১৫ আগস্ট ২০২৬

ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের পাঁচ দেশ। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর আওতায় এ দেশগুলোর কোনোটিতে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

পাঁচটি দেশের মধ্যে গ্রিস রিটার্ন হাব বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বছরই গ্রিসসহ বাকি চার দেশ রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার জন্য তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সামনের বছরই এ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশন থেকেই পাঁচ দেশের এ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এ আইনি কাঠামোয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস সম্ভাব্য হোস্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের নিজ দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের অস্থায়ীভাবে এসব রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং এশিয়ার উজবেকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সক্ষমতা, আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেউই এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় ও বিদেশে কর্মরত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে, তাদের ইইউর বাইরে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা। সেখানে অবস্থান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপে বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার খুবই কম, যদিও আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক। বর্তমানে প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩-৪ শতাংশ। তৃতীয় দেশে রিটার্ন হাবে পাঠানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ-সংক্রান্ত রেগুলেশন এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার যে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সেটি কার্যকর হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশীদের নতুন আশ্রয় আবেদন আগের তুলনায় দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আসবে।’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত রিটার্ন রেগুলেশন অনুযায়ী, নতুন আবেদনগুলো প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন এ সময়ের মধ্যে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেশের যুক্তি হলো, বর্তমানে ইইউতে যাদের প্রত্যাবাসন বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমসংখ্যককে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। এতে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে থেকে যান এবং আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। রিটার্ন হাব চালু হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো কার্যকর হবে বলে দেশগুলোর ধারণা।

পরিকল্পনাটি অবশ্য শুরু থেকেই নানা তর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার পাঁচ দেশের সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ ও নন-রিফাউলমেন্ট নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, কার্যকর বিচারিক প্রতিকার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির তাৎপর্য উঠে এসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও আফগানিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোয় ২০২৫ সালে বাংলাদেশী নাগরিকদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন। একই সময়ে বাংলাদেশীদের ৪৩ হাজার ৫২৩টি আবেদনের ওপর প্রথম ধাপের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

তবে বছরের শেষে ৪১ হাজার ৬৯২টি আবেদন বিভিন্ন সদস্যদেশে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। একই বছরে ১ হাজার ১৭০টি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদনের প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

ইইউএএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশবিষয়ক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয় অনেক বাংলাদেশীর আশ্রয় আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ এখনো ইইউতে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্যতম বড় উৎস দেশ। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

ইইউর পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ সম্পর্কে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা যোগাযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’”

প্রতিমন্ত্রী বলেন,”‘বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত রয়েছে। তাই এখন বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার যৌক্তিকতা আমি দেখি না।’

মো. নুরুল হক আরো বলেন, ‘সরকার সবসময়ই অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে। আমরা চাই, সবাই বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে যাক। কিন্তু দেখা যায়, অনেকে অনিয়মিত পথে ইউরোপে গিয়ে পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। আমরা শুরু থেকেই এ ধরনের প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে আসছি।’”

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন কেবল অভিবাসনের একটি পথ হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তি ও দেশ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয় যে এখানে বসবাসের পরিবেশ নেই বা নাগরিকরা নিরাপদ নয়। বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় কমিশনের নতুন রিটার্ন নীতি প্রস্তাব এবং পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ এগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক উদ্যোগ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন নিষ্পত্তি, প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন,”‘আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানবতাবিরোধী। প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

ড. তাসনিম সিদ্দিকী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অফশোর প্রসেসিং ব্যবস্থার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের নীতির ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। তাই ইউরোপ যদি একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়, তাহলে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

ইমরান খানের মৃত্যুর খবর: গুজব না সত্য? যা বলল সেনাবাহিনী

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
ইমরান খানের মৃত্যুর খবর: গুজব না সত্য? যা বলল সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে, ইমরান খান জীবিত আছেন এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারেই বন্দী রয়েছেন।

গুজবের সূত্রপাত
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দুটি ভিডিও প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এই গুজবের সূত্রপাত হয়। ‘ইজ খান স্টিল উইথ আস’ এবং ‘হোয়াট হ্যাপেন্স আফটার খান’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে ওয়াজাহাত দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের (জিএইচকিউ) তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ইমরান খান আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে খোদ সেনাবাহিনীর ভেতরেই উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি ওই কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানান।

এই খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে পরে সাংবাদিক ওয়াজাহাত নিজেই স্পষ্ট করেন, ইমরান খানের মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। তাঁর সূত্রগুলো মূলত ইমরান খানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অতিরিক্ত গোপনীয়তার কারণে সৃষ্ট উদ্বেগের কথাই তাঁকে জানিয়েছিল।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইএসপিআর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইমরান খানের মৃত্যুর খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করে। অন্যদিকে, ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোও তাঁর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এক সাক্ষাৎ পর্বে তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়, যেখানে ইমরান খানকে নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।

মৃত্যুর গুজব থামলেও ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে পিটিআই নেতাদের উদ্বেগ কাটেনি। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বোন ও আইনজীবীদের অবাধে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।

দলটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইমরান খানের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দলের কর্মী-সমর্থকদের রাওয়ালপিন্ডিমুখী মিছিলের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন নেতারা।

এরই মধ্যে পিটিআইয়ের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করে ইমরান খানের চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা এবং কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত আবেদনের দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়েছেন।

হাতে কালশিটে থেকে অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা: ট্রাম্প কি সত্যিই ফিট?

হাতে কালশিটে থেকে অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা: ট্রাম্প কি সত্যিই ফিট?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক সুস্থতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকরা ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পকে ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী দাবি করলেও, তাঁর দৃশ্যমান বেশ কিছু শারীরিক উপসর্গ ও প্রকাশিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের অসংগতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এক খ্যাতনামা মার্কিন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির ২৭ বছরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জোনাথন রেইনার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বেশ কিছু অনুত্তরিত প্রশ্ন সামনে এনেছেন।

ডা. জোনাথন রেইনারের তোলা প্রধান প্রশ্নসমূহ
হাতে কালশিটে দাগ: ট্রাম্পের হাতে ফুটে ওঠা কালশিটে নিয়ে হোয়াইট হাউস ঘন ঘন হাত মেলানো ও ‘অ্যাসপিরিন’ সেবনকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। তবে ডা. রেইনার প্রশ্ন তোলেন, উভয় হাতের সমান বিবর্ণতা ও কালশিটে দাগকে কেবল এই দুটি সাধারণ কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা চিকিৎসার দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়।

পা ফুলে যাওয়া (ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি): প্রেসিডেন্টের পা ফুলে যাওয়াকে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি’ (শিরাগত রক্তের সঞ্চালন দুর্বলতা) বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু গত মে মাসের আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এই সমস্যার কোনো উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে কীভাবে এটিকে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হলো, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা (Daytime Drowsiness): বিভিন্ন জনসভা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জেগে থাকতে কষ্ট হওয়া এবং দৃশ্যমান ঘুমঘুম ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডা. রেইনার। তাঁর মতে, অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা কোনো গভীর চিকিৎসাগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন।

ওয়াল্টার রিডে রহস্যময় ইমেজিং পরীক্ষা: ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ট্রাম্পের হৃদ্‌যন্ত্র ও পেটের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষা করানো হয়। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা একে সাধারণ আগাম পরীক্ষা বললেও, ঠিক কী কারণে এত বিস্তৃত ও জটিল পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েছিল তা জনসমক্ষে খোলাসা করা হয়নি।

২৫তম সংশোধনী ও স্বাধীন প্যানেল গঠনের প্রস্তাব
ডা. রেইনার স্বীকার করেছেন যে রাষ্ট্রপতির সব গোপনীয় চিকিৎসা তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভব নয়। তবে সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এবং দায়িত্ব পালনের যথার্থতা নিশ্চিত করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী (25th Amendment) অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে একটি 'স্বাধীন চিকিৎসা প্যানেল' গঠনের জোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

ডা. রেইনারের মতে, মূল বিষয়টি কোনো ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে একজন ব্যক্তি শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম কি না—সে বিষয়ে আমেরিকার জনগণ কতটুকু নিশ্চিত হতে পারছে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় করা সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মতি জানিয়েছে।

আনাদোলুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই নতুন করে সংঘাত এড়াতে মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের সম্মতির কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষই নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ঠিক কত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল স্থায়ী একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালু রাখা। কিন্তু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী সময়ে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ছিল না। গত ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামে হামলা চালায় বলে জানানো হয়।

এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের সম্মতি আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি দেখো দিয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন ২ সেনাসদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ২ সেনাসদস্য মারা গেছেন। গত বুধবার রাজ্যটির বেল কাউন্টির একটি উন্মুক্ত মাঠে আঘাত হানার পর সামরিক যানটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং তৎক্ষণাৎ আশপাশের ঘাসের জমিতে তীব্র দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

রাজ্যটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থলেই সামরিক হেলিকপ্টারে থাকা দুজন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্লিফ কোলম্যান রয়টার্সকে জানান, টেক্সাসের রাজধানী অস্টিন থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার উত্তরে বেল কাউন্টির একটি ফাঁকা মাঠে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বেল কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্ঘটনাস্থলেই বিমানে থাকা দুই আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ওই স্থানে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়।

ক্লিফ কোলম্যানের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে পোড়া ঘাসের বিশাল অংশ এবং পুরো এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। ঘটনার পর স্থানীয় বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিস বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ফোর্ট হুড ঘাঁটির নিয়মিত সামরিক অভিযান চলাকালে বেল কাউন্টিতে আজ একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দুই বীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ফোর্ট হুড ঘাঁটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের ঘাঁটির অধীনস্থ একটি এএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক সামরিক হেলিকপ্টার নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং এতে দুজন সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। মৃত সেনাসদস্যদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে সামরিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ৪০ কোটি টাকা গুনছে এয়ারলাইন্স

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ৪০ কোটি টাকা গুনছে এয়ারলাইন্স

কর্মক্ষেত্র নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নারী কেবিন ক্রুদের দায়ের করা এক দশকের পুরোনো একটি মামলা ৪.৫ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারে নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

সোমবার সমঝোতার শর্ত অনুমোদন করেছে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি আদালত।

২০১৬ সালে ওয়েস্টজেটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন সাবেক কেবিন ক্রু ম্যান্ডালেনা লুইস।

তার অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালে হাওয়াইয়ে একটি লে-ওভারের সময় ওয়েস্টজেটের এক পাইলট তাকে যৌন নির্যাতন করেন। তার দাবি, একই পাইলট এর আগে ২০০৮ সালে আরেক নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকেও যৌন নির্যাতন করেছিলেন।

লুইস অভিযোগ করেন, তিনি ঘটনাটি ওয়েস্টজেটকে জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট পাইলটকে কাজে বহাল রাখা হয়। এমনকি তিনি দাবি করেন, পুলিশ যাতে হাওয়াইয়ে ওই পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারে, সে জন্য তাকে অন্য রুটে পাঠানো হয়েছিল।

পরে ২০১৬ সালে লুইসকে ‘চরম অবাধ্যতার’ অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে লুইস ও তার আইনজীবীরা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার কারণে তাকে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

২০১৮ সালে ইউএস অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি কেবিন ক্রুর ওপর একটি জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ কর্মী তাদের কর্মজীবনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে, সাবেক কেবিন ক্রু লুইসের নিপীড়নের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থতা কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত না করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওয়েস্টজেট।

অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট বলেছে, ‘উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এই সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা ওয়েস্টজেটের প্রতিটি কর্মীর সুরক্ষা ও সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।