২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যারাডোনার পর যেমন বদলে ছিল আর্জেন্টিনা, মেসির পরও কি বদলাবে?

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ম্যারাডোনার পর যেমন বদলে ছিল আর্জেন্টিনা, মেসির পরও কি বদলাবে?
আর্জেন্টিনার ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

কিছু খেলোয়াড় শুধু জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তারা হয়ে ওঠেন পুরো একটি দলের পরিচয়। ব্রাজিল যেমন পেলের সঙ্গে একাকার, তেমনি আর্জেন্টিনার ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

এমন উচ্চতার কোনও খেলোয়াড় যখন বুটজোড়া তুলে রাখেন, তখন শুধু একটি ক্যারিয়ার শেষ হয় না; সামনে হাজির হয় আরও বড় এক প্রশ্ন- এরপর কী? যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কখনও কখনও লেগে যায় বহু বছর।

১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের নেতৃত্বে শেষবার শিরোপা জয়ের পর ব্রাজিলকে আবার বিশ্বকাপ জিততে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৪ বছর। ম্যারাডোনার যুগ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনারও লেগেছিল প্রায় একই রকম দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ ফিরেছিল সেই সোনালি ট্রফি। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসরের ঘোষণায় সেই অনিশ্চয়তাই যেন আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টিও ছিল তার মতোই নাটকীয়। ‘ডি’ গ্রুপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফিরে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। তাকে দলে ফিরে পেয়ে আলফিও বাসিলের দল গ্রিসকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর নাইজেরিয়াকেও হারায় ২-১ গোলে। হঠাৎ করেই আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট।

বিশ্বকাপের আগে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনার আমাকে প্রয়োজন- এটাই আমার প্রয়োজন।’ তখন কোনও ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি ছিল না তার, পেশাদার ফুটবলের বাইরেও ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্বে কলম্বিয়ার কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বাসিলের ডাক এলে সাড়া দিতে দেরি করেননি।

ততদিনে আর্জেন্টিনার দলে সম্ভাবনাময় একদল তরুণের উত্থান ঘটেছে। লিও রদ্রিগেজ, ডিয়েগো সিমিওনে, ফার্নান্দো রেদোন্দো, ক্লদিও কানিজিয়া ও গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাদের ঘিরে দলটি এরই মধ্যে ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালে জিতেছিল টানা দুটি কোপা আমেরিকা।

কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সেই তরুণ দলটিই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। প্রয়োজন ছিল অনুপ্রেরণার, প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি কঠিন মুহূর্তে দলকে টেনে তুলবেন। আবারও ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপালেন ম্যারাডোনা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফে ২-১ গোলে জিতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন তিনি।

মূল টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ৪০ দিন আগে দীর্ঘদিনের ফিটনেস কোচ ফার্নান্দো সিগনোরিনির সঙ্গে অনুশীলন করতে লা পাম্পায় চলে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই তার সেই প্রত্যাবর্তনের গল্প থমকে গেলো। নিষিদ্ধ একটি বস্তুর পরীক্ষায় পজিটিভ হন তিনি। সেই খবরের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই শেষ ষোলোতে রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। সেখানেই শেষ হয়ে যায় ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

এরপর আর্জেন্টিনার ডাগআউটে ড্যানিয়েল পাসারেলার আগমন কার্যত ‘এল দিয়েস’-এর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর্দা নামিয়ে দেয়। দুজনের সম্পর্ক ছিল কঠিন। কিন্তু ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে সামনে এগোনোর পথটাও আর্জেন্টিনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতির সময় ম্যারাডোনার রুমমেট ছিলেন রিভার প্লেট তারকা আরিয়েল ওর্তেগা। ম্যারাডোনার পর সেই বিশাল দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। গায়ে ওঠে ১০ নম্বর জার্সি। কিন্তু ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি মুহূর্তই হয়ে দাঁড়ায় ওর্তেগার পুরো বিশ্বকাপের প্রতিচ্ছবি। ডাচ গোলকিপার এডউইন ফন ডার সারকে মাথা দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন তিনি। এরপর আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।

তবে ওর্তেগাকে ঘিরে গল্পটির বাইরেও আর্জেন্টিনার ফুটবলে তখন বড় পরিবর্তন এসেছিল। দলটি ধীরে ধীরে কোনও একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও বেশি সমষ্টিনির্ভর হয়ে উঠছিল। দেশটির ফুটবলীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই প্রতিভার কোনও ঘাটতি ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে একাই উদ্ধার করতে পারবেন এমন একজন, একজন সত্যিকারের আইকন, তখনও খুঁজে পায়নি আর্জেন্টিনা।

আর বিষয়টি শুধু ১০ নম্বর জার্সির ছিল না। ছিল সৃজনশীলতার কেন্দ্রবিন্দুর অভাবও। ম্যারাডোনার পর, মেসির আগে দীর্ঘ সময় ধরে আর্জেন্টিনা এমন একজন স্থায়ী নেতারও অভাব অনুভব করেছে, যিনি মাঠে যেমন নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন, তেমনি ড্রেসিংরুমেও থাকবেন নেতৃত্বের কেন্দ্রে।

বরং এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আরেক খেলোয়াড়ের হাতে ঘুরেছে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। ১৯৯৮ সালে পাসারেলা দায়িত্ব দিয়েছিলেন সিমিওনেকে। ২০০২ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন; জাপানে দলের শেষ ম্যাচে নেতৃত্ব দেন বাতিস্তুতা। এরপর ২০০৬ সালে হোসে পেকারম্যান দায়িত্ব দেন হুয়ান পাবলো সোরিনকে। ২০১০ সালে সেই দায়িত্ব নেন হাভিয়ের মাসচেরানো।

চার বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফেরেন ওর্তেগা। এবার কোচ মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে। বিয়েলসার দর্শনে গড়া সেই আর্জেন্টিনা দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া, সরাসরি আক্রমণ, দুই প্রান্ত ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছড়িয়ে দেওয়া এবং বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং করে তা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিতো।

ওর্তেগার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলেও তিনি আর আগের সেই চিরাচরিত আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ছিলেন না। বরং তাকে খেলানো হতো অনেকটা ওয়াইড ফরোয়ার্ড হিসেবে। প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে অনুসরণ করে রক্ষণেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হতো। কিন্তু ওর্তেগা কখনোই নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি। আর্জেন্টিনাও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি।

ম্যারাডোনা-পরবর্তী যুগে এক বিশ্বকাপ চক্র থেকে আরেক চক্রে আর্জেন্টিনার কোচ বদলেছে। পাসারেলার পর দায়িত্ব আসে বিয়েলসার হাতে, এরপর পেকারম্যানের কাছে।

২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযানে আর্জেন্টিনার দায়িত্বে ছিলেন পেকারম্যান। যিনি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দেশটির সোনালি প্রজন্ম তৈরির অন্যতম স্থপতি। তার পছন্দের ১০ নম্বর ছিলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে। ১৯৯৭ সালে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তারকা তখন দলের সৃজনশীলতার মূল কেন্দ্র। আর সেই দলেই ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে এক তরুণ মেসি ধীরে ধীরে বিশ্বকে দেখাচ্ছিলেন তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই অসাধারণ প্রতিভার ঝলক, যা অচিরেই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলবে।

আর্জেন্টিনা তখন খেলতো আরও ঐতিহ্যবাহী এক ছকে। বল দখলে রেখে, আর ১০ নম্বরকে ক্লাসিক প্লেমেকার হিসেবে ব্যবহার করে। খেলার গতি ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন রিকেলমে। কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও ২০০৬-এর সেই আর্জেন্টিনা আজও স্মরণীয় টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ও দক্ষ দল হিসেবে।

২০১০ সালে আর্জেন্টিনার কাঠামোয় আসে বড় পরিবর্তন। ডাগআউটে তখন ম্যারাডোনা, আর তারই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামছেন মেসি।

বার্সেলোনায় নিজের অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এসেছিলেন ছোটখাটো গড়নের সেই জাদুকর। সঙ্গে ছিল ক্রমেই পরিচিত হয়ে ওঠা বিশাল প্রত্যাশা। ক্লাব ফুটবলে তিনি যা করছেন, আর্জেন্টিনার হয়েও ঠিক সেটিই করতে হবে।

কিন্তু সেই বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল হতাশায়। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। তবে আজ পেছন ফিরে তাকালে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০-কে অন্যভাবেও দেখা যায়। কারণ সেখানেই প্রকৃত অর্থে মেসি-যুগের ভিত্তি গড়ে উঠতে শুরু করেছিল।

ম্যারাডোনার পরও আর্জেন্টিনা একের পর এক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করেছে। গড়ে তুলেছে স্মরণীয় সব দল। কিন্তু বছরের পর বছর তাদের খুঁজতে হয়েছে এমন একজনকে, যিনি ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া প্রতীকী শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন। এবার শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়।

অসাধারণ ফুটবলার তৈরি করার আর্জেন্টিনার ঐতিহ্য এখনও অটুট। কিন্তু লা আলবিসেলেস্তেকে আবারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিচিত এক চ্যালেঞ্জের- এমন একজন ১০ নম্বরকে ছাড়া পথ চলা, যাকে একসময় মনে করা হয়েছিল অপূরণীয়।

ম্যারাডোনা-পরবর্তী সময় আর্জেন্টিনার জন্য একটি কার্যকর শিক্ষা রেখে গেছে। আর ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনা হয়তো আরেকজন মেসি খুঁজে পাবে না। কিন্তু প্রধান তারকাকে ছাড়া কীভাবে নিজেদের বদলে নিতে হয়, কীভাবে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, সেই পথ তারা আগেও খুঁজে নিয়েছে। হয়তো মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার গল্পটাও শেষ পর্যন্ত হবে নতুন করে নিজেদের আবিষ্কারের গল্প হিসেবে।

সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সমন্বিত হামলার জন্য অস্ত্রসস্ত্র ও যুদ্ধবিমান জড়ো করছে সৌদি ও মিত্ররা

সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তাদের ওপর বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো। সৌদি ও তার মিত্ররা সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ আজ রোববার এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সামরিক জোট হুথিদের হুমকির বিরুদ্ধে একত্রিত হচ্ছে এবং হুথিরা যা করছে তার সঠিক জবাব কীভাবে দেওয়া যায় সেটির পরিকল্পনা করছে। হুথিদের বিরুদ্ধে জবাব আসছে। এই জবাব হবে বিশাল। হামলা হবে একসঙ্গে— স্থলে, সমুদ্রে এবং আকাশে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, দেশগুলো ইতিমধ্যে সৌদি আরবে তাদের অস্ত্রসস্ত্র জড়ো করা শুরু করেছে এবং লোহিত সাগরে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে তুরস্ক অন্যতম অংশগ্রহণকারী দেশ। এছাড়া সীমিতভাবে মিসরও এতে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া সৌদি ও ইয়েমের সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নওয়াফ ওবায়েদ বলেছেন, সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব একা। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। অদক্ষ চোখে যদি আপনি দেখেন তাহলে মনে হবে সৌদি একা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আসলে কী হচ্ছে, আপনি যদি গভীরভাবে দেখেন, তাহলে ভিন্ন চিত্র দেখতে পারবেন।

আর হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে সময় নেওয়া হচ্ছে, কারণ এত তীব্রতর অভিযানের ক্ষেত্রে, যেখানে একাধিক বাহিনী অংশ নেবে, সেটি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ধীরেসুস্থে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইউরোপের ক্রেতাদের অক্টোবরে ‘তেল দেবে না’ সৌদি আরামকো

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে অক্টোবর মাসে কোনো অপরিশোধিত তেল না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরামকো।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত সৌদি আরব থেকে তেল কেনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। এসব চুক্তিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে।

তবে আগামী মাসে সেই সরবরাহ রিফাইনাররা পাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

তবে এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত সপ্তাহে হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

বিষয়টি সঙ্গে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ বলছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগতে পারে ছয় সপ্তাহ।

ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। ওই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরামকোর কিছু ক্রেতার মধ্যে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যায়।

পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ওরলেন গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য দশটির বেশি দরপত্র ডেকেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে জানিয়েছে, জুনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মক্কায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম
মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যের ওপর আঘাত এবং একটি ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের ইমামগণ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মক্কার মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা শুক্রবারের খুতবায় জানান, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা করা একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর ও নবীর মসজিদকে লক্ষ্য বস্তু বানানোর স্পর্ধা যাদের রয়েছে, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ধ্বংসাত্মক কাজ ঢাকতে হুথিরা ধর্মীয় স্লোগানকে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা হুথিদের এই আক্রমণগুলো তাদের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতারই অংশ। এই হামলাগুলো নিরপরাধ মুসলিমদের রক্তপাত ঘটানো এবং শান্তিতে থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করার অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তাকারী সামরিক জোট জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছটা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় আক্রমণ ছিল।

শেখ বালিলা আরও বলেন, এসব হামলা সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যকে কেবল শক্তিশালীই করবে এবং দেশটি চিরকাল মুসলিমদের কিবলা হিসেবে অটুট থাকবে।

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শহরের বাসিন্দারা প্রথমে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। এর কিছুক্ষণ পরই ট্যাংকে আগুন ধরতে দেখা যায়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদ থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিনি নিজের চোখে আরামকোর ওই জ্বালানি ট্যাংকে আগুন দেখেছেন। স্থানীয়রাও একই কথা বলছেন। তবে কী কারণে আগুন লাগল, সে বিষয়ে আরামকো বা সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি।

এএফপির ওই প্রতিনিধি আরও জানান, আরামকোর লোগোসংবলিত পুড়ে যাওয়া ট্যাংকটির আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এর আগে বিমানবন্দরের কাছে মনুষ্যবিহীন ড্রোন আঘাত হানার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সেই হামলার পর আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। ফলে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ওয়েবসাইটটি বিমানবন্দরটিকে ফ্লাইট ডিসরাপশন ইনডেক্সে ৫.০-এ রেখেছে, যার মানে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রিয়াদের বিমানবন্দরের কাছে উড়ছে ধোঁয়া, বাতিল ও বিলম্ব বহু ফ্লাইট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

এর জেরে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিমান চলাচল। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দরটি থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের সূচি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা তাদের ডিসরাপশন ইনডেক্সে এটিকে ৫.০ তে রেখেছে। অর্থাৎ ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের মাত্রা অনেক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের দিক থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি ও আগুন দেখা গেছে। এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, বিমানবন্দরের দিকে আমরা কালো ধোঁয়া আর আগুন দেখতে পাচ্ছি।

এর আগে সৌদি আরব বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। তার পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দরে এই সমস্যা শুরু হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

রিয়াদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আরামকোর ট্যাংকে আগুন

ইরানে জনসমাবেশ: দেশরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত ৬ লাখ ইরানি

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন