১৭ আগস্ট ২০২৬

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে নিঃস্ব ১৫ বাংলাদেশি: ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে নিঃস্ব ১৫ বাংলাদেশি: ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার

ভূমধ্যসাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধারভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ১৫ বাংলাদেশি ও ৩২ মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জনকে উদ্ধার করেছে ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃতদের মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। সম্প্রতি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন পোর্ট সাঈদে যান। সেখানে তারা সুয়েজ ক্যানাল কর্তৃপক্ষের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা ও দ্রুত দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে আগ্রহী গ্রিস

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

আটক বাংলাদেশিরা জানান, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা লিবিয়া যান। সেখানে অবস্থানকালে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারী বা মাফিয়া চক্রের ফাঁদে পড়েন। ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যেকে ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করে ইউরোপযাত্রার চুক্তি করেন। এই টাকার জোগান দিতে অনেকে দেশে থাকা জমিজমা বিক্রি করেছেন বলেও জানান।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, গত ১০ জুলাই রাতে একটি রাবারের নৌকায় লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন তারা। কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় নৌকাটি দিক হারিয়ে সাগরে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে অচল হয়ে পড়লে দুই দিন তিন রাত পর্যাপ্ত খাবার ও পানি ছাড়া তারা সাগরে ভাসতে থাকেন। রাতে দূর থেকে কোনো জাহাজ দেখলে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট দিয়ে সংকেত পাঠাতেন তারা। অবশেষে ডেনমার্কের একটি জাহাজ তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি হলেন— মুন্সিগঞ্জের মো. শাওন খান, সুনামগঞ্জের মো. সাজুর আহমেদ, সুলেমান মিয়া, মো. সেলিম হোসেন, মো. মেহেদী হাসান ও মো. মাসুম মিয়া; হবিগঞ্জের মো. সবুজ আহমেদ, মো. সারওয়ার হোসেন, জয় শেখ, আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, মো. শিহাব উদ্দিন ও তুহিন মিয়া; ফরিদপুরের মো. সাইম শেখ, কিশোরগঞ্জের মো. তোফায়েল হোসেন এবং সিলেটের জয়নাল উদ্দিন।

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে না খেয়ে থাকায় তাদের অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। যাদের পাসপোর্ট নেই, তাদের জন্য জরুরি ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ইস্যু করছে দূতাবাস।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ শর্তে ঝুলছে তারেক রহমানের ভারত সফর

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ শর্তে ঝুলছে তারেক রহমানের ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে এ বিষয়ে যোগাযোগও হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়ায় সফরের পরিবেশ অনুকূল নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিমের বক্তব্যের পর এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে মূলত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কোনো কোনো প্রতিবেদনে আগের আলোচনার সূত্র ধরে সফরের সম্ভাব্য সময়, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের আমন্ত্রণ এবং দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

আজ রোববার ঢাকায় এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারত কয়েক সপ্তাহ ধরে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগ করলেও ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শহীদুল করিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ওই প্রকাশ্য বক্তব্যের কারণে সফর আয়োজনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

কী বলছে ভারতীয় মিডিয়াগুলো
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে তাদের শিরোনাম করেছে, ‘Bangladesh seeks ‘conducive environment’ from Centre for PM Tarique Rahman’s possible Delhi visit’। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের জন্য বাংলাদেশ ভারতের কাছে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আগের আলোচনার সূত্র ধরে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত সপ্তাহে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

হাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক: ডনের প্রতিবেদনহাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক: ডনের প্রতিবেদন
কিন্তু গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর ঢাকা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বলেছিল, ওই ঘটনা দেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭ আগস্ট জানায়, ওই অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের কোনো হাত ছিল না এবং শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য সরকার সমর্থন করে না বলে জানায় দিল্লি।

দ্য প্রিন্ট শিরোনাম করেছে, ‘PM Tarique’s India trip hinges on ‘propitious environment, expedition of Hasina extradition’—Dhaka’। অর্থাৎ, তারেক রহমানের ভারত সফর নির্ভর করছে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণের ওপর।

দ্য প্রিন্টও তাদের প্রতিবেদনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যটি তুলে ধরেছে।

এর বাইরে দ্য প্রিন্ট গত ১৪ আগস্ট তাদের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ঢাকা ও নয়াদিল্লি কয়েক সপ্তাহ ধরে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের সময় নিয়ে আলোচনা করছে। ভারতের পক্ষ থেকে ২১ ও ২২ আগস্ট সফরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সফর আয়োজনকে বেশি সুবিধাজনক মনে করা হচ্ছে।

এর পেছনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে সফর আয়োজনকে ঢাকার জন্য বেশি সুবিধাজনক মনে করা হচ্ছে।

দ্য প্রিন্ট আরও জানায়, ফেব্রুয়ারিতে ভারত তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ঢাকা শুধু বহুপক্ষীয় সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক নয়, পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সরকার নয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসরকার নয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তবে আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যের এসব সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ হয়ে যাচ্ছে। কারণ ঢাকা স্পষ্ট করেছে যে, ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক রহমান।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে দুই শর্ত
এনডিটিভি শিরোনাম করেছে, ‘Bangladesh Lists 2 Riders For PM Rahman's India Visit. One Is Hasina Return’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে অগ্রগতি না হলে তারেক রহমানের ভারত সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এনডিটিভি আরও জানায়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে মার্চে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে ঢাকা।

ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য ওয়্যারের বিশ্লেষণ
ইন্ডিয়া টুডে তাদের শিরোনামে বলেছে, ‘Bangladesh links Tarique Rahman's India visit to Hasina extradition demand’। অর্থাৎ, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবির সঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরকে যুক্ত করেছে বাংলাদেশ। তাদের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী সফরের আগে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে দ্য ওয়্যার তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘Dhaka Says Hasina's Press Meet in Delhi 'Vitiated' Bangladesh PM's India Trip, Seeks Extradition Update’।

দ্য ওয়্যার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতর বরাত দিয়ে লিখেছে, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রক্রিয়াকে ‘বিনষ্ট’ করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে সফরের একটি সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো তারিখ চূড়ান্ত করা ছিল না।

আর সফরটি শুধু ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ছিল না, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়, অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এই সফরের আলোচনায় ছিল।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: ভারতবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: ভারত

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে আছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পর ঢাকা আরও জোরালোভাবে তাঁকে ফেরত চেয়ে আসছে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

গত ১০ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং নয়াদিল্লি তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছে। দুই দেশের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকলেও সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি সফরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের হস্তান্তরের বিষয়টিও সামনে এনেছে ঢাকা।

ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র শহীদুল করিম বলেন, বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অব্যাহত রাখবে। এই নীতির ভিত্তি হবে সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থ। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নেও বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানান তিনি।

অর্থাৎ, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ ঢাকার দাবিগুলোতে নয়াদিল্লির অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে সফরের সময়সূচি এবং দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ।

ওটেক্সার প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমল পৌনে ৬ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমল পৌনে ৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৪০১ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ এর চেয়ে বেশি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) এই হিসাব জানিয়েছে।

তবে ছয় মাসের হিসাবে রপ্তানি কমলেও জুনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের জুনের তুলনায় এ বছর জুনে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের রপ্তানি কমার চিত্রটি বুঝতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যের হিসাবে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং পরিমাণের হিসাবে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি যেখানে মূল্যের হিসাবে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে তার চেয়ে কম হারে।

তবে এই বাজার সংকোচনের মধ্যেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিযোগী দেশ রপ্তানি বাড়াতে পেরেছে। মূল্যমানের হিসাবে জানুয়ারি-জুন সময়ে কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া থেকে বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ এবং ভিয়েতনাম থেকে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশের কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে পতন ২৫ দশমিক ২৭ এবং চীনের ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ বড় সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের পতন বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হলেও কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম এ সময় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

পরিমাণের হিসাবেও একই ধরনের প্রতিযোগিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বিপরীতে কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০ দশমিক ৮৯, ভিয়েতনাম থেকে ৩ দশমিক ৩০ এবং পাকিস্তান থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ভারত ও চীন অবশ্য পরিমাণের দিক থেকে বড় পতনের মুখে পড়েছে। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ২২ দশমিক ৭৪ এবং চীন থেকে ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

রপ্তানি মূল্যের পাশাপাশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যেও পরিবর্তন এসেছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও একই হারে কমেছে। এ সময়ে কম্বোডিয়ার ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ভারতের ৩ দশমিক ২৮, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩, ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ এবং চীনের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমলেও চীন ও ভারতের তুলনায় পতনের হার কম। বাংলাদেশের পতন পাকিস্তানের কাছাকাছি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। তাই দেশটির সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমার মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়টি খাতটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উইন্ডশিল্ডে ফাটল: কাঠমান্ডুতে জরুরি অবতরণ বিমানের!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
উইন্ডশিল্ডে ফাটল: কাঠমান্ডুতে জরুরি অবতরণ বিমানের!

উড্ডয়নের পর কারিগরি ত্রুটির কারণে নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে আটকা পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। রোববার (১৬ আগস্ট) কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটিতে ১২৭ জন যাত্রী ছিল। পরে তাদের অন্য একটি ফ্লাইটে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাঠমান্ডু কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উড্ডয়নের আগে উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। ফ্লাইটটির নম্বর ছিল বিজি৩৭২ এবং গন্তব্য ছিল ঢাকা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাঠমান্ডু কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে ১২৭ যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ এর উইন্ডশিল্ডে ফাটল দেখা যায়। এরপর ফ্লাইটটি বাতিল করে উড়োজাহাজটি আবার কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ত্রুটিটি মেরামত করতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা। ফলে বিজি৩৭২ ফ্লাইটের যাত্রীদের ঢাকায় ফেরাতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। বিজি৩৭২-এর ১২৭ যাত্রীকে পরবর্তী ফ্লাইট বিজি৩৭৪-এ ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে উড়োজাহাজটির প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগবে।

বিজি৩৭৪ ফ্লাইটটিতে ১০৭ জন যাত্রী রয়েছে। রোববার নেপালের স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটির কাঠমান্ডু থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

এদিকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিজি৩৭২-এর যাত্রীদের বিমানবন্দরের লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উইন্ডশিল্ডে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ফ্লাইটটি বাতিল করায় যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজটি কবে নাগাদ মেরামত করে পুনরায় চালু করা যাবে, সে বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

শাহজালাল বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস রিকগনিশন: অপরাধী শনাক্তে কড়া নজরদারি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস রিকগনিশন: অপরাধী শনাক্তে কড়া নজরদারি

অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালানো কিংবা বিদেশ থেকে অপরাধ করে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে অপরাধীদের জন্য পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ই-গেট ও বডি স্ক্যানারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে থাকা কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হলে এআই-চালিত ক্যামেরার মাধ্যমে তার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর মধ্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাহজালালে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, বোর্ডিং ব্রিজ, কার্গো এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মুখমণ্ডল শনাক্ত করে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা যায়।

এআইভিত্তিক ভিডিও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্বাভাবিক আচরণও শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় সন্দেহজনকভাবে একই স্থানে অবস্থান করলে, অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা গেলে কিংবা কোনো পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকলে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করতে পারে আধুনিক প্রযুক্তি। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।

স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতেও প্রযুক্তিনির্ভর তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীরা লাগেজ, পোশাক বা শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বর্ণ লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করলে বডি স্ক্যানারসহ আধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়।

তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বেবিচকের এভসেক নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত সরকারি সংস্থাগুলো নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বেবিচকের নিজস্ব এভসেক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে গত দুই থেকে আড়াই বছরে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, অপরাধী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত সংস্থাগুলো আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ!

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তফসিলসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট দায়ের হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।