২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে বৈশ্বিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়: গুতেরেস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে বৈশ্বিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়: গুতেরেস

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বৈশ্বিক সংকট এখন আরও গভীর ও জটিল রূপ নিয়েছে। শুধু সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তি দিয়ে এসব সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় পুনর্গঠিত ও সর্বজনীন জাতিসংঘের অধীনে নতুন বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে এসব কথা বলেন আন্তোনিও গুতেরেস। প্রায় ১০ বছর মহাসচিবের দায়িত্ব পালন শেষে দেওয়া ভাষণে তিনি যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

৭৭ বছর বয়সী পর্তুগিজ এই কূটনীতিক বলেন, তাঁর দায়িত্বকালে বিশ্বজুড়ে একাধিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘায়িত হয়েছে। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা হয়েছে।

গুতেরেস বলেন, ভূরাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে, বৈষম্য বেড়েছে এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা কমেছে। জলবায়ু সংকট এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সতর্কবার্তা নয়, বরং প্রতিদিনের বাস্তবতা। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি এর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের বিষয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, মহাসচিব হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি।

তাঁর ভাষণে ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ত্রাণ সরবরাহের পথ উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেন গুতেরেস। তাঁর ভাষায়, সেখানে সহিংসতা, উচ্ছেদ ও ইহুদি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং জাতিগত নিধনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে গুতেরেস বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে বাড়িঘর, বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবহন অবকাঠামোয় হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে।

গুতেরেস বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, পরাশক্তিগুলোর নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করা প্রয়োজন। শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি নিশ্চিত করা যায় না, অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায় না এবং প্রযুক্তিগত শক্তি দিয়েও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে বিভাজন এবং আধিপত্যবাদী প্রবণতা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার বড় সমস্যা হলো ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তিত হলেও শাসনব্যবস্থা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না।

গুতেরেস বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষমতার একটি অংশ গুটিকয়েক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ধনকুবেরের হাতে চলে গেছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রবাহ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে এবং স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ব কি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও কমে যাওয়া সহযোগিতার কারণে আরও বিভক্ত হবে, নাকি জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দিকে এগোবে।

গুতেরেস বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পরিচালিত হবে, নাকি আইনের বাইরে। দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে আন্তর্জাতিক সনদ রক্ষা এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে অন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন গুতেরেস। তহবিল সংকট ও নানা সমালোচনা সত্ত্বেও জাতিসংঘই এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘে নারী-পুরুষের সমতা প্রসঙ্গে গুতেরেস বলেন, সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রধান কার্যালয় ও পেশাদার পদগুলোতে নারী ও পুরুষের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সমতা কোনো স্বপ্ন নয়; এটি একটি সিদ্ধান্ত। জাতিসংঘ পরিবর্তিত হতে পারলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পার্লামেন্ট, সরকার ও শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের সেখানকার আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইন বা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও ফেসবুকে, ইউটিউবে বা এক্সে দেওয়া যাবে না। এমনকি এমন কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও দূরে থাকতে হবে। কোনো কাগজ ভালোভাবে না পড়ে তাতে সই বা আঙুলের ছাপ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাদা কাগজে সই দেওয়া যাবে না।

নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কারও নামে সিম, গাড়ি বা অন্য কোনো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া এক জায়গার বা এক মালিকের ইকামা দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে বিক্রি করা, অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা বা অবৈধভাবে পানি বিক্রি করার মতো কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পরিচিত বা অপরিচিত কারও সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করা এবং চাকরির ভুয়া লোভ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, আইন মেনে চললে প্রবাসীদের জীবন যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বিদেশের মাটিতে দেশের নামও উজ্জ্বল থাকবে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চসিমুদ্দিন গ্রামে পুকুরে ডুবে তানিশা ও রায়হান নামের আট বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তানিশা ও রায়হান ঢাকার ডেমরার ঠুনঠুরলিয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার কুয়েত প্রবাসী মো. শরীফের ছেলেমেয়ে।

নিহত শিশুদের খালা কামরুন নাহার জানান, মায়ের সঙ্গে চসিমুদ্দিন গ্রামে নানাবাড়িতে আসে যমজ ভাই-বোন।

বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায় তারা। খেলার একপর্যায়ে একজন পুকুরে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়।

এ সময় দুজনই পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি শিশু দুটিকে।

নিহত দুই শিশুর নানা কাশেম মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোনের পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।’

দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

রাজবাড়ীর পাংশায় ২ সন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন রিক্তা পারভীন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ। গত ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর রাতে তিনি কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। নিখোঁজের সময় তাঁর সাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রিক্তার শ্বশুর বাদি হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি মধ্যপাড়া গ্রামের ইরাক প্রবাসী মোঃ রজব আলী প্রামানিকের (৪৫) স্ত্রী রিক্তা পারভীন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে তিনি পরিবারকে না জানিয়ে গৃহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ রিক্তা পারভীনের সন্তান মেয়ে আয়শা খাতুন (১৫) এবং ছোট মেয়ে আনিশা আক্তার (৬)। হঠাৎ মাকে হারিয়ে সন্তানেরা অঝোরে কাঁদছে। অন্য দিকে প্রবাসে থাকা স্বামী রজব আলী প্রামানিকও স্ত্রীর এই নিরুদ্দেশ হওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

রজব আলী প্রামানিক প্রবাস থেকে জানান, স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে ফোনে কিছু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিক্তা বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে সেখানে রিক্তাকে আনতে তার ছেলে ও ছেলের বউ যায়। রিক্তা ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে বলে তুমি চলে যাও আমি তোমার বউ এবং আমার ছোট মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি চলে আসবো।

কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে না গিয়ে রাতে এক আত্মীয়র ঘুমিয়ে থাকেন। পরে ভোরবেলা রজবের ছেলের বউ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার শাশুড়ি রিক্তা বিছানায় নেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, বিদেশে অর্জিত সমস্ত টাকা স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন, যার কোনো সঠিক হিসাব তাঁর কাছে নেই। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় রিক্তা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সাথে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার এসআই মিনহাজ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে চাম্পা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত চাম্পা খাতুন শিবপুর গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে পাশের বাড়ির লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধ পান। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাম্পা খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন বলেন, সকালে পাশের বাড়ির লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ (৩০) নামের এক বাংলাদেশী প্রবাসীর। সহকর্মীর জীবনের তাগিদে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই আত্মত্যাগী যুবক গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি সময় দুপুর ৩টার দিকে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’র একটি কর্মস্থলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। গত মাসেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। ঘটনার দিন কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এক সহকর্মীকে বিপদাপন্ন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান পরোপকারী আব্দুল্লাহ। কিন্তু গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিনিসহ মোট চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

​নিহতের ভাই মো. আাসাদ উল্লাহ কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়েই তাঁর ভাই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আব্দুল্লাহর এই আকস্মিক বিদায়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারির পাশাপাশি ঘরে রেখে যাওয়া গর্ভবতী স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যাসন্তান আসপিয়া নুরের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

​সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার এই ঘটনায় রিয়াদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের শেষ স্মৃতিটুকু বুকে ধরে রাখতে ও শেষবারের মতো মুখটি দেখতে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছে শোকার্ত পরিবার।