১ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভিসা জটিলতায় থমকে গেছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভিসা জটিলতায় থমকে গেছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা এবং আন্তর্জাতিক ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতায় একের পর এক বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত।

একদিকে যুদ্ধের অভিঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলোতে নতুন নিয়োগের গতি কমেছে, অন্যদিকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেয়েও ভিসা, দূতাবাসের সাক্ষাৎকার ও বিমান চলাচলের জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন অনেক কর্মী।

ছুটিতে দেশে এসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে না পারার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের অনুমতিপত্র পেয়েও ভারতে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে না পারায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে। এর সঙ্গে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি ও ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি হারানো, নিয়োগ বাতিল, আর্থিক ক্ষতি এবং দেশে ফিরে আসার আশঙ্কা বাড়ছে। অথচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় এখনো ঊর্ধ্বমুখী। তবে অর্থনীতির এই আপাত স্বস্তির আড়ালে নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার ধারাবাহিক পতন ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি নিয়ে সংশয় তৈরি করছে।

অপরদিকে জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম একসময় দেশের অগ্রগামী জেলাগুলোর একটি থাকলেও তাতে ধস দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের প্রবাসী পরিবারগুলোর বিস্তৃত যোগাযোগ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্ক থাকলেও এখন হিসেব–নিকেশ পাল্টে গেছে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের মতো কয়েকটি জেলার তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম। তবে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এখনো দেশের অন্যতম শীর্ষ জেলা চট্টগ্রাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জেলায় ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিয়োগের পরিবর্তন এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা জেলার বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্রমে কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা থেকে ৮৭ হাজার ৫২৪ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। একই সময়ে কুমিল্লা থেকে গেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী কয়েকটি জেলার তুলনায় চট্টগ্রামের অবস্থান পিছিয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়ার প্রবণতায় পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে বিএমইটির কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতি আগ্রহ, সব ধরনের পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা না থাকা এবং নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায় বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ কমে আসছে।

বিদেশের শ্রমবাজারে চাহিদা, নিয়োগের ব্যয়, দক্ষতার ঘাটতি, ভিসা পাওয়ার সুযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি কমছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে জাতীয় প্রবাসী আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে চট্টগ্রামের ব্যাংক শাখাগুলোর মাধ্যমে। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের হিসাবেও এ প্রবাহের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাসী আয় এসেছে ২০১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আগস্টে ১৯৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন এবং সেপ্টেম্বরে ১৯৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। তিন মাসে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৫৯৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে সংকট তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের প্রবাসীদের বেশির ভাগ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ বা ব্যবসা করেন। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ওইসব দেশের ওপর নির্ভরশীল।

যুদ্ধসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে উপরোক্ত দেশগুলোতে নতুন নিয়োগ কমে গেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর না করে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়ানো গেলে এই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব বলে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, বিশেষ করে কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সুফল মিলবে।

দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে জেলার তরুণদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মান্থলি ইকোনমিক ট্রেন্ডস, সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। জুলাইয়ে ৭১ হাজার ৮৪ জন কর্মী বিদেশে গেলেও আগস্টে এ সংখ্যা নেমে আসে ৬২ হাজার ৯২৯ জনে।

এক মাসে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে বিদেশে গিয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ২৮৩ জন। সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিসংখ্যানে বিদেশে কর্মী পাঠানোর গতি ধারাবাহিকভাবে কমে আসার ক্ষেত্রে যুদ্ধকেন্দ্রিক বৈশ্বিক সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অভিঘাতে গত মার্চ থেকে মে মাসে বিদেশে গেছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৬ জন বাংলাদেশি কর্মী। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ জন। এক বছরের ব্যবধানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের কাছাকাছি।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশগামী পুরুষ কর্মীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন কমেছে।

তবে একই সময়ে বিদেশে যাওয়া নারী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। ৪৭টি দেশে গত পাঁচ মাস ১৫ দিনে ২৫ হাজার ৯১৫ জন নারী কর্মী গেছেন। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৯৩৬ জন।

সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা দেশের মোট প্রবাসী আয়ের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

সৌদি আরবে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তা শুধু কর্মসংস্থান নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ) একাধিক কর্মকর্তা।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা, নতুন কর্মীদের যোগদান এবং যাত্রী পরিবহন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও বিঘ্নের কারণে অনেক ফ্লাইট ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে; যার খেসারত দিতে হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাসীকে। এদের অনেকের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পারেননি।

নতুন টিকিট কেনা, ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতা এবং অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সৌদি আরব এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হলেও সেখানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন বাংলাদেশি কর্মী। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬৪ জন। শুধু সৌদি আরবেই কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন।

বায়রার একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের বড় অংশের নিয়োগপ্রক্রিয়া যুদ্ধ শুরুর আগেই অনুমোদিত চাহিদা ও সম্পন্ন হওয়া ভিসার ভিত্তিতে এগোচ্ছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী নেওয়ার চাহিদা কমে যাওয়ায় পরবর্তী মাসগুলোতে এই সংকট আরো প্রকট হবে।

তারা বলেন, সৌদি আরব ছাড়া বাংলাদেশের জন্য বড় শ্রমবাজারগুলোতে নিয়োগের সুযোগ সীমিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী নেওয়া হয় কম। কাতার ও কুয়েতে নিয়োগের পরিমাণও বেশি নয়। মালয়েশিয়ার বড় শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় পরিস্থিতি সংকটজনক করে তুলছে। এছাড়া বিকল্প বাজার না থাকায় সংকট আরো জটিল হচ্ছে।

ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসীদের একটি অংশের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। তারা আর কাজে ফিরে যেতে পারেননি।

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপে কাজের সুযোগ পাওয়া কর্মীদেরও বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং কনস্যুলার জটিলতা বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলার কার্যক্রমের অংশ ভারতের দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে পরিচালিত হওয়ায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া বা পাসপোর্ট জমা দিতে হয়।

কিন্তু ভারতের ভিসা পেতে সীমাবদ্ধতা থাকায় নির্ধারিত সময়ে সেখানে যেতে পারছেন না অনেক আবেদনকারী। এতে কাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার পরও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যাচ্ছে না। একই সমস্যায় পড়ছেন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও।

সাক্ষাৎকারের সময় পেরিয়ে যাওয়া, নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা এবং শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা তাদের পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করছে।

বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমলেও প্রবাসী আয়ে এখনো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। শুধু আগস্ট মাসে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছিল ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই আয় কমে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের সঞ্চয় দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার কারণে কেউ কেউ ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিবেচনায় সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমানে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে আগে থেকে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে। নতুন কর্মী যাওয়ার সুযোগ সংকুচিত থাকলে এবং বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের আয় কমে গেলে প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি ধসে যাবে।

সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি একপর্যায়ে প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, এই মুহূর্তে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

কারণ সৌদি আরবে প্রবাসীদের মাঝে শঙ্কা তৈরি হলে তারা দলে দলে দেশে ফিরে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন বাজার খোঁজা এবং বিদ্যমান বাজারগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অবশ্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলে সরকার জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, পর্যটন, হোটেল ও সেবাখাতে ভবিষ্যতে নতুন চাহিদা তৈরি হলে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভিসা ও কনস্যুলার জটিলতা নিরসন জরুরি মন্তব্য করে তারা কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জাহ্নবী কাপুর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জাহ্নবী কাপুর

শোবিজ অঙ্গনের তারকারা সাধারণত নিজেদের প্রেমের কথা খুব একটা প্রকাশ করেন না। বেশিরভাগ সময়ই গোপন রাখেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজের প্রেমের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এ এসে জাহ্নবী ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। করণ তাকে জিজ্ঞেস করেন, শিখর পাহাড়িয়ার সঙ্গে প্রেম করছেন কি না? জবাবে জাহ্নবী অকপটে বলে দেন, ‘হ্যাঁ, করছি।’

তবে প্রেম নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না অভিনেত্রী, আবার লুকোছাপও পছন্দ করেন না। তার ভাষ্য, ‘ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত খোলামেলা হতে চাই না ঠিকই, আবার সব কিছু গোপন রাখার জন্য এত রাখঢাক করারও কোনো মানে হয় না। সম্পর্ক নিয়ে সব সময় লুকোছাপা করা বিরক্তিকর।’

শিখর পাশে থাকলে জাহ্নবী মানসিক শান্তি পান। তাকে অনেক সাপোর্ট করেন। এজন্য অভিনেত্রী মনে করেন, শিখর তার জীবনের শেষ ঠিকানা। প্রেমিকের প্রশংসা করে জাহ্নবী বলেন, ‘আমার মায়ের (শ্রীদেবী) মৃত্যুর খবর শুনে শিখর লন্ডন থেকে মুম্বাইয়ে চলে এসেছিল। সেই সময় এক সেমিস্টার পরিক্ষাও দিতে পারেনি সে। আমার কাছাকাছি থাকার জন্য এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিল। যেন আমার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকতে পারে।’

প্রেম তো চলছে, বিয়েটা কবে? স্বাভাবিকভাবে এ প্রশ্নটাও চলে আসে। তবে জাহ্নবী সাফ বলে দিলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা নেই। আপাতত আমরা বেশ ভালো আছি।’

এদিকে অভিনয়ে জাহ্নবীকে সর্বশেষ দেখা গেছে তেলুগু সিনেমা ‘পেড্ডি’তে। রাম চরণের সঙ্গে সিনেমাটি সাড়া জাগাতে পারেনি। তাছাড়া সিনেমায় তার উপস্থিতি নিয়েও হয়েছে বিস্তর সমালোচনা। জাহ্নবীকে ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

বর্তমানে জাহ্নবীর হাতে ‘লাগ যা গলে’, ‘রাকা’ ও নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি সিনেমা রয়েছে। সবমিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী।

এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্প্রতি বাংলাদেশি দুই তারকার চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

মূলত একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত এসব ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দেখেই ধারণা করা যাচ্ছিল, সেগুলো এআই দিয়ে বানানো।

পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে এরপরও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামছেই না।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তা প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খোলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। এবার এ বিষয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন সেই বিকৃত ভিডিওর আরেক শিকার চিত্রনায়িকা পরীমনি।

সেই টিভি চ্যানেলটির উদ্দেশে এই অভিনেত্রী বলেন, শুধু ‘ক্ষমা চাইলেই’ এরকম ঘটনায় দায়মুক্তি হয় না। তিনি জানান, এই বিকৃত ভিডিও অনেক আগের। তবে এবার ওই চ্যানেলের পেজের মাধ্যমে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে শুধুই ‘সরি’ বলা যথেষ্ট নয়।

সেই বিকৃত ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ যে নোংরামি করেছে, তাদেরও কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ওই ফেসবুক লাইভে টিভি চ্যানেলটির প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ওরা এতবড় পাওয়ারফুল একটা মিডিয়া, ১১ ঘণ্টা তো ঝুলেই ছিল। তো প্রমাণ করতে পারল না? নিজেদের কন্ট্রোলে নিতে পারল না? আইন, এত প্রশাসন এগুলো দিয়ে কি সম্ভব ছিল না? এর বিপরীতে আপনি মোটেও বলতে পারেন না, পেজ হ্যাক হয়েছে। তাহলে আমিও বলি, আমার পেজ হ্যাক হয়েছে!’

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতামাতি করা নেটিজেনদেরও একহাত নেন অভিনেত্রী। তাদের খোঁচা দিয়ে পরী বলেন, ‘তোমরা যখন ভিডিওটি নিয়ে এত মাতামাতি করছিলে, তখন আমার ইচ্ছে হচ্ছিল একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলি।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘দিনশেষে ভিডিওটা আমিও দেখলাম, সকলেই দেখল। দেখার পর যারা এভয়েড করার দরকার, তারা স্কিপ করেছে। আর যারা এই ভিডিওকে নিজেদের জীবন, যৌবন, নিঃশ্বাস বানিয়ে ফেলেছে, তারা অনলাইনে এসেই এটা নিয়ে কথা বলছে। দেখা গেল, কেউ হজের পোস্ট করল, তার কমেন্ট বক্সেও গিয়ে লিখেছে- পরীমনির লিংক আছে আমার কাছে। মানে, তার জীবনের অর্জন যেন এটুকুই। ভুয়া একটা জিনিস নিয়ে তোমার এই অবস্থা, আসল হলে কী করতে!’

তবে পরে লাইভটি নিজের পেজ থেকে মুছে ফেলেন পরীমনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে লাইভটি সরিয়ে ফেলার পর এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন এই অভিনেত্রী। সকালে দেওয়া পোস্টে পরী লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলিট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’

আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর যা করলেন মেহজাবীন

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর যা করলেন মেহজাবীন

একটি বেসরকারি চ্যানেলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়ার পর প্রকাশিত কিছু ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও বিতর্ক থামেনি। এমন পরিস্থিতিতে ভিডিও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত নিজের কাজ, ব্যক্তিজীবনের দারুণ মুহূর্তসহ ভ্রমণের ছবি-ভিডিও শেয়ার করতে পছন্দ করেন মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে এসব পোস্ট করে থাকেন তিনি। সেই সুবাদে অভিনেত্রীকে অনুসরণ করে থাকেন এক কোটি ৬০ লাখের বেশি ভক্ত-অনুরাগী। এর মধ্যে নিয়মিত ফেসবুকে এক কোটি এবং ইনস্টাগ্রামে ৫৮ লাখ অনুসরণ করে থাকেন। যারা নিয়মিত তার পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে থাকেন।

এবার বিশাল সেই ভক্ত-অনুরাগীর জন্য ফেসবুকে মন্তব্যের ঘর সীমিত করে দিলেন অভিনেত্রী। এখন আর কেউ চাইলেই তার পোস্টে যখন-তখন কেউ কমেন্ট করতে পারবেন না। তার সর্বশেষ ফেসবুকে পোস্ট করা দুটি পোস্টে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। তাকে নিয়ে সেই ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যথিত হন তিনি। এবং প্রশ্ন তোলেন সমাজের বিভিন্ন ধরনের মানুষের মানসিকতা ও সচেতনতা নিয়ে।

সেই পোস্টে মেহজাবীন বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়— এটি একটি অপরাধ। তিনি আরও বলেন, যখন একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আরও বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। তখন প্রশ্ন জাগে— সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?

তাই এবার মন্তব্যের ঘর সীমিত করে দিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ৫৭ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন পড়া সেই পোস্টটির মন্তব্যের ঘরও বন্ধ করে দেন তিনি। সবশেষ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেহজাবীন কয়েকটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। সেই পোস্টও সীমিত করা হয়েছে। সেখানে শুধু সীমিতসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী মন্তব্য করতে পারবেন।

দোহা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬: নারী নির্মাতা ও বৈচিত্র্যময় গল্পের চমক

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

দোহা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (DFF) আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর জন্য মনোনীত ১৫টি চলচ্চিত্রের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। আরব বিশ্ব, এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে আসা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহসী, বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলী স্থান পেয়েছে এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়।

মনোনীত ১৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১১টি চলচ্চিত্রই দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (DFI) অনুদান প্রোগ্রামের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন নারী পরিচালকরা। কম প্রতিনিধিত্বশীল বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অপ্রকাশিত গল্পগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে আনার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই এই ছবিগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে।

ফাতেমা হাসান আল-রুমাইহির বার্তা:

দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সিইও এবং উৎসব পরিচালক ফাতেমা হাসান আল-রুমাইহি বলেন, "সীমানা পেরিয়ে মানুষের মাঝে সংযোগ তৈরি করার এক অদ্ভুত শক্তি রয়েছে চলচ্চিত্রের। ভৌগোলিক দূরত্ব ও পার্থক্য যেখানে দূরত্ব তৈরি করে, চলচ্চিত্র সেখানে মানুষকে একসূত্রে গাঁথে। দোহা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল মূলত সেই সব নির্মাতাদের একটি নিজস্ব ঠিকানা দেওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছে, যারা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে অদেখা ও আনকোরা গল্পগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচিত এই ১৫টি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহস, কল্পনাশক্তি এবং সময়ের তাগিদ প্রকাশ করে। এই শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দোহা অংশ হতে পেরে গর্বিত।

পুরস্কার ও বিচারক প্যানেল:

আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা ক্যাটাগরিতে মনোনীত কথাসাহিত্য নির্ভর (Narrative) এবং তথ্যচিত্রগুলো (Documentary) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA) অঞ্চলে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার হবে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের পাঁচজন খ্যাতিমান পেশাদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি জুরি বোর্ড নিম্নলিখিত পুরস্কারগুলো প্রদান করবেন:

সেরা ফিকশন/ন্যারেটিভ পুরস্কার: ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা তথ্যচিত্র পুরস্কার: ৫০,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা শৈল্পিক কৃতিত্ব পুরস্কার: ৪৫,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা অভিনয় পুরস্কার: ১৫,০০০ মার্কিন ডলার

এছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফিল্ম ক্রিটিকস (FIPRESCI) তিন সদস্যের এক পৃথক জুরি বোর্ড নিয়ে এবারের উৎসবে যোগ দিচ্ছে। প্রতিযোগিতায় সেরা ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখা চলচ্চিত্রটিকে তারা বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবে।

উৎসবের সময়সূচি:

আগামী ১৯ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র উৎসব। যেখানে বিশ্বজুড়ে স্বাধীন চলচ্চিত্রের মূলধারার সাথে যুক্ত নির্মাতা, দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক প্ল্যাটফর্মে সমবেত হবেন।

মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাসভবনে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। দ্রুত তাকে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দীর্ঘ ৪৫ মিনিট যাবৎ সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোর ৫:২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার গণমাধ্যমকে জানান, ‘টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পরও তার কোনো সাড়া মেলেনি। একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) দায়ের করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।