কাতারের মাটিতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে কাতারস্থ বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির চার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ সাফল্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন, জিপিএ-৪ বা তার বেশি পেয়েছে ১৭ জন এবং জিপিএ-৩-এর বেশি পেয়েছে ১৬ জন শিক্ষার্থী। এ বিভাগে অকৃতকার্য হয়েছে দুজন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৯ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৯১ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মুহাম্মদ ওয়াদিস সাবা চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত রাফিও, তাসনিমুল হাসান রাকিন ও মোঃ তামিম উল্লাহ।
করোনাকালীন সময়ের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসজীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এ অর্জন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ ও নিয়মিত পাঠদানের ধারাবাহিকতাও এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ বলেন, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ হযরত আলী খান এবং পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা, এখানকার সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ, কলেজ প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তিনি এ অর্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজকে কাতারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রবাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণ, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে রাখার প্রত্যয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে। প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।