১ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপের সব সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের ওপর

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ইউরোপের সব সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের ওপর

সম্প্রতি ফ্রান্সে বিক্ষোভ যখন সহিংস হয়ে ওঠে, তখন সেখানকার উগ্র ডানপন্থীরা এর জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করতে শুরু করে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে, মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী স্পেনের সিউটা শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে স্প্যানিশ ডানপন্থীরা একে মরক্কানদের ‘আগ্রাসন’ বলে দাবি করে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই সুরে বলেছেন, ‘ইসলাম সবকিছু দখল করে নিতে চাইছে।’

উগ্র ডানপন্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে যেকোনো সংকটকে কাজে লাগিয়ে ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া) ছড়াবে—এটাই হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো, এই প্রবণতা এখন আর শুধু চরমপন্থীদের মধ্যেই আটকে নেই। ইউরোপের যেকোনো বড় সংকটের জন্য ইসলাম ও মুসলিমদের দোষী বানানোর এই মানসিকতা এখন ইউরোপীয় রাজনীতির মূলধারায় ঢুকে পড়েছে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে যখন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল, ঠিক তখনই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নীরবে একটি প্রস্তাব পাস করে। প্রস্তাবটির বিষয় ছিল—‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ এবং মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল।’ পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় মধ্য-ডানপন্থী দল ‘ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি)’ এটি উত্থাপন করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন নিজেও এই দলের একজন সদস্য।

উগ্র ডানপন্থী ও রক্ষণশীলদের মিলিত ভোটে (৩৮১-১৬৭) প্রস্তাবটি পাস হয়। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, বামপন্থী এবং গ্রিন পার্টি এর বিরোধিতা করলেও তারা এটি আটকাতে ব্যর্থ হয়।

ফরাসি সরকারের ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ বিষয়ক একটি অত্যন্ত বিতর্কিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এখানে এমন কিছু ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে, যা ইউরোপের মুসলিমদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ বলতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলকে বোঝানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের আড়ালে ইসলামপন্থীরা নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।

সহজ কথায়, তাদের অভিযোগ হলো—সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায় বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছদ্মবেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনগুলো ইউরোপীয় সমাজে ঢুকে পড়ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এই প্রস্তাব মানতে আইনত বাধ্য নয়। তবে এটি এমন একটি ধারণাকে আইনি বৈধতা দিচ্ছে, যা ইউরোপের মুসলিমদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এর ফলে রাষ্ট্রের বাইরে স্বাধীনভাবে পরিচালিত মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো অযথাই সন্দেহের মুখে পড়বে। এমনকি মুসলিম নাগরিকদের যেকোনো স্বাভাবিক সামাজিক কর্মকাণ্ডকেও রাষ্ট্রের ভেতর ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে দেখা হতে পারে।

এই অস্পষ্ট ধারণাকে কাজে লাগিয়ে যে কাউকেই ফাঁসানো সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে, বর্ণবাদবিরোধী সংস্থা ‘ইএনএআর’-কেও এই প্রস্তাবে ইসলামপন্থী আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করে তাদের ইইউ তহবিল বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাইরের দেশগুলোও এই সুযোগ নিচ্ছে। যেমন—সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরোপে মুসলিম ব্রাদারহুড ও তাদের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় প্রচুর টাকা খরচ করেছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবে কাতার বা তুরস্কের মতো দেশগুলোর আর্থিক সাহায্যকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে, যা এর পেছনের ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে পরিষ্কার করে দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো, মুসলিমদের বর্ণবাদ থেকে বাঁচানোর চেষ্টাকেও এই প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশের ষড়যন্ত্র’ বলা হয়েছে। এটি ইউরোপের ডানপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষীদের জন্য বড় জয়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, ইউরোপের মধ্য-ডানপন্থীরা এখন উগ্র ডানপন্থীদের চিন্তাধারা পুরোপুরি লুফে নিয়েছে এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাতে সেগুলোকে বৈধতা দিচ্ছে।

এর মধ্য দিয়ে ইউরোপে ইসলামভীতির একটি নতুন রূপও সামনে আসছে। আগে তাদের ভয় ছিল ওইসব অভিবাসীদের নিয়ে, যারা সমাজের সাথে ঠিকমতো মিশতে পারে না। আর এখন তাদের ভয় সেই সব শিক্ষিত ও সচেতন মুসলিমদের নিয়ে, যারা নিজেদের কথা গুছিয়ে বলতে পারে এবং নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার।

এই ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান থেকে মধ্য-ডানপন্থীরা রাজনৈতিক সুবিধাও পাচ্ছে। তারা একদিকে মুসলিমভীতি ছড়িয়ে নির্বাচনে ভোট টানছে, অন্যদিকে বামপন্থীদের ওপরও আক্রমণ করতে পারছে (কারণ বামপন্থীরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ও মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে)।

ফ্রান্সে এখন ‘ইসলামো-লেফটিজম’ বা ইসলামি-বামপন্থা নামের একটি তত্ত্বের খুব প্রচার চলছে। জনপ্রিয় বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলাঁশঁকে এখন ‘দাঙ্গাকারীদের’ (মূলত মুসলিমদের ইঙ্গিত করে) উসকে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। বামপন্থী ও মুসলিমদের ওপর এই যৌথ আক্রমণ পুরোনো সেই ‘জুডিও-বলশেভিক’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন পশ্চিমা সভ্যতা ধ্বংসের জন্য ইহুদিদের দায়ী করা হতো।

আজ এই ‘ইসলামো-লেফটিজম’-এর ধুয়া তুলে রক্ষণশীল, উদারপন্থী ও উগ্র ডানপন্থীরা একজোট হয়েছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে বর্ণবাদ ও বৈষম্য দূর করতে পশ্চিমা বিশ্ব যেটুকু এগিয়েছিল, এরা মূলত সেই অর্জনটুকুও মুছে ফেলতে চায়। তাদের আসল লক্ষ্য হলো একটি ‘মুসলিমমুক্ত ইউরোপ’ গড়ে তোলা।

‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ নামের এই প্রস্তাবটির ভিত্তি যতই দুর্বল হোক না কেন, ভবিষ্যতে রক্ষণশীল জোটগুলোর কাছ থেকে এমন আরও আইনি পদক্ষেপ আসার আশঙ্কা রয়েছে। তারা মুসলিমদের স্বাধীন নাগরিক অধিকার চর্চার পথ আরও ছোট করে আনার চেষ্টা করবে। যেকোনো যৌক্তিক বিক্ষোভের দায় তারা ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেবে। রাজনীতিকরা নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের রাগ ও ক্ষোভ সুকৌশলে মুসলিমদের দিকে ঘুরিয়ে দেবেন।

এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার একটিমাত্র পথ রয়েছে। সেটি হলো, সবার নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য আওয়াজ তোলা এবং রক্ষণশীলদের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

ফরিদ হাফেজ: সিনিয়র গবেষক, জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি এবং সহকারী অধ্যাপক, লিমেরিক ইউনিভার্সিটি, আয়ারল্যান্ড।
(আল-জাজিরা থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জাহ্নবী কাপুর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে যা বললেন জাহ্নবী কাপুর

শোবিজ অঙ্গনের তারকারা সাধারণত নিজেদের প্রেমের কথা খুব একটা প্রকাশ করেন না। বেশিরভাগ সময়ই গোপন রাখেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজের প্রেমের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এ এসে জাহ্নবী ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। করণ তাকে জিজ্ঞেস করেন, শিখর পাহাড়িয়ার সঙ্গে প্রেম করছেন কি না? জবাবে জাহ্নবী অকপটে বলে দেন, ‘হ্যাঁ, করছি।’

তবে প্রেম নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না অভিনেত্রী, আবার লুকোছাপও পছন্দ করেন না। তার ভাষ্য, ‘ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত খোলামেলা হতে চাই না ঠিকই, আবার সব কিছু গোপন রাখার জন্য এত রাখঢাক করারও কোনো মানে হয় না। সম্পর্ক নিয়ে সব সময় লুকোছাপা করা বিরক্তিকর।’

শিখর পাশে থাকলে জাহ্নবী মানসিক শান্তি পান। তাকে অনেক সাপোর্ট করেন। এজন্য অভিনেত্রী মনে করেন, শিখর তার জীবনের শেষ ঠিকানা। প্রেমিকের প্রশংসা করে জাহ্নবী বলেন, ‘আমার মায়ের (শ্রীদেবী) মৃত্যুর খবর শুনে শিখর লন্ডন থেকে মুম্বাইয়ে চলে এসেছিল। সেই সময় এক সেমিস্টার পরিক্ষাও দিতে পারেনি সে। আমার কাছাকাছি থাকার জন্য এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিল। যেন আমার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকতে পারে।’

প্রেম তো চলছে, বিয়েটা কবে? স্বাভাবিকভাবে এ প্রশ্নটাও চলে আসে। তবে জাহ্নবী সাফ বলে দিলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা নেই। আপাতত আমরা বেশ ভালো আছি।’

এদিকে অভিনয়ে জাহ্নবীকে সর্বশেষ দেখা গেছে তেলুগু সিনেমা ‘পেড্ডি’তে। রাম চরণের সঙ্গে সিনেমাটি সাড়া জাগাতে পারেনি। তাছাড়া সিনেমায় তার উপস্থিতি নিয়েও হয়েছে বিস্তর সমালোচনা। জাহ্নবীকে ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

বর্তমানে জাহ্নবীর হাতে ‘লাগ যা গলে’, ‘রাকা’ ও নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি সিনেমা রয়েছে। সবমিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী।

এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্প্রতি বাংলাদেশি দুই তারকার চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

মূলত একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত এসব ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দেখেই ধারণা করা যাচ্ছিল, সেগুলো এআই দিয়ে বানানো।

পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে এরপরও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামছেই না।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তা প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খোলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। এবার এ বিষয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন সেই বিকৃত ভিডিওর আরেক শিকার চিত্রনায়িকা পরীমনি।

সেই টিভি চ্যানেলটির উদ্দেশে এই অভিনেত্রী বলেন, শুধু ‘ক্ষমা চাইলেই’ এরকম ঘটনায় দায়মুক্তি হয় না। তিনি জানান, এই বিকৃত ভিডিও অনেক আগের। তবে এবার ওই চ্যানেলের পেজের মাধ্যমে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে শুধুই ‘সরি’ বলা যথেষ্ট নয়।

সেই বিকৃত ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ যে নোংরামি করেছে, তাদেরও কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ওই ফেসবুক লাইভে টিভি চ্যানেলটির প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ওরা এতবড় পাওয়ারফুল একটা মিডিয়া, ১১ ঘণ্টা তো ঝুলেই ছিল। তো প্রমাণ করতে পারল না? নিজেদের কন্ট্রোলে নিতে পারল না? আইন, এত প্রশাসন এগুলো দিয়ে কি সম্ভব ছিল না? এর বিপরীতে আপনি মোটেও বলতে পারেন না, পেজ হ্যাক হয়েছে। তাহলে আমিও বলি, আমার পেজ হ্যাক হয়েছে!’

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতামাতি করা নেটিজেনদেরও একহাত নেন অভিনেত্রী। তাদের খোঁচা দিয়ে পরী বলেন, ‘তোমরা যখন ভিডিওটি নিয়ে এত মাতামাতি করছিলে, তখন আমার ইচ্ছে হচ্ছিল একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলি।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘দিনশেষে ভিডিওটা আমিও দেখলাম, সকলেই দেখল। দেখার পর যারা এভয়েড করার দরকার, তারা স্কিপ করেছে। আর যারা এই ভিডিওকে নিজেদের জীবন, যৌবন, নিঃশ্বাস বানিয়ে ফেলেছে, তারা অনলাইনে এসেই এটা নিয়ে কথা বলছে। দেখা গেল, কেউ হজের পোস্ট করল, তার কমেন্ট বক্সেও গিয়ে লিখেছে- পরীমনির লিংক আছে আমার কাছে। মানে, তার জীবনের অর্জন যেন এটুকুই। ভুয়া একটা জিনিস নিয়ে তোমার এই অবস্থা, আসল হলে কী করতে!’

তবে পরে লাইভটি নিজের পেজ থেকে মুছে ফেলেন পরীমনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে লাইভটি সরিয়ে ফেলার পর এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন এই অভিনেত্রী। সকালে দেওয়া পোস্টে পরী লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলিট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’

আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর যা করলেন মেহজাবীন

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর যা করলেন মেহজাবীন

একটি বেসরকারি চ্যানেলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়ার পর প্রকাশিত কিছু ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও বিতর্ক থামেনি। এমন পরিস্থিতিতে ভিডিও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত নিজের কাজ, ব্যক্তিজীবনের দারুণ মুহূর্তসহ ভ্রমণের ছবি-ভিডিও শেয়ার করতে পছন্দ করেন মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে এসব পোস্ট করে থাকেন তিনি। সেই সুবাদে অভিনেত্রীকে অনুসরণ করে থাকেন এক কোটি ৬০ লাখের বেশি ভক্ত-অনুরাগী। এর মধ্যে নিয়মিত ফেসবুকে এক কোটি এবং ইনস্টাগ্রামে ৫৮ লাখ অনুসরণ করে থাকেন। যারা নিয়মিত তার পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে থাকেন।

এবার বিশাল সেই ভক্ত-অনুরাগীর জন্য ফেসবুকে মন্তব্যের ঘর সীমিত করে দিলেন অভিনেত্রী। এখন আর কেউ চাইলেই তার পোস্টে যখন-তখন কেউ কমেন্ট করতে পারবেন না। তার সর্বশেষ ফেসবুকে পোস্ট করা দুটি পোস্টে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। তাকে নিয়ে সেই ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যথিত হন তিনি। এবং প্রশ্ন তোলেন সমাজের বিভিন্ন ধরনের মানুষের মানসিকতা ও সচেতনতা নিয়ে।

সেই পোস্টে মেহজাবীন বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়— এটি একটি অপরাধ। তিনি আরও বলেন, যখন একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আরও বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। তখন প্রশ্ন জাগে— সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?

তাই এবার মন্তব্যের ঘর সীমিত করে দিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ৫৭ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন পড়া সেই পোস্টটির মন্তব্যের ঘরও বন্ধ করে দেন তিনি। সবশেষ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেহজাবীন কয়েকটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। সেই পোস্টও সীমিত করা হয়েছে। সেখানে শুধু সীমিতসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী মন্তব্য করতে পারবেন।

দোহা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬: নারী নির্মাতা ও বৈচিত্র্যময় গল্পের চমক

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

দোহা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (DFF) আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর জন্য মনোনীত ১৫টি চলচ্চিত্রের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। আরব বিশ্ব, এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে আসা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহসী, বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলী স্থান পেয়েছে এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়।

মনোনীত ১৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১১টি চলচ্চিত্রই দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (DFI) অনুদান প্রোগ্রামের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন নারী পরিচালকরা। কম প্রতিনিধিত্বশীল বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অপ্রকাশিত গল্পগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে আনার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই এই ছবিগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে।

ফাতেমা হাসান আল-রুমাইহির বার্তা:

দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সিইও এবং উৎসব পরিচালক ফাতেমা হাসান আল-রুমাইহি বলেন, "সীমানা পেরিয়ে মানুষের মাঝে সংযোগ তৈরি করার এক অদ্ভুত শক্তি রয়েছে চলচ্চিত্রের। ভৌগোলিক দূরত্ব ও পার্থক্য যেখানে দূরত্ব তৈরি করে, চলচ্চিত্র সেখানে মানুষকে একসূত্রে গাঁথে। দোহা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল মূলত সেই সব নির্মাতাদের একটি নিজস্ব ঠিকানা দেওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছে, যারা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে অদেখা ও আনকোরা গল্পগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচিত এই ১৫টি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহস, কল্পনাশক্তি এবং সময়ের তাগিদ প্রকাশ করে। এই শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দোহা অংশ হতে পেরে গর্বিত।

পুরস্কার ও বিচারক প্যানেল:

আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা ক্যাটাগরিতে মনোনীত কথাসাহিত্য নির্ভর (Narrative) এবং তথ্যচিত্রগুলো (Documentary) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA) অঞ্চলে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার হবে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের পাঁচজন খ্যাতিমান পেশাদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি জুরি বোর্ড নিম্নলিখিত পুরস্কারগুলো প্রদান করবেন:

সেরা ফিকশন/ন্যারেটিভ পুরস্কার: ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা তথ্যচিত্র পুরস্কার: ৫০,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা শৈল্পিক কৃতিত্ব পুরস্কার: ৪৫,০০০ মার্কিন ডলার

সেরা অভিনয় পুরস্কার: ১৫,০০০ মার্কিন ডলার

এছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফিল্ম ক্রিটিকস (FIPRESCI) তিন সদস্যের এক পৃথক জুরি বোর্ড নিয়ে এবারের উৎসবে যোগ দিচ্ছে। প্রতিযোগিতায় সেরা ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখা চলচ্চিত্রটিকে তারা বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবে।

উৎসবের সময়সূচি:

আগামী ১৯ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র উৎসব। যেখানে বিশ্বজুড়ে স্বাধীন চলচ্চিত্রের মূলধারার সাথে যুক্ত নির্মাতা, দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক প্ল্যাটফর্মে সমবেত হবেন।

মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাসভবনে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। দ্রুত তাকে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দীর্ঘ ৪৫ মিনিট যাবৎ সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোর ৫:২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার গণমাধ্যমকে জানান, ‘টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পরও তার কোনো সাড়া মেলেনি। একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) দায়ের করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।