২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ"

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ

বিশ্বব্যাপী মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন নামের একটি নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র।

সম্প্রতি দ্যা পেনিনসুলায় এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে ‘আলফু মুসলিমাহ’ নামের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে।

কাতারের এডুকেশন সিটিতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বৈশ্বিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, ইতিহাসজুড়ে মুসলিম নারীদের জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার বা অতীত থেকে চলে আসা কাজের ধারাগুলোকে নথিবদ্ধ করা। এ উদ্যোগের আওতায় গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একটি যৌথ বিশ্বকোষ তৈরিতে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে “ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী মুসলিম নারীরা কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তি ছিলেন”—এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। এর বিপরীতে জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব, রাজনীতি, অর্থনৈতিক জীবন ও পরিবারে নারীদের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

আল-মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ নাদি এবিষয়ে বলেন, আজকালকার তরুণীদের জন্য মুসলিম নারীদের আদর্শ হিসেবে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়—এ নিয়ে আলোচনার মধ্য থেকেই এই উদ্যোগের ধারণা এসেছে।

তিনি বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে ইসলামী নেতৃত্বের মডেল ধারণকারী মুসলিম নারীদের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তাদের ব্যতিক্রমী নারী হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা আর টেকে না।”

তিনি আরো বলেন, “আলফু মুসলিমাহ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো এসব ইতিহাসকে আরো সহজলভ্য করে তোলা এবং ‘রিআয়া’ (رعاية) বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের ইসলামী ধারণার আলোকে নারীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা তুলে ধরা।”

এছাড়াও বলেন, “মুসলিম নারীদের অবদান নতুন কোনো বিষয় নয়; নারীরা দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান উৎপাদন ও জ্ঞান হস্তান্তর, গবেষণা, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনৈতিক জীবন এবং পরিবারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণ করে আসছে।”

মুসলিম নারীদের এসব অবদান নথিবদ্ধ করা ইসলামের আরও পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অর্ধেকই নারী।

ইতিহাসের যেসব অংশ এতদিন উপেক্ষিত ছিল, এই উদ্যোগ সেসব অংশকে সামনে আনতে, নতুন প্রজন্মকে মুসলিম নারীদের অবদান ও নেতৃত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও নিজেদের চিনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে বিস্তৃত ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন সব অঞ্চল ও সময়ের নারীদের, যারা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এবং যাদের নিয়ে একাডেমিক গবেষণা বা জনপরিসরে আলোচনা কম হয়েছে।

আলফু মুসলিমাহ ইসলামী সভ্যতাভুক্ত বিশ্ব ও মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর ১১টি বিস্তৃত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে—আরবি ভাষাভিত্তিক ও ফার্সি-প্রভাবিত বিশ্ব, তুর্কি অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, চীন ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইংরেজিভাষী দেশগুলো, মূল ভূখণ্ডের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।

ব্যক্তিবিশেষ নারীদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, মুসলিম নারীদের কীভাবে ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে নথিবদ্ধ ও উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিলো ও বর্ণনাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—তাও এই প্রকল্পে পর্যালোচনা করা হবে।

আল মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ আরো বলেন, “নারীদের সম্পর্কে নথি আছে কি না, আমরা শুধু সেটিই জানতে আগ্রহী নই; বরং নারীদের কীভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, সেটিও আমাদের আগ্রহের বিষয়।” তিনি জানান, মুসলিম নারীদের ইতিহাস কীভাবে সংরক্ষিত ও এর ব্যাখ্যা কিভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, আমাদের উদ্যোগটি সেটিও পর্যালোচনা করতে চায়।

লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের কাছে একটি উন্মুক্ত প্রস্তাবনাও চাওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর গবেষণাগত মান এবং প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত জীবনী লেখার গণ্ডির বাইরে গিয়ে প্রত্যেক মুসলিম নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, নেতৃত্বের ধরন ও উত্তরাধিকার বিশ্লেষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক সময়কাল এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে।

একই সময়ে, আকর্ষণীয় লেখা, গল্প বলা, মৌখিক ইতিহাস এবং ভিজ্যুয়াল উপকরণের মাধ্যমে একাডেমিক গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

আল মুজাদিলাহ জানায়, এই গবেষণায় ৫০০টির বেশি জীবনী অভিধান, পাণ্ডুলিপি, আর্কাইভ এবং বিপুলসংখ্যক ধ্রুপদি ও সমকালীন উৎস ব্যবহার করা হবে।

ড. নাজাহর মতে, এই বিস্তৃত তথ্যভান্ডারের উদ্দেশ্য হলো ‘আলফু মুসলিমাহকে’ শুধু পৃথক নারীদের জীবনী সংকলনের উৎস হিসেবে নয়, মুসলিম নারীদের ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বিদ্যমান ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং বহু সংখ্যক গবেষণাকে উৎসাহিত করা।

আর বৃহত্তর পাঠকসমাজের জন্য এর লক্ষ্য হলো, আরো বিস্তৃত পরিসরের নারীদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সহজবোধ্য বিবরণ তুলে ধরা।

ড. নাজাহ বলেন, “কাতার সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন। প্রস্তাবনা আরবি ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীরা প্রকল্পের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে যেকোনো নারীকে বেছে নিতে পারবেন অথবা নিজেদের অঞ্চল কিংবা গবেষণার ক্ষেত্র থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।” প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রস্তাবনা জমা দিতে পারবেন।

উন্মুক্ত প্রস্তাবনার আহ্বানটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য আল-মুজাদিলাহর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ড. নাজাহ জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, মুসলিম নারীদের অবদানের আরো সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নথি তৈরি করা এবং ইতিহাসে তাদের অবস্থান সম্পর্কে গবেষণা, শিক্ষা ও জনসাধারণের উপলব্ধির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলা।

সূত্র: দ্যা পেনিনসুলা

প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত—এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যের উদ্বৃত্ত আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাইয়ের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে দেশে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থারও প্রতিফলন ঘটছে এতে। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মার্চ থেকে আগস্ট—এই ছয় মাসে দেশে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।

আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও বেড়েছে। আগস্ট শেষে এ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, জুলাই শেষে যা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬২৭ কোটি ডলার।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবে কিছু ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক হয়েছে।

বৈদেশিক খাতের উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, আমদানি বৃদ্ধির ধরন গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল উপকরণের আমদানি বাড়লে তা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে। বৈদেশিক খাতের উন্নত অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় পরিশোধে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।

বাজার আরও শক্তিশালী করতে গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বা এফএক্সএম মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও কিছু সুবিধা চালু করা হয়েছে।

আলী হোসেন প্রধানিয়ার মতে, প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ছে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপ কমছে। এই ধারা বজায় রাখতে স্থিতিশীল বিনিময় হার, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সেবা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ কয়েকটি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কমিটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ৮ অনুচ্ছেদে যুক্ত হওয়া ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহাল করা হবে। এটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি।

সাংবাদিকদের মতামত নেবে কমিটি

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকে লিখিত প্রস্তাবও দেবেন।

এসব প্রস্তাব ও আলোচনার বিষয়বস্তু প্রতিবেদন ও পুস্তিকা আকারে সংকলন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের অনেকে বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিটিও এ বিষয়ে একমত।

তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে, এখনো জানানো হচ্ছে। তারা কমিটিতে যোগ দিলে স্বাগত জানানো হবে। বিভক্তি এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় কমিটি।

যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের গণভোটের প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংসদে বিল পাসের পর এ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যেন সহজে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোতে এমন বিধান যুক্ত করা যেতে পারে, যাতে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনতেও গণভোটের প্রয়োজন হয়।

ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশোধন কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধনী বিল প্রণয়ন করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। এরপর বিলের ওপর আলোচনা ও সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষে তা পাস হলে গণভোটের মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।

সবশেষে গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার
ভুয়া নারী সেনা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিভিন্ন কৌশলে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানায়, ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারী সেজে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন টিটু। পরে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।

এম. এন. মোর্শেদ বলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের (৪৬) ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)। ফেসবুকে ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি পেজের মাধ্যমে তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির পরিচয় হয়। পেজটিতে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।

পরে নারী সেজে নারীসুলভ কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে ফোন ও ইমোতে কথা বলে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় বলে অভিযোগ করেন পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, পরে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। আসামি নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

এ ঘটনায় প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। মামলাটি তদন্তের সময় পিবিআই প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পায়। পরে বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা।

পিবিআই জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনজুর রহমান তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর ২১ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আলম টিটুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, তোফায়েল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে শাহাদাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি। শাহাদাতের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই বলছে, প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে কুয়েতের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিকাশ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সময় থেকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার যে ভিত্তি গড়ে উঠেছে, তা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।

এ সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কুয়েতের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে উভয় নেতা বাংলাদেশ ও কুয়েতের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসাথে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।