২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেপ্টেম্বরে কাতারে থাকছে একের পর এক বড় ইভেন্ট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সেপ্টেম্বরে কাতারে থাকছে একের পর এক বড় ইভেন্ট

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ কাতারে জমজমাট ইভেন্ট ও উৎসব: কনসার্ট, খেলাধুলা, প্রদর্শনী ও পারিবারিক বিনোদন

চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে রাজধানী দোহাসহ পুরো কাতারে থাকছে বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় ইভেন্টের এক বিশাল আয়োজন। কাতার ক্যালেন্ডারের অধীনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পরিবার, শিশু, তরুণ ও সব বয়সি মানুষের বিনোদনের জন্য রয়েছে চমৎকার সব আয়োজন। আন্তর্জাতিক কনসার্ট, বিশ্বমানের খেলাধুলা, ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী এবং প্রযুক্তি সম্মেলনের এক অপূর্ব সমাহার দেখা যাবে মাসজুড়ে।

পারিবারিক বিনোদন ও উৎসব

কালারভার্স এক্সপেরিয়েন্স (ColorVerse Experience): কাতারা সাউথ পার্কিংয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিশুদের রঙ বাঁচানোর থিমে এই আকর্ষণীয় প্রদর্শনী চলছে।

ভার্চুওসিটি ব্যাটলগ্রাউন্ড ২০২৬ (Virtuocity Battleground 2026):** দোহা ফেস্টিভ্যাল সিটির ভার্চুওসিটিতে ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গেমিং অনুরাগীদের জন্য থাকছে রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ।

ফুওয়াইরিত ব্রেক (Fuwairit Break): ফুওয়াইরিত কাইট বিচে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য থাকছে নানা আয়োজন।

দ্য জুরি এক্সপেরিয়েন্স (The Jury Experience): ইউ ভেন্যুতে (U Venue) আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দর্শকদের নিজেদের রায় দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা মিলবে।

মেনা ডব্লিউ ফেনা (Mena W Fena): আল হাজম আউটডোর এলাকায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ঐতিহ্যবাহী ও স্বতন্ত্র কাতারি পণ্যের প্রদর্শনী।

খেলাধুলা ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট

বিট দ্য হিট (Beat the Heat): গ্রীষ্মকালীন ফিটনেস ও রেস সিরিজটি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে।

বিশ্ব ইউনিভার্সিটি ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: কাতার ফাউন্ডেশনে আগামী ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর এই বিশ্ব আসর অনুষ্ঠিত হবে।

শোর ফিনিক্স গেমস ২০২৬ (Seashore Phoenix Games 2026): স্পায়ার লেডিজ স্পোর্টস হলে আগামী ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পুরুষ ও নারীদের ফিটনেস চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে।

কাতার ক্লাসিক স্কোয়াশ ২০২৬ (Qatar Classic Squash 2026): খলিফা ইন্টারন্যাশনাল টেনিস অ্যান্ড স্কোয়াশ কমপ্লেক্সের কোর্টে আগামী ১২ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা লড়বেন। এছাড়া ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে প্রথম কাতার এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৪ টেনিস টুর্নামেন্ট।

শিল্প, সংস্কৃতি ও প্রদর্শনী

কাতারা এসদাইল প্রদর্শনী (S'hail 2026): কাতারা কালচারাল ভিলেজে আগামী ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দশম আন্তর্জাতিক শিকার ও ফ্যালকন প্রদর্শনী।

মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট (MIA): আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে ‘উজবেকিস্তান: হেরিটেজ ইন মোশন’ এবং ‘একতাশফ উজবেকিস্তান’ প্রদর্শনী চলবে।

কিউপিও প্রেজেন্টস (QPO Presents): কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (QNCC) ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে চাইকভস্কির পিয়ানো কনসার্টো নং-১। এছাড়া ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘কাতার-মেক্সিকো কালচারাল ইয়ার: সাউন্ডস অব মেক্সিকো’।

বিলারবি বার্ষিক সম্মেলন: ১৯ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর এডুকেশন সিটির মুলতাকা সেন্টারে এটি অনুষ্ঠিত হবে।

সঙ্গীত, কমেডি ও লাইভ কনসার্ট

জন লিজেন্ড কনসার্ট: কিউএনসিসির হল ৩ ও ৪-এ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত তারকা জন লিজেন্ড।

স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো: একই দিনে (১০ সেপ্টেম্বর) সৌক ওয়াকিফের আবদুল আজিজ নাসের থিয়েটারে সালেহ এল নাওয়াবির ‘ঘাইবূবা’ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর কিউএনসিসির আল মায়াস্সা থিয়েটারে পারফর্ম করবেন তাহা দেশৌকি।

টিন ও রক কনসার্ট: আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সৌক ওয়াকিফের আবদুল আজিজ নাসের থিয়েটারে থাকছে ‘ফিনা নহকে? - জন আচকার লাইভ ইন দোহা’। এছাড়া একই দিনে কিউএনসিসিতে রকপ্রেমীদের মাতাতে আসছে বিখ্যাত ব্যান্ড ‘পিংক ফয়েড লেগ্যাসি লাইভ’।

ব্যবসা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য প্রদর্শনী

অটোনমাস ই-মোবিলিটি ফোরাম ২০২৬: আগামী ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর কিউএনসিসিতে এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে।

গুগল ক্লাউড সামিট দোহা ২০২৬: আগামী ২২ সেপ্টেম্বর কিউএনসিসির হল ৮ ও ৯-এ এই প্রযুক্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

কাতার ফিনটেক এক্সপো ২০২৬: আগামী ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর হিলটন দোহা হোটেলে ফিনটেক মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

দোহা জুয়েলার্স অ্যান্ড ওয়াচেস এক্সিশন ২০২৬: আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ডিইসিসি (DECC)-তে শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী এই অলংকার প্রদর্শনী। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর আল হাজম গ্যালারিতে বসবে নবম জিনাতা প্রদর্শনী (Zinatha Exhibition)।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে সৌদি আরবে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ভুক্ত তিন দেশের সেনাপ্রধানেরা।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তাদের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু এ বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব সফর করছেন এবং শুক্রবার আঙ্কারা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করে।

প্রায় দেড় মাস আগে প্রতিষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র শিল্পের বিকাশ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। চুক্তির অন্যতম প্রধান কৌশলগত শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত তিনটি দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে। জোটটিকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টের শেষভাগে ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এবার শীর্ষ সামরিক পর্যায়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে বসেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জোটের সচিবালয় ও বিভিন্ন ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা পবিত্র মক্কা নগরী ও সৌদি আরবের বেসামরিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিশানা করে চালানো হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিটিকে ‘সঠিক পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন কোনো ধারণা সামনে আনা হলে কিংবা নতুন কোনো সদিচ্ছা প্রকাশ করা হলে, এমন মানুষ থাকাটাই স্বাভাবিক, যারা তা মেনে নেবে না।’ তবে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা সম্পন্ন হলে তিন দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে—এ বিষয়ে তাঁর ‘কোনো সন্দেহ নেই’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম তিন বছর মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব রিয়াদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করলে যেকোনো মুহূর্তে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামানো হতে পারে।

লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে গোলাবর্ষণের সময় বিপজ্জনক ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-র বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাবাতিহ জেলার জওতার আল-শারকিয়াহ, মেফাদুন এবং নাবাতিহ আল-ফাওকার বহির্ভাগে এই গোলার আঘাত হানে। বিশেষ করে নাবাতিহ আল-ফাওকায় সরাসরি ফসফরাস শেল ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীতে জওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে পুনরায় আক্রমণ চালানো হয়। পাশাপাশি, টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদাসার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ভারী কামানের গোলা বর্ষণ করে ইসরায়েল।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লেবানন সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল মারজায়ুন ও বিনত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম এবং আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকা থেকে ইসরায়েলের নিক্ষেপ করা দুটি অবিস্ফোরিত বিমান বোমা নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪,৩৮৬ জন নিহত, ১২,৪০৭ জন আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত জুনে একটি সমঝোতা হয়েছিল— যার শর্ত ছিল সংঘাতপূর্ণ লেবাননি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ। তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও দেশটিতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্রে সাময়িকভাবে প্রকাশিত হয়ে গেল গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি। এতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একাধিক ঘাঁটি ও স্থাপনার অবস্থানও দেখা গেছে। যদিও পরে মানচিত্রে গাজার অংশগুলো আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের সরকারি পাবলিক মানচিত্র সেবা গভম্যাপে এই ভুলটি গত সোমবার একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে। ওই অ্যাকাউন্টটি গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করে থাকে।

গভম্যাপে সাধারণত পুরো গাজা উপত্যকার পাশাপাশি ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থান ঝাপসা রাখা হয়। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকা দেখা যায়। ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তবে এসব ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা দেখা গেছে।

আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তারা ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও ধ্বংসযজ্ঞের যে চিত্র উঠে এসেছে, এসব ছবির সঙ্গে তার মিল রয়েছে।

বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকায় পুরো ব্লক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার চিত্র দেখা যায়। একইভাবে গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও উঠে এসেছে।

ছবিতে গাজা সিটির জাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে কার্নি ক্রসিং এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিও দেখা যায়। পূর্ব জাবালিয়ায় মাটির তৈরি প্রতিবন্ধক ও সামরিক যানবাহনের উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে, আলাদা এক প্রতিবেদনে সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, গাজার কয়েকটি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির চিত্র স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের দাবি, তাদের সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ থাকার ৪৩টি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সামরিক প্রয়োজন ও সেনাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য গাজায় স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক নির্দেশনা মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজই নিরাপদে ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সংঘটিত ওই যুদ্ধ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততাকে তিনি অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তে দেশটি অসম যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করে, যেখানে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সহজ সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ভারী অস্ত্র মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আহত সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রী কেনার সক্ষমতাও ইরানের ছিল না। তবে বর্তমানে দেশটি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে অনেকাংশে স্বনির্ভর হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের যুদ্ধগুলো শুরুর সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী বলেও দাবি করেন শেকারচি। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আরো উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা মোকাবিলায় নতুন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের হাতে ‘চমক’ রয়েছে।

শেকারচি আরো দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি, বরং দেশটির পাল্টা হামলাগুলো ওই সব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। শত্রুর মুখে ইরান ‘সামান্যতমও পিছু হটবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব শক্ত হাতে দেওয়া হবে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন তিনি।

ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার আগের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না তেহরান। পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকেই তাদের জন্য নিরাপদ পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যত দ্রুত অঞ্চলটি ছাড়বে, তাদের ক্ষয়ক্ষতিও তত কম হবে।

যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে নৌঅবরোধ প্রত্যাহারসহ ইরানের অন্য প্রস্তাব মেনে নিলেও নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। শুক্রবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এর বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এসব শর্তের কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।

এর আগে মে মাসে রয়টার্স জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (এইচইইউ) বিদেশে পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন। রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।