২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ সৌদি আরব লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে তারা।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এতে আঞ্চলিক শক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো হলো—

হুতি

ইরান-সমর্থিত হুতিরা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার মুখেও হুতিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এসব সামরিক অভিযান গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুতিদের পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশের কথা বলে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হুতিদের কার্যক্রম ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

সৌদি আরব

ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে ২০১৫ সালে। রিয়াদের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘ সামরিক অভিযান সত্ত্বেও হুতিদের ক্ষমতার ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের অবস্থানে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও কম সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইয়েমেন পরিস্থিতিতেও পড়ে এবং রিয়াদ সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)। ২০২২ সালে কাউন্সিলটি গঠন করা হয়।

দেশ পরিচালনা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া—পিএলসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কাউন্সিলটিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক পটভূমির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং সরকারের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা।

তবে পিএলসির ভেতরেও বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে হুতিদের মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ঐক্য ধরে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসলাহ পার্টি

ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হলো ইয়েমেনি কংগ্রেগেশন ফর রিফর্ম, যা সাধারণভাবে ‘ইসলাহ’ নামে পরিচিত। এটি একটি সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন, যার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং পিএলসি-নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন সরকারের একটি অংশ হলেও দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে ইসলাহের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। হুতিদের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে দলটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও পিএলসির ভেতরে থাকা অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের পার্থক্য রয়েছে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হলো ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস। এটি ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা। তারেক সালেহ ও তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিএলসির বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন হুতিবিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন ইয়েমেনের যুদ্ধ এত জটিল?

ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু হুতি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে এর জটিলতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। একদিকে হুতিরা দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সমর্থন পাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।

এর পাশাপাশি পিএলসি, ইসলাহ এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক বিভাজনও সংঘাতকে আরও জটিল করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। গাজা যুদ্ধের পর হুতিদের ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা ইয়েমেনের সংঘাতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ফলে ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু হুতিদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো—সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ তাই এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে অক্টোবর মাসে কোনো অপরিশোধিত তেল না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরামকো।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত সৌদি আরব থেকে তেল কেনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। এসব চুক্তিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে।

তবে আগামী মাসে সেই সরবরাহ রিফাইনাররা পাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

তবে এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত সপ্তাহে হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

বিষয়টি সঙ্গে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ বলছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগতে পারে ছয় সপ্তাহ।

ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। ওই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরামকোর কিছু ক্রেতার মধ্যে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যায়।

পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ওরলেন গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য দশটির বেশি দরপত্র ডেকেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে জানিয়েছে, জুনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম
মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যের ওপর আঘাত এবং একটি ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের ইমামগণ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মক্কার মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা শুক্রবারের খুতবায় জানান, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা করা একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর ও নবীর মসজিদকে লক্ষ্য বস্তু বানানোর স্পর্ধা যাদের রয়েছে, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ধ্বংসাত্মক কাজ ঢাকতে হুথিরা ধর্মীয় স্লোগানকে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা হুথিদের এই আক্রমণগুলো তাদের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতারই অংশ। এই হামলাগুলো নিরপরাধ মুসলিমদের রক্তপাত ঘটানো এবং শান্তিতে থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করার অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তাকারী সামরিক জোট জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছটা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় আক্রমণ ছিল।

শেখ বালিলা আরও বলেন, এসব হামলা সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যকে কেবল শক্তিশালীই করবে এবং দেশটি চিরকাল মুসলিমদের কিবলা হিসেবে অটুট থাকবে।

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শহরের বাসিন্দারা প্রথমে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। এর কিছুক্ষণ পরই ট্যাংকে আগুন ধরতে দেখা যায়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদ থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিনি নিজের চোখে আরামকোর ওই জ্বালানি ট্যাংকে আগুন দেখেছেন। স্থানীয়রাও একই কথা বলছেন। তবে কী কারণে আগুন লাগল, সে বিষয়ে আরামকো বা সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি।

এএফপির ওই প্রতিনিধি আরও জানান, আরামকোর লোগোসংবলিত পুড়ে যাওয়া ট্যাংকটির আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এর আগে বিমানবন্দরের কাছে মনুষ্যবিহীন ড্রোন আঘাত হানার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সেই হামলার পর আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। ফলে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ওয়েবসাইটটি বিমানবন্দরটিকে ফ্লাইট ডিসরাপশন ইনডেক্সে ৫.০-এ রেখেছে, যার মানে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

এর জেরে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিমান চলাচল। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দরটি থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের সূচি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা তাদের ডিসরাপশন ইনডেক্সে এটিকে ৫.০ তে রেখেছে। অর্থাৎ ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের মাত্রা অনেক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের দিক থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি ও আগুন দেখা গেছে। এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, বিমানবন্দরের দিকে আমরা কালো ধোঁয়া আর আগুন দেখতে পাচ্ছি।

এর আগে সৌদি আরব বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। তার পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দরে এই সমস্যা শুরু হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

ইরানে জনসমাবেশ: দেশরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত ৬ লাখ ইরানি

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের তীব্র সংঘর্ষ: ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি বিমান হামলা

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের তীব্র সংঘর্ষ: ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি বিমান হামলা

ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এএফপি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

আল জাজিরার বরাত দিয়ে শুক্রবার হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে যে, শুধু গত এক সপ্তাহেই তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে সৌদি বিমান হামলার সংখ্যা ৩০০টিতে পৌঁছেছে।

এদিকে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, তায়েজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলায় সংঘর্ষের সময় তাদের বাহিনী ৩০ জন হুথি বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে। এই সপ্তাহেই যেসব ফ্রন্টে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে, তার মধ্যে আল-ওয়াজিয়াহ অন্যতম। সরকারি সামরিক বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যকার এই সংঘাত ইয়েমেনজুড়ে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইয়েমেনের লোহিত সাগরের উপকূলের বড় একটি অংশ এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর, শুক্রবার রাজধানী সানার রাজপথে হাজার হাজার মানুষ ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিদের সমর্থনে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

এর আগে, চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেন সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ে তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সৌদি আরব জানিয়েছে, একটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করার পর তায়েফ গভর্নরেটে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথি-সংযুক্ত গণমাধ্যমগুলো তায়েজ এবং আব্স শহরে সৌদি হামলায় হতাহতের খবর জানিয়েছে।

এই সংঘাত অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওয়াশিংটনকে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডোর।

হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে, সৌদি আরবের সাথে যুক্ত নয় এমন জাহাজগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করবে না। সৌদি আরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুথিদের ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানালেও, ইরানের সাথে ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়িয়ে থাকায় ওয়াশিংটন নতুন কোনো ফ্রন্ট খুলতে সতর্ক থেকে এ পর্যন্ত তা থেকে বিরত রয়েছে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, অঞ্চলের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ইইউ-এর লোহিত সাগরভিত্তিক নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডস’-এর সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজা কালাস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হুথি হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ব্যাহত করছে।

তিনি আরও জানান, ইয়েমেনে লড়াইয়ের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সাথে কথা বলেছেন।