২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ সৌদি আরব লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে তারা।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এতে আঞ্চলিক শক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো হলো—

হুতি

ইরান-সমর্থিত হুতিরা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার মুখেও হুতিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এসব সামরিক অভিযান গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুতিদের পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশের কথা বলে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হুতিদের কার্যক্রম ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

সৌদি আরব

ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে ২০১৫ সালে। রিয়াদের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘ সামরিক অভিযান সত্ত্বেও হুতিদের ক্ষমতার ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের অবস্থানে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও কম সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইয়েমেন পরিস্থিতিতেও পড়ে এবং রিয়াদ সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)। ২০২২ সালে কাউন্সিলটি গঠন করা হয়।

দেশ পরিচালনা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া—পিএলসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কাউন্সিলটিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক পটভূমির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং সরকারের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা।

তবে পিএলসির ভেতরেও বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে হুতিদের মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ঐক্য ধরে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসলাহ পার্টি

ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হলো ইয়েমেনি কংগ্রেগেশন ফর রিফর্ম, যা সাধারণভাবে ‘ইসলাহ’ নামে পরিচিত। এটি একটি সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন, যার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং পিএলসি-নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন সরকারের একটি অংশ হলেও দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে ইসলাহের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। হুতিদের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে দলটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও পিএলসির ভেতরে থাকা অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের পার্থক্য রয়েছে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হলো ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস। এটি ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা। তারেক সালেহ ও তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিএলসির বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন হুতিবিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন ইয়েমেনের যুদ্ধ এত জটিল?

ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু হুতি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে এর জটিলতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। একদিকে হুতিরা দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সমর্থন পাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।

এর পাশাপাশি পিএলসি, ইসলাহ এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক বিভাজনও সংঘাতকে আরও জটিল করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। গাজা যুদ্ধের পর হুতিদের ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা ইয়েমেনের সংঘাতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ফলে ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু হুতিদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো—সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ তাই এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

গাজায় ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি পাঠাবে কাতার, জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
গাজায় ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি পাঠাবে কাতার, জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা জোরদার করতে জাতিসংঘের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করেছে কাতার। এ চুক্তির আওতায় গাজায় ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করবে দেশটি, যা হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য জরুরি মানবিক সেবা সচল রাখতে ব্যবহার করা হবে।

কাতারের রাজধানী দোহা জানিয়েছে, জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এটি গাজায় চলমান মানবিক সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারিত উদ্যোগের অংশ।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে গাজায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হাসপাতালের জরুরি সেবা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

কাতার জানিয়েছে, সরবরাহ করা ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি কেবল মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তা বিতরণ করা হবে।

গাজায় চলমান যুদ্ধের ফলে খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও জ্বালানির সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবিক সহায়তা বাড়াতে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।

কাতার বোট শো ২০২৬-এর টিকিট বিক্রি শুরু: জেনে নিন সময়সূচি ও মূল্য

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কাতার বোট শো ২০২৬-এর টিকিট বিক্রি শুরু: জেনে নিন সময়সূচি ও মূল্য

ওল্ড দোহার পোর্টে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ‘কাতার বোট শো ২০২৬’ -এর টিকিট বিক্রি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই মেগা ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানির পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রদর্শনী পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইয়ট ও বোট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, সামুদ্রিক খাতের পেশাদার এবং জলপথপ্রেমীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী কাতারের সামুদ্রিক ঐতিহ্য ও আধুনিক উদ্ভাবনকে একসঙ্গে তুলে ধরে। গত বছর দ্বিতীয় সংস্করণে এই বোট শোতে ২৭ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এবং ৫০৫টি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছিল। এবারের আসরটি “ক্রাফটিং ওয়ান্ডারফুল” থিয়েনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

টিকিটের ক্যাটাগরি ও মূল্যতালিকা:

দর্শনার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন অপশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন:

  • সিঙ্গেল-ডে জেনারেল অ্যাডমিশন টিকিট: প্রতি ব্যক্তি প্রতি দিন ৫০ রিয়াল।

  • ৪ দিনের জেনারেল অ্যাডমিশন পাস: চার দিনের জন্য পুরো অ্যাক্সেস পেতে প্রতি ব্যক্তি ১৬০ রিয়াল।

  • হসপিটালিটি পাস: আরও উন্নত ও ভিআইপি অভিজ্ঞতার জন্য প্রতিদিনের পাস ৪৫০ রিয়াল।

হসপিটালিটি টিকিটের সুবিধাসমূহ:

  • ভিআইপি ও হসপিটালিটি লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার।

  • ভিআইপি রেজিস্ট্রেশন এরিয়া ব্যবহারের সুবিধা।

  • ফ্রি ভিআইপি পার্কিং সুবিধা।

প্রদর্শনী প্রতিদিনের সময়সূচি:

  • বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ৯:০০ টা

  • বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ১০:০০ টা

  • শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ১০:০০ টা

  • শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ৯:০০ টা

ওল্ড দোহার পোর্টের ঐতিহাসিক জলপ্রান্তে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে লেটেস্ট মেরিন ইনোভেশন, সুপারইয়ট এবং বিশ্বমানের সামুদ্রিক ব্র্যান্ডগুলোর সমাহার দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীরা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (boatshowqatar.com/tickets) থেকে টিকিট বুকিং করতে পারবেন।

২০তম এশিয়ান গেমসের মার্চপাস্টে বর্ণিল উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজে অংশ নিল টিম কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
২০তম এশিয়ান গেমসের মার্চপাস্টে বর্ণিল উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজে অংশ নিল টিম কাতার

নানা চড়াই-উতরাই ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাপানের নাগোয়া শহরের পালোমা মিজু স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানের সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই মেগা স্পোর্টিং ইভেন্ট চলবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীকে সম্মানজনক অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রির পাশের আসনে তাদের বসানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে জাপানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চপাস্ট। স্টেডিয়ামে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদল প্রবেশের সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী জাপানের সাবেক অ্যাথলেটরা এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের (ওসিএ) পতাকা বহন করেন। গেমসের মশালও বহন করেন বিভিন্ন সময়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী সাবেক অ্যাথলেটরা।

এবারের এই মহাদেশীয় বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এশিয়ার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১১,০০০ অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ অ্যাথলেটরা মোট ৪৩টি খেলা এবং ৭১টি ডিসিপ্লিনে পদকের জন্য লড়বেন। এটি এশিয়ান মহাদেশের সর্ববৃহৎ মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও কুচকাওয়াজ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইচি ও নাগোয়ার নিজস্ব ঐতিহ্য এবং জাপানি সংস্কৃতির পাশাপাশি এশিয়ান মহাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলে নানা আকর্ষণীয় শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৪৫টি ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিদলের কুচকাওয়াজ বা প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে গর্বের সাথে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে টিম কাতার, যা এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনাকে চিহ্নিত করে।

মাঠ ও ট্র্যাক ইভেন্টে লড়বেন ১৬ জন কাতারি অ্যাথলেট:

২০তম এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ফিল্ড এবং ট্র্যাক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কাতারের মোট ১৬ জন অ্যাথলেট জাপানে অবস্থান করছেন। অ্যাথলেটিক্সের এই প্রতিযোগিতারা আগামী ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগোয়ার ভেন্যুতে সকাল ও সন্ধ্যার সেশনে পদকের জন্য লড়বেন। জাতীয় দলের এই স্কোয়াডে অলিম্পিক, বিশ্ব ও মহাদেশীয় পর্যায়ে পূর্বে পদকজয়ী অভিজ্ঞ তারকারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা ও সামরিক খাতের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রিয়াদে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সৌদ বিন নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের সাথে বৈঠক করেছেন কাতারের স্বরাষ্ট্রপতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লেখউইয়া’-এর কমান্ডার খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি।

চতুর্থ যৌথ নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক:

কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের অধীনে গঠিত নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ সভার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচ্য সূচিতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উপায়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

সভা শেষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর:

বৈঠক শেষে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ‘লেখউইয়া’ কমান্ডারের সাথে সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের যৌথ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পরিধি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

আজ জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হচ্ছে ২০তম এশিয়ান গেমস। এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগে জাপানের নাগোয়ার হিসায়া-ওদোরি পার্কে আয়োজিত এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত ধাপের টর্চ রিলেতে অংশ নিয়েছেন এশিয়া অলিম্পিক কাউন্সিল (OCA) ও কাতার অলিম্পিক কমিটির (QOC) সভাপতি মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি। টর্চ রিলে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধি এবং ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

গত ১৮ আগস্ট টোকিওতে একটি শিখা প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই টর্চ রিলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হিরোশিমা হয়ে নাগোয়ায় পৌঁছানোর আগে এটি বিভিন্ন পৌরসভা ও স্কুল প্রাঙ্গণে ভ্রমণ করে এবং ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর এর সমাপনী ধাপ সম্পন্ন হয়। আজ থেকে শুরু হওয়া এই গেমস আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবং এতে ৪৫টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটির অ্যাথলেটরা অংশ নিচ্ছেন

মাঠ ও ট্র্যাক ইভেন্টে লড়বেন ১৬ জন কাতারি অ্যাথলেট:

২০তম এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ফিল্ড এবং ট্র্যাক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কাতারের মোট ১৬ জন অ্যাথলেট জাপানে অবস্থান করছেন। অ্যাথলেটিক্সের এই প্রতিযোগিতারা আগামী ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগোয়ার ভেন্যুতে সকাল ও সন্ধ্যার সেশনে পদকের জন্য লড়বেন। জাতীয় দলের এই স্কোয়াডে অলিম্পিক, বিশ্ব ও মহাদেশীয় পর্যায়ে পূর্বে পদকজয়ী অভিজ্ঞ তারকারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

ক্ষেত্র বা ফিল্ড ইভেন্টস: ডিসকাস থ্রো, হ্যামার থ্রো, হাই জাম্প, শট পুট এবং পোল ভল্ট। এই ইভেন্টগুলোতে কাতারি অ্যাথলেটদের পূর্বের রেকর্ড ও শক্তিশালী সক্ষমতার কারণে বিশেষ পদকের প্রত্যাশা রয়েছে

ট্র্যাক ইভেন্টস: ৪০০ মিটার হার্ডলস, ৪০০ মিটার, ৮০০ মিটার, ১,৫০০ মিটার এবং ৩,০০০ মিটার স্টিপলচেজ ছাড়াও মিশ্র রিলে ও ৪×৪০০ মিটার রিলে প্রতিযোগিতা

নজর কাড়বেন যারা:

এবারের আসরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মুতাজ বারশিম। গুয়াংজু ২০১০, ইনচিয়ন ২০১৪ এবং হাংজু ২০২২—এর পর তিনি তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ এশিয়ান গেমস পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে হাই জাম্প ইভেন্টে মাঠে নামবেন। এছাড়া আবদুর রহমান সাম্বা, আশরাফ এলসাইফি, জাকারিয়া ইব্রাহিম, আবদুর রহমান ইব্রাহিম এবং মোয়াজ ইব্রাহিমের মতো প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা জাপানের মাটিতে কাতারের পূর্বের মহাদেশীয় সাফল্য অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ