২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা গণহত্যাকে ‘শতাব্দীর সেরা মিথ্যা’ দাবি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর! কাতার ও তুরস্কের তীব্র সমালোচনা

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।’
প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
গাজা গণহত্যাকে ‘শতাব্দীর সেরা মিথ্যা’ দাবি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর! কাতার ও তুরস্কের তীব্র সমালোচনা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু "বর্বরদের" বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "সাহসী নেতৃত্ব" ও অংশীদারত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "এই শতাব্দীর সেরা মিথ্যা" বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে "সভ্যতাকে রক্ষা করার" জন্য কাজ করেছে। তারা গাজা থেকে বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।' গত বছর মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে বন্দি থাকা জীবিত ও মৃত সকল বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তার মতে, 'ইসরায়েল হলো "একই ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা একটি জাতি—তা সে বামপন্থী বা ডানপন্থী, তরুণ বা প্রবীণ, ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ যে-ই হোক না কেন। সংকটময় মুহূর্তে ইতিহাসের শিক্ষা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সাহসের জোরে ইসরায়েলিরা একসূত্রে গেঁথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়।

ইরানের সামরিক সক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'একটি এক টনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যদি জাতিসংঘ সদরে আঘাত হানে, তবে তার ফল কী হবে?' উত্তরে তিনি নিজেই বলেন—'পুরো কম্পাউন্ড ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।'

তিনি বলেন, 'আমি ইসরায়েলের জনগণের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই। আমি আমাদের বীর সেনাদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই—তারা ইহুদি, মুসলিম, খ্রিস্টান, দ্রুজ। আইডিএফ হলো বিশ্বের সবচেয়ে নীতিবান ও নৈতিক সেনাবাহিনী।'

এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধের "অষ্টম ফ্রন্ট"-এর প্রসঙ্গে আসেন। ইসরায়েলের প্রতি বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কাতার—যারা হামাস নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল অর্থায়ন করে এবং আল জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েল সম্পর্কে "মিথ্যা ছড়াতে" কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। তিনি বলেন, তারা ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে ঘৃণা করার জন্য তরুণদের মগজধোলাই করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'তুরস্ক হলো নতুন দেশ যারা হামাসকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তুরস্কের "স্বৈরাচারী" প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান হাজার হাজার কুর্দিদের হত্যা করেছেন, উত্তর সাইপ্রাস অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, গ্রিসকে হুমকি দিচ্ছেন এবং সাংবাদিকদের কারাগারে বন্দি করছেন। তিনি প্রতিদিন ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনি হবেন জেরুজালেমের শাসক। না মহাশয়, আপনি তা পারবেন না। এটি আমাদের শহর।'

৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে তুরস্ক ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে এবং অনেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা আঙ্কারাকে তাদের অঞ্চলের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "এই শতাব্দীর সেরা মিথ্যা" বলে অভিহিত করেছেন।

বক্তব্যে তিনি গাজায় পোলিও টিকা প্রদান এবং ইসরায়েলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ প্রবেশের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'বেসামরিক জনগণকে রক্ষা করতে আমরা অগণিত পদক্ষেপ নিয়েছি।'

ইসরায়েল যুদ্ধের অধিকাংশ সময় গাজায় খাদ্য প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল, তবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ত্রাণ সরবরাহ আটকে রাখে, যার ফলে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ত্রাণ সংস্থাগুলো এখনও জোর দিয়ে বলছে যে গাজায় আরও সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত।

যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।' এরপর তিনি নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহারান মামদানির দিকে ঘুরে বলেন, 'বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইহুদি জনসংখ্যার এই শহরে ইহুদিরা এখন আর নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না।'

তিনি মামদানিকে হামাসের সমর্থক বলে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে মেয়র তার বাড়িতে এমন একজন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন যিনি "হামাস সন্ত্রাসীদের ইসরায়েলি জিম্মিদের প্রহার ও নির্যাতনের" দৃশ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ইসরায়েলবিরোধী পোস্টে লাইক দেওয়ার জন্য মামদানির স্ত্রীরও সমালোচনা করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর গ্রেফতারের দাবি জানানো এবং তাকে "যুদ্ধাপরাধী" আখ্যা দেওয়ায় মামদানির উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু বলেন, 'আপনি আমাকে স্তব্ধ করতে পারবেন না। আপনি সত্যকে চেপে রাখতে পারবেন না।' তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, 'ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।' তিনি আরও বলেন, 'মামদানির "হামাস সহযোগীরা" যদি সুযোগ পেত, তবে তারা শেষ ইহুদি পর্যন্ত সবাইকে হত্যা করত।'

তিনি মামদানিকে "ইহুদিবিদ্বেষী" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন তার শহরে কেবল ইহুদি হওয়ার অপরাধেই ইহুদিদের ছুরিকাঘাত করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। তিনি বলেন, 'অসহায় শিকার হিসেবে ইহুদিদের কসাইখানায় নিয়ে যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। আজ আমাদের একটি রাষ্ট্র আছে, আজ আমাদের একটি সেনাবাহিনী আছে।'

তিনি ইহুদিদের "মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর" আহ্বান জানান এবং "বর্বরদের" বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাকি সবাইকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের সেখানকার আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইন বা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও ফেসবুকে, ইউটিউবে বা এক্সে দেওয়া যাবে না। এমনকি এমন কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও দূরে থাকতে হবে। কোনো কাগজ ভালোভাবে না পড়ে তাতে সই বা আঙুলের ছাপ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাদা কাগজে সই দেওয়া যাবে না।

নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কারও নামে সিম, গাড়ি বা অন্য কোনো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া এক জায়গার বা এক মালিকের ইকামা দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে বিক্রি করা, অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা বা অবৈধভাবে পানি বিক্রি করার মতো কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পরিচিত বা অপরিচিত কারও সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করা এবং চাকরির ভুয়া লোভ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, আইন মেনে চললে প্রবাসীদের জীবন যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বিদেশের মাটিতে দেশের নামও উজ্জ্বল থাকবে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চসিমুদ্দিন গ্রামে পুকুরে ডুবে তানিশা ও রায়হান নামের আট বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তানিশা ও রায়হান ঢাকার ডেমরার ঠুনঠুরলিয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার কুয়েত প্রবাসী মো. শরীফের ছেলেমেয়ে।

নিহত শিশুদের খালা কামরুন নাহার জানান, মায়ের সঙ্গে চসিমুদ্দিন গ্রামে নানাবাড়িতে আসে যমজ ভাই-বোন।

বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায় তারা। খেলার একপর্যায়ে একজন পুকুরে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়।

এ সময় দুজনই পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি শিশু দুটিকে।

নিহত দুই শিশুর নানা কাশেম মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোনের পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।’

দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

রাজবাড়ীর পাংশায় ২ সন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন রিক্তা পারভীন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ। গত ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর রাতে তিনি কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। নিখোঁজের সময় তাঁর সাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রিক্তার শ্বশুর বাদি হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি মধ্যপাড়া গ্রামের ইরাক প্রবাসী মোঃ রজব আলী প্রামানিকের (৪৫) স্ত্রী রিক্তা পারভীন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে তিনি পরিবারকে না জানিয়ে গৃহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ রিক্তা পারভীনের সন্তান মেয়ে আয়শা খাতুন (১৫) এবং ছোট মেয়ে আনিশা আক্তার (৬)। হঠাৎ মাকে হারিয়ে সন্তানেরা অঝোরে কাঁদছে। অন্য দিকে প্রবাসে থাকা স্বামী রজব আলী প্রামানিকও স্ত্রীর এই নিরুদ্দেশ হওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

রজব আলী প্রামানিক প্রবাস থেকে জানান, স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে ফোনে কিছু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিক্তা বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে সেখানে রিক্তাকে আনতে তার ছেলে ও ছেলের বউ যায়। রিক্তা ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে বলে তুমি চলে যাও আমি তোমার বউ এবং আমার ছোট মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি চলে আসবো।

কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে না গিয়ে রাতে এক আত্মীয়র ঘুমিয়ে থাকেন। পরে ভোরবেলা রজবের ছেলের বউ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার শাশুড়ি রিক্তা বিছানায় নেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, বিদেশে অর্জিত সমস্ত টাকা স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন, যার কোনো সঠিক হিসাব তাঁর কাছে নেই। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় রিক্তা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সাথে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার এসআই মিনহাজ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে চাম্পা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত চাম্পা খাতুন শিবপুর গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে পাশের বাড়ির লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধ পান। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাম্পা খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন বলেন, সকালে পাশের বাড়ির লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ (৩০) নামের এক বাংলাদেশী প্রবাসীর। সহকর্মীর জীবনের তাগিদে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই আত্মত্যাগী যুবক গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি সময় দুপুর ৩টার দিকে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’র একটি কর্মস্থলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। গত মাসেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। ঘটনার দিন কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এক সহকর্মীকে বিপদাপন্ন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান পরোপকারী আব্দুল্লাহ। কিন্তু গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিনিসহ মোট চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

​নিহতের ভাই মো. আাসাদ উল্লাহ কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়েই তাঁর ভাই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আব্দুল্লাহর এই আকস্মিক বিদায়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারির পাশাপাশি ঘরে রেখে যাওয়া গর্ভবতী স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যাসন্তান আসপিয়া নুরের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

​সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার এই ঘটনায় রিয়াদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের শেষ স্মৃতিটুকু বুকে ধরে রাখতে ও শেষবারের মতো মুখটি দেখতে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছে শোকার্ত পরিবার।