২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কায়রো বিমানবন্দরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ছবি: আল-জাজিরা থেকে সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব ও মিসরের ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাম্প্রতিক বৈঠক এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন লোহিত সাগরের নৌপথ, সৌদি তেল অবকাঠামো এবং সুয়েজ খাল—তিনটিই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে ঝুঁকির মুখে।

১৫ সেপ্টেম্বর কায়রোতে সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠকে দুই নেতা বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সিসি একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান এবং ইয়েমেন সংকটের একটি ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ পক্ষে অবস্থান নেন।

বৈঠকের কয়েক দিন আগেই ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেবের আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। একই সময়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির তেল অবকাঠামোও হুতিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ফলে রিয়াদ এখন নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সৌদির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ মিসর?

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরব ও মিসরের স্বার্থ অনেকটাই অভিন্ন। কারণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশ করে। ফলে এই নৌপথে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রফতানি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তেমনি সুয়েজ খালের আয়ও কমে যেতে পারে।

মিসরের সিনেট সদস্য ও কায়রোর নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ আবদেল মোনেম সাঈদ মনে করেন, হুতিদের অগ্রযাত্রা সরাসরি মিসরের অর্থনীতি ও সুয়েজ খালের ওপর চাপ তৈরি করছে। তার মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত ও সামরিক সমন্বয় প্রয়োজন।

কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, কায়রো এখন সুয়েজ খাল থেকে বাব আল-মানদেব পর্যন্ত এলাকাকে একটি ধারাবাহিক নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে দেখছে। বাব আল-মানদেব অনিরাপদ হয়ে পড়লে মিসর জাহাজ চলাচল, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কৌশলগত প্রভাব—তিন ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

‘নতুন আরব ব্যবস্থা’র ইঙ্গিত

সিসি ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের আগে মিসরের পার্লামেন্টের আরববিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাহ আবু হেমিলা বলেছিলেন, এই সফর আরব ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি নতুন রূপরেখার সূচনা করতে পারে।

তার মতে, মিসর-সৌদি সম্পর্ক একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত নতুন আরব আঞ্চলিক কাঠামোর ভিত্তি হতে পারে। এর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা। পাশাপাশি ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সুদানের পরিস্থিতিও আলোচনায় থাকবে।

সিসির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতেও মিসর ও সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে বৃহত্তর আরব নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কতটা সামরিক সহায়তা দেবে মিসর?

এখন পর্যন্ত সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনও নতুন সামরিক চুক্তি বা ইয়েমেনে যৌথ সামরিক অভিযান নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তবে মিসর ইতোমধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন লোহিত সাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের অংশ। আগস্টে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সময়ে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়েই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর-সৌদি সামরিক সহযোগিতা বাড়লে তার আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামুদ্রিক নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং লোহিত সাগরে সামরিক সমন্বয় বাড়তে পারে।

তবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে মিসরের সীমা থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি। অর্থাৎ, কায়রো লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চাইবে না।

এর পেছনে মিসরের অতীত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন মিসরীয় নেতা গামাল আবদেল নাসের উত্তর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সেই সামরিক অভিযানে মিসরের উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটে এবং প্রত্যাশিত ফলও আসেনি।

ফলে ইয়েমেন নিয়ে কায়রোর নীতিতে সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রা

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। তারা বাব আল-মানদেবের কাছের মায়ুন দ্বীপ ও ধুবাব এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, হুতিরা গত কয়েক দশকে একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যারা নৌপথ ও তেল অবকাঠামোয় হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের নিরাপত্তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিসর-সৌদি সমঝোতার সঙ্গে সুদানের যোগসূত্র

ইয়েমেন ছাড়াও মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে সুদানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে।

মিসরের সরকারি তথ্যসেবা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ সুদানের ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার যেকোনও হুমকিকে মিসর, সৌদি আরব ও পুরো অঞ্চলের সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, দুই দেশই রাষ্ট্রের বিভক্তি, সশস্ত্র মিলিশিয়া, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং বাইরের শক্তির সমর্থন পাওয়া অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া ও এখন ইয়েমেনেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্বে কঠিন ভারসাম্য

তবে মিসরের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো পুরোপুরি সহজ নয়। কারণ মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

সুদানের যুদ্ধে আমিরাতের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে মিসর সুদানের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইয়েমেনেও সৌদি আরব ও আমিরাতের নীতিতে পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে কায়রোকে রিয়াদ ও আবুধাবির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর সম্ভবত নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, কিন্তু একই সঙ্গে আমিরাতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ধরে রাখবে।

এখানে অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে মিসরে আমিরাতের নিট বিনিয়োগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দ্বিগুণেরও বেশি—যা কায়রোর জন্য আবুধাবির অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো?

সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। পাকিস্তান ও তুরস্ককে যুক্ত করে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, লোহিত সাগরে বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়ার মতো পদক্ষেপ তারই অংশ।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা দেখিয়েছে, বিভিন্ন নিরাপত্তা অংশীদার থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবকে এখনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
মিসরের সঙ্গে নতুন করে নিরাপত্তা সমন্বয় সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হতে পারে—যেখানে সৌদি আরব একক কোনও পরাশক্তির ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক একাধিক অংশীদারকে নিয়ে নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।

ইয়েমেনে সামরিক সমাধানের বদলে রাজনৈতিক পথ

সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মিসর ইয়েমেন সংকটের ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে, লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় সামরিক সহযোগিতা বাড়লেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে কায়রো সতর্ক থাকবে।

অর্থাৎ, সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের নিরাপত্তায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে মিসরের ভূমিকা সম্ভবত গোয়েন্দা তথ্য, নৌ নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা থাকবে। ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোই কায়রোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাম্প্রতিক বৈঠক তাই শুধু মিসর-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং বাব আল-মানদেব, সুয়েজ খাল, সৌদি তেল রফতানি এবং বৃহত্তর আরব নিরাপত্তাকে ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মিসর শেষ পর্যন্ত কতটা সামরিকভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে হুতিদের অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগরের নৌপথের পরিস্থিতি এবং ইয়েমেন সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সম্ভাবনার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

কাতার বোট শো ২০২৬-এর টিকিট বিক্রি শুরু: জেনে নিন সময়সূচি ও মূল্য

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কাতার বোট শো ২০২৬-এর টিকিট বিক্রি শুরু: জেনে নিন সময়সূচি ও মূল্য

ওল্ড দোহার পোর্টে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ‘কাতার বোট শো ২০২৬’ -এর টিকিট বিক্রি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই মেগা ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানির পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রদর্শনী পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইয়ট ও বোট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, সামুদ্রিক খাতের পেশাদার এবং জলপথপ্রেমীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী কাতারের সামুদ্রিক ঐতিহ্য ও আধুনিক উদ্ভাবনকে একসঙ্গে তুলে ধরে। গত বছর দ্বিতীয় সংস্করণে এই বোট শোতে ২৭ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এবং ৫০৫টি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছিল। এবারের আসরটি “ক্রাফটিং ওয়ান্ডারফুল” থিয়েনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

টিকিটের ক্যাটাগরি ও মূল্যতালিকা:

দর্শনার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন অপশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন:

  • সিঙ্গেল-ডে জেনারেল অ্যাডমিশন টিকিট: প্রতি ব্যক্তি প্রতি দিন ৫০ রিয়াল।

  • ৪ দিনের জেনারেল অ্যাডমিশন পাস: চার দিনের জন্য পুরো অ্যাক্সেস পেতে প্রতি ব্যক্তি ১৬০ রিয়াল।

  • হসপিটালিটি পাস: আরও উন্নত ও ভিআইপি অভিজ্ঞতার জন্য প্রতিদিনের পাস ৪৫০ রিয়াল।

হসপিটালিটি টিকিটের সুবিধাসমূহ:

  • ভিআইপি ও হসপিটালিটি লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার।

  • ভিআইপি রেজিস্ট্রেশন এরিয়া ব্যবহারের সুবিধা।

  • ফ্রি ভিআইপি পার্কিং সুবিধা।

প্রদর্শনী প্রতিদিনের সময়সূচি:

  • বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ৯:০০ টা

  • বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ১০:০০ টা

  • শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ১০:০০ টা

  • শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ৯:০০ টা

ওল্ড দোহার পোর্টের ঐতিহাসিক জলপ্রান্তে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে লেটেস্ট মেরিন ইনোভেশন, সুপারইয়ট এবং বিশ্বমানের সামুদ্রিক ব্র্যান্ডগুলোর সমাহার দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীরা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (boatshowqatar.com/tickets) থেকে টিকিট বুকিং করতে পারবেন।

২০তম এশিয়ান গেমসের মার্চপাস্টে বর্ণিল উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজে অংশ নিল টিম কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
২০তম এশিয়ান গেমসের মার্চপাস্টে বর্ণিল উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজে অংশ নিল টিম কাতার

নানা চড়াই-উতরাই ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাপানের নাগোয়া শহরের পালোমা মিজু স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানের সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই মেগা স্পোর্টিং ইভেন্ট চলবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীকে সম্মানজনক অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রির পাশের আসনে তাদের বসানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে জাপানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চপাস্ট। স্টেডিয়ামে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদল প্রবেশের সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী জাপানের সাবেক অ্যাথলেটরা এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের (ওসিএ) পতাকা বহন করেন। গেমসের মশালও বহন করেন বিভিন্ন সময়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী সাবেক অ্যাথলেটরা।

এবারের এই মহাদেশীয় বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এশিয়ার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১১,০০০ অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ অ্যাথলেটরা মোট ৪৩টি খেলা এবং ৭১টি ডিসিপ্লিনে পদকের জন্য লড়বেন। এটি এশিয়ান মহাদেশের সর্ববৃহৎ মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও কুচকাওয়াজ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইচি ও নাগোয়ার নিজস্ব ঐতিহ্য এবং জাপানি সংস্কৃতির পাশাপাশি এশিয়ান মহাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলে নানা আকর্ষণীয় শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৪৫টি ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিদলের কুচকাওয়াজ বা প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে গর্বের সাথে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে টিম কাতার, যা এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনাকে চিহ্নিত করে।

মাঠ ও ট্র্যাক ইভেন্টে লড়বেন ১৬ জন কাতারি অ্যাথলেট:

২০তম এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ফিল্ড এবং ট্র্যাক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কাতারের মোট ১৬ জন অ্যাথলেট জাপানে অবস্থান করছেন। অ্যাথলেটিক্সের এই প্রতিযোগিতারা আগামী ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগোয়ার ভেন্যুতে সকাল ও সন্ধ্যার সেশনে পদকের জন্য লড়বেন। জাতীয় দলের এই স্কোয়াডে অলিম্পিক, বিশ্ব ও মহাদেশীয় পর্যায়ে পূর্বে পদকজয়ী অভিজ্ঞ তারকারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

কাতারকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস!

২০২৬ সালের সেরা এয়ারলাইনের মুকুট আবারও উঠল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের মাথায়।
প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কাতারকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস!

বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনের মুকুট আবারও উঠল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের মাথায়। ২০২৬ সালের স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডসে বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন নির্বাচিত হয়েছে সিঙ্গাপুরের এই উড়োজাহাজ সংস্থা। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন কাতার এয়ারওয়েজ এবার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় হয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ।

লন্ডনে ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত স্কাইট্র্যাক্সের ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিমান চলাচল খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারকে প্রায়ই ‘এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির অস্কার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এ নিয়ে স্কাইট্র্যাক্সের ইতিহাসে **ষষ্ঠবারের মতো** বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনের স্বীকৃতি পেল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। এর আগে ২০০৪, ২০০৭, ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি এই পুরস্কার জিতেছিল। সর্বশেষ ২০২৩ সালের পর এবার আবারও শীর্ষস্থান দখল করল তারা।

২০২৬ সালের র‌্যাঙ্কিংয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। তৃতীয় ক্যাথে প্যাসিফিক, চতুর্থ জাপানের অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে তার্কিশ এয়ারলাইনস। ষষ্ঠ হয়েছে এমিরেটস, সপ্তম এয়ার ফ্রান্স এবং অষ্টম হাইনান এয়ারলাইনস। নবম জাপান এয়ারলাইনস এবং দশম কোরিয়ান এয়ার।

সেরা এয়ারলাইনের স্বীকৃতির পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারও পেয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা ইকোনমি ক্লাস, সেরা ইকোনমি ক্লাস অনবোর্ড ক্যাটারিং এবং এশিয়ার সেরা এয়ারলাইনের পুরস্কার জিতেছে। বিশ্বের সেরা কেবিন ক্রু বিভাগেও দ্বিতীয় হয়েছে তারা।

অন্যদিকে কাতার এয়ারওয়েজ এবার দ্বিতীয় হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে সাফল্য পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা বিজনেস ক্লাস, সেরা বিজনেস ক্লাস সিট এবং সেরা অনবোর্ড ওয়াই-ফাইয়ের পুরস্কার জিতেছে। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট অনবোর্ড ওয়াই-ফাই’ বিভাগ চালু করে স্কাইট্র্যাক্স, যেখানে শীর্ষে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ।

তৃতীয় স্থানে থাকা ক্যাথে প্যাসিফিক পেয়েছে বিশ্বের সেরা কেবিন ক্রুর পুরস্কার। এএনএ জিতেছে বিশ্বের সেরা এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের স্বীকৃতি।

এমিরেটস পেয়েছে বিশ্বের সেরা ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টের পুরস্কার। এদিকে STARLUX Airlines নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন এয়ারলাইন হিসেবে।

স্কাইট্র্যাক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য গ্রাহক জরিপ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের মতামতের ভিত্তিতে এই র‌্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে এবং এতে ৩০০-এর বেশি এয়ারলাইন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২০ এয়ারলাইন

১. সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস

২. কাতার এয়ারওয়েজ

৩. ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ

৪. অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ)

৫. তার্কিশ এয়ারলাইনস

৬. এমিরেটস

৭. এয়ার ফ্রান্স

৮. হাইনান এয়ারলাইনস

৯. জাপান এয়ারলাইনস

১০. কোরিয়ান এয়ার

১১. ইভিএ এয়ার

১২. কান্টাস এয়ারওয়েজ

১৩. স্টারলাক্স এয়ারলাইনস

১৪. লুফথানসা

১৫. সৌদিয়া

১৬. আইবেরিয়া

১৭. এয়ার কানাডা

১৮. ভার্জিন আটলান্টিক

১৯. সুইস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস

২০. থাই এয়ারওয়েজ।

অঞ্চলভিত্তিক তালিকাতেও এশিয়ায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ইউরোপে তার্কিশ এয়ারলাইনস, মধ্যপ্রাচ্যে কাতার এয়ারওয়েজ এবং আফ্রিকায় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস শীর্ষে রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় LATAM এবং অস্ট্রেলিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে কান্টাস সেরা হয়েছে।

স্কাইট্র্যাক্সের প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড প্লেইস্টেড সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির এই অর্জন তাদের পণ্য ও সেবার মানের প্রতিফলন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী গোহ চুন ফংও কর্মীদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বকে এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা ও সামরিক খাতের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রিয়াদে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সৌদ বিন নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের সাথে বৈঠক করেছেন কাতারের স্বরাষ্ট্রপতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লেখউইয়া’-এর কমান্ডার খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি।

চতুর্থ যৌথ নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক:

কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের অধীনে গঠিত নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ সভার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচ্য সূচিতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উপায়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

সভা শেষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর:

বৈঠক শেষে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ‘লেখউইয়া’ কমান্ডারের সাথে সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের যৌথ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পরিধি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

আজ জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হচ্ছে ২০তম এশিয়ান গেমস। এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগে জাপানের নাগোয়ার হিসায়া-ওদোরি পার্কে আয়োজিত এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত ধাপের টর্চ রিলেতে অংশ নিয়েছেন এশিয়া অলিম্পিক কাউন্সিল (OCA) ও কাতার অলিম্পিক কমিটির (QOC) সভাপতি মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি। টর্চ রিলে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধি এবং ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

গত ১৮ আগস্ট টোকিওতে একটি শিখা প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই টর্চ রিলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হিরোশিমা হয়ে নাগোয়ায় পৌঁছানোর আগে এটি বিভিন্ন পৌরসভা ও স্কুল প্রাঙ্গণে ভ্রমণ করে এবং ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর এর সমাপনী ধাপ সম্পন্ন হয়। আজ থেকে শুরু হওয়া এই গেমস আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবং এতে ৪৫টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটির অ্যাথলেটরা অংশ নিচ্ছেন

মাঠ ও ট্র্যাক ইভেন্টে লড়বেন ১৬ জন কাতারি অ্যাথলেট:

২০তম এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ফিল্ড এবং ট্র্যাক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কাতারের মোট ১৬ জন অ্যাথলেট জাপানে অবস্থান করছেন। অ্যাথলেটিক্সের এই প্রতিযোগিতারা আগামী ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগোয়ার ভেন্যুতে সকাল ও সন্ধ্যার সেশনে পদকের জন্য লড়বেন। জাতীয় দলের এই স্কোয়াডে অলিম্পিক, বিশ্ব ও মহাদেশীয় পর্যায়ে পূর্বে পদকজয়ী অভিজ্ঞ তারকারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

ক্ষেত্র বা ফিল্ড ইভেন্টস: ডিসকাস থ্রো, হ্যামার থ্রো, হাই জাম্প, শট পুট এবং পোল ভল্ট। এই ইভেন্টগুলোতে কাতারি অ্যাথলেটদের পূর্বের রেকর্ড ও শক্তিশালী সক্ষমতার কারণে বিশেষ পদকের প্রত্যাশা রয়েছে

ট্র্যাক ইভেন্টস: ৪০০ মিটার হার্ডলস, ৪০০ মিটার, ৮০০ মিটার, ১,৫০০ মিটার এবং ৩,০০০ মিটার স্টিপলচেজ ছাড়াও মিশ্র রিলে ও ৪×৪০০ মিটার রিলে প্রতিযোগিতা

নজর কাড়বেন যারা:

এবারের আসরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মুতাজ বারশিম। গুয়াংজু ২০১০, ইনচিয়ন ২০১৪ এবং হাংজু ২০২২—এর পর তিনি তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ এশিয়ান গেমস পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে হাই জাম্প ইভেন্টে মাঠে নামবেন। এছাড়া আবদুর রহমান সাম্বা, আশরাফ এলসাইফি, জাকারিয়া ইব্রাহিম, আবদুর রহমান ইব্রাহিম এবং মোয়াজ ইব্রাহিমের মতো প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা জাপানের মাটিতে কাতারের পূর্বের মহাদেশীয় সাফল্য অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ