২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯১টি দেশের ১০ হাজার তরুণ প্রতিনিধিকে ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ বার্তা

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
১৯১টি দেশের ১০ হাজার তরুণ প্রতিনিধিকে ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ বার্তা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

বিশ্বের তরুণদের স্বপ্নপূরণে রাশিয়াকে সহযোগী হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার শুভেচ্ছা বার্তা ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও মূল আয়োজনের উদ্বোধন হয় আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে বিকেলে ইকাতেরিনবার্গের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, এ বছর বিশ্বের তরুণরা সমবেত হয়েছেন উরাল অঞ্চলের রাজধানী ইয়েকাতেরিনবার্গে—এমন এক শহরে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার মিলন ঘটেছে এবং যেখানে ইতিহাস জীবন্ত হয়ে আছে।

পুতিন তার বক্তব্যে উরাল অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও বৌদ্ধিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চল এমন সব ধারণা সৃষ্টি করেছে, যা রাশিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রথম কারখানা, রাশিয়ার শিল্পবিপ্লব এবং আধুনিক যুগের অসংখ্য বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

তার মতে, নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাওয়া বিশ্ব ও ভবিষ্যৎ মানবসমাজ নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইয়েকাতেরিনবার্গের চেয়ে উপযুক্ত স্থান খুব কমই আছে।

তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল তরুণদের প্রতি আহ্বান। পুতিন বলেন, রুশ ভাষায় ‘মির’ শব্দের অর্থ যেমন বন্ধুত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি, তেমনি এর অর্থ বিশ্বও। এই ধারণাই রাশিয়ার বহুজাতিক রাষ্ট্রচরিত্র, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডকে ব্যাখ্যা করে।

তার ভাষায়, ‘আমরা যদি বন্ধু হই, তবে আমাদের বন্ধুত্ব হবে দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী। আমরা যদি প্রতিবেশী হই, তবে আমরা ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মান কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে মানুষ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার। কারও ভাগ্য তার জাতীয়তা, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক মর্যাদা বা পারিবারিক পটভূমি দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রতিটি জাতির স্বাধীনভাবে নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিক্ষা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সবার সমান প্রবেশাধিকার থাকা উচিত—এ কথাও জোর দিয়ে বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

তরুণদের উদ্দেশে পুতিনের বার্তার শেষ অংশে ছিল সরাসরি আহ্বান। তিনি বলেন, যারা রাশিয়ায় এসে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত হতে চান, তাদের স্বাগত জানানো হবে। আবার যারা নিজ নিজ দেশে থেকে একটি নতুন, উন্মুক্ত ও ন্যায্য বিশ্ব গড়তে ভূমিকা রাখতে চান, তাদের প্রতিও রাশিয়ার সমান সমর্থন থাকবে।

তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তোমরা সফল হবে। এটাই তোমাদের সময়। রাশিয়ার সঙ্গে তোমাদের স্বপ্ন অনুসরণ করো।’

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি, পেশাভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীর অংশগ্রহণে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশনায় রাশিয়ার কেন্দ্রীয় যুব সংস্থা রজমলোদেজ এবং ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করছে।

বাংলাদেশ থেকে এবারের উৎসবে অংশ নিয়েছেন ৭০ জন যুব প্রতিনিধি এবং চারজন গণমাধ্যমকর্মী। প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের সব খরচ বহন করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

কাতারে সবার প্রতি সাইবার প্রতারণার বিষয়ে সচেতনতার আহবান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে সবার প্রতি সাইবার প্রতারণার বিষয়ে সচেতনতার আহবান

কাতারে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সুপরিচিত কোম্পানির নাম ব্যবহার করে ভুয়া টেক্সট মেসেজ ও ইমেইলের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে অভিনব প্রতারণা। এ বিষয়ে সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীদের কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে কাতারের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA)।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এজেন্সি জানায়, প্রতারক চক্র বর্তমানে অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠান বা সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভ্রান্তিকর মেসেজ পাঠাচ্ছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত মেসেজের মাধ্যমে ম্যালওয়্যারযুক্ত লিঙ্ক বা ক্ষতিকর অ্যাটাচমেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি জনসাধারণকে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে:

  • প্রেরক যাচাই করুন: কোনো বার্তা বা ইমেলের জবাব দেওয়ার আগে বা ইন্টারঅ্যাক্ট করার আগে প্রেরক ও এর উৎস ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

  • সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করো থেকে বিরত থাকুন: বিশেষ করে অপ্রত্যাশিত কোনো ইমেল বা টেক্সট মেসেজে থাকা সন্দেহজনক লিঙ্ক কিংবা ফাইল বা অ্যাটাচমেন্ট কোনো অবস্থাতেই ওপেন করবেন না।

  • ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না: প্রেরকের পরিচয় ও সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে নিজের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

  • জরুরি বা লোভনীয় বার্তা থেকে সতর্ক থাকুন: কোনো বার্তা যদি হুট করে কোনো জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করতে বলে, তবে সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

সাইবার এজেন্সি জানিয়েছে, কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে বা ফাইল ডাউনলোড করার আগে অথবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে যোগাযোগের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো বার্তা আসল কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সবসময় বিশ্বস্ত ও অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অপব্যবহার শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের জন্য একটি অনলাইন তথ্য দেওয়ার পোর্টাল চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যাবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভিসা-সংক্রান্ত জালিয়াতি শনাক্ত ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য হলো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দ্রুত ও সহজভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতির মধ্যে জাল বা পরিবর্তিত নথি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যবহার, ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা, অস্তিত্বহীন বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন, মিথ্যা চাকরির প্রস্তাব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মতো কর্মকাণ্ড থাকতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা আবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের প্রতারণা বা ভুল তথ্যের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ভিসার অযোগ্যতা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা বা পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য থাকলে তা জানানোর সময় সংশ্লিষ্ট আবেদন বা ঘটনার যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তা তদন্ত ও মূল্যায়নে সহায়ক হবে। বিদেশে কোনো মার্কিন ভিসা আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কাছেও তা জানানো যায়। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি .gov ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

আইফোন ডুও দেখেই যদি মনে হয়—‘এই ফোনটা তো নিতেই হবে।’ তাহলে একটু থামুন। কারণ দেখতে যতই সুন্দর হোক, এই ফোন কেনার পর এমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, যেগুলো জানার পর ২,০০০ ডলার খরচ করার সিদ্ধান্তটাই বদলে যেতে পারে। বড় স্ক্রিন, ভাঁজ করা যায়, একসঙ্গে দুই অ্যাপ—সব মিলিয়ে আইফোন ডুয়ো কাগজে-কলমে অসাধারণ হলেও কেনার পর মনে হতে পারে—সাধারণ একটা ফোনই তো ভালো ছিল।

প্রথম সমস্যা— অনেক দিন ধরে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ব্যবহার করেছেন এমন মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় দিনের পর দিন ফোনটি খোলাই হয় না। কারণ বড় স্ক্রিন সবসময় প্রয়োজন হয় না। আর ভাঁজ করা অবস্থায় ফোল্ডেবল ফোন তুলনামূলক মোটা ও ভারী হওয়ায় এক হাতে ব্যবহারও অস্বস্তিকর হতে পারে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বা কোথাও দাঁড়িয়ে ফোন খুলে ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ফোনটি পড়ে গেলে সর্বনাশ। এত দামি ফোনের সঙ্গে তখন স্ক্রিনের বদলে আপনার হৃদয়টাই আগে ভেঙে যেতে পারে।

দ্বিতীয় সমস্যা— আইফোন ডুয়োতে একসঙ্গে দুই অ্যাপ চালানো যাবে। শুনতে দারুণ। কিন্তু বাস্তবে ফোনে একই সময়ে দুটো অ্যাপ কতবার দরকার হয়? ভিডিও দেখতে দেখতে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইলে সাধারণ আইফোনেই পিকচার–ইন–পিকচার সুবিধা আছে। ফলে শুধু দুই অ্যাপ পাশাপাশি চালানোর জন্য ফোন খুলে সেটআপ করার প্রয়োজন সবসময় পড়বে বলে মনে হয় না। এছাড়া সাধারণ ফোনে এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যাওয়া অনেক সময় আরও দ্রুত ও সহজ।

আরও পড়ুন

কাতারে অফিশিয়ালি কোথায় ও কত দামে পাবেন নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ এবং ফোল্ডেবল আইফোন ডুও?

তৃতীয় সমস্যা—আইফোন ডুয়োর দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। বরং আইফোন ১৮ প্রো কিনলে বেঁচে যাবে প্রায় ৮০০ ডলার। আর অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল বাজারে আসতেই স্যামসাং শুরু করেছে মজা করা। সামাজিক মাধ্যমে স্যামসাং লিখেছে, ফোল্ডেবল ফোন অনেক আগেই বানিয়ে ফেলেছি, অ্যাপল এখন পুরোনো খাবার গরম করে পরিবেশন করছে।

স্যামসাং আরও বলেছে, ‘সো ফার, সো সেইম।’ কারণ ২০১৯ সালে প্রথম গ্যালাক্সি ফোন্ড আনার পর সাত বছর ধরে তারা ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে কাজ করছে।

আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

তবে এর মানে এই নয় যে আইফোন ডুয়ো খারাপ ফোন। অ্যাপল বলছে, তাদের ফোল্ডেবল ফোনে উন্নত ডিজাইন ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও ভালো করা হয়েছে। কিন্তু আসল বিষয় হলো—ফোল্ডেবল ফোন আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। যদি বড় স্ক্রিনে কাজ করা আর একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো আপনার নিয়মিত প্রয়োজন হয়, তাহলে ডুয়ো আপনার জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু শুধু নতুন আইফোন এসেছে বলেই ১ হাজার ৯৯৯ ডলার খরচ করার আগে একটু ভাবুন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ এবং ওপেন-সোর্স কৌশলের ওপর ভর করে এআই খাতে ঘটাচ্ছে এক অভাবনীয় রূপান্তর।

মেইতুয়ানের সম্পূর্ণ দেশীয় চিপে তৈরি মডেল থেকে শুরু করে ডিপসিকের বিশ্ব কাঁপানো ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’—সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের এআই ইকোসিস্টেম এখন ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হওয়ার পথে।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কম্পিউটার চিপ রপ্তানিতে কড়াকড়ির মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশটির প্রযুক্তি জায়ান্ট থেকে শুরু করে নতুন স্টার্টআপগুলো।

চীনের এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রযুক্তি জায়ান্টদের দাপট

বাইদু

‘চীনের গুগল’ নামে পরিচিত বাইদু এআই খাতে সবচেয়ে আগে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শীর্ষ এআই গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে ‘এরনি’ নামের চ্যাটবট, যা চীনের প্রথম দিকের চ্যাটবটগুলোর একটি। তবে তাদের আয়ের বড় অংশ এখনো আসে অনলাইন সার্চ ও বিজ্ঞাপন ব্যবসা থেকে।

আলিবাবা

ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা পরিচিত তাদের ওপেন-সোর্স ‘কুয়েন’ এআই মডেলের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রামারদের কাছে এটি জনপ্রিয়। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই মডেলটি পরিবর্তন ও ব্যবহার করা যায়।

টেনসেন্ট

শেনঝেনভিত্তিক টেনসেন্টকে একসময় এআই প্রতিযোগিতায় কিছুটা সতর্ক খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হতো। তবে সম্প্রতি তারা বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পনি মা সম্প্রতি স্বীকার করেন, অতীতে টেনসেন্টের এআই উদ্যোগ ছিল ‘ফুটো জাহাজের’ মতো। এখন প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর উইচ্যাটে এআই এজেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করছে।

টিকটকের এআই

টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআইয়েও জোর দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির চ্যাটবট ‘দৌবাও’ বর্তমানে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট। এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০ কোটির বেশি। সম্প্রতি এটি অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন সুবিধাও চালু করেছে।

জুনে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘সিড্যান্স ২.৫’ নামের ভিডিও তৈরির নতুন এআই মডেল। সিনেমার মতো মানসম্মত ভিডিও তৈরির সক্ষমতার কারণে এটি কপিরাইট ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

চীনের এআই নায়ক: ডিপসিক

২০২৩ সালে একটি হেজ ফান্ডের পার্শ্বপ্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডিপসিক।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চ্যাটবট উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। অনেকেই এই ঘটনাকে এআই খাতে ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

ওপেন-সোর্স কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ডিপসিক চীনের এআই শিল্পে নতুন গতি এনে দেয়। এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘ভি৪’ মডেল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থায়ন পর্ব শেষে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

‘এআই টাইগার’ স্টার্টআপগুলো

ঝিপু এআই, মিনিম্যাক্স এবং মুনশট এআইকে একসঙ্গে বলা হয় চীনের ‘এআই টাইগার’। মূল এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তারা পুরোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

ঝিপু এআইয়ের ‘জিএলএম-৫.২’ মডেল ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের বিকল্প হিসেবে বিদেশি প্রোগ্রামারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেনের মতে, অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটিকে প্রথম চীনা মডেল হিসেবে দেখছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন শীর্ষ এআই মডেলের সমকক্ষ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়েও।

অন্যদিকে মুনশট এআই পরিচিত তাদের জনপ্রিয় ‘কিমি’ মডেলের জন্য। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন। এতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ১৫০ কোটি ডলার।

নতুন প্রতিযোগীরা

খাদ্য সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান জুনে জানায়, তাদের ‘লংক্যাট-২.০’ মডেলই প্রথম বড় আকারের এআই মডেল, যা পুরোপুরি চীনে তৈরি কম্পিউটার চিপ দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এটিকে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে।

এদিকে স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি তুলনামূলক দেরিতে এআই প্রতিযোগিতায় নামলেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। মার্চে প্রতিষ্ঠাতা লেই জুন জানান, আগামী তিন বছরে এআই খাতে অন্তত ৮৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে শাওমি।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ‘মিমো-ভি২.৫’ মডেল বর্তমানে বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের প্ল্যাটফর্ম ওপেনরাউটারে মাসিক ব্যবহারের হিসেবে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে আংশিকভাবে প্রকাশিত একটি ভুল প্রতিবেদনের কারণে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সিএনএন প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এআই নির্মিত ভুয়া প্রতিবেদনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে হামলা চালাতে প্রায় উদ্যত হয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি সূত্রের মতে, ঘটনাটি প্রায় একটি যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি কতোটা গুরুতর, এ ঘটনা তারই প্রমাণ বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশারদরা।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ভুয়া ও মিথ্যা প্রতিবেদনটি স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের এক বিশ্লেষক তৈরি করেছিলেন। তিনি একটি এআই চ্যাটবটের কাছে চীনা জাহাজটির মালামালের তালিকা (ম্যানিফেস্ট) সম্পর্কে জানতে চান।

সিএনএন জানিয়েছে, চ্যাটবটটি ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এর ওপর ভিত্তি করে জানায় যে, জাহাজটিতে একটি ‘পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম’ রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে আটক করার প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে জানতে পারা যায়, পুরো প্রতিবেদনটি আসলে এআই-এর ভুল বিশ্লেষণের ফসল।

জাহাজটিতে প্রকৃতপক্ষে কী ছিল কিংবা বিশ্লেষক কোন এআই টুল ব্যবহার করেছিলেন—তা বাণিজ্যিক টুল নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব—সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে সার্বিকভাবে এআই গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে, তাতে সম্ভাব্য টুলের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি স্মারকলিপিতে প্রতিরক্ষা বিভাগকে ‘এআই-ফার্স্ট’ বা এআই-বান্ধব সংস্থায় পরিণত করার নির্দেশনা দেন এবং মার্কিন শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মডেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানান।

তবে কৌশলটি পুরোপুরি পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। সামরিক বাহিনীকে তাদের তৈরি মডেল স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় অ্যানথ্রোপিক। এর জের ধরে সরকার তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করেছিল। যদিও পরবর্তীতে অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গ্রক ব্যবহারের সুযোগ দিতে চুক্তিবদ্ধ হয় স্পেসএক্স-এআই। পরবর্তীতে মে মাসে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগে নিজেদের এআই প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য অংশীদারত্বে আবদ্ধ হয়।

সরকারের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আগ্রাসীভাবে এগুলোর পেছনে ছুটছে। তবে এআই-এর এ ধরনের বিস্তার যে স্বাভাবিক কোনো এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি বহন করে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ।