২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা ও সামরিক খাতের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রিয়াদে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সৌদ বিন নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের সাথে বৈঠক করেছেন কাতারের স্বরাষ্ট্রপতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লেখউইয়া’-এর কমান্ডার খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি।

চতুর্থ যৌথ নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক:

কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের অধীনে গঠিত নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ সভার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচ্য সূচিতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উপায়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

সভা শেষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর:

বৈঠক শেষে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ‘লেখউইয়া’ কমান্ডারের সাথে সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের যৌথ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পরিধি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে সৌদি আরবে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ভুক্ত তিন দেশের সেনাপ্রধানেরা।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তাদের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু এ বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব সফর করছেন এবং শুক্রবার আঙ্কারা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করে।

প্রায় দেড় মাস আগে প্রতিষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র শিল্পের বিকাশ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। চুক্তির অন্যতম প্রধান কৌশলগত শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত তিনটি দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে। জোটটিকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টের শেষভাগে ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এবার শীর্ষ সামরিক পর্যায়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে বসেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জোটের সচিবালয় ও বিভিন্ন ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা পবিত্র মক্কা নগরী ও সৌদি আরবের বেসামরিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিশানা করে চালানো হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিটিকে ‘সঠিক পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন কোনো ধারণা সামনে আনা হলে কিংবা নতুন কোনো সদিচ্ছা প্রকাশ করা হলে, এমন মানুষ থাকাটাই স্বাভাবিক, যারা তা মেনে নেবে না।’ তবে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা সম্পন্ন হলে তিন দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে—এ বিষয়ে তাঁর ‘কোনো সন্দেহ নেই’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম তিন বছর মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব রিয়াদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করলে যেকোনো মুহূর্তে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামানো হতে পারে।

লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে গোলাবর্ষণের সময় বিপজ্জনক ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-র বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাবাতিহ জেলার জওতার আল-শারকিয়াহ, মেফাদুন এবং নাবাতিহ আল-ফাওকার বহির্ভাগে এই গোলার আঘাত হানে। বিশেষ করে নাবাতিহ আল-ফাওকায় সরাসরি ফসফরাস শেল ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীতে জওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে পুনরায় আক্রমণ চালানো হয়। পাশাপাশি, টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদাসার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ভারী কামানের গোলা বর্ষণ করে ইসরায়েল।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লেবানন সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল মারজায়ুন ও বিনত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম এবং আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকা থেকে ইসরায়েলের নিক্ষেপ করা দুটি অবিস্ফোরিত বিমান বোমা নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪,৩৮৬ জন নিহত, ১২,৪০৭ জন আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত জুনে একটি সমঝোতা হয়েছিল— যার শর্ত ছিল সংঘাতপূর্ণ লেবাননি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ। তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও দেশটিতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্রে সাময়িকভাবে প্রকাশিত হয়ে গেল গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি। এতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একাধিক ঘাঁটি ও স্থাপনার অবস্থানও দেখা গেছে। যদিও পরে মানচিত্রে গাজার অংশগুলো আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের সরকারি পাবলিক মানচিত্র সেবা গভম্যাপে এই ভুলটি গত সোমবার একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে। ওই অ্যাকাউন্টটি গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করে থাকে।

গভম্যাপে সাধারণত পুরো গাজা উপত্যকার পাশাপাশি ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থান ঝাপসা রাখা হয়। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকা দেখা যায়। ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তবে এসব ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা দেখা গেছে।

আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তারা ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও ধ্বংসযজ্ঞের যে চিত্র উঠে এসেছে, এসব ছবির সঙ্গে তার মিল রয়েছে।

বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকায় পুরো ব্লক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার চিত্র দেখা যায়। একইভাবে গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও উঠে এসেছে।

ছবিতে গাজা সিটির জাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে কার্নি ক্রসিং এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিও দেখা যায়। পূর্ব জাবালিয়ায় মাটির তৈরি প্রতিবন্ধক ও সামরিক যানবাহনের উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে, আলাদা এক প্রতিবেদনে সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, গাজার কয়েকটি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির চিত্র স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের দাবি, তাদের সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ থাকার ৪৩টি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সামরিক প্রয়োজন ও সেনাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য গাজায় স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক নির্দেশনা মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজই নিরাপদে ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সংঘটিত ওই যুদ্ধ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততাকে তিনি অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তে দেশটি অসম যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করে, যেখানে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সহজ সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ভারী অস্ত্র মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আহত সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রী কেনার সক্ষমতাও ইরানের ছিল না। তবে বর্তমানে দেশটি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে অনেকাংশে স্বনির্ভর হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের যুদ্ধগুলো শুরুর সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী বলেও দাবি করেন শেকারচি। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আরো উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা মোকাবিলায় নতুন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের হাতে ‘চমক’ রয়েছে।

শেকারচি আরো দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি, বরং দেশটির পাল্টা হামলাগুলো ওই সব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। শত্রুর মুখে ইরান ‘সামান্যতমও পিছু হটবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব শক্ত হাতে দেওয়া হবে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন তিনি।

ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার আগের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না তেহরান। পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকেই তাদের জন্য নিরাপদ পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যত দ্রুত অঞ্চলটি ছাড়বে, তাদের ক্ষয়ক্ষতিও তত কম হবে।

জাতিসংঘে নজিরবিহীন প্রতিবাদ:

নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর আগেই বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর আগেই বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট!

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ভাষণ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় নজিরবিহীন বর্বরতার পক্ষে সাফাই বক্তব্য শুরুর আগেই অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের প্রতিনিধি।

বক্তব্য দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নাম ঘোষণা পরপরই প্রতিবাদী ওয়াকআউটে থমকে যায় বিশাল হলরুম। বেরিয়ে যান সৌদি আরব, ইরান, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, স্পেনসহ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা আর ওশেনিয়া অঞ্চলের ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিরা।

এসময় ইসরাইলের প্রতিনিধিরা দেশাত্ববোধক শ্লোগান শুরু করলে বারবার শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। ওয়াকআউটকারীদের কাপুরুষ বলে ভাষণ শুরু করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। যেখানে তিনি গাজায় গণহত্যা আর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অবৈধ বসতি স্থাপনের অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু "বর্বরদের" বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "সাহসী নেতৃত্ব" ও অংশীদারত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "এই শতাব্দীর সেরা মিথ্যা" বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

তার মতে, 'ইসরায়েল হলো "একই ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা একটি জাতি—তা সে বামপন্থী বা ডানপন্থী, তরুণ বা প্রবীণ, ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ যে-ই হোক না কেন। সংকটময় মুহূর্তে ইতিহাসের শিক্ষা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সাহসের জোরে ইসরায়েলিরা একসূত্রে গেঁথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়।

এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধের "অষ্টম ফ্রন্ট"-এর প্রসঙ্গে আসেন। ইসরায়েলের প্রতি বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কাতার—যারা হামাস নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল অর্থায়ন করে এবং আল জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েল সম্পর্কে "মিথ্যা ছড়াতে" কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। তিনি বলেন, তারা ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে ঘৃণা করার জন্য তরুণদের মগজধোলাই করছে।'

নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার পর ইহুদি নগরবাসী নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন না। আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী উল্লেখ করে নিউইয়র্কে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি।

এদিকে, নেতানিয়াহুর উপস্থিতির প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। নিউইয়র্কে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মিডিয়া সেলিব্রেটিরাও অংশ নেন। গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজনকে। ইসরাইলি নাগরিকদের একাংশ বিক্ষোভে শামিল হয়ে গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছেন।