২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কায়রো বিমানবন্দরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ছবি: আল-জাজিরা থেকে সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব ও মিসরের ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাম্প্রতিক বৈঠক এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন লোহিত সাগরের নৌপথ, সৌদি তেল অবকাঠামো এবং সুয়েজ খাল—তিনটিই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে ঝুঁকির মুখে।

১৫ সেপ্টেম্বর কায়রোতে সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠকে দুই নেতা বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সিসি একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান এবং ইয়েমেন সংকটের একটি ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ পক্ষে অবস্থান নেন।

বৈঠকের কয়েক দিন আগেই ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেবের আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। একই সময়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির তেল অবকাঠামোও হুতিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ফলে রিয়াদ এখন নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সৌদির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ মিসর?

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরব ও মিসরের স্বার্থ অনেকটাই অভিন্ন। কারণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশ করে। ফলে এই নৌপথে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রফতানি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তেমনি সুয়েজ খালের আয়ও কমে যেতে পারে।

মিসরের সিনেট সদস্য ও কায়রোর নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ আবদেল মোনেম সাঈদ মনে করেন, হুতিদের অগ্রযাত্রা সরাসরি মিসরের অর্থনীতি ও সুয়েজ খালের ওপর চাপ তৈরি করছে। তার মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত ও সামরিক সমন্বয় প্রয়োজন।

কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, কায়রো এখন সুয়েজ খাল থেকে বাব আল-মানদেব পর্যন্ত এলাকাকে একটি ধারাবাহিক নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে দেখছে। বাব আল-মানদেব অনিরাপদ হয়ে পড়লে মিসর জাহাজ চলাচল, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কৌশলগত প্রভাব—তিন ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

‘নতুন আরব ব্যবস্থা’র ইঙ্গিত

সিসি ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের আগে মিসরের পার্লামেন্টের আরববিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাহ আবু হেমিলা বলেছিলেন, এই সফর আরব ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি নতুন রূপরেখার সূচনা করতে পারে।

তার মতে, মিসর-সৌদি সম্পর্ক একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত নতুন আরব আঞ্চলিক কাঠামোর ভিত্তি হতে পারে। এর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা। পাশাপাশি ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সুদানের পরিস্থিতিও আলোচনায় থাকবে।

সিসির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতেও মিসর ও সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে বৃহত্তর আরব নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কতটা সামরিক সহায়তা দেবে মিসর?

এখন পর্যন্ত সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনও নতুন সামরিক চুক্তি বা ইয়েমেনে যৌথ সামরিক অভিযান নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তবে মিসর ইতোমধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন লোহিত সাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের অংশ। আগস্টে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সময়ে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়েই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর-সৌদি সামরিক সহযোগিতা বাড়লে তার আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামুদ্রিক নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং লোহিত সাগরে সামরিক সমন্বয় বাড়তে পারে।

তবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে মিসরের সীমা থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি। অর্থাৎ, কায়রো লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চাইবে না।

এর পেছনে মিসরের অতীত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন মিসরীয় নেতা গামাল আবদেল নাসের উত্তর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সেই সামরিক অভিযানে মিসরের উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটে এবং প্রত্যাশিত ফলও আসেনি।

ফলে ইয়েমেন নিয়ে কায়রোর নীতিতে সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রা

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। তারা বাব আল-মানদেবের কাছের মায়ুন দ্বীপ ও ধুবাব এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, হুতিরা গত কয়েক দশকে একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যারা নৌপথ ও তেল অবকাঠামোয় হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের নিরাপত্তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিসর-সৌদি সমঝোতার সঙ্গে সুদানের যোগসূত্র

ইয়েমেন ছাড়াও মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে সুদানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে।

মিসরের সরকারি তথ্যসেবা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ সুদানের ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার যেকোনও হুমকিকে মিসর, সৌদি আরব ও পুরো অঞ্চলের সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, দুই দেশই রাষ্ট্রের বিভক্তি, সশস্ত্র মিলিশিয়া, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং বাইরের শক্তির সমর্থন পাওয়া অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া ও এখন ইয়েমেনেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্বে কঠিন ভারসাম্য

তবে মিসরের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো পুরোপুরি সহজ নয়। কারণ মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

সুদানের যুদ্ধে আমিরাতের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে মিসর সুদানের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইয়েমেনেও সৌদি আরব ও আমিরাতের নীতিতে পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে কায়রোকে রিয়াদ ও আবুধাবির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর সম্ভবত নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, কিন্তু একই সঙ্গে আমিরাতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ধরে রাখবে।

এখানে অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে মিসরে আমিরাতের নিট বিনিয়োগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দ্বিগুণেরও বেশি—যা কায়রোর জন্য আবুধাবির অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো?

সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। পাকিস্তান ও তুরস্ককে যুক্ত করে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, লোহিত সাগরে বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়ার মতো পদক্ষেপ তারই অংশ।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা দেখিয়েছে, বিভিন্ন নিরাপত্তা অংশীদার থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবকে এখনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
মিসরের সঙ্গে নতুন করে নিরাপত্তা সমন্বয় সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হতে পারে—যেখানে সৌদি আরব একক কোনও পরাশক্তির ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক একাধিক অংশীদারকে নিয়ে নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।

ইয়েমেনে সামরিক সমাধানের বদলে রাজনৈতিক পথ

সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মিসর ইয়েমেন সংকটের ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে, লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় সামরিক সহযোগিতা বাড়লেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে কায়রো সতর্ক থাকবে।

অর্থাৎ, সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের নিরাপত্তায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে মিসরের ভূমিকা সম্ভবত গোয়েন্দা তথ্য, নৌ নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা থাকবে। ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোই কায়রোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাম্প্রতিক বৈঠক তাই শুধু মিসর-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং বাব আল-মানদেব, সুয়েজ খাল, সৌদি তেল রফতানি এবং বৃহত্তর আরব নিরাপত্তাকে ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মিসর শেষ পর্যন্ত কতটা সামরিকভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে হুতিদের অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগরের নৌপথের পরিস্থিতি এবং ইয়েমেন সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সম্ভাবনার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

কাতারে সবার প্রতি সাইবার প্রতারণার বিষয়ে সচেতনতার আহবান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে সবার প্রতি সাইবার প্রতারণার বিষয়ে সচেতনতার আহবান

কাতারে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সুপরিচিত কোম্পানির নাম ব্যবহার করে ভুয়া টেক্সট মেসেজ ও ইমেইলের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে অভিনব প্রতারণা। এ বিষয়ে সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীদের কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে কাতারের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA)।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এজেন্সি জানায়, প্রতারক চক্র বর্তমানে অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠান বা সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভ্রান্তিকর মেসেজ পাঠাচ্ছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত মেসেজের মাধ্যমে ম্যালওয়্যারযুক্ত লিঙ্ক বা ক্ষতিকর অ্যাটাচমেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি জনসাধারণকে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে:

  • প্রেরক যাচাই করুন: কোনো বার্তা বা ইমেলের জবাব দেওয়ার আগে বা ইন্টারঅ্যাক্ট করার আগে প্রেরক ও এর উৎস ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

  • সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করো থেকে বিরত থাকুন: বিশেষ করে অপ্রত্যাশিত কোনো ইমেল বা টেক্সট মেসেজে থাকা সন্দেহজনক লিঙ্ক কিংবা ফাইল বা অ্যাটাচমেন্ট কোনো অবস্থাতেই ওপেন করবেন না।

  • ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না: প্রেরকের পরিচয় ও সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে নিজের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

  • জরুরি বা লোভনীয় বার্তা থেকে সতর্ক থাকুন: কোনো বার্তা যদি হুট করে কোনো জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করতে বলে, তবে সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

সাইবার এজেন্সি জানিয়েছে, কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে বা ফাইল ডাউনলোড করার আগে অথবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে যোগাযোগের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো বার্তা আসল কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সবসময় বিশ্বস্ত ও অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও গতিশীল করতে আসছে নতুন পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংক

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও গতিশীল করতে আসছে নতুন পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংক

দেশে প্রাথমিকভাবে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাথমিক সম্মতিপত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) প্রদান করা হবে।

অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক পাঁচটি হলো—বিকাশ, বুস্ট-রবি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার।

দেশে প্রাথমিকভাবে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাথমিক সম্মতিপত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) প্রদান করা হবে।

অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক পাঁচটি হলো—বিকাশ, বুস্ট-রবি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রস্তাবিত পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের উদ্দেশ্যে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন দাখিল করেছিল। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।

উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ২০২৩ সালের অক্টোবরে 'নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি' ও 'কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি' নামে দুটি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল লাইসেন্স স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অপব্যবহার শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের জন্য একটি অনলাইন তথ্য দেওয়ার পোর্টাল চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যাবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভিসা-সংক্রান্ত জালিয়াতি শনাক্ত ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য হলো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দ্রুত ও সহজভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতির মধ্যে জাল বা পরিবর্তিত নথি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যবহার, ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা, অস্তিত্বহীন বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন, মিথ্যা চাকরির প্রস্তাব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মতো কর্মকাণ্ড থাকতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা আবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের প্রতারণা বা ভুল তথ্যের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ভিসার অযোগ্যতা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা বা পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য থাকলে তা জানানোর সময় সংশ্লিষ্ট আবেদন বা ঘটনার যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তা তদন্ত ও মূল্যায়নে সহায়ক হবে। বিদেশে কোনো মার্কিন ভিসা আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কাছেও তা জানানো যায়। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি .gov ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

আইফোন ডুও দেখেই যদি মনে হয়—‘এই ফোনটা তো নিতেই হবে।’ তাহলে একটু থামুন। কারণ দেখতে যতই সুন্দর হোক, এই ফোন কেনার পর এমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, যেগুলো জানার পর ২,০০০ ডলার খরচ করার সিদ্ধান্তটাই বদলে যেতে পারে। বড় স্ক্রিন, ভাঁজ করা যায়, একসঙ্গে দুই অ্যাপ—সব মিলিয়ে আইফোন ডুয়ো কাগজে-কলমে অসাধারণ হলেও কেনার পর মনে হতে পারে—সাধারণ একটা ফোনই তো ভালো ছিল।

প্রথম সমস্যা— অনেক দিন ধরে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ব্যবহার করেছেন এমন মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় দিনের পর দিন ফোনটি খোলাই হয় না। কারণ বড় স্ক্রিন সবসময় প্রয়োজন হয় না। আর ভাঁজ করা অবস্থায় ফোল্ডেবল ফোন তুলনামূলক মোটা ও ভারী হওয়ায় এক হাতে ব্যবহারও অস্বস্তিকর হতে পারে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বা কোথাও দাঁড়িয়ে ফোন খুলে ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ফোনটি পড়ে গেলে সর্বনাশ। এত দামি ফোনের সঙ্গে তখন স্ক্রিনের বদলে আপনার হৃদয়টাই আগে ভেঙে যেতে পারে।

দ্বিতীয় সমস্যা— আইফোন ডুয়োতে একসঙ্গে দুই অ্যাপ চালানো যাবে। শুনতে দারুণ। কিন্তু বাস্তবে ফোনে একই সময়ে দুটো অ্যাপ কতবার দরকার হয়? ভিডিও দেখতে দেখতে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইলে সাধারণ আইফোনেই পিকচার–ইন–পিকচার সুবিধা আছে। ফলে শুধু দুই অ্যাপ পাশাপাশি চালানোর জন্য ফোন খুলে সেটআপ করার প্রয়োজন সবসময় পড়বে বলে মনে হয় না। এছাড়া সাধারণ ফোনে এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যাওয়া অনেক সময় আরও দ্রুত ও সহজ।

আরও পড়ুন

কাতারে অফিশিয়ালি কোথায় ও কত দামে পাবেন নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ এবং ফোল্ডেবল আইফোন ডুও?

তৃতীয় সমস্যা—আইফোন ডুয়োর দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। বরং আইফোন ১৮ প্রো কিনলে বেঁচে যাবে প্রায় ৮০০ ডলার। আর অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল বাজারে আসতেই স্যামসাং শুরু করেছে মজা করা। সামাজিক মাধ্যমে স্যামসাং লিখেছে, ফোল্ডেবল ফোন অনেক আগেই বানিয়ে ফেলেছি, অ্যাপল এখন পুরোনো খাবার গরম করে পরিবেশন করছে।

স্যামসাং আরও বলেছে, ‘সো ফার, সো সেইম।’ কারণ ২০১৯ সালে প্রথম গ্যালাক্সি ফোন্ড আনার পর সাত বছর ধরে তারা ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে কাজ করছে।

আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

তবে এর মানে এই নয় যে আইফোন ডুয়ো খারাপ ফোন। অ্যাপল বলছে, তাদের ফোল্ডেবল ফোনে উন্নত ডিজাইন ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও ভালো করা হয়েছে। কিন্তু আসল বিষয় হলো—ফোল্ডেবল ফোন আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। যদি বড় স্ক্রিনে কাজ করা আর একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো আপনার নিয়মিত প্রয়োজন হয়, তাহলে ডুয়ো আপনার জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু শুধু নতুন আইফোন এসেছে বলেই ১ হাজার ৯৯৯ ডলার খরচ করার আগে একটু ভাবুন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ এবং ওপেন-সোর্স কৌশলের ওপর ভর করে এআই খাতে ঘটাচ্ছে এক অভাবনীয় রূপান্তর।

মেইতুয়ানের সম্পূর্ণ দেশীয় চিপে তৈরি মডেল থেকে শুরু করে ডিপসিকের বিশ্ব কাঁপানো ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’—সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের এআই ইকোসিস্টেম এখন ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হওয়ার পথে।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কম্পিউটার চিপ রপ্তানিতে কড়াকড়ির মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশটির প্রযুক্তি জায়ান্ট থেকে শুরু করে নতুন স্টার্টআপগুলো।

চীনের এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রযুক্তি জায়ান্টদের দাপট

বাইদু

‘চীনের গুগল’ নামে পরিচিত বাইদু এআই খাতে সবচেয়ে আগে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শীর্ষ এআই গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে ‘এরনি’ নামের চ্যাটবট, যা চীনের প্রথম দিকের চ্যাটবটগুলোর একটি। তবে তাদের আয়ের বড় অংশ এখনো আসে অনলাইন সার্চ ও বিজ্ঞাপন ব্যবসা থেকে।

আলিবাবা

ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা পরিচিত তাদের ওপেন-সোর্স ‘কুয়েন’ এআই মডেলের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রামারদের কাছে এটি জনপ্রিয়। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই মডেলটি পরিবর্তন ও ব্যবহার করা যায়।

টেনসেন্ট

শেনঝেনভিত্তিক টেনসেন্টকে একসময় এআই প্রতিযোগিতায় কিছুটা সতর্ক খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হতো। তবে সম্প্রতি তারা বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পনি মা সম্প্রতি স্বীকার করেন, অতীতে টেনসেন্টের এআই উদ্যোগ ছিল ‘ফুটো জাহাজের’ মতো। এখন প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর উইচ্যাটে এআই এজেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করছে।

টিকটকের এআই

টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআইয়েও জোর দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির চ্যাটবট ‘দৌবাও’ বর্তমানে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট। এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০ কোটির বেশি। সম্প্রতি এটি অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন সুবিধাও চালু করেছে।

জুনে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘সিড্যান্স ২.৫’ নামের ভিডিও তৈরির নতুন এআই মডেল। সিনেমার মতো মানসম্মত ভিডিও তৈরির সক্ষমতার কারণে এটি কপিরাইট ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

চীনের এআই নায়ক: ডিপসিক

২০২৩ সালে একটি হেজ ফান্ডের পার্শ্বপ্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডিপসিক।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চ্যাটবট উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। অনেকেই এই ঘটনাকে এআই খাতে ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

ওপেন-সোর্স কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ডিপসিক চীনের এআই শিল্পে নতুন গতি এনে দেয়। এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘ভি৪’ মডেল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থায়ন পর্ব শেষে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

‘এআই টাইগার’ স্টার্টআপগুলো

ঝিপু এআই, মিনিম্যাক্স এবং মুনশট এআইকে একসঙ্গে বলা হয় চীনের ‘এআই টাইগার’। মূল এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তারা পুরোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

ঝিপু এআইয়ের ‘জিএলএম-৫.২’ মডেল ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের বিকল্প হিসেবে বিদেশি প্রোগ্রামারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেনের মতে, অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটিকে প্রথম চীনা মডেল হিসেবে দেখছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন শীর্ষ এআই মডেলের সমকক্ষ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়েও।

অন্যদিকে মুনশট এআই পরিচিত তাদের জনপ্রিয় ‘কিমি’ মডেলের জন্য। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন। এতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ১৫০ কোটি ডলার।

নতুন প্রতিযোগীরা

খাদ্য সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান জুনে জানায়, তাদের ‘লংক্যাট-২.০’ মডেলই প্রথম বড় আকারের এআই মডেল, যা পুরোপুরি চীনে তৈরি কম্পিউটার চিপ দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এটিকে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে।

এদিকে স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি তুলনামূলক দেরিতে এআই প্রতিযোগিতায় নামলেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। মার্চে প্রতিষ্ঠাতা লেই জুন জানান, আগামী তিন বছরে এআই খাতে অন্তত ৮৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে শাওমি।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ‘মিমো-ভি২.৫’ মডেল বর্তমানে বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের প্ল্যাটফর্ম ওপেনরাউটারে মাসিক ব্যবহারের হিসেবে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।