১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর:

উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা সমীকরণ ও কাতারের নতুন কৌশল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা সমীকরণ ও কাতারের নতুন কৌশল

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগের কথা। গাজা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে হামাস নেতাদের এক বৈঠকের সময় দোহায় অবস্থিত একটি কম্পাউন্ডে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (GCC) কোনো সদস্য দেশের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি এই সামরিক আগ্রাসন চালায় তেল আবিব। নজিরবিহীন এই হামলায় পাঁচজন হামাস সদস্যের পাশাপাশি এক কাতারি নিরাপত্তাকর্মীও প্রাণ হারান।

হামলার পর এক বছর পেরিয়ে গেছে। এই একটি বছর কাতার এবং এর আশপাশের উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার এক বড় উপলক্ষ এনে দিয়েছে।

ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও কাতারের আত্মতুষ্টিতে ধাক্কা

দোহায় এই হামলার ঘটনা বিশেষভাবে হতবাক করেছিল কারণ কাতারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ২০২২ সাল থেকে কাতার যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালি’ বা প্রধান মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। তাছাড়া, আল-উদেদ বিমান ঘাঁটিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনট্রকমের (CENTCOM) ফরোয়ার্ড হেডকোয়ার্টার অবস্থিত। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবেও কাতার নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম ভরসার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে আসছিল।

ফলে, ইসরায়েলের এই হামলা কাতারের সেই দীর্ঘদিনের ধারণাকে মারাত্মকভাবে নাড়া দেয়, যেখানে দেশটি বিশ্বাস করত যে মার্কিন মিত্রতার সুবাদে তাদের ভূখণ্ড পুরোপুরি সুরক্ষিত। হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেও—দোহা ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাজধানীতে এই প্রশ্ন জোরালোভাবে দেখা দেয় যে, আমেরিকার সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ হয়েও যদি কাতার এমন হামলার শিকার হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব গ্যারান্টি আসলে কতটুকু কার্যকর?

উপসাগরীয় দেশগুলোর অভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও সংহতি

দোহায় হামলার পরপরই জিসিসিভুক্ত অন্য দেশগুলো অভাবনীয় ঐক্য প্রদর্শন করে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) প্রতিক্রিয়া ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ২০২০-এর দশকে দোহার সাথে আবুধাবির কিছু রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও, ইব্রাহিম অ্যাকর্ড চুক্তির সুবাদে ইসরায়েলের সাথে আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা এবং হামাসের প্রতি আমিরাতি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও—আবুধাবি পরিষ্কার ভাষায় এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে।

হামলার পরদিনই আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের দোহা সফর উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার এই অখণ্ড ঐক্যেরই বার্তা দেয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য রাজধানীগুলোতে তখন থেকেই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন ঘুরেফিরে বেড়াতে শুরু করে: ইসরায়েল যদি এমন একটি দেশ আক্রমণ করতে পারে যারা বছরের পর বছর ধরে মার্কিন প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, তবে অন্য কোনো জিসিসি দেশকে রক্ষা করার মতো আর কে বা কী আছে?

কাতারের কূটনৈমিতিক কৌশলে পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক মিত্রতা অন্বেষণ

এই ঘটনার পর কাতার তার নিজস্ব বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা চিন্তা করতে বাধ্য হয়। হামাসসহ বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনার সেতু নির্মাণ করে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা যে সবসময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, সে পাঠ কাতার খুব ভালোভাবেই পেয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর অন্ধ নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার এখন আঞ্চলিক সহযোগিতার নেটওয়ার্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।

তারই ধারাবাহিকতায়, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যকার কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’—যেগুলোকে কাতার ইতিবাচক হিসেবেই স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় তুরস্কের সাথে দোহার অংশীদারিত্ব এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের সাথে ঐতিহাসিক মিত্রতা বজায় রেখেই বিকল্প আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর ভেতরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে কাতার।

ইরানি আগ্রাসন এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা

২০২৬ সালের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি উপসাগরীয় অঞ্চলের এই নিরাপত্তাহীনতাকে আরও তীব্র করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বেপরোয়া যুদ্ধের জেরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাতারের ওপরও দফায় দফায় ইরানি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মাধ্যমে কাতার এক দ্বিমুখী হুমকির মুখে পড়ে— একদিকে ইসরায়েল, অন্যদিকে ইরান।

পরিশেষে বলা যায়, বিগত এক বছরে কাতারের ওপর ইসরায়েলি হামলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আমেরিকার ওপর একশ ভাগ নির্ভর না করে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা। ভবিষ্যতের উপসাগরীয় বৈদেশিক নীতি হয়তো এই দুই নীতির ওপরই দাঁড়িয়ে থাকবে: একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঐতিহ্যগত কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে বাইরের যেকোনো আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আঞ্চলিক ও মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

খেলার ছলে নদীতে ডুবে প্রবাসীর ৪ বছরের একমাত্র কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
খেলার ছলে নদীতে ডুবে প্রবাসীর ৪ বছরের একমাত্র কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালিতে নদীতে ডুবে হাসনা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মধুখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চন্দনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। হাসনা নলেপাড়া মহল্লার কুয়েত প্রবাসী পাপ্পা বিশ্বাসের ৪ বছরের একমাত্র শিশুকন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছ, সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পরিবারের অজান্তে শিশুটি চন্দনা নদীর পাশে চলে যায়। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত নদীর পানিতে পড়ে ডুবে যায় হাসনা। শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মধুখালী পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান লিটন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসনা নলেপাড়া মহল্লার কুয়েত প্রবাসী পাপ্পা বিশ্বাসের একমাত্র শিশু কন্যা। সে অসাবধানতাবশত চন্দনা নদীর পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তার মৃত্যু মেনে নেওয়ার মত নয়।

স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ
নিখোঁজ গৃহবধূ রুপা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে মাদারীপুরের ডাসারে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রবাসীর পরিবার জানায়, নিখোঁজের চারদিন পার হলেও ওই গৃহবধূর কোনো সন্ধান না মেলায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ওই গৃহবধূর নাম রুপা আক্তার (১৯)। তিনি ডাসার উপজেলার পশ্চিম কোমলাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশিক মাতুব্বরের স্ত্রী এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ফেরদাউস মোল্লার মেয়ে।

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের পশ্চিম কোমলাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশিক মাতুব্বরের স্ত্রী রুপা আক্তার গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর বাড়িতে ফেরত আসেননি।

এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজা-খুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে তাকে না পেয়ে ওই গৃহবধূর বাবা ফেরদাউস মোল্লা নিরুপায় হয়ে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ডাসার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার ডায়েরি নং-৫১৯।

নিখোঁজ গৃহবধূ রুপা আক্তারের স্বামী সৌদী প্রবাসী আশিক মাতুব্বর জানান, তার স্ত্রী রুপা আক্তার স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে আসেননি। তাই তার সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন রুপার বাবা।

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. সোলায়মান মাহমুদ জানান, গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চলছে।

মৃত্যুর ১৭ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরল প্রবাসী উজ্জ্বলের মরদেহ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
মৃত্যুর ১৭ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরল প্রবাসী উজ্জ্বলের মরদেহ

যশোরের শার্শায় মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার দিবাগত রাত মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং একটু সুখের আশায় প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল হোসেন । কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর এক দেহ হয়ে-মাটির টানে ফিরলেন তিনি, তবে জীবিত নয় কফিনবন্দি হয়ে।

দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর বিয়ে করেন। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন রঙিন হয়ে ওঠে জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই স্ত্রীকে রেখে আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে। প্রিয়তমাকে স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন- ফিরে এসে সাজাবেন তাদের সংসার, পূরণ করবেন স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তি যেন লিখে রেখেছিল অন্য গল্প।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।

স্বজনেরা বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ সকাল ১১ টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

যে মানুষটি একদিন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, আজ সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। তাঁর মৃত্যুতে গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

মা প্রবাসে:

তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু

তাহিরপুরে জুয়া ও মাদকের বিষাক্ত থাবায় নিমজ্জিত এক বাবার হাতে প্রাণ গেল তার নিজেরই তিনটি নিষ্পাপ শিশুর। তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেছেন শিশুদের বাবা।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের বাবা সরাফত আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো—রজনী লাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো একসময় সরাফত আলী তার তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে সরাফত আলীকে বাদাঘাটের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্স থেকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ বলেন, সকাল ৮টার দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের বিষপান করানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ভোরে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘটনাটি জানান। তাদের বাবা সন্তানদের বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেছেন বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের মা প্রবাসে থাকতেন। তিন-চার দিন আগে তিনি দেশে এসে আবার চলে গেছেন। শিশুদের বাবা জুয়া ও মাদকে আসক্ত ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে তিন শিশুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। এর আগেই তাদের পিতাকে স্বজনরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, তিন শিশুর মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, ছেলের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, ছেলের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে ডাকাতির পর এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে ওই নারীর ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্তরা এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজিব (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি মোফাজ্জলের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২) নামে পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়ির কাছে যায়। সেখানে থাকা ১৪ বছর বয়সী ছেলের কাছে পানি চায় তারা। পানি নিয়ে দরজার কাছে আসার পর তাকে ধরে ফেলে অভিযুক্তরা। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে ঘরের পাশে একটি গাছের সাথে বেঁধে জিম্মি করে রাখা হয়।

এরপর তারা ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলমারি ভেঙে সেখানে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় তারা। একইসাথে গৃহবধূর গলার হার, কানের দুলসহ প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ টাকা, এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

লুটপাট শেষে অভিযুক্তরা কিশোরের গলায় চাপাতি ধরে তার মাকে ঘরের দরজার সামনে নিয়ে আসে। সেখানে কয়েকজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এ সময় রাজিব মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

পরে অভিযুক্তরা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলেকে হুমকি দিয়ে বলে, তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে গফরগাঁও থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে।