১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যারাডোনার পর যেমন বদলে ছিল আর্জেন্টিনা, মেসির পরও কি বদলাবে?

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ম্যারাডোনার পর যেমন বদলে ছিল আর্জেন্টিনা, মেসির পরও কি বদলাবে?
আর্জেন্টিনার ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

কিছু খেলোয়াড় শুধু জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তারা হয়ে ওঠেন পুরো একটি দলের পরিচয়। ব্রাজিল যেমন পেলের সঙ্গে একাকার, তেমনি আর্জেন্টিনার ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

এমন উচ্চতার কোনও খেলোয়াড় যখন বুটজোড়া তুলে রাখেন, তখন শুধু একটি ক্যারিয়ার শেষ হয় না; সামনে হাজির হয় আরও বড় এক প্রশ্ন- এরপর কী? যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কখনও কখনও লেগে যায় বহু বছর।

১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের নেতৃত্বে শেষবার শিরোপা জয়ের পর ব্রাজিলকে আবার বিশ্বকাপ জিততে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৪ বছর। ম্যারাডোনার যুগ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনারও লেগেছিল প্রায় একই রকম দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ ফিরেছিল সেই সোনালি ট্রফি। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসরের ঘোষণায় সেই অনিশ্চয়তাই যেন আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টিও ছিল তার মতোই নাটকীয়। ‘ডি’ গ্রুপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফিরে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। তাকে দলে ফিরে পেয়ে আলফিও বাসিলের দল গ্রিসকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর নাইজেরিয়াকেও হারায় ২-১ গোলে। হঠাৎ করেই আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট।

বিশ্বকাপের আগে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনার আমাকে প্রয়োজন- এটাই আমার প্রয়োজন।’ তখন কোনও ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি ছিল না তার, পেশাদার ফুটবলের বাইরেও ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্বে কলম্বিয়ার কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বাসিলের ডাক এলে সাড়া দিতে দেরি করেননি।

ততদিনে আর্জেন্টিনার দলে সম্ভাবনাময় একদল তরুণের উত্থান ঘটেছে। লিও রদ্রিগেজ, ডিয়েগো সিমিওনে, ফার্নান্দো রেদোন্দো, ক্লদিও কানিজিয়া ও গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাদের ঘিরে দলটি এরই মধ্যে ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালে জিতেছিল টানা দুটি কোপা আমেরিকা।

কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সেই তরুণ দলটিই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। প্রয়োজন ছিল অনুপ্রেরণার, প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি কঠিন মুহূর্তে দলকে টেনে তুলবেন। আবারও ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপালেন ম্যারাডোনা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফে ২-১ গোলে জিতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন তিনি।

মূল টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ৪০ দিন আগে দীর্ঘদিনের ফিটনেস কোচ ফার্নান্দো সিগনোরিনির সঙ্গে অনুশীলন করতে লা পাম্পায় চলে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই তার সেই প্রত্যাবর্তনের গল্প থমকে গেলো। নিষিদ্ধ একটি বস্তুর পরীক্ষায় পজিটিভ হন তিনি। সেই খবরের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই শেষ ষোলোতে রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। সেখানেই শেষ হয়ে যায় ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

এরপর আর্জেন্টিনার ডাগআউটে ড্যানিয়েল পাসারেলার আগমন কার্যত ‘এল দিয়েস’-এর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর্দা নামিয়ে দেয়। দুজনের সম্পর্ক ছিল কঠিন। কিন্তু ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে সামনে এগোনোর পথটাও আর্জেন্টিনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতির সময় ম্যারাডোনার রুমমেট ছিলেন রিভার প্লেট তারকা আরিয়েল ওর্তেগা। ম্যারাডোনার পর সেই বিশাল দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। গায়ে ওঠে ১০ নম্বর জার্সি। কিন্তু ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি মুহূর্তই হয়ে দাঁড়ায় ওর্তেগার পুরো বিশ্বকাপের প্রতিচ্ছবি। ডাচ গোলকিপার এডউইন ফন ডার সারকে মাথা দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন তিনি। এরপর আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।

তবে ওর্তেগাকে ঘিরে গল্পটির বাইরেও আর্জেন্টিনার ফুটবলে তখন বড় পরিবর্তন এসেছিল। দলটি ধীরে ধীরে কোনও একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও বেশি সমষ্টিনির্ভর হয়ে উঠছিল। দেশটির ফুটবলীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই প্রতিভার কোনও ঘাটতি ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে একাই উদ্ধার করতে পারবেন এমন একজন, একজন সত্যিকারের আইকন, তখনও খুঁজে পায়নি আর্জেন্টিনা।

আর বিষয়টি শুধু ১০ নম্বর জার্সির ছিল না। ছিল সৃজনশীলতার কেন্দ্রবিন্দুর অভাবও। ম্যারাডোনার পর, মেসির আগে দীর্ঘ সময় ধরে আর্জেন্টিনা এমন একজন স্থায়ী নেতারও অভাব অনুভব করেছে, যিনি মাঠে যেমন নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন, তেমনি ড্রেসিংরুমেও থাকবেন নেতৃত্বের কেন্দ্রে।

বরং এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আরেক খেলোয়াড়ের হাতে ঘুরেছে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। ১৯৯৮ সালে পাসারেলা দায়িত্ব দিয়েছিলেন সিমিওনেকে। ২০০২ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন; জাপানে দলের শেষ ম্যাচে নেতৃত্ব দেন বাতিস্তুতা। এরপর ২০০৬ সালে হোসে পেকারম্যান দায়িত্ব দেন হুয়ান পাবলো সোরিনকে। ২০১০ সালে সেই দায়িত্ব নেন হাভিয়ের মাসচেরানো।

চার বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফেরেন ওর্তেগা। এবার কোচ মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে। বিয়েলসার দর্শনে গড়া সেই আর্জেন্টিনা দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া, সরাসরি আক্রমণ, দুই প্রান্ত ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছড়িয়ে দেওয়া এবং বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং করে তা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিতো।

ওর্তেগার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলেও তিনি আর আগের সেই চিরাচরিত আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ছিলেন না। বরং তাকে খেলানো হতো অনেকটা ওয়াইড ফরোয়ার্ড হিসেবে। প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে অনুসরণ করে রক্ষণেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হতো। কিন্তু ওর্তেগা কখনোই নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি। আর্জেন্টিনাও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি।

ম্যারাডোনা-পরবর্তী যুগে এক বিশ্বকাপ চক্র থেকে আরেক চক্রে আর্জেন্টিনার কোচ বদলেছে। পাসারেলার পর দায়িত্ব আসে বিয়েলসার হাতে, এরপর পেকারম্যানের কাছে।

২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযানে আর্জেন্টিনার দায়িত্বে ছিলেন পেকারম্যান। যিনি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দেশটির সোনালি প্রজন্ম তৈরির অন্যতম স্থপতি। তার পছন্দের ১০ নম্বর ছিলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে। ১৯৯৭ সালে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তারকা তখন দলের সৃজনশীলতার মূল কেন্দ্র। আর সেই দলেই ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে এক তরুণ মেসি ধীরে ধীরে বিশ্বকে দেখাচ্ছিলেন তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই অসাধারণ প্রতিভার ঝলক, যা অচিরেই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলবে।

আর্জেন্টিনা তখন খেলতো আরও ঐতিহ্যবাহী এক ছকে। বল দখলে রেখে, আর ১০ নম্বরকে ক্লাসিক প্লেমেকার হিসেবে ব্যবহার করে। খেলার গতি ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন রিকেলমে। কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও ২০০৬-এর সেই আর্জেন্টিনা আজও স্মরণীয় টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ও দক্ষ দল হিসেবে।

২০১০ সালে আর্জেন্টিনার কাঠামোয় আসে বড় পরিবর্তন। ডাগআউটে তখন ম্যারাডোনা, আর তারই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামছেন মেসি।

বার্সেলোনায় নিজের অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এসেছিলেন ছোটখাটো গড়নের সেই জাদুকর। সঙ্গে ছিল ক্রমেই পরিচিত হয়ে ওঠা বিশাল প্রত্যাশা। ক্লাব ফুটবলে তিনি যা করছেন, আর্জেন্টিনার হয়েও ঠিক সেটিই করতে হবে।

কিন্তু সেই বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল হতাশায়। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। তবে আজ পেছন ফিরে তাকালে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০-কে অন্যভাবেও দেখা যায়। কারণ সেখানেই প্রকৃত অর্থে মেসি-যুগের ভিত্তি গড়ে উঠতে শুরু করেছিল।

ম্যারাডোনার পরও আর্জেন্টিনা একের পর এক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করেছে। গড়ে তুলেছে স্মরণীয় সব দল। কিন্তু বছরের পর বছর তাদের খুঁজতে হয়েছে এমন একজনকে, যিনি ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া প্রতীকী শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন। এবার শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়।

অসাধারণ ফুটবলার তৈরি করার আর্জেন্টিনার ঐতিহ্য এখনও অটুট। কিন্তু লা আলবিসেলেস্তেকে আবারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিচিত এক চ্যালেঞ্জের- এমন একজন ১০ নম্বরকে ছাড়া পথ চলা, যাকে একসময় মনে করা হয়েছিল অপূরণীয়।

ম্যারাডোনা-পরবর্তী সময় আর্জেন্টিনার জন্য একটি কার্যকর শিক্ষা রেখে গেছে। আর ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনা হয়তো আরেকজন মেসি খুঁজে পাবে না। কিন্তু প্রধান তারকাকে ছাড়া কীভাবে নিজেদের বদলে নিতে হয়, কীভাবে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, সেই পথ তারা আগেও খুঁজে নিয়েছে। হয়তো মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার গল্পটাও শেষ পর্যন্ত হবে নতুন করে নিজেদের আবিষ্কারের গল্প হিসেবে।

খেলার ছলে নদীতে ডুবে প্রবাসীর ৪ বছরের একমাত্র কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
খেলার ছলে নদীতে ডুবে প্রবাসীর ৪ বছরের একমাত্র কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালিতে নদীতে ডুবে হাসনা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মধুখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চন্দনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। হাসনা নলেপাড়া মহল্লার কুয়েত প্রবাসী পাপ্পা বিশ্বাসের ৪ বছরের একমাত্র শিশুকন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছ, সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পরিবারের অজান্তে শিশুটি চন্দনা নদীর পাশে চলে যায়। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত নদীর পানিতে পড়ে ডুবে যায় হাসনা। শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মধুখালী পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান লিটন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসনা নলেপাড়া মহল্লার কুয়েত প্রবাসী পাপ্পা বিশ্বাসের একমাত্র শিশু কন্যা। সে অসাবধানতাবশত চন্দনা নদীর পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তার মৃত্যু মেনে নেওয়ার মত নয়।

স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ
নিখোঁজ গৃহবধূ রুপা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে মাদারীপুরের ডাসারে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রবাসীর পরিবার জানায়, নিখোঁজের চারদিন পার হলেও ওই গৃহবধূর কোনো সন্ধান না মেলায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ওই গৃহবধূর নাম রুপা আক্তার (১৯)। তিনি ডাসার উপজেলার পশ্চিম কোমলাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশিক মাতুব্বরের স্ত্রী এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ফেরদাউস মোল্লার মেয়ে।

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের পশ্চিম কোমলাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশিক মাতুব্বরের স্ত্রী রুপা আক্তার গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর বাড়িতে ফেরত আসেননি।

এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজা-খুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে তাকে না পেয়ে ওই গৃহবধূর বাবা ফেরদাউস মোল্লা নিরুপায় হয়ে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ডাসার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার ডায়েরি নং-৫১৯।

নিখোঁজ গৃহবধূ রুপা আক্তারের স্বামী সৌদী প্রবাসী আশিক মাতুব্বর জানান, তার স্ত্রী রুপা আক্তার স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে আসেননি। তাই তার সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন রুপার বাবা।

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. সোলায়মান মাহমুদ জানান, গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চলছে।

মৃত্যুর ১৭ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরল প্রবাসী উজ্জ্বলের মরদেহ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
মৃত্যুর ১৭ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরল প্রবাসী উজ্জ্বলের মরদেহ

যশোরের শার্শায় মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার দিবাগত রাত মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং একটু সুখের আশায় প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল হোসেন । কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর এক দেহ হয়ে-মাটির টানে ফিরলেন তিনি, তবে জীবিত নয় কফিনবন্দি হয়ে।

দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর বিয়ে করেন। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন রঙিন হয়ে ওঠে জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই স্ত্রীকে রেখে আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে। প্রিয়তমাকে স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন- ফিরে এসে সাজাবেন তাদের সংসার, পূরণ করবেন স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তি যেন লিখে রেখেছিল অন্য গল্প।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।

স্বজনেরা বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ সকাল ১১ টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

যে মানুষটি একদিন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, আজ সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। তাঁর মৃত্যুতে গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

মা প্রবাসে:

তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু

তাহিরপুরে জুয়া ও মাদকের বিষাক্ত থাবায় নিমজ্জিত এক বাবার হাতে প্রাণ গেল তার নিজেরই তিনটি নিষ্পাপ শিশুর। তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেছেন শিশুদের বাবা।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের বাবা সরাফত আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো—রজনী লাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো একসময় সরাফত আলী তার তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে সরাফত আলীকে বাদাঘাটের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্স থেকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ বলেন, সকাল ৮টার দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের বিষপান করানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ভোরে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘটনাটি জানান। তাদের বাবা সন্তানদের বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেছেন বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের মা প্রবাসে থাকতেন। তিন-চার দিন আগে তিনি দেশে এসে আবার চলে গেছেন। শিশুদের বাবা জুয়া ও মাদকে আসক্ত ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে তিন শিশুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। এর আগেই তাদের পিতাকে স্বজনরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, তিন শিশুর মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, ছেলের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, ছেলের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে ডাকাতির পর এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে ওই নারীর ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্তরা এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজিব (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি মোফাজ্জলের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২) নামে পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়ির কাছে যায়। সেখানে থাকা ১৪ বছর বয়সী ছেলের কাছে পানি চায় তারা। পানি নিয়ে দরজার কাছে আসার পর তাকে ধরে ফেলে অভিযুক্তরা। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে ঘরের পাশে একটি গাছের সাথে বেঁধে জিম্মি করে রাখা হয়।

এরপর তারা ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলমারি ভেঙে সেখানে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় তারা। একইসাথে গৃহবধূর গলার হার, কানের দুলসহ প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ টাকা, এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

লুটপাট শেষে অভিযুক্তরা কিশোরের গলায় চাপাতি ধরে তার মাকে ঘরের দরজার সামনে নিয়ে আসে। সেখানে কয়েকজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এ সময় রাজিব মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

পরে অভিযুক্তরা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলেকে হুমকি দিয়ে বলে, তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে গফরগাঁও থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে।