১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আলোচনার টেবিল যখন লক্ষ্যবস্তু:

দোহায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক বছর ও কূটনৈতিক মূল্যবোধের সংকট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
দোহায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক বছর ও কূটনৈতিক মূল্যবোধের সংকট
টপ স্টোরিজ

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা বেজে ৪৬ মিনিট। ওই মুহূর্তটি কেবল কাতারের ইতিহাসে নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে একটি বিপজ্জনক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেদিন যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতা এসে আছড়ে পড়েছিল শান্তির দূত হিসেবে পরিচিত দোহা শহরের বুকে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হামাসের একটি আলোচনা প্রতিনিধিদলের ব্যবহৃত আবাসিক ভবনে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

এই নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারান ২২ বছর বয়সি কাতার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর (লখুইয়া) সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল-হুমাইদি আল-দোসারিসহ বেশ কয়েকজন। আহত হন অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ নাগরিক। এই হামলার এক বছর পূর্তি কেবল কোনো স্মরণের দিন নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক কাঠামোর একটি বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক পরীক্ষার মুহূর্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর আঘাত

ইসরায়েলের এই হামলা এমন তিনটি ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, যা এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকে টিকিয়ে রেখেছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—সার্বভৌমত্ব বলবৎ থাকে শক্তির সীমার মধ্যে, মধ্যরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীরা রাজনৈতিক সুরক্ষায় থাকে, এবং আলোচনার টেবিল সবসময় যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তাদের লক্ষ্য ছিল হামাস, কাতার নয়। কিন্তু এই কৌশলগত যুক্তিটি পুরো ঘটনাটির ভয়াবহতাকে আড়াল করে। কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কেবল শত্রুর উপস্থিতি রয়েছে—এই অজুহাতে অন্য কোনো দেশের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার লাইসেন্স কোনো রাষ্ট্র পেতে পারে না। তাছাড়া, কাতার যাদের আশ্রয় দিয়েছিল তারা কোনো সাধারণ স্থানে লুকিয়ে থাকা কেউ ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন একটি পরিচিত রাজনৈতিক আলোচনার চ্যানেল বা প্রক্রিয়ার অংশ। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, হামাস এবং অন্যান্য পক্ষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের স্বার্থেই দোহা সেই রাজনৈতিক পরিসরটি তৈরি করে দিয়েছিল। কারণ সরাসরি কথা বলতে না পারা পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল।

মধ্যস্থতার মূল শর্তই হলো—প্রতিপক্ষরা আলোচনা টেবিলে একে অপরকে যতই অপছন্দ করুক বা শর্তে রাজি না হোক না কেন, মধ্যস্থতাকারীর সেই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও পরিসরটি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে হবে। আলোচনার আয়োজক দেশেই যদি মধ্যস্থতাকারীদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতা কেবল শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে বোকামিতে পরিণত হয়।

দ্বিমুখী নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ব্যর্থতা

এই হামলা ইসরায়েলি নীতির একটি মৌলিক স্ববিরোধিতাকেও উন্মোচন করেছিল। একদিকে কাতারকে হামাসের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো, অন্যদিকে ঠিক সেই যোগাযোগের মাধ্যমটিকেই জিম্মি মুক্তি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরের কাজে ব্যবহার করা হতো। কোনো পক্ষ যখন ছাড় পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকে অপরিহার্য মনে করে, আবার কূটনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেই সেই একই মাধ্যমকে অবৈধ ঘোষণা করে—তখন সেই নীতিতে কোনো নৈতিকতা থাকে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মানবাধিকার কমিশন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও বড় শক্তিগুলো কেবল কূটনৈতিক স্তরে নিন্দা জানিয়েই দায় সেরেছে, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ছোট বা মাঝারি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব যদি বড় শক্তির সামরিক ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কার্যকারিতা অবশিষ্ট থাকে না।

মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি

হামলার পরও কাতার ভেঙে পড়েনি বা মধ্যস্থতার ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। কারণ কাতার বুঝেছিল যে হামলা চালিয়ে কোনো দেশকে দমিয়ে রাখা গেলেও আঞ্চলিক আস্থার সংকটে মধ্যস্থতার বিকল্প তৈরি হয় না। দোহা তার মার্কিন, মিশরীয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে গেছে এবং ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কূটনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতেও কাতারকেই ফিরে আসতে হয়েছিল।

দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পর আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমরা ভবিষ্যতে কেমন মধ্যপ্রাচ্য দেখতে চাই? এমন এক অঞ্চল যেখানে গায়ের জোর ও সামরিক সক্ষমতাই ঠিক করে কার সার্বভৌমত্ব টিকবে, নাকি আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনীতিই ক্ষমতার ওপর সঠিক বাধানিষেধ আরোপ করবে?

কাতারের পক্ষ থেকে এই হামলার জবাবে কোনো দুর্বলতা প্রকাশ করা হয়নি। বরং হামলার পরও মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে সহিংসতা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক নিয়ম নির্ধারণ করা যায় না। যারা সত্যি শান্তি ও আলোচনা চান, তাদের মনে রাখা উচিত—আলোচনার টেবিল নিজেই কখনো আরেকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।

মতামতভিত্তিক নিবন্ধের মূল লেখক: কাতারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-আইতাইবি। এটি দোহা নিউজে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রবন্ধের ভাবানুবাদ ও সম্পাদিত রূপ।

গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়
টপ স্টোরিজ

গত বছর সার্চ অপশনে এআই মোড চালু করেছিল গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় লিংকসহ প্রাসঙ্গিক উত্তর পান। এবার এই অপশনে আরও নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল, যার মাধ্যমে ভ্রমণপ্রেমীরা বেশ উপকৃত হবেন। গুগল ভ্রমণকেন্দ্রিক নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করে এআই মোডের পরিধি বাড়াচ্ছে বলে গ্যাজেট ৩৬০-এর প্রতিবেদনে জানা যায়।

গুগল এআইর সর্বশেষ হালনাগাদে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে, পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য তুলনা করতে এবং এআই মোডের মাধ্যমেই থাকার জায়গা খুঁজে বুক করতে পারবেন। নতুন এসব সুবিধার ফলে গুগল সার্চ থেকে বের না হয়েই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনীয় বুকিং দেওয়া যাবে।

নতুন এক ব্লগ পোস্টে সার্চের এআই মোডে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ সুবিধাগুলোর ঘোষণা দিয়েছে গুগল। গুগল ফ্লাইটসের জনপ্রিয় মূল্য ট্র্যাকিং সুবিধাটি সরাসরি এআই মোডে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কথোপকথনের সময়ই ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দামের সতর্কবার্তা (প্রাইস অ্যালার্ট) চালু করতে পারবেন। কোথা থেকে যাত্রা করবেন, কোথায় যাবেন এবং কখন উড়বেন—এসব তথ্য দিলে এআই মোড ৩শটির বেশি এয়ারলাইন ও ভ্রমণসাইটের সর্বশেষ মূল্যের ভিত্তিতে পাওয়া বিকল্পগুলো দেখাবে।

গুগল আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা এআই মোডেই পুরো ভ্রমণসূচি তৈরি করতে পারবেন এবং এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইট বা পছন্দের বুকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন।

ব্যবহারকারীরা এআই মোডকে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে বলতে পারবেন। নির্বাচিত গন্তব্য ও ভ্রমণের তারিখের ভাড়ায় পরিবর্তন হলে প্রতিবার ব্যবহারকারীর কাছে ই-মেইল পাঠানো হবে। এআই মোডে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করার সুবিধা এখন বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোড এখন ব্যবহারকারীদের ফ্লাইট ও হোটেলের খরচ পয়েন্ট বা মাইলে দেখাতে পারবে। এই সুবিধা ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে তাঁর ভ্রমণের বিবরণ দিতে হবে এবং কোন লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে চান, তা উল্লেখ করতে হবে।

এরপর গুগলের ভ্রমণ অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এআই মোড যোগ্য ফ্লাইটের জন্য কত মাইল প্রয়োজন, তা দেখাবে। হোটেলের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের লিংকে গিয়ে সার্চ থেকেই সরাসরি তাঁদের রিওয়ার্ড ব্যবহার করে বুকিং সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য দেখার সুবিধা এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, আলাস্কা এয়ারলাইনস, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, হিলটন এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসসহ বিভিন্ন লয়্যালটি ও ভ্রমণ অংশীদার এই সুবিধার আওতায় থাকবে। শিগগিরই অ্যাঙ্কর, ফ্লাইং ব্লু, হায়াত, লাতাম এয়ারলাইনস এবং লুফথানসা গ্রুপের জন্যও এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়ছে তারা।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোডের মাধ্যমে সরাসরি হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা চালু করেছে গুগল। ব্যবহারকারীরা তাঁদের গন্তব্য, ভ্রমণের তারিখ এবং হোটেলসংক্রান্ত পছন্দ জানালে এআই মোড অতিথিদের দেওয়া পর্যালোচনা এবং তুলনা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ বিভিন্ন বিকল্পের তালিকা দেখাবে।

কোনো হোটেল পছন্দ হওয়ার পর ব্যবহারকারী এআই মোডকে বুকিংয়ে সহায়তা করতে বলতে পারবেন। কোনো সমন্বিত হোটেল চেইন বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির পাশে ‘কনটিনিউ অন গুগল’ নির্বাচন করলে ব্যবহারকারী বুকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং গুগল পের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই বুকিং ডটকম, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, এক্সপিডিয়া, হিলটন, হোটেলস ডটকম, আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল, প্রাইসলাইন, ট্রিপ ডটকম এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের মতো অংশীদারদের মাধ্যমেও এই সুবিধা চালু করা হবে।

বাজারে এল স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কিলার ‘গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
বাজারে এল স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কিলার ‘গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’
টপ স্টোরিজ

প্রিমিয়াম গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের নতুন ফোন বাজারে এনেছে টেক জায়ান্ট স্যামসাং। নতুন মডেলটির নাম গ্যালাক্সি এস২৬ এফই (ফ্যান অ্যাডিশন)। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

স্যামসাংয়ের তথ্যানুযায়ী, এস২৬ এফইতে রয়েছে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস ডাইনামিক অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে। ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ ও পিক ব্রাইটনেস ১৯০০ নিটস পর্যন্ত। ধুলো ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য ডিভাইসে রয়েছে আইপি৬৮ রেটিং। ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সিনোস ২৫০০ প্রসেসর দিয়ে ফোনটি পরিচালিত হবে। এতে ৮ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ১২৮ জিবি থেকে ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।

ছবি তোলার জন্য ফোনটির পেছনে তিনটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মূল ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের, যাতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস) সুবিধা আছে। এছাড়া ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং তিন গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধার ৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে দেয়া হয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ফোনটিতে ৪৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি রয়েছে। এটি ৪৫ ওয়াটের দ্রুত চার্জিং ও ১৫ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে।

৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার পুরুত্বের ফোনটির ওজন প্রায় ১৯৩ গ্রাম। এটি ব্লুবেরি, গ্রাফাইট ও পেস্তা রঙে পাওয়া যাবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু বাজারে ফোনটির বিক্রি শুরু হবে বলে জানান কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

ইউরোপের বাজারে ৮ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হচ্ছে ৭৯৯ ইউরো থেকে (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ১ লাখ টাকার ওপরে)।

দক্ষিণ কোরিয়ান টেক জায়ান্ট স্যামসাংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজ হলো ‘এস’। নতুন উদ্ভাবন, সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর, বিশ্বমানের ডিসপ্লে ও সেরা ক্যামেরা প্রযুক্তি স্যামসাং প্রথম এএস সিরিজের ফোনগুলোয়ই নিয়ে আসে।

বিনামূল্যে গুগল এআই ব্যবহারের সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
বিনামূল্যে গুগল এআই ব্যবহারের সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
টপ স্টোরিজ

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের বিনা মূল্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে গুগল। ‘ব্যাক টু স্কুল’ কর্মসূচির আওতায় এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে অফারটি নিতে হলে শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় যাচাই করতে হবে।

এই সুবিধার আওতায় শিক্ষার্থীরা গুগলের জেমিনাইয়ের উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেমিনাই ব্যবহারের সীমা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ এবং ৪০০ জিবি বিনা মূল্যের ক্লাউড সংরক্ষণ সুবিধা দেওয়া হবে।

কারা পাবেন
বাংলাদেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন হবে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার প্রমাণপত্র। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া পরিচয়পত্রও ব্যবহার করা যাবে।

যেভাবে নিতে হবে
প্রথমে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে গুগল ওয়ানের শিক্ষার্থী পেজে যেতে হবে। সেখানে ‘শিক্ষার্থী সুবিধা গ্রহণ করুন’ অপশনে ক্লিক করে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন করতে হবে।

এরপর শিক্ষার্থীর নাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। গুগল যে তথ্য ও কাগজপত্র চাইবে, সেগুলো জমা দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

পড়াশোনায় মিলবে বাড়তি সুবিধা
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে জেমিনাইয়ে যুক্ত হচ্ছে বেশ কিছু নতুন সুবিধা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাসের নোট ও পাঠ্যসূচি আপলোড করলে সেগুলোর ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পড়ার নোট, ছোট শিক্ষামূলক পাঠ এবং কুইজ তৈরি করতে পারবে এআই।

শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণেও সহায়তা করবে এই প্রযুক্তি। জটিল বিষয় সহজে বোঝাতে তৈরি করা যাবে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ত্রিমাত্রিক সিমুলেশন ও তথ্যের সারণি। ফলে বিজ্ঞান, গণিতসহ বিভিন্ন কঠিন বিষয় শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বাড়তি সহায়তা পাবেন।

এ ছাড়া জেমিনাই লাইভ ও গভীর গবেষণার সুবিধাও থাকছে এ অফারে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

খেলা দেখলেই উপহার! কাতারে এল ‘হায়োহ’ অ্যাপ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
খেলা দেখলেই উপহার! কাতারে এল ‘হায়োহ’ অ্যাপ
টপ স্টোরিজ

স্টেডিয়ামে গিয়ে সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করা ক্রীড়াপ্রেমীদের পুরস্কৃত করতে কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে সম্পূর্ণ নতুন স্পোর্টস লয়ালটি প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ‘হায়োহ’ (Hayoh)। এই বিনামূল্যের অ্যাপটির মাধ্যমে দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন যোগ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে টিকিট ক্রয় এবং শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা আকর্ষণীয় পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন।

আয়োজকদের মতে, ভক্তরা যত বেশি ম্যাচে সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকবেন, তাঁদের সংগৃহীত পয়েন্টের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তীতে এসব পয়েন্ট দিয়ে আকর্ষণীয় নানা ডিজিটাল ও ভৌত উপহার সংগ্রহ করা যাবে।

পয়েন্ট অর্জনের পদ্ধতি ও সদস্যপদ

‘হায়োহ’ অ্যাপে ব্যবহারকারীদের মূল পয়েন্ট ব্যবস্থা দুটি ভাগে বিভক্ত:

টিয়ার পয়েন্ট (TP): প্রতিটি যোগ্য ইভেন্টে অংশ নিলে ১টি করে টিয়ার পয়েন্ট পাওয়া যাবে, যা সদস্যের মেম্বারশিপ লেভেল বা স্তর নির্ধারণ করবে। এই পয়েন্ট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর বা রিডিম করা যাবে না।

হায়োহ পয়েন্ট (HP): স্টেডিয়ামে নিশ্চিত উপস্থিতির জন্য প্রতি ম্যাচে ১,০০০ হায়োহ পয়েন্ট জমা হবে। এই পয়েন্টগুলো সরাসরি ক্যাটাগরি অনুসারে পুরস্কার পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

রিওয়ার্ডস ক্যাটালগ ও টিকিট লিঙ্কিং প্রক্রিয়া

সহজ কয়েকটি ধাপে টিকিট লিঙ্কিং সম্পন্ন করে পয়েন্ট দাবি করা যাবে:

১. টিকিট লিঙ্কিং: টিকিট কেনার সময় ব্যবহারকারীকে তাঁর ‘হায়োহ আইডি’ (Hayoh ID) ইনপুট দিতে হবে অথবা অ্যাপের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট পার্টনারের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট কিনতে হবে।

২. উপস্থিতি যাচাই: স্টেডিয়ামে উপস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত ও যাচাই হওয়ার পরেই কেবল অ্যাকাউন্টে পয়েন্ট জমা হবে।

৩. পুরস্কার ক্যাটালগ: অর্জিত পয়েন্ট দিয়ে খাদ্য ও পানীয়, ফ্যাশন ও রিটেইল, টেলিকমিউনিকেশন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, হোটেল, অটোমোবাইল সার্ভিস এবং বিনোদন খাতের বিভিন্ন বিশেষ ডিসকাউন্ট বা পণ্য গ্রহণ করা যাবে।

অ্যাকাউন্ট ও রেজিস্ট্রেশনের শর্তাবলী

অ্যাপটিতে অভিভাবকেরা তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের (Dependents) অ্যাকাউন্টও যুক্ত করার সুযোগ পাবেন।

অ্যান্ড্রয়েডের গুগল প্লে (Google Play) এবং আইওএসের অ্যাপ স্টোর (App Store)—উভয় প্ল্যাটফর্মেই অ্যাপটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যবহারকারীর একটি বৈধ কাতার আইডি (QID) থাকা বাধ্যতামূলক।

এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোতে জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!
টপ স্টোরিজ

ভারতে জেমিনিকে নিয়ে নতুন একটি প্রচারণা শুরু করেছে গুগল ইন্ডিয়া। এতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। প্রচারণাটির থিম ও চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রসূন যোশি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনির বহুভাষিক সক্ষমতা তুলে ধরাই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। গুগল, ম্যাকক্যান ইন্ডিয়া ও নির্ভানা ফিল্মস যৌথভাবে প্রচারণাটি তৈরি করেছে।

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোয় জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। জেমিনি টেক্সট, ভিডিও, কণ্ঠস্বর ও ছবি—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করলেও প্রচারণার সৃজনশীল কাজটিতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, এআইকে মানুষের কাছে কম ভীতিকর ও আরো স্বাভাবিক করে তোলা।

গুগল ইন্ডিয়ার মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখর খোসলা বলেন, প্রযুক্তি তখনই সত্যিকার অর্থে তার জাদু ছড়ায়, যখন এটি শুধু একটি হাতিয়ার হিসেবে না থেকে জীবনের প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোর সঙ্গী হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, গুগল জেমিনির মাধ্যমে আমরা শুধু আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের মধ্যকার দূরত্ব কমাচ্ছি না; আমরা ভারতের হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলছি—আমাদের নিজেদের ভাষায়, নিজেদের আবেগে এবং নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের পরিসরে। শাহরুখ খান ও প্রসূনের সঙ্গে কাজ করে এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা আশা করি, এটি আপনাদের প্রতিদিনের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে উঠবে এবং প্রতিটি মুহূর্তে নতুন ভাবনা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।’

প্রসূন যোশি বলেন, ‘এগুলো শুধু দৈনন্দিন জীবনের গল্প নয়। এগুলো এমন কিছু মুহূর্ত থেকে এসেছে, যেগুলো আমার মনে থেকে গেছে। আশা করি, দর্শকরাও এগুলোর সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।’