১ নভেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’, যেভাবে উৎপত্তি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’, যেভাবে উৎপত্তি

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ । এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। আর ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে।

তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভই পরে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়।

কোথা থেকে এ স্লোগানের উৎপত্তি

ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এমন এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান।

বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ বলে মনে হয়। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’

একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিকবার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এসব প্রোফাইলে মামাদু ও আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি দেখা গিয়েছিল।

বার্তাগুলোর ভাষা হাস্যকর মনে হওয়ায় স্ন্যাপচ্যাটের অন্য ব্যবহারকারীরা সেগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এরপর কী ঘটেছিল

অনেক তরুণের সন্দেহ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই হয়তো এসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাদের ধারণা, তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

এরপর বিক্ষোভকারীরা ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ গ্রহণ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা।

এখন স্লোগানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। তাদের মতে, আলোচিত বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ভুল বোঝা এবং তাদের সম্পর্কে পূর্বধারণা পোষণের বিষয়টিও তুলে ধরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি স্পষ্ট করেনি যে তাদের কোনো এজেন্ট এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন কি না। তবে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেন।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।’

কেন স্লোগানটি এত আলোড়ন তুলেছে

শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটির অস্বাভাবিক ভাষা তাদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা ও তরুণদের ভাষা—দুটিই কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ফ্রান্সের একটি বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’

তার ভাষ্য, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চান, তাদের আন্দোলনে নজরদারি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায় না। একই সঙ্গে সব বাধা সত্ত্বেও নিজেদের সংগঠিত করার সক্ষমতাও তারা তুলে ধরতে চান।

বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সাদানি সাবাদি বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের বার্তাগুলোতে একধরনের পূর্বধারণা প্রকাশ পেয়েছে। তারা মনে করেন, যারা অবরোধ সৃষ্টি করছে বা সবকিছু ভাঙচুর করতে চাইছে, তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মানুষ।

বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জাহ্নবী কাপুর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জাহ্নবী কাপুর

শোবিজ অঙ্গনের তারকারা সাধারণত নিজেদের প্রেমের কথা খুব একটা প্রকাশ করেন না। বেশিরভাগ সময়ই গোপন রাখেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজের প্রেমের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এ এসে জাহ্নবী ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। করণ তাকে জিজ্ঞেস করেন, শিখর পাহাড়িয়ার সঙ্গে প্রেম করছেন কি না? জবাবে জাহ্নবী অকপটে বলে দেন, ‘হ্যাঁ, করছি।’

তবে প্রেম নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না অভিনেত্রী, আবার লুকোছাপও পছন্দ করেন না। তার ভাষ্য, ‘ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত খোলামেলা হতে চাই না ঠিকই, আবার সব কিছু গোপন রাখার জন্য এত রাখঢাক করারও কোনো মানে হয় না। সম্পর্ক নিয়ে সব সময় লুকোছাপা করা বিরক্তিকর।’

শিখর পাশে থাকলে জাহ্নবী মানসিক শান্তি পান। তাকে অনেক সাপোর্ট করেন। এজন্য অভিনেত্রী মনে করেন, শিখর তার জীবনের শেষ ঠিকানা। প্রেমিকের প্রশংসা করে জাহ্নবী বলেন, ‘আমার মায়ের (শ্রীদেবী) মৃত্যুর খবর শুনে শিখর লন্ডন থেকে মুম্বাইয়ে চলে এসেছিল। সেই সময় এক সেমিস্টার পরিক্ষাও দিতে পারেনি সে। আমার কাছাকাছি থাকার জন্য এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিল। যেন আমার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকতে পারে।’

প্রেম তো চলছে, বিয়েটা কবে? স্বাভাবিকভাবে এ প্রশ্নটাও চলে আসে। তবে জাহ্নবী সাফ বলে দিলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা নেই। আপাতত আমরা বেশ ভালো আছি।’

এদিকে অভিনয়ে জাহ্নবীকে সর্বশেষ দেখা গেছে তেলুগু সিনেমা ‘পেড্ডি’তে। রাম চরণের সঙ্গে সিনেমাটি সাড়া জাগাতে পারেনি। তাছাড়া সিনেমায় তার উপস্থিতি নিয়েও হয়েছে বিস্তর সমালোচনা। জাহ্নবীকে ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

বর্তমানে জাহ্নবীর হাতে ‘লাগ যা গলে’, ‘রাকা’ ও নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি সিনেমা রয়েছে। সবমিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী।

এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্প্রতি বাংলাদেশি দুই তারকার চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

মূলত একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত এসব ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দেখেই ধারণা করা যাচ্ছিল, সেগুলো এআই দিয়ে বানানো।

পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে এরপরও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামছেই না।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তা প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খোলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। এবার এ বিষয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন সেই বিকৃত ভিডিওর আরেক শিকার চিত্রনায়িকা পরীমনি।

সেই টিভি চ্যানেলটির উদ্দেশে এই অভিনেত্রী বলেন, শুধু ‘ক্ষমা চাইলেই’ এরকম ঘটনায় দায়মুক্তি হয় না। তিনি জানান, এই বিকৃত ভিডিও অনেক আগের। তবে এবার ওই চ্যানেলের পেজের মাধ্যমে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে শুধুই ‘সরি’ বলা যথেষ্ট নয়।

সেই বিকৃত ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ যে নোংরামি করেছে, তাদেরও কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ওই ফেসবুক লাইভে টিভি চ্যানেলটির প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ওরা এতবড় পাওয়ারফুল একটা মিডিয়া, ১১ ঘণ্টা তো ঝুলেই ছিল। তো প্রমাণ করতে পারল না? নিজেদের কন্ট্রোলে নিতে পারল না? আইন, এত প্রশাসন এগুলো দিয়ে কি সম্ভব ছিল না? এর বিপরীতে আপনি মোটেও বলতে পারেন না, পেজ হ্যাক হয়েছে। তাহলে আমিও বলি, আমার পেজ হ্যাক হয়েছে!’

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতামাতি করা নেটিজেনদেরও একহাত নেন অভিনেত্রী। তাদের খোঁচা দিয়ে পরী বলেন, ‘তোমরা যখন ভিডিওটি নিয়ে এত মাতামাতি করছিলে, তখন আমার ইচ্ছে হচ্ছিল একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলি।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘দিনশেষে ভিডিওটা আমিও দেখলাম, সকলেই দেখল। দেখার পর যারা এভয়েড করার দরকার, তারা স্কিপ করেছে। আর যারা এই ভিডিওকে নিজেদের জীবন, যৌবন, নিঃশ্বাস বানিয়ে ফেলেছে, তারা অনলাইনে এসেই এটা নিয়ে কথা বলছে। দেখা গেল, কেউ হজের পোস্ট করল, তার কমেন্ট বক্সেও গিয়ে লিখেছে- পরীমনির লিংক আছে আমার কাছে। মানে, তার জীবনের অর্জন যেন এটুকুই। ভুয়া একটা জিনিস নিয়ে তোমার এই অবস্থা, আসল হলে কী করতে!’

তবে পরে লাইভটি নিজের পেজ থেকে মুছে ফেলেন পরীমনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে লাইভটি সরিয়ে ফেলার পর এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন এই অভিনেত্রী। সকালে দেওয়া পোস্টে পরী লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলিট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’

আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর যা করলেন মেহজাবীন

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর যা করলেন মেহজাবীন

একটি বেসরকারি চ্যানেলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়ার পর প্রকাশিত কিছু ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও বিতর্ক থামেনি। এমন পরিস্থিতিতে ভিডিও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত নিজের কাজ, ব্যক্তিজীবনের দারুণ মুহূর্তসহ ভ্রমণের ছবি-ভিডিও শেয়ার করতে পছন্দ করেন মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে এসব পোস্ট করে থাকেন তিনি। সেই সুবাদে অভিনেত্রীকে অনুসরণ করে থাকেন এক কোটি ৬০ লাখের বেশি ভক্ত-অনুরাগী। এর মধ্যে নিয়মিত ফেসবুকে এক কোটি এবং ইনস্টাগ্রামে ৫৮ লাখ অনুসরণ করে থাকেন। যারা নিয়মিত তার পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে থাকেন।

এবার বিশাল সেই ভক্ত-অনুরাগীর জন্য ফেসবুকে মন্তব্যের ঘর সীমিত করে দিলেন অভিনেত্রী। এখন আর কেউ চাইলেই তার পোস্টে যখন-তখন কেউ কমেন্ট করতে পারবেন না। তার সর্বশেষ ফেসবুকে পোস্ট করা দুটি পোস্টে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। তাকে নিয়ে সেই ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যথিত হন তিনি। এবং প্রশ্ন তোলেন সমাজের বিভিন্ন ধরনের মানুষের মানসিকতা ও সচেতনতা নিয়ে।

সেই পোস্টে মেহজাবীন বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়— এটি একটি অপরাধ। তিনি আরও বলেন, যখন একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আরও বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। তখন প্রশ্ন জাগে— সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?

তাই এবার মন্তব্যের ঘর সীমিত করে দিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ৫৭ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন পড়া সেই পোস্টটির মন্তব্যের ঘরও বন্ধ করে দেন তিনি। সবশেষ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেহজাবীন কয়েকটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। সেই পোস্টও সীমিত করা হয়েছে। সেখানে শুধু সীমিতসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী মন্তব্য করতে পারবেন।

দোহা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬: নারী নির্মাতা ও বৈচিত্র্যময় গল্পের চমক

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

দোহা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (DFF) আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর জন্য মনোনীত ১৫টি চলচ্চিত্রের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। আরব বিশ্ব, এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে আসা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহসী, বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলী স্থান পেয়েছে এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়।

মনোনীত ১৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১১টি চলচ্চিত্রই দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (DFI) অনুদান প্রোগ্রামের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন নারী পরিচালকরা। কম প্রতিনিধিত্বশীল বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অপ্রকাশিত গল্পগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে আনার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই এই ছবিগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে।

ফাতেমা হাসান আল-রুমাইহির বার্তা:

দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সিইও এবং উৎসব পরিচালক ফাতেমা হাসান আল-রুমাইহি বলেন, "সীমানা পেরিয়ে মানুষের মাঝে সংযোগ তৈরি করার এক অদ্ভুত শক্তি রয়েছে চলচ্চিত্রের। ভৌগোলিক দূরত্ব ও পার্থক্য যেখানে দূরত্ব তৈরি করে, চলচ্চিত্র সেখানে মানুষকে একসূত্রে গাঁথে। দোহা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল মূলত সেই সব নির্মাতাদের একটি নিজস্ব ঠিকানা দেওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছে, যারা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে অদেখা ও আনকোরা গল্পগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচিত এই ১৫টি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহস, কল্পনাশক্তি এবং সময়ের তাগিদ প্রকাশ করে। এই শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দোহা অংশ হতে পেরে গর্বিত।

পুরস্কার ও বিচারক প্যানেল:

আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা ক্যাটাগরিতে মনোনীত কথাসাহিত্য নির্ভর (Narrative) এবং তথ্যচিত্রগুলো (Documentary) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA) অঞ্চলে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার হবে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের পাঁচজন খ্যাতিমান পেশাদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি জুরি বোর্ড নিম্নলিখিত পুরস্কারগুলো প্রদান করবেন:

সেরা ফিকশন/ন্যারেটিভ পুরস্কার: ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা তথ্যচিত্র পুরস্কার: ৫০,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা শৈল্পিক কৃতিত্ব পুরস্কার: ৪৫,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা অভিনয় পুরস্কার: ১৫,০০০ মার্কিন ডলার

এছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফিল্ম ক্রিটিকস (FIPRESCI) তিন সদস্যের এক পৃথক জুরি বোর্ড নিয়ে এবারের উৎসবে যোগ দিচ্ছে। প্রতিযোগিতায় সেরা ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখা চলচ্চিত্রটিকে তারা বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবে।

উৎসবের সময়সূচি:

আগামী ১৯ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র উৎসব। যেখানে বিশ্বজুড়ে স্বাধীন চলচ্চিত্রের মূলধারার সাথে যুক্ত নির্মাতা, দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক প্ল্যাটফর্মে সমবেত হবেন।

মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাসভবনে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। দ্রুত তাকে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দীর্ঘ ৪৫ মিনিট যাবৎ সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোর ৫:২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার গণমাধ্যমকে জানান, ‘টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পরও তার কোনো সাড়া মেলেনি। একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) দায়ের করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।