২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক বাঁকে: কাতারের আমির

ইসরায়েলের বেআইনি আগ্রাসনে লাগাম টানার জোরালো আহ্বান কাতারের আমিরের।
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক বাঁকে: কাতারের আমির
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি

মধ্যপ্রাচ্য তার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়গুলোর একটি’ পার করছে বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গাল্‌ফ অঞ্চলের এই পরিস্থিতি ‘কারো কাছেই বিস্ময়ের হওয়া উচিত নয়’, বরং এর প্রভাব পুরো বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি মূলত ইরান যুদ্ধের কথাই ইঙ্গিত করেন, যার জেরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোয় হামলা চালানো হয়েছে এবং বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি।

আমির বলেন, ‘বছরের পর বছর সাময়িক সমাধান আর অবাস্তব নীতির মাধ্যমে সংকট ব্যবস্থাপনা পিছিয়ে দেওয়ারই পুঞ্জীভূত ফল এটি।’

তিনি জানান, বিরোধ নিরসনের একমাত্র পথ হিসেবে কাতার বরাবরই সংলাপ ও আলোচনাকে সমর্থন করে এসেছে-আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ন্যায্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে। তাঁর ভাষায়, ‘সংকট-পরবর্তী সময়েও এই অবস্থানই আমাদের রয়ে গেছে।’

আঞ্চলিক ‘যৌথ নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি কাঠামো দরকার যা রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানাবে, বিরোধ নিরসনে শান্তিপূর্ণ পথকে উৎসাহিত করবে এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে। তাঁর কথায়, ‘এমন ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতেই যুদ্ধ বেধে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি পক্ষের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেছে তার প্রতিবেশীদের এমন এক যুদ্ধে টেনে নিয়ে যাওয়া, যা আদতে তাদের নিজেদের যুদ্ধই নয়-উত্তেজনা এড়াতে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে। এমনকি বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি বাণিজ্য যে আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়, তা বন্ধ করে দেওয়াও সম্ভব হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণরেখাগুলোকে চাপ ও দর-কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত করাও সম্ভব হয়েছে, যার মাশুল দিচ্ছে প্রতিটি মহাদেশের মানুষ-যদিও এই সংঘাতের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কই নেই।’

তিনি যোগ করেন, ‘এই সংকট খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এমন সব মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করছে, যাদের এর সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতাই নেই।’

তবু কূটনৈতিক পথেই গাল্‌ফ সংকট সমাধানযোগ্য বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন আমির। তাঁর ভাষায়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় নৌচলাচলের জন্য খুলে দিয়ে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে যুদ্ধ এড়ানো এবং ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য টেকসই স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের এই সুযোগ, যা আমাদের বিশ্বাসে সম্ভব ও বাস্তবসম্মত, তা হাতছাড়া করা চলবে না।’

গাজা এখনো ‘বিশ্ব বিবেকের কলঙ্ক’

গাল্‌ফের ঘটনাপ্রবাহে বিশ্বের নজর সরে গেলেও গাজার পরিস্থিতি একইরকম গুরুত্বপূর্ণ থেকে গেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ তামিম। তাঁর ভাষায়, ‘ফিলিস্তিন যতদিন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি অন্ধ বিন্দু হয়ে থাকবে, ততদিন ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার কোনো কথাই বলা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘গাজায় যা ঘটেছে তা সব অর্থেই গণহত্যা, এবং গোটা মানবজাতির বিবেকের এক কলঙ্ক।’ আমিরের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিস্মিত হবে বিপর্যয়ের ব্যাপকতা আর তা থামাতে আন্তর্জাতিক সাড়ার মধ্যকার বিশাল ব্যবধান দেখে-অথচ এই বিপর্যয় থেমে নেই, বরং ইসরায়েলি নেতারা এখন প্রকাশ্যেই বলছেন, জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করাই-যাকে তারা ‘অভিবাসন’ নাম দিচ্ছে-সবচেয়ে উপযুক্ত সমাধান।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতি ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে আমির বলেন, ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে ব্যাপক ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন আত্মসমালোচনা করার বদলে তারা চারদিকে যথেচ্ছভাবে অভিযোগের তীর ছোড়ে-কখনো ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে, কখনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আশ্রয় নিয়ে, অন্য শক্তি ও রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির জন্য দায়ী করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেন কোনো যোগাযোগমাধ্যমই নেই-যেন ইসরায়েলি সৈন্যরা শব্দ ও দৃশ্যের মাধ্যমে নিজেদের অপরাধের গর্ব করেনি-যেন গাজায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছবি বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের একটি গোটা পর্ব ধরে, পূর্ব থেকে পশ্চিম, ছড়িয়ে পড়েনি।’

শান্তি প্রতিশ্রুতি পূর্ণাঙ্গভাবে পালনে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি-যার মধ্যে রয়েছে ‘অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করা, গাজা উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার, অবরোধ তুলে নেওয়া এবং শর্তহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা উচ্ছেদকেই সমাধান বলে মনে করে, তারা জনগোষ্ঠীর জীবন সহজ করতে পারে এমন যেকোনো উদ্যোগে বাধা দেবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেওয়ার সরাসরি দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরই, এবং নিশ্চিত করতে হবে যে এই বাস্তবায়ন এমন একটি পক্ষের হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, যারা সুযোগ পেলেই দায়মুক্তি নিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে অভ্যস্ত।’

পশ্চিম তীরে চলমান নিপীড়ন, বর্ণবৈষম্য ও বসতি-সন্ত্রাসের পাশাপাশি ইসলামি ও খ্রিস্টীয় পবিত্র স্থান-বিশেষ করে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের-অবমাননার কথাও তুলে ধরেন আমির। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অবিচ্ছেদ্য অধিকার থেকে ফিলিস্তিনিদের বঞ্চিত রাখাকে তিনি অভিহিত করেন ‘একটি খোলা ক্ষত’ হিসেবে।

সিরিয়া-লেবাননেও ইসরায়েলি আগ্রাসন

সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে শেখ তামিম বলেন, ‘দম্ভ ও অহংকারে ভরা ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।’

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল সিরিয়ার বিরুদ্ধে তার প্রকাশ্য আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে এবং আরও সিরীয় ভূখণ্ড দখল করে ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত গোলান মালভূমির সঙ্গে যুক্ত করছে।’

লেবানন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেন অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর ওপর তাদের অভিভাবকত্ব রয়েছে-এমন ভঙ্গিতেই ইসরায়েল প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে লেবাননের সঙ্গে হওয়া বোঝাপড়ায় তারা আবদ্ধ নয়। তারা লেবাননের ভূখণ্ড দখল অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে এবং সেখানে পুলিশি ভূমিকা নিতে চাইছে।’ দক্ষিণ লেবাননের একের পর এক গ্রাম প্রকাশ্য দিবালোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের পুরনো ইতিহাসের প্রতিধ্বনি বলে আখ্যা দেন।

এই প্রসঙ্গের সমাপ্তি টেনে আমির বলেন, ‘ইসরায়েলের সৃষ্ট ক্ষতির অবসান ঘটানো এবং তার বেআইনি আচরণে লাগাম টানাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল্যবোধ ও আইনের শাসন রক্ষায় আন্তরিকতার আসল পরীক্ষা।’

তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার একাধিক দেশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানান। পুনর্গঠন ও পুনর্মিলনের পথে সিরিয়া ও লিবিয়ার জনগণের পাশে কাতার আছে বলে জানান তিনি, পাশাপাশি সুদানে টেকসই শান্তির লক্ষ্যে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের’ ডাক দেন। সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি কাতারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ইয়েমেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শেষে শেখ তামিম বলেন, ‘আমাদের মূল্যবোধ নিছক স্লোগান নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে এই বিশ্বাস যে, একটি জাতির মর্যাদার সঙ্গে আপস করা যায় না, এবং প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা একই মুদ্রার দুই পিঠ।’

সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের সেখানকার আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইন বা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও ফেসবুকে, ইউটিউবে বা এক্সে দেওয়া যাবে না। এমনকি এমন কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও দূরে থাকতে হবে। কোনো কাগজ ভালোভাবে না পড়ে তাতে সই বা আঙুলের ছাপ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাদা কাগজে সই দেওয়া যাবে না।

নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কারও নামে সিম, গাড়ি বা অন্য কোনো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া এক জায়গার বা এক মালিকের ইকামা দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে বিক্রি করা, অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা বা অবৈধভাবে পানি বিক্রি করার মতো কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পরিচিত বা অপরিচিত কারও সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করা এবং চাকরির ভুয়া লোভ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, আইন মেনে চললে প্রবাসীদের জীবন যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বিদেশের মাটিতে দেশের নামও উজ্জ্বল থাকবে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চসিমুদ্দিন গ্রামে পুকুরে ডুবে তানিশা ও রায়হান নামের আট বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তানিশা ও রায়হান ঢাকার ডেমরার ঠুনঠুরলিয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার কুয়েত প্রবাসী মো. শরীফের ছেলেমেয়ে।

নিহত শিশুদের খালা কামরুন নাহার জানান, মায়ের সঙ্গে চসিমুদ্দিন গ্রামে নানাবাড়িতে আসে যমজ ভাই-বোন।

বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায় তারা। খেলার একপর্যায়ে একজন পুকুরে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়।

এ সময় দুজনই পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি শিশু দুটিকে।

নিহত দুই শিশুর নানা কাশেম মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোনের পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।’

দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

রাজবাড়ীর পাংশায় ২ সন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন রিক্তা পারভীন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ। গত ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর রাতে তিনি কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। নিখোঁজের সময় তাঁর সাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রিক্তার শ্বশুর বাদি হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি মধ্যপাড়া গ্রামের ইরাক প্রবাসী মোঃ রজব আলী প্রামানিকের (৪৫) স্ত্রী রিক্তা পারভীন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে তিনি পরিবারকে না জানিয়ে গৃহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ রিক্তা পারভীনের সন্তান মেয়ে আয়শা খাতুন (১৫) এবং ছোট মেয়ে আনিশা আক্তার (৬)। হঠাৎ মাকে হারিয়ে সন্তানেরা অঝোরে কাঁদছে। অন্য দিকে প্রবাসে থাকা স্বামী রজব আলী প্রামানিকও স্ত্রীর এই নিরুদ্দেশ হওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

রজব আলী প্রামানিক প্রবাস থেকে জানান, স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে ফোনে কিছু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিক্তা বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে সেখানে রিক্তাকে আনতে তার ছেলে ও ছেলের বউ যায়। রিক্তা ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে বলে তুমি চলে যাও আমি তোমার বউ এবং আমার ছোট মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি চলে আসবো।

কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে না গিয়ে রাতে এক আত্মীয়র ঘুমিয়ে থাকেন। পরে ভোরবেলা রজবের ছেলের বউ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার শাশুড়ি রিক্তা বিছানায় নেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, বিদেশে অর্জিত সমস্ত টাকা স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন, যার কোনো সঠিক হিসাব তাঁর কাছে নেই। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় রিক্তা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সাথে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার এসআই মিনহাজ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে চাম্পা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত চাম্পা খাতুন শিবপুর গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে পাশের বাড়ির লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধ পান। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাম্পা খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন বলেন, সকালে পাশের বাড়ির লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ (৩০) নামের এক বাংলাদেশী প্রবাসীর। সহকর্মীর জীবনের তাগিদে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই আত্মত্যাগী যুবক গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি সময় দুপুর ৩টার দিকে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’র একটি কর্মস্থলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। গত মাসেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। ঘটনার দিন কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এক সহকর্মীকে বিপদাপন্ন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান পরোপকারী আব্দুল্লাহ। কিন্তু গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিনিসহ মোট চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

​নিহতের ভাই মো. আাসাদ উল্লাহ কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়েই তাঁর ভাই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আব্দুল্লাহর এই আকস্মিক বিদায়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারির পাশাপাশি ঘরে রেখে যাওয়া গর্ভবতী স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যাসন্তান আসপিয়া নুরের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

​সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার এই ঘটনায় রিয়াদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের শেষ স্মৃতিটুকু বুকে ধরে রাখতে ও শেষবারের মতো মুখটি দেখতে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছে শোকার্ত পরিবার।