২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

যানজটে আটকে থাকা সড়কে ধীরগতিতে চলছে ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি। নতুন স্টেকহাউসগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে আমদানি করা ওয়াগিউ গরুর মাংস। মিয়ামি ও জ্যামাইকা থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ডিজেদের। শহরের আলোচনায় এখন বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন।

গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে এখন এমন বিলাসিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে শহরটি অনেক দূরে হলেও ওই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ ফেলেছে।

কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এই অস্থিরতা থেকে তেল বিক্রির আয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী ইংরেজিভাষী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে তেল উৎপাদন শুরু করা গায়ানা এ বছর আনুমানিক ৬৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব পেতে যাচ্ছে, যা বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। হরমুজ, বাব আল-মান্দেবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। আর এই প্রতিযোগিতায় আয় বাড়ছে গায়ানার।

এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে দেশটি।

তেলের বাজারে আমেরিকা মহাদেশ

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় তেল উৎপাদন বাড়ছে। গায়ানার পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও শিগগির উৎপাদন বাড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৭ শতাংশ এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে আসে। এক দশক আগে এই হার ছিল ২৭ শতাংশ।

জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, গায়ানা দেশ হিসেবে ছোট হলেও হঠাৎ করেই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি কেবল শুরু।

বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল। রামবারানের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গায়ানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।
তবে তেলের বাজারে এই জয়জয়কার দেশটিতে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা সাধারণ মানুষের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি বিপুল সম্পদ গড়ছে, আর সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক দুর্নীতি, আবাসন সংকট ও নিম্নমানের সরকারি সেবার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।

বাড়ছে বৈষম্যের অভিযোগ

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গায়ানা এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশটির মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার, যা উরুগুয়ে ও চিলির মতো তুলনামূলক সমৃদ্ধ দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়ালে দেশটি হঠাৎ করে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এমন হয় না।

জর্জটাউনের খালগুলোতে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। বন্যা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা জরাজীর্ণ বাড়িতে পরিবারগুলো গাদাগাদি করে বসবাস করে। বিশৃঙ্খল মোড় পার হতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। বন্দুকের মুখে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

দ্রুত বদলে যাওয়া জর্জটাউনের চেহারাও নতুন করে বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। নগরীর ঐতিহাসিক কাঠের স্থাপনাগুলো ভেঙে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে কংক্রিট ও ইস্পাতের বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থমাস সিং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এখন যা কিছু তৈরি করা হচ্ছে, সব কিছুই কুৎসিত।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া সংকট গায়ানার একটি বৈপরীত্যও সামনে এনেছে। দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করলেও তা থেকে গ্যাসোলিন বা ডিজেলের মতো জ্বালানি তৈরির অবকাঠামো নেই। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল গায়ানায় বিদ্যুতের দাম বেশি। এই বসন্তেও দেশটি সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকটে পড়েছিল।

তেল থেকে পাওয়া অর্থের সুফল অসমভাবে বণ্টিত হওয়া নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আবার গায়ানা অন্যান্য দেশের মতো দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও তেলবহির্ভূত অর্থনীতির অভাবে পড়বে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে উড়োজাহাজ ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র এসব আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীদের কাজে লাগাতে বাধ্য করতে হবে। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

গোভিয়া বলেন, ‘অন্য দেশগুলো কোথায় ভুল করেছে, গায়ানার নেতৃত্ব তা জানে।’

অবকাঠামো বিনিয়োগ ও শক্তিশালী কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাচ্ছি যে সবকিছু সঠিকভাবে করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’ তবে গায়ানা সরকার নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল গায়ানার ‘প্রতিটি পরিবার’ পাবে বলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী। মূল্যস্ফীতি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গায়ানা

গায়ানার এই অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন গায়ানার গুরুত্বও বাড়ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল রাজস্বে মানুষের জীবনযাত্রার মান মৌলিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করছেন গায়ানার সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা কর কমানো, সেতু ও মহাসড়কের মতো নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করছেন।

গায়ানার জনসংখ্যা কম এবং তেলের মজুত বিপুল হওয়ায় এসব উদ্যোগ দ্রুত সাধারণ জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মাথাপিছু তেল মজুতের মূল্যমানের হিসাবে কুয়েতের পর গায়ানার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে অনুমান করা হয়েছে।

তবে জুলাইয়ে সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন গণহত্যা ও আত্মহত্যার পর এটিই ছিল গায়ানার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।

ঘটনার পর বিক্ষোভ ও শোকসভায় অংশ নেওয়া অনেকে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিহতদের অনেকেই এমন মানুষ ছিলেন, যারা গায়ানা সরকারের তেলসম্পদ থেকে বাড়তে থাকা অর্থের মধ্যেও জীবন চালিয়ে যেতে সংগ্রাম করছিলেন।

এই ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী রোমোলা লুকাস বলেন, ‘এমন একটি উত্থানের কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত, যার কোনো সুফল অধিকাংশ গায়ানাবাসীর জীবনে নেই।’

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাপ

গায়ানার রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনায় দুর্নীতি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আধুনিক দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ নির্বাচনী অচলাবস্থার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।

আলী বারবার কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ওই খামারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে সামনে এনেছেন।
মোহামেদ নিজেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিরোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়ছে গায়ানায়। এক্সন এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এসেকুইবো অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় তেল পাওয়ার পর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এদিকে ভেনেজুয়েলার নেতারা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর দাবি জোরদার করছেন।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গায়ানার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা আগে এসেকুইবো সীমান্তের দিকে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এক্সনের ভাড়া করা একটি ভূকম্পন গবেষণা জাহাজ তারা আটক করেছিল। সেইসঙ্গে গায়ানার একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল।

এক বছরেরও কম সময় আগে জর্জটাউনের একটি মবিল গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ বছরের একটি শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। এটি গায়ানাকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে আসে।

ভেনেজুয়েলার সরকার ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গায়ানার অনেকে ভেবেছিলেন, দুই দেশের বিরোধ কমে আসবে।
কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা।

ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ এই বিরোধকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অংশ নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার দাবির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রদ্রিগেজের এসব পদক্ষেপ গায়ানার কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গায়ানাকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। দেশটির জাহাজে হামলা চালানোর পর গায়ানাকে সমর্থন করেছিল তারা।

এদিকে সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ২০২৭ সালের শুরুতে আসতে পারে। এর আগে গায়ানার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কি কার্যত দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখছে এবং এসেকুইবোর জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?

অর্থনীতিবিদ থমাস সিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নেই, শুধু স্বার্থ আছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকা মহাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গায়ানার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো জনসংখ্যার পরিবর্তন। কাজের সন্ধানে কিউবা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করছেন। শ্রমিক সংকট কমাতে গায়ানা সরকার মূলত এই প্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে।

তাদের আগমন গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার বদলে যাওয়া পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এক দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যটি বছরের পর বছর স্থবিরতা ও পতন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি গায়ানায় আসা ৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোস বলেন, ‘এই জায়গায় কাজের সুযোগ আছে।’

ব্যস্ত বোর্দা মার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক সময় নিজেকে স্থানীয় মানুষের মতো মনে হয়। ‘আমার ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না,’ বলেন তিনি।

কাতারে সবার প্রতি সাইবার প্রতারণার বিষয়ে সচেতনতার আহবান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে সবার প্রতি সাইবার প্রতারণার বিষয়ে সচেতনতার আহবান

কাতারে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সুপরিচিত কোম্পানির নাম ব্যবহার করে ভুয়া টেক্সট মেসেজ ও ইমেইলের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে অভিনব প্রতারণা। এ বিষয়ে সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীদের কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে কাতারের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA)।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এজেন্সি জানায়, প্রতারক চক্র বর্তমানে অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠান বা সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভ্রান্তিকর মেসেজ পাঠাচ্ছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত মেসেজের মাধ্যমে ম্যালওয়্যারযুক্ত লিঙ্ক বা ক্ষতিকর অ্যাটাচমেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি জনসাধারণকে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে:

  • প্রেরক যাচাই করুন: কোনো বার্তা বা ইমেলের জবাব দেওয়ার আগে বা ইন্টারঅ্যাক্ট করার আগে প্রেরক ও এর উৎস ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

  • সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করো থেকে বিরত থাকুন: বিশেষ করে অপ্রত্যাশিত কোনো ইমেল বা টেক্সট মেসেজে থাকা সন্দেহজনক লিঙ্ক কিংবা ফাইল বা অ্যাটাচমেন্ট কোনো অবস্থাতেই ওপেন করবেন না।

  • ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না: প্রেরকের পরিচয় ও সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে নিজের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

  • জরুরি বা লোভনীয় বার্তা থেকে সতর্ক থাকুন: কোনো বার্তা যদি হুট করে কোনো জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করতে বলে, তবে সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

সাইবার এজেন্সি জানিয়েছে, কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে বা ফাইল ডাউনলোড করার আগে অথবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে যোগাযোগের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো বার্তা আসল কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সবসময় বিশ্বস্ত ও অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অপব্যবহার শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের জন্য একটি অনলাইন তথ্য দেওয়ার পোর্টাল চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যাবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভিসা-সংক্রান্ত জালিয়াতি শনাক্ত ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য হলো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দ্রুত ও সহজভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতির মধ্যে জাল বা পরিবর্তিত নথি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যবহার, ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা, অস্তিত্বহীন বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন, মিথ্যা চাকরির প্রস্তাব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মতো কর্মকাণ্ড থাকতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা আবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের প্রতারণা বা ভুল তথ্যের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ভিসার অযোগ্যতা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা বা পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য থাকলে তা জানানোর সময় সংশ্লিষ্ট আবেদন বা ঘটনার যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তা তদন্ত ও মূল্যায়নে সহায়ক হবে। বিদেশে কোনো মার্কিন ভিসা আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কাছেও তা জানানো যায়। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি .gov ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

আইফোন ডুও দেখেই যদি মনে হয়—‘এই ফোনটা তো নিতেই হবে।’ তাহলে একটু থামুন। কারণ দেখতে যতই সুন্দর হোক, এই ফোন কেনার পর এমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, যেগুলো জানার পর ২,০০০ ডলার খরচ করার সিদ্ধান্তটাই বদলে যেতে পারে। বড় স্ক্রিন, ভাঁজ করা যায়, একসঙ্গে দুই অ্যাপ—সব মিলিয়ে আইফোন ডুয়ো কাগজে-কলমে অসাধারণ হলেও কেনার পর মনে হতে পারে—সাধারণ একটা ফোনই তো ভালো ছিল।

প্রথম সমস্যা— অনেক দিন ধরে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ব্যবহার করেছেন এমন মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় দিনের পর দিন ফোনটি খোলাই হয় না। কারণ বড় স্ক্রিন সবসময় প্রয়োজন হয় না। আর ভাঁজ করা অবস্থায় ফোল্ডেবল ফোন তুলনামূলক মোটা ও ভারী হওয়ায় এক হাতে ব্যবহারও অস্বস্তিকর হতে পারে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বা কোথাও দাঁড়িয়ে ফোন খুলে ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ফোনটি পড়ে গেলে সর্বনাশ। এত দামি ফোনের সঙ্গে তখন স্ক্রিনের বদলে আপনার হৃদয়টাই আগে ভেঙে যেতে পারে।

দ্বিতীয় সমস্যা— আইফোন ডুয়োতে একসঙ্গে দুই অ্যাপ চালানো যাবে। শুনতে দারুণ। কিন্তু বাস্তবে ফোনে একই সময়ে দুটো অ্যাপ কতবার দরকার হয়? ভিডিও দেখতে দেখতে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইলে সাধারণ আইফোনেই পিকচার–ইন–পিকচার সুবিধা আছে। ফলে শুধু দুই অ্যাপ পাশাপাশি চালানোর জন্য ফোন খুলে সেটআপ করার প্রয়োজন সবসময় পড়বে বলে মনে হয় না। এছাড়া সাধারণ ফোনে এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যাওয়া অনেক সময় আরও দ্রুত ও সহজ।

আরও পড়ুন

কাতারে অফিশিয়ালি কোথায় ও কত দামে পাবেন নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ এবং ফোল্ডেবল আইফোন ডুও?

তৃতীয় সমস্যা—আইফোন ডুয়োর দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। বরং আইফোন ১৮ প্রো কিনলে বেঁচে যাবে প্রায় ৮০০ ডলার। আর অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল বাজারে আসতেই স্যামসাং শুরু করেছে মজা করা। সামাজিক মাধ্যমে স্যামসাং লিখেছে, ফোল্ডেবল ফোন অনেক আগেই বানিয়ে ফেলেছি, অ্যাপল এখন পুরোনো খাবার গরম করে পরিবেশন করছে।

স্যামসাং আরও বলেছে, ‘সো ফার, সো সেইম।’ কারণ ২০১৯ সালে প্রথম গ্যালাক্সি ফোন্ড আনার পর সাত বছর ধরে তারা ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে কাজ করছে।

আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

তবে এর মানে এই নয় যে আইফোন ডুয়ো খারাপ ফোন। অ্যাপল বলছে, তাদের ফোল্ডেবল ফোনে উন্নত ডিজাইন ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও ভালো করা হয়েছে। কিন্তু আসল বিষয় হলো—ফোল্ডেবল ফোন আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। যদি বড় স্ক্রিনে কাজ করা আর একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো আপনার নিয়মিত প্রয়োজন হয়, তাহলে ডুয়ো আপনার জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু শুধু নতুন আইফোন এসেছে বলেই ১ হাজার ৯৯৯ ডলার খরচ করার আগে একটু ভাবুন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ এবং ওপেন-সোর্স কৌশলের ওপর ভর করে এআই খাতে ঘটাচ্ছে এক অভাবনীয় রূপান্তর।

মেইতুয়ানের সম্পূর্ণ দেশীয় চিপে তৈরি মডেল থেকে শুরু করে ডিপসিকের বিশ্ব কাঁপানো ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’—সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের এআই ইকোসিস্টেম এখন ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হওয়ার পথে।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কম্পিউটার চিপ রপ্তানিতে কড়াকড়ির মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশটির প্রযুক্তি জায়ান্ট থেকে শুরু করে নতুন স্টার্টআপগুলো।

চীনের এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রযুক্তি জায়ান্টদের দাপট

বাইদু

‘চীনের গুগল’ নামে পরিচিত বাইদু এআই খাতে সবচেয়ে আগে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শীর্ষ এআই গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে ‘এরনি’ নামের চ্যাটবট, যা চীনের প্রথম দিকের চ্যাটবটগুলোর একটি। তবে তাদের আয়ের বড় অংশ এখনো আসে অনলাইন সার্চ ও বিজ্ঞাপন ব্যবসা থেকে।

আলিবাবা

ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা পরিচিত তাদের ওপেন-সোর্স ‘কুয়েন’ এআই মডেলের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রামারদের কাছে এটি জনপ্রিয়। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই মডেলটি পরিবর্তন ও ব্যবহার করা যায়।

টেনসেন্ট

শেনঝেনভিত্তিক টেনসেন্টকে একসময় এআই প্রতিযোগিতায় কিছুটা সতর্ক খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হতো। তবে সম্প্রতি তারা বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পনি মা সম্প্রতি স্বীকার করেন, অতীতে টেনসেন্টের এআই উদ্যোগ ছিল ‘ফুটো জাহাজের’ মতো। এখন প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর উইচ্যাটে এআই এজেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করছে।

টিকটকের এআই

টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআইয়েও জোর দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির চ্যাটবট ‘দৌবাও’ বর্তমানে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট। এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০ কোটির বেশি। সম্প্রতি এটি অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন সুবিধাও চালু করেছে।

জুনে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘সিড্যান্স ২.৫’ নামের ভিডিও তৈরির নতুন এআই মডেল। সিনেমার মতো মানসম্মত ভিডিও তৈরির সক্ষমতার কারণে এটি কপিরাইট ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

চীনের এআই নায়ক: ডিপসিক

২০২৩ সালে একটি হেজ ফান্ডের পার্শ্বপ্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডিপসিক।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চ্যাটবট উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। অনেকেই এই ঘটনাকে এআই খাতে ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

ওপেন-সোর্স কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ডিপসিক চীনের এআই শিল্পে নতুন গতি এনে দেয়। এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘ভি৪’ মডেল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থায়ন পর্ব শেষে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

‘এআই টাইগার’ স্টার্টআপগুলো

ঝিপু এআই, মিনিম্যাক্স এবং মুনশট এআইকে একসঙ্গে বলা হয় চীনের ‘এআই টাইগার’। মূল এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তারা পুরোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

ঝিপু এআইয়ের ‘জিএলএম-৫.২’ মডেল ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের বিকল্প হিসেবে বিদেশি প্রোগ্রামারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেনের মতে, অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটিকে প্রথম চীনা মডেল হিসেবে দেখছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন শীর্ষ এআই মডেলের সমকক্ষ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়েও।

অন্যদিকে মুনশট এআই পরিচিত তাদের জনপ্রিয় ‘কিমি’ মডেলের জন্য। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন। এতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ১৫০ কোটি ডলার।

নতুন প্রতিযোগীরা

খাদ্য সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান জুনে জানায়, তাদের ‘লংক্যাট-২.০’ মডেলই প্রথম বড় আকারের এআই মডেল, যা পুরোপুরি চীনে তৈরি কম্পিউটার চিপ দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এটিকে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে।

এদিকে স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি তুলনামূলক দেরিতে এআই প্রতিযোগিতায় নামলেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। মার্চে প্রতিষ্ঠাতা লেই জুন জানান, আগামী তিন বছরে এআই খাতে অন্তত ৮৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে শাওমি।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ‘মিমো-ভি২.৫’ মডেল বর্তমানে বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের প্ল্যাটফর্ম ওপেনরাউটারে মাসিক ব্যবহারের হিসেবে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে আংশিকভাবে প্রকাশিত একটি ভুল প্রতিবেদনের কারণে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সিএনএন প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এআই নির্মিত ভুয়া প্রতিবেদনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে হামলা চালাতে প্রায় উদ্যত হয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি সূত্রের মতে, ঘটনাটি প্রায় একটি যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি কতোটা গুরুতর, এ ঘটনা তারই প্রমাণ বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশারদরা।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ভুয়া ও মিথ্যা প্রতিবেদনটি স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের এক বিশ্লেষক তৈরি করেছিলেন। তিনি একটি এআই চ্যাটবটের কাছে চীনা জাহাজটির মালামালের তালিকা (ম্যানিফেস্ট) সম্পর্কে জানতে চান।

সিএনএন জানিয়েছে, চ্যাটবটটি ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এর ওপর ভিত্তি করে জানায় যে, জাহাজটিতে একটি ‘পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম’ রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে আটক করার প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে জানতে পারা যায়, পুরো প্রতিবেদনটি আসলে এআই-এর ভুল বিশ্লেষণের ফসল।

জাহাজটিতে প্রকৃতপক্ষে কী ছিল কিংবা বিশ্লেষক কোন এআই টুল ব্যবহার করেছিলেন—তা বাণিজ্যিক টুল নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব—সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে সার্বিকভাবে এআই গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে, তাতে সম্ভাব্য টুলের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি স্মারকলিপিতে প্রতিরক্ষা বিভাগকে ‘এআই-ফার্স্ট’ বা এআই-বান্ধব সংস্থায় পরিণত করার নির্দেশনা দেন এবং মার্কিন শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মডেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানান।

তবে কৌশলটি পুরোপুরি পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। সামরিক বাহিনীকে তাদের তৈরি মডেল স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় অ্যানথ্রোপিক। এর জের ধরে সরকার তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করেছিল। যদিও পরবর্তীতে অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গ্রক ব্যবহারের সুযোগ দিতে চুক্তিবদ্ধ হয় স্পেসএক্স-এআই। পরবর্তীতে মে মাসে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগে নিজেদের এআই প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য অংশীদারত্বে আবদ্ধ হয়।

সরকারের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আগ্রাসীভাবে এগুলোর পেছনে ছুটছে। তবে এআই-এর এ ধরনের বিস্তার যে স্বাভাবিক কোনো এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি বহন করে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ।