মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এক জটিল ও কৌশলগত অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট বিজয়ের দেখা পাচ্ছে না। সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিঃশব্দে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের বিন্যাস বাড়াতে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’ (RUSI)-এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত বিমানবাহিনীর সদস্য ও প্রতিরক্ষামূলক রসদ পাঠাচ্ছে পেন্টাগন। এটিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কিংবা সম্ভাব্য যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্টিফেনসের মতে, কেবল বিমান বা সেনাসদস্য বাড়িয়ে স্থলভাগে কোনো বড় ধরনের বিজয় অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না।
উত্তেজনাপূর্ণ এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছে ইরাকের একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল।
ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কার্যালয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল আমির আল-শাম্মারি এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধিদলে ইরাকের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং কাউন্টার-টেররিজম সার্ভিসের প্রধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ইরাকি নিউজ এজেন্সি ও আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠকে নিম্নলিখিত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
ড্রোন হামলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা: সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার উৎস এবং তা প্রতিরোধের কৌশলগত রূপরেখা।
ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক কোনো সংঘাতের জন্য বাগদাদ তাদের আকাশসীমা বা ভৌগোলিক ভূমি অন্য কোনো পক্ষকে ব্যবহার করতে দেবে না।
যৌথ গোয়েন্দা সমন্বয়: ড্রোন অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে দুই দেশের মধ্যে যৌথ সমন্বয় সেল গঠন ও তথ্য আদান-প্রদান।
একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত পুরো অঞ্চলকে সামরিক ঝুঁকির মধ্যে রাখছে, অন্যদিকে রিয়াদ ও বাগদাদের এই প্রতিরক্ষামূলক আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রক্সি যুদ্ধ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখার একটি কূটনৈতিক চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।