্য ছোট নৌকায় সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

জিএফএস প্রাইডে দুবাই থেকে পরিবহন করা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে দামি পারফিউম ও আইফোনও ছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, নৌমাইনের আঘাতে জাহাজটি ডুবে গেছে। তবে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সূত্র: দ্য সিএস জার্নাল

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ স্টারলিংককে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ করেছে, শত্রুরা এটি গুপ্তচরবৃত্তি ও সামরিক অভিযানে ব্যবহার করছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামির বলেন, স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত করার মতো একাধিক ব্যবস্থা দেশটির কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। তার দাবি, শত্রুরা সামরিক নির্দেশনা, গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য সংগ্রহের কাজে এই সেবা ব্যবহার করছে।

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহার বা নিজের কাছে রাখার দায়ে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর এর যন্ত্রাংশ আমদানি বা বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

চলতি বছর ইরানে দুই দফায় দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর টানা ৮৮ দিন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিল।

সরকারি সেন্সরশিপ এড়িয়ে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও যুদ্ধ আরও তীব্র হলে ইন্টারনেটে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

সূত্র: আলজাজিরা