২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি এবং ম্যানপাওয়ার ব্যবসার তীব্র সমালোচনা হাসনাত আবদুল্লাহর

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি এবং ম্যানপাওয়ার ব্যবসার তীব্র সমালোচনা হাসনাত আবদুল্লাহর

বিএমইটি কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি, হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রবাসী বা পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে একটি কাজ অপরিহার্য তা হচ্ছে, শ্রমিকদের নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেস তৈরি। আপনার দরকার ডেটাবেইজ, প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবসা জরুরি নয়। ডেটাবেজ হবে এনআইডি ও পাসপোর্ট উভয়ের ডেটার সমন্বয়ে। কোন নাগরিক কোন দেশে, কোন নিয়োগকর্তার অধীনে আছেন, এই তথ্য থাকলে প্রবাসী শ্রমিকের অসুস্থতা, কর্মহীনতা, সিরিয়াস দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুতে তাকে বা তার পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়া যায়।

পাশাপাশি লাশ ফেরানো, যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতে সরিয়ে আনা, মজুরি না পেলে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ইত্যাদির জন্য নিখুঁত রেজিস্ট্রেশন দরকার। কিন্তু প্রবাসী কল্যাণ ও বিএমইটি কি সব কাজ ঠিকঠাক করছে? যদি না করে, তাহলে রেজিস্ট্রেশনের নামে তাদের হয়রানির অধিকার কে দিয়েছে?

তাই আমাদের দাবি হচ্ছে, প্রবাসীদের ক্রমাগত হয়রানি থামাতে, BMET-কে গেটকিপার থেকে রেজিস্ট্রারে রূপান্তর করতে হবে। অর্থাৎ শ্রমিকদের নিবন্ধন প্লাস্টিক কার্ড থেকে সরিয়ে ডেটাবেসভিত্তিক করতে হবে। সঠিক ডেটাবেজের জন্য দরকার-

১। পাসপোর্ট, এনআইডি তথ্য সঠিকতা। এসব তথ্য ম্যানুয়াল ফিল হবে না, সার্ভার থেকে অটোমেটিক আসবে সিকিউর এপিআই করে।
২। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা (শিক্ষা বোর্ডের ও TTC-র সাথে সরাসরি এপিআই করা ভেরিফিকেশন)। এখানে হার্ড কপি সার্টিফিকেট যাচাই পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
৩। ভিসা যাচাই এবং প্রবাসী এমব্যাসির এন্ডোর্সমেন্ট। এটা শতভাগ অনলাইন ও এপিআইভিত্তিক হতে হবে।
৪। হেলথ চেক। এখানেও ভিন্ন ভিন্ন দেশের অ্যাপ্রুভড ক্লিনিকের সাথে রিয়েল-টাইম ডেটা ভেরিফিকেশন রাখতে হবে।
এর পরে আসবে- দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও লাশ ফেরানোর মত বীমার তথ্য, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স সুবিধাদির তথ্য। বিদেশে কর্মহীন থাকার তথ্য এবং নেসেসারি সাপোর্ট।

সাবেক ও বর্তমান সরকার এপিআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম সনদ যাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে হয় জ্ঞান রাখে না, নচেৎ দুর্নীতি ও ঘুষচক্র জারি রেখে দালালচক্র পালাই তাদের উদ্দেশ্য। ফলে তারা এখনও হার্ডকপি পেপার ভেরিফিকেশনের একটা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে। একের পর এক নিম্নমান সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেবার নামে হয়রানি চলছে।

বিএমইটির কার্ডের পুরো জাস্টিফিকেশনটাই করা হয়েছিল প্রি-ডিপার্চার ট্রেইনিংকে, আর অথেন্টিক ডকুমেন্টস (জব, ভিসা) বাধ্যতামূলক করতে। অথচ বিএমইটি কার্ড দিয়ে ঘুষ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। শুধুমাত্র বৈধ ভিসা যাচাই এবং মেডিক্যাল, কিংবা লাশ ফেরানো ও বীমা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিএমইটির জাস্টিফিকেশন থাকে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টিটিসি (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার)গুলার সার্টিফিকেশন রিয়েল-টাইম এপিআই ভেরিফিকেশনও করা যায়। যেহেতু হেলথ করানো হয় বিদেশি এমব্যাসিগুলোর ট্রাস্টেড পার্টনার থেকে, তাই এসব ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট অনলাইন এপিআই দিয়ে যাচাই করা সহজ হবার কথা।

কিন্তু বাংলাদেশে বিএমইটি ভিসার বৈধতা, দক্ষতার সনদ, পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট কিংবা মেডিক্যাল সনদ ইত্যাদির রিয়েল-টাইম ডেটাবেজ সাপেক্ষে যাচাই করতে পারে না। ফলে এখানে জাল ডকুমেন্টের ছড়াছড়ি। এমতাবস্থায় বিএমইটি থাকার যৌক্তিকতা কোথায়? বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি করা আর ম্যানপাওয়ার ব্যবসার নামে দালাল পোষার জন্য?

বাংলাদেশ ভারত-নেপালের প্রবাসী শ্রমিক ম্যানেজমেন্ট থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ভারতের মডেলটিই সবচেয়ে শিক্ষণীয়, এবং কারণটি ফি নয় বরং সেবার পরিধি। ভারতে ছাড়পত্র লাগে কেবল তাঁদের, যাঁদের পাসপোর্টে ECR সিল আছে, অর্থাৎ যাঁরা দশম শ্রেণি পাস করেননি।

মাধ্যমিক পাস করলেই ECNR ক্যাটাগরি, কোনো ছাড়পত্র লাগে না। এবং ছাড়পত্র লাগলেও তা কেবল নির্দিষ্ট ১৮টি দেশের জন্য। পুরো প্রক্রিয়া( emigrate ডট gove ডট in) এ অনলাইন, ফি ₹২০০, আবেদনের দিনই POE ছাড়পত্র দেন। অনলাইনে এবং হয়রানি ছাড়া।

অর্থাৎ ভারত প্রবাসী সেবা অনলাইন ও পলিসিভিত্তিক সহজ ও উন্মুক্ত করে সংস্থার আওতা সংকুচিত করেছে। শিক্ষার একটি ন্যূনতম মান পার হলেই রাষ্ট্র ধরে নিচ্ছে, নাগরিক নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। বাস্তবে এটা কাজ করছে।

২০১৫ সাল থেকে নেপাল তাদের ‘ফ্রি ভিসা, ফ্রি টিকিট’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে, যেখানে সাতটি প্রধান গন্তব্যে ভিসা ও বিমানভাড়া নিয়োগকর্তার দায়। এর ফলে নেপালের প্রবাসী শ্রমিকও বেড়েছে, দালালের দৌরাত্ম্য ও খরচ দুটোই কমেছে।

ভারতে POE / eMigrate (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এর মাধ্যমে দূতাবাস-সত্যায়িত চুক্তিপত্র এবং নিয়োগকর্তার নিবন্ধন করে থাকে। কেবল ECR পাসপোর্টধারী, কেবল ১৮টি দেশের জন্য ছাড়পত্র লাগে। অদক্ষ শ্রমিক ও নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক।

ফলে যাচাইয়ের একটি প্রকৃত ভিত্তি থাকে। বাংলাদেশে সেই ভিত্তিটিই দুর্বল, ফলে ছাড়পত্র হয়ে দাঁড়ায় একটি সিল, যাচাই নয়। চাইলে ইমিগ্রেশনের ফোর-ট্র্যাক সফটওয়্যারেও একটি প্রবাসী সাপোর্ট ডেটা ফিল্ড খোলা যায়। এখানে ভিসা-পাসপোর্ট ম্যাপিং ডেটাবেজ, মেডিক্যাল রেকর্ড এবং TTC-র সনদের রিয়েল-টাইম API যাচাই সম্ভব। কোনো নতুন প্রকল্প লাগে না, বিদ্যমান সিস্টেমের ইন্টারঅপারেবিলিটি করলেই হয়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় প্রায় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ-সৌদি আরব, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ-কাতার, বাংলাদেশ-আরব আমিরাত, বাংলাদেশ-কুয়েত করিডোরে BBS-এর হিসাবে গড় খরচ ৪.১৭ লাখ টাকা, যা তুলতে লাগে ১৭.৬ মাস।

বাস্তবে ঘুষ দালালচক্র এবং এয়ারপোর্ট কমিশনের পরে লাগে ৫ লাখের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের অবস্থা ভয়াবহ।
প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে, ফালতু সফটওয়্যারের হয়রানিমূলক নিবন্ধন সিস্টেম আমূল সংস্কার করুন। বিএমইটি কার্ডের হয়রানি থেকে প্রবাসীদের মুক্ত করুন।

জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম ট্রাস্ট ফান্ডে কাতারের অনুদান ১৪১ মিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম ট্রাস্ট ফান্ডে কাতারের অনুদান ১৪১ মিলিয়ন ডলার

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও প্রতিরোধকে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমনে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি এবং জাতিসংঘের সাথে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিস বা ইউএনওসিটি (UNOCT)-এর ট্রাস্ট ফান্ডের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হলো কাতার। এ পর্যন্ত দেশটির মোট আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ১৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এই তহবিলে আসা মোট অনুদানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

কাতারের বিশেষ ভূমিকা ও অবদানসমূহ:

  • সবচেয়ে বড় দাতা: ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিসে এককভাবে সর্বোচ্চ আর্থিক অবদান রেখে চলেছে কাতার।

  • দোহায় আন্তর্জাতিক কেন্দ্র: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আচরণগত অন্তর্দৃষ্টি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেন্দ্র এবং সংসদীয় সম্পৃক্ততা বিষয়ক ইউএনওসিটি প্রোগ্রাম অফিস দোহার মাটিতে hosted বা পরিচালিত হচ্ছে।

  • সক্ষমতা বৃদ্ধি: দোহায় অবস্থিত ইউএনওসিটি প্রোগ্রাম অফিসের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য কাতার নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

  • বৈশ্বিক কৌশলগত আলোচনা: জাতিসংঘের বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমন কৌশল পর্যালোচনা সংক্রান্ত রেজুলেশনের যৌথ আলোচনায় ইসলামিক গ্রুপের অংশ হিসেবে কাতার সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একযোগে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে কাতার সবসময় তার কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিহীন অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিহীন অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করল কাতার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্য তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাজেদ আল আনসারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বমতের নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে এবং জনমত প্রভাবিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার।

ড. মাজেদ আল আনসারি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কাতার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ সম্পূর্ণ এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সরকার যে নৃশংসতা ও ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে, মূলত বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সেই দিক থেকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই ধরনের কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

বৈশ্বিক জনমত, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবের যে নজিরবিহীন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাকে কোনো ‘প্রভাব বিস্তারের প্রচারণা’ বলে ছোট করাকে একটি প্রজন্ম ও তাদের ন্যায়বোধের প্রতি চরম অবমাননা বলে উল্লেখ করেছে কাতার। বিশ্ববাসী সরাসরি চোখের সামনে যা দেখছে, তার ওপর ভিত্তি করেই নিজেদের মতামত তৈরি করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ড. মাজেদ আল আনসারি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বমতের এই পতনের জন্য কাতার বা অন্য কাউকে বলির পাঁঠা খোঁজার চেষ্টা না করে ইসরায়েলি নেতৃত্বকে নিজেদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং নিজেদের কাজের দায়ভার নিজ দেশের জনগণের কাছে স্বীকার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বারবার কাতারকে নিশানা করার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও মাঠপর্যায়ের অপরাধ ঢাকাকে আড়াল করা।

গ্রীষ্মকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় কাতারে ৩৮৮টি কর্মক্ষেত্র বন্ধ!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
গ্রীষ্মকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় কাতারে ৩৮৮টি কর্মক্ষেত্র বন্ধ!

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গ্রীষ্মকালীন কাজের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় মোট ৩৮৮টি কর্মক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কাতার শ্রম মন্ত্রণালয়। গত ১ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত তীব্র পরিবীক্ষণ ও পরিদর্শন অভিযানের পর মন্ত্রণালয় এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে দুপুরের পিক আওয়ারে শ্রমিকদের হিট স্ট্রোক বা তাপজনিত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে প্রণীত ২০২১ সালের ১৭ নম্বর মন্ত্রী পর্যায়ের ডিক্রি বাস্তবায়নে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি violating work site বা কর্মক্ষেত্র তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মূল বিষয়সমূহ:

  • নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ: ১ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত টানা আড়াই মাস এই গ্রীষ্মকালীন কাজের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

  • পরিদর্শন ও বন্ধ ঘোষণা: এই সময়ে পরিচালিত নিবিড় অভিযানে আইন অমান্য করায় মোট ৩৮৮টি কর্মক্ষেত্র চিহ্নিত ও বন্ধ করা হয়।

  • কঠোর বার্তা: মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শ্রমিকের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।

  • সচেতনতা বৃদ্ধি: এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য কেবল শাস্তি প্রদান নয়, বরং কর্মপরিবেশে পেশাগত নিরাপত্তা এবং যৌথ দায়িত্ববোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে চলতি বছরের ‘হিট স্ট্রোক প্রিভেনশন ক্যাম্পেইন’। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই সচেতনতামূলক ও মনিটরিং কর্মসূচি শ্রমবাজারে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে শ্রম মন্ত্রণালয় সারা বছরজুড়েই তাদের তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।

জেট ফুয়েলের দাম ৯০% বাড়লেও টিকিটের দাম বাড়াবে না কাতার এয়ারওয়েজ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জেট ফুয়েলের দাম ৯০% বাড়লেও টিকিটের দাম বাড়াবে না কাতার এয়ারওয়েজ

জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পরও যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়া চাপাবে না কাতার এয়ারওয়েজ। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ খরচ কমানো, লাভজনক রুটে ফ্লাইট বাড়ানো এবং কম লাভজনক রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ রাখার কৌশল নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এয়ারলাইনসটি।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান কাতার এয়ারওয়েজের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী হামাদ আলী আল খাতের।

তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরে প্রিমিয়াম জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১৮২ ডলারে পৌঁছেছে। তবে জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের চাপ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে কাতার এয়ারওয়েজ লাভজনক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে কম লাভজনক কয়েকটি রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর ফলে বিমানবন্দরের স্লট ও নিয়মিত যাত্রী ধরে রাখার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে বলে জানান হামাদ আলী আল খাতের। তার ভাষ্য, ব্যয় কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীদের চাহিদা এখনো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে টিকিট কেনার সময়ের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ যাত্রী ভ্রমণের ৬০ দিনের মধ্যে টিকিট নিশ্চিত করছেন।

কাতার এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী আশা করছেন, বড় ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি না করেই পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যাত্রী চাহিদা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা রুটগুলোতে আবার পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে যোগ দিলেন কাতারের আমীর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে যোগ দিলেন কাতারের আমীর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পার্শ্ববটে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন মহামান্য আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধোত্তর স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বনেতাদের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহবানে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল-হুসেন, সিরিয়া আরব প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি, মিশরের প্রধানমন্ত্রী ড. মোস্তফা মাদবুলি এবং লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ড. নাওয়াফ সালাম।

এছাড়া সংযুক্ত আরব উপদ্বীপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে যোগ দেন আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিন রশিদ। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের শীর্ষস্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও এই সম্মেলনে অংশ নেন।

বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি ও কৌশলগত গুরুত্ব:

সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এর সুদূরপ্রসারী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপর এর সার্বিক নেতিবাচক চাপ নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা হয়।

বিশেষ করে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থায়িত্ব অর্জনের জন্য রাজনৈতিক সংলাপ এবং কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সাথে যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংকট উত্তরণে সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ নিয়ে বিশ্বনেতারা খোলামেলা মতবিনিময় করেন।

কাতারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে মহামান্য আমীরের সাথে উপস্থিত ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জসিম আল থানি এবং আমীরের সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে কাতার দীর্ঘদিন ধরে যে মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, এই বহুপাক্ষিক বৈঠকে তার জোরালো প্রতিফলন ঘটেছে।