২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
সৌদি আরবে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু বন্দরের সুরক্ষায় দেশটিতে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

গত বৃহস্পতিবার দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১ এবং ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। লোহিত সাগর তীরের এই বন্দরটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে ইয়ানবু বন্দর, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময়ে সৌদি তেলের প্রধান বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ম্যাখোঁ বলেন, 'আমরা সেখানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যাচ্ছি—অর্থাৎ এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি রক্ষার জন্য সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হবে। কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা এটি পাঠাচ্ছি।'

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ম্যাখোঁ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার যেকোনো পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও স্বয়ং মার্কিন অর্থনীতির জন্য 'বিপর্যয়কর' হবে। যদিও হোয়াইট হাউস এমন কোনো পরিকল্পনা বিবেচনার কথা অস্বীকার করেছে। দেশে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে চাপের মুখে থাকা ম্যাখোঁ ফরাসি নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ সচল রাখতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সাক্ষাৎকারে ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন ম্যাখোঁ। তিনি স্প্যানিশ সংবাদপত্র 'এল মুন্দো'র একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে ভূমধ্যসাগর থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে মার্কিন সিআইএ।

ম্যাখোঁ বলেন, 'আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থাকে এমন কোনো তথ্য দেয়নি।'

তবু ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া একের পর এক শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যর্থ লিপজিগ হামলার মতো আক্রমণের শিকার হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছে, আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এর জন্য রাশিয়াই দায়ী।

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গত সপ্তাহে ম্যাখোঁ এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপকে ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ়তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো।

তবে ইউরোপে রাশিয়ার 'হাইব্রিড হামলা' নিয়ে ম্যাখোঁর অবস্থান এ সপ্তাহে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ, ফ্রান্সের উদ্যোগে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ফ্রান্স। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা করে দেয় আজারবাইজান।

রাশিয়া অবশ্য ইউরোপের দেশগুলোর এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মস্কোর ভাষ্য, এসব অভিযোগ রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনার ফল।

সৌদি আরবে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
সৌদি আরবে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু বন্দরের সুরক্ষায় দেশটিতে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

গত বৃহস্পতিবার দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১ এবং ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। লোহিত সাগর তীরের এই বন্দরটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে ইয়ানবু বন্দর, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময়ে সৌদি তেলের প্রধান বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ম্যাখোঁ বলেন, 'আমরা সেখানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যাচ্ছি—অর্থাৎ এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি রক্ষার জন্য সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হবে। কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা এটি পাঠাচ্ছি।'

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ম্যাখোঁ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার যেকোনো পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও স্বয়ং মার্কিন অর্থনীতির জন্য 'বিপর্যয়কর' হবে। যদিও হোয়াইট হাউস এমন কোনো পরিকল্পনা বিবেচনার কথা অস্বীকার করেছে। দেশে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে চাপের মুখে থাকা ম্যাখোঁ ফরাসি নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ সচল রাখতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সাক্ষাৎকারে ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন ম্যাখোঁ। তিনি স্প্যানিশ সংবাদপত্র 'এল মুন্দো'র একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে ভূমধ্যসাগর থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে মার্কিন সিআইএ।

ম্যাখোঁ বলেন, 'আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থাকে এমন কোনো তথ্য দেয়নি।'

তবু ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া একের পর এক শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যর্থ লিপজিগ হামলার মতো আক্রমণের শিকার হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছে, আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এর জন্য রাশিয়াই দায়ী।

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গত সপ্তাহে ম্যাখোঁ এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপকে ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ়তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো।

তবে ইউরোপে রাশিয়ার 'হাইব্রিড হামলা' নিয়ে ম্যাখোঁর অবস্থান এ সপ্তাহে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ, ফ্রান্সের উদ্যোগে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ফ্রান্স। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা করে দেয় আজারবাইজান।

রাশিয়া অবশ্য ইউরোপের দেশগুলোর এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মস্কোর ভাষ্য, এসব অভিযোগ রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনার ফল।

হুথিদের ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদির

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
হুথিদের ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদির
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দৃশ্য।

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুই শহর তায়েফ ও ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে—ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

বৃহস্পতিবার জোটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে “হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের উৎক্ষেপণ করা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।”

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুই শহর তায়েফ ও ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে—ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আজ বৃহস্পতিবার জোটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে "হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের উৎক্ষেপণ করা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সময়োচিত তৎপরতার ফলে—পশ্চিম সৌদি আরবের দুই শহর তায়েফ এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবুতে হামলা চালানোর চেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।

হুথিদের হুশিয়ারি দিয়ে জোটের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, "হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এই সংঘাত উস্কে দেওয়ার চেষ্টা ও যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।"

তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই ধ্বংস করার পর—এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আল-মালিকি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে সৌদি আরবের সামরিক চাহিদা মেটাতে তুরস্ক প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। পাকিস্তানসহ ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে বরাতে এই খবর জানিয়েছে ডন।

হাকান ফিদান জানান, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আক্রমণ ঘটছে এবং ত্রিপক্ষীয় জোট চুক্তির কারণে আঙ্কারা রিয়াদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। বিশেষ করে কিছু কারিগরি বিষয়ে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন থাকতে পারে এবং তুরস্কের তা পূরণে কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত মাসে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইয়েমেনের জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালির স্থবিরতার মুখে বিকল্প লোহিত সাগরীয় রুট হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘাত এড়িয়ে চলা সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অংশ করা অগ্রহণযোগ্য। সংঘাত অবসান ঘটাতে সব পক্ষের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অর্থনৈতিক ক্ষতি সহ্যসীমা অতিক্রম করায় সব পক্ষের উচিত প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী তুরস্ক স্পষ্ট করেছে, পাকিস্তান ও সৌদির সঙ্গে তাদের চুক্তিটি অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক জোটকে প্রতিস্থাপন করে না।

শনিবার ভোরে সৌদি রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখার কয়েক ঘণ্টা পর শহরের ‘সংবেদনশীল’ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। তুরস্ক এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তাদের ওপর বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো। সৌদি ও তার মিত্ররা সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ আজ রোববার এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সামরিক জোট হুথিদের হুমকির বিরুদ্ধে একত্রিত হচ্ছে এবং হুথিরা যা করছে তার সঠিক জবাব কীভাবে দেওয়া যায় সেটির পরিকল্পনা করছে। হুথিদের বিরুদ্ধে জবাব আসছে। এই জবাব হবে বিশাল। হামলা হবে একসঙ্গে— স্থলে, সমুদ্রে এবং আকাশে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, দেশগুলো ইতিমধ্যে সৌদি আরবে তাদের অস্ত্রসস্ত্র জড়ো করা শুরু করেছে এবং লোহিত সাগরে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে তুরস্ক অন্যতম অংশগ্রহণকারী দেশ। এছাড়া সীমিতভাবে মিসরও এতে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া সৌদি ও ইয়েমের সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নওয়াফ ওবায়েদ বলেছেন, সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব একা। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। অদক্ষ চোখে যদি আপনি দেখেন তাহলে মনে হবে সৌদি একা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আসলে কী হচ্ছে, আপনি যদি গভীরভাবে দেখেন, তাহলে ভিন্ন চিত্র দেখতে পারবেন।

আর হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে সময় নেওয়া হচ্ছে, কারণ এত তীব্রতর অভিযানের ক্ষেত্রে, যেখানে একাধিক বাহিনী অংশ নেবে, সেটি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ধীরেসুস্থে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে অক্টোবর মাসে কোনো অপরিশোধিত তেল না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরামকো।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত সৌদি আরব থেকে তেল কেনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। এসব চুক্তিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে।

তবে আগামী মাসে সেই সরবরাহ রিফাইনাররা পাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

তবে এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত সপ্তাহে হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

বিষয়টি সঙ্গে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ বলছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগতে পারে ছয় সপ্তাহ।

ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। ওই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরামকোর কিছু ক্রেতার মধ্যে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যায়।

পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ওরলেন গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য দশটির বেশি দরপত্র ডেকেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে জানিয়েছে, জুনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।