৮ নভেম্বর ২০২৬

জন্মতারিখ ভুল থাকলে এনআইডি ঠিক করতে যা করবেন

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
জন্মতারিখ ভুল থাকলে এনআইডি ঠিক করতে যা করবেন
টপ স্টোরিজ

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশা অনুযায়ী প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।

যাদের এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ওই সনদ জন্মতারিখের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। আর এসএসসি বা সমমানের সনদ না থাকলে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিলের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করা যায়।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু আবেদন করলেই জন্মতারিখ পরিবর্তন হয়ে যায় না। আবেদনে উল্লেখ করা সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনে যেসব কাগজ লাগবে

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই ধরনের কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় দলিল নির্ধারিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে সেগুলো হলো—

১. এসএসসি বা সমমানের সনদ: আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার বেশি হলে এসএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষার সনদ জমা দিতে হবে।

২. চাকরির বই বা এমপিও সংক্রান্ত নথি: এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও আবেদনকারী সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত কিংবা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে চাকরির বই অথবা মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) জমা দিতে হবে।

৩. অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ: অন্যান্য ক্ষেত্রে সঠিক জন্মতারিখ প্রমাণের জন্য জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়া যেতে পারে।

৪. পাসপোর্ট: জন্মতারিখের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি দেওয়া যায়।

৫. ড্রাইভিং লাইসেন্স: ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকা জন্মতারিখও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক দলিল হিসেবে জমা দেওয়া যায়।

৬. ট্রেড লাইসেন্স বা কাবিননামা: অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স কিংবা কাবিননামার সত্যায়িত অনুলিপিও গ্রহণযোগ্য দলিলের মধ্যে রয়েছে।

তবে কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কোন দলিল প্রয়োজন হবে, তা সংশোধনের ধরন ও জমা দেওয়া প্রমাণপত্রের ওপর নির্ভর করবে।

এসএসসি সনদ না থাকলে কীভাবে জন্মতারিখ সংশোধন করবেন?

অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত নয়। আবার কারও কাছে শিক্ষাগত সনদ না-ও থাকতে পারে। এ কারণে জন্মতারিখ সংশোধনের সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএসসি বা সমমানের সনদ না থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল উপস্থাপন করে আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রযোজ্য অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আবেদন যাচাইয়ের সময় প্রয়োজন মনে করলে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল থাকলে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। এ জন্য প্রথমে বাংলাদেশ এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর নিজের অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। লগইন করার পর ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের অপশন থেকে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

আবেদনে সঠিক জন্মতারিখ উল্লেখ করার পাশাপাশি কেন সংশোধন প্রয়োজন, তা জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের কপি সংযুক্ত করে আবেদন জমা দিতে হবে।

যারা অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যায় পড়েন, তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তথ্য সংশোধন ফরম-২-ও ব্যবহার করা যায়।

২০২৬ সালে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব বণ্টনেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালকরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

তবে সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন একই পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে না। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধন এবং জন্মতারিখের পাশাপাশি নিজের নাম ও বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তির নির্দেশনা রয়েছে।

এ ছাড়া একই তথ্যের ঘরে জন্মতারিখ, নিজের নাম ও বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ নেই বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়ার আগে নিজের জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্টসহ অন্যান্য পরিচয়পত্রে থাকা তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিভিন্ন নথিতে জন্মতারিখের অমিল থাকলে আবেদন যাচাইয়ের সময় অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্রের অনুলিপি সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা অথবা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান সত্যায়ন করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করা যাবে না। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ছাড়া আবেদন করলে সেটি বাতিল হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশোধনের পক্ষে যথাযথ দলিল সংযুক্ত করা উচিত।

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধন করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ কোনটি?

এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ থাকলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিলও জমা দিতে হয়।

২. এসএসসি সনদ না থাকলে কি জন্মতারিখ সংশোধন করা যাবে?

হ্যাঁ। জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রযোজ্য অন্যান্য দলিল দিয়ে আবেদন করা যায়।

৩. অনলাইনে কি এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন করা সম্ভব?

হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্টে লগইন করে সংশোধনের আবেদন করা যায়।

৪. জন্মতারিখ সংশোধনে কি তদন্ত করা হয়?

প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই ও তদন্ত করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের প্রয়োজনও হতে পারে।

৫. এনআইডি সংশোধনের আবেদন বাতিল হতে পারে কি?

হ্যাঁ। ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ আবেদন কিংবা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের অভাবে আবেদন বাতিল হতে পারে।

মেট্রাশ অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে কাতার আইডির ছবি পরিবর্তনের সুবিধা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
মেট্রাশ অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে কাতার আইডির ছবি পরিবর্তনের সুবিধা
টপ স্টোরিজ

কাতারের নাগরিক ও প্রবাসী বাসিন্দাদের জন্য কাতার আইডি (QID) কার্ডের ছবি পরিবর্তন বা আপডেট করার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে এক বিশেষ পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এখন আর সরকারি সেবা কেন্দ্রে সরাসরি না গিয়ে দেশের অনুমোদিত ফটোগ্রাফি স্টুডিওগুলোর মাধ্যমে আইডি কার্ডের নতুন ছবি যুক্ত করা যাবে।

প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সেবার জন্য প্রয়োজনীয় সকল টেকনিক্যাল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং ‘মেট্রাশ’ (Metrash) অ্যাপের অপারেশনাল সিস্টেমে এই নতুন সেবাটি ইতিমধ্যে সমন্বিত (Integrate) করা হয়েছে।

এছাড়া গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কাতারজুড়ে থাকা বিভিন্ন স্টুডিও মালিকদের নিয়ে একটি বিশেষ পরিচিতিমূলক সেমিনারের আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে ছবি তোলার টেকনিক্যাল নিয়মাবলী, স্ট্যান্ডার্ড এবং কীভাবে সিস্টেমে ছবি জমা দিতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাতারে পথচারীদের জন্য কঠোর ট্রাফিক আইন: কোন নিয়মে কত জরিমানা?

কখন চালু হচ্ছে এই সেবা?

প্রযুক্তিগত সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলেও অফিশিয়ালি এখনও এই সেবাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই সেবা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ, অনুমোদিত স্টুডিওগুলোর তালিকা এবং আবেদনের পুরো নিয়মাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এই সেবাটি চালু হলে কাতারে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসীর কাতার আইডির তথ্য হালনাগাদ করার ঝামেলা বহুলাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাতারে পথচারীদের জন্য কঠোর ট্রাফিক আইন: কোন নিয়মে কত জরিমানা?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
কাতারে পথচারীদের জন্য কঠোর ট্রাফিক আইন: কোন নিয়মে কত জরিমানা?
টপ স্টোরিজ

সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারীরা সবসময়ই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের অন্যতম। যানবাহনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মতো তাদের সুরক্ষায় কোনো শক্ত কাঠামো না থাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পথচারীদের গুরুতর আহত হওয়া বা প্রাণহানির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

এ কারণে কাতারে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি পথচারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০০৭ সালের ১৯ নম্বর ট্রাফিক আইন (Law No. 19 of 2007)-এ সুনির্দিষ্ট কিছু বিধিমালা ও অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের বিধান কার্যকর রাখা হয়েছে।

কাতারে পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ট্রাফিক আইন

ধারা ৬০ (সড়কে হাঁটার নিয়মাবলী):

  • ফুটপাত থাকলে পথচারীদের অবশ্যই ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে। মূল সড়কের মাঝখানে বা সাইকেল লেনে হাঁটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • যেসব স্থানে ফুটপাত নেই, সেখানে রাস্তার এমন প্রান্ত দিয়ে হাঁটতে হবে যেন বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে রাস্তার ডান পাশ ব্যবহার করা যাবে।

  • শহরের বাইরে ফুটপাতহীন রাস্তায় এক সারিতে (এক লাইনে) হাঁটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • অনুমোদিত কোনো নির্দিষ্ট শোভাযাত্রা বা ভারি বস্তু ঠেলে নিয়ে যাওয়া পথচারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রযোজ্য।

মেয়াদোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

ধারা ৬১ ও ৬২ (রাস্তা পারাপারের নিয়মাবলী):

  • রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কাছাকাছি আসা যানবাহনের গতি ও দূরত্ব বিবেচনা না করে হঠাৎ রাস্তায় নামা নিষেধ।

  • জেব্রা ক্রসিং বা নির্ধারিত পারাপারের স্থান থাকলে অবশ্যই তা ব্যবহার করতে হবে এবং পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে।

  • ট্রাফিক পুলিশ যখন যানবাহন চলাচলের সংকেত দেন, তখন রাস্তা পার হওয়া যাবে না।

  • সামরিক বাহিনীর সারিবদ্ধ দল, শিক্ষার্থী বা অনুমোদিত কোনো আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয়।

কাতারে ভিসা ব্যবসা এবং অবৈধ প্রবাসীদের ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা

আইন লঙ্ঘনে জরিমানা ও অর্থদণ্ডের তালিকা

কাতারে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী পথচারীদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা:

রাস্তার মাঝের বিভাজকে (আইল্যান্ড) হাঁটা, সাইকেল লেনে হাঁটা বা রাস্তার নির্ধারিত প্রান্ত ব্যবহার না করা।

২০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা:

মূল সড়ক বা মোড় পার হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়া।

জেব্রা ক্রসিং বা নির্ধারিত পদচারী সেতু/পারাপারের স্থান ব্যবহার না করা।

৫০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা:

পথচারীদের ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা বা রাস্তা পারাপারে সতর্কতা না নেওয়া।

ট্রাফিক পুলিশের সংকেত অমান্য করে পথ অতিক্রম করা।

সামরিক কুচকাওয়াজ বা অনুমোদিত শোভাযাত্রার মাঝখান দিয়ে চলাচল করা।

(উল্লেখ্য: সড়ক আইন সম্পর্কিত এসব জরিমানার হার প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে বা হালনাগাদ তথ্যের জন্য কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOI) অফিশিয়াল নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কৌশল ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা

সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ন্যাশনাল ট্রাফিক সেফটি কমিটির 'জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কৌশল ২০১৩–২০২২'-এর অধীনে ব্যাপক অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও প্রচার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ পথচারীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো, রাতে দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করতে প্রতিফলকযুক্ত পোশাক ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং উন্নত সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জীবনের সুরক্ষায় কাজের জায়গায় সাময়িকভাবে কম গতিসীমা নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার ও ঠিকাদারদের জন্য সুনির্দিষ্ট তদারকি নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইন অমান্য থেকে বিরত থাকা কেবল জরিমানা এড়ানোর জন্য নয়, বরং নিজের ও অন্যের জীবন সুরক্ষিত রাখার প্রধান দায়িত্ব। তাই কাতারে বসবাসরত সকল প্রবাসী ও নাগরিকদের ট্রাফিক নিয়ম মেনে পথ চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

মেয়াদোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মেয়াদোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়
টপ স্টোরিজ

কাতারে বসবাসরত অনেক প্রবাসীদের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে—রেসিডেন্সি পারমিট (QID) মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি পুনরায় কাতারে প্রবেশ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী, রেসিডেন্সি পারমিট মেয়াদ শেষ হলেও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত উপায়ে কাতার রেসিডেন্সিতে পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব। সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী নির্দেশনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতার থেকে বিদেশে ভ্রমণের সময় বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখোমুখি হলে প্রবাসীদের বেশ কিছু জরুরি আইনি ও প্রযুক্তিগত নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বৈধ আকামা থাকা অবস্থায় কাতারে প্রবেশের শর্তাবলী

সাধারণ নিয়মে কাতার আইডি বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ থাকা অবস্থায় যেকোনো কাতার প্রবাসী দেশে ফিরতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি মূল বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।

বৈধ কাতার আইডি নিয়ে প্রবেশের শর্তাবলি

  • মেয়াদের শর্ত: কাতারে নামার মুহূর্ত পর্যন্ত কাতার আইডির মেয়াদ বহাল থাকতে হবে।

  • পাসপোর্টের মেয়াদ: ভ্রমণের সময় পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক।

  • ১৮০ দিনের সীমা: বিদেশে অবস্থানের সময়সীমা কোনোভাবেই টানা ১৮০ দিন বা ছয় মাস অতিক্রম করা যাবে না। এই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস থেকে বোর্ডিং পাস প্রদান না করার ঝুঁকি থাকে।

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কীভাবে ফিরবেন? প্রবেশ করার উপায় ('রিটার্ন পারমিট')

যদি কোনো কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে কাতার প্রবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট কাতার প্রবাসী নিজে সরাসরি টিকিট কেটে চলে আসতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীর কফিল বা স্পন্সরকে (কোম্পানি বা ফ্যামিলি স্পন্সর) মেত্রাশ (Metrash) অ্যাপের মাধ্যমে 'রিটার্ন পারমিট' (Return Permit)-এর জন্য আবেদন করতে হবে।

  • আবেদন পদ্ধতি: স্পন্সর তার স্মার্টফোন থেকে অ্যাপে প্রবেশ করে 'Travel' অপশনে গিয়ে 'Return Permit' সেকশন সিলেক্ট করবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন দাখিল করতে হবে।

  • মেয়াদ ও ফি: কোম্পানি বা পারিবারিক স্পন্সরশিপের অধীনে এই পারমিটের জন্য সরকারি ফি ৫০০ কাতারি রিয়াল। রিটার্ন পারমিট ইস্যু হওয়ার পর এটি মাত্র ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই কাতারে পৌঁছাতে হবে।

  • জরুরি পরামর্শ: আইডি বাতিল হওয়া বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে বাতিল ঠেকাতে আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক দিন আগে কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মেট্রাশে রিটার্ন পারমিটের আবেদন করা উচিত। অ্যাপে আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে কাতারস্থ ওয়াদি আল বানাত (Wadi Al Banat) ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব বিবেচনা ও দেরিতে ফেরার যৌক্তিক কারণ পর্যালোচনা করে এই পারমিট মঞ্জুর করে থাকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ আইডির জরিমানা সংক্রান্ত তথ্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি তিনি বিদেশে অবস্থান অব্যাহত রাখেন, তবে ৯০ দিনের বেশি বা নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত প্রতি দিনের জন্য দৈনিক ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভ্রমণের আগে টিকিট বুকিং না করে অবশ্যই স্পন্সরের মাধ্যমে আইডির সঠিক স্ট্যাটাস এবং রিটার্ন পারমিট নিশ্চিত করে নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কাতারে ভিসা ব্যবসা এবং অবৈধ প্রবাসীদের ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
কাতারে ভিসা ব্যবসা এবং অবৈধ প্রবাসীদের ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা
টপ স্টোরিজ

কাতারে যেসব প্রবাসী রেসিডেন্সি বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেআইনিভাবে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট।

সম্প্রতি আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন কাতার পুলিশের কর্মকর্তা সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি জানান, যেসব প্রবাসী অনুমোদিত মেয়াদের বেশি সময় কাতারে অবস্থান করেছেন কিন্তু তাদের নামে অন্য কোনো আইনি মামলা বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, তারা স্বেচ্ছায় পুলিশের সিআইডি বিভাগে যোগাযোগ করে নিজ দেশে ফেরার আবেদন জানাতে পারেন।

আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরে মেজর আল-বুরাইদি জানান, অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।

অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্যত্র কাজ করা, আকামা নবায়ন না করা এবং কাজ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সবাইকে সতর্ক করেন আলবুরাইদি।

তবে সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার কোনো শাস্তিমূলক স্থান নয় বলে জানান তিনি। বরং এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

রেসিডেন্সিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন।

এছাড়া যেসব বিষয় এসব সেবা কেন্দ্রে সমাধান সম্ভব নয়, তার জন্য প্রবাসীদের সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি
টপ স্টোরিজ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চেক প্রদান করার পর যদি তা পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার পেতে পারেন। কাতারে চেক বাউন্স হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা প্রয়োজন

চেক বাউন্স হলে কী ঘটে?

একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • চেক ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
  • ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
  • সুবিধাভোগী (Beneficiary) বা পাওনাদার চেক ডিজঅনার হওয়ার প্রমাণপত্র বা মেমো সংগ্রহ করেন।
  • এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  • পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে সামনে এগোতে পারে।
  • আদালত একইসঙ্গে ফৌজদারি দিক এবং চেকের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেন।

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের (QCB) ক্লিয়ারিং-সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, ফেরত আসা চেকের সাথে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি দাপ্তরিক নথি যুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ফৌজদারি শাস্তি

কাতার দণ্ডবিধির ৩৫৭ অনুচ্ছেদে চেক সংক্রান্ত একাধিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই জেনেও চেক ইস্যু করা, চেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, অথবা চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব নয় জেনেও তা প্রদান করা।

এই আইন অনুযায়ী, অপরাধীর কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত অপরাধীকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ এবং সুবিধাভোগীর আইনি খরচ পরিশোধেরও নির্দেশ দিতে পারেন। তবে লক্ষণীয় যে, ব্যাংক থেকে ফেরত আসা প্রতিটি চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। চেক প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতিগুলো এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়।

প্রবাসীদের করণীয় কী?

আপনি যদি এমন কোনো চেক দিয়ে থাকেন যা বাউন্স করেছে, তবে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউশন, আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ কোনোভাবেই এড়িয়ে চলবেন না। নিচের কাগজপত্রগুলোর কপি সবসময় নিজের সংগ্রহে রাখুন:

  • মূল চেকের কপি এবং চেকের নম্বর
  • ব্যাংক রিটার্ন মেমো (বাউন্স স্লিপ)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • অর্থ প্রদান বা আপস-মীমাংসার রেকর্ড
  • সুবিধাভোগীর সাথে যোগাযোগের প্রমাণ
  • চেকের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস
  • আইডি এবং রেসিডেন্স পারমিট (QID)

আর আপনি যদি পাওনাদার বা সুবিধাভোগী হন, তবে মূল চেক এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কাতারের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেক সংক্রান্ত আইনি সেবার ক্ষেত্রে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য।

কাতারে চেকের মামলা করার ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাংকের বাউন্স স্লিপ বা মেমো সংগ্রহ

চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি তা ডিজঅনার হয়, তবে প্রথমেই ব্যাংক থেকে একটি অফিসিয়াল “চেক ডিজঅনার মেমো” বা বাউন্স স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। এই নথিতে চেক বাউন্স হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা স্বাক্ষরের অমিল—স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

থানায় অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্ট দায়ের: বাউন্স স্লিপ হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

থানায় অভিযোগ: যে এলাকার ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বা যে থানাধীনে চেকটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই এলাকার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল চেক এবং এর উভয় পিঠের ফটোকপি, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাউন্স স্লিপ, নিজের কাতার আইডি (QID)-এর কপি এবং বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস সাথে রাখতে হবে। পুলিশ থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি চেক প্রদান করেছেন) ডেকে পাঠাবে অথবা আইনগত তলব করবে।

প্রসিকিউশন ও আদালত

থানায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করে। পাবলিক প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই করে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) পাঠায়। কাতারের ফৌজদারি আইন (Qatar Penal Code No. 11 of 2004 - Article 357) অনুযায়ী, চেক ডিজঅনারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক জরিমানা অথবা ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ের দেওয়ানি প্রক্রিয়া

ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজা বা জরিমানা হলেও মূল পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অনেক সময় দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক আদালতে (Civil/Commercial Court) আলাদা দাবি বা মামলা দায়ের করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ স্টেশন বা প্রসিকিউশন পর্যায়েই বিবাদী ব্যক্তি গ্রেফতার বা আইনি সাজা এড়াতে দেনা পরিশোধ করে দেন কিংবা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

নির্ধারিত সময়: চেক বাউন্স হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময় বাড়লে নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অনুবাদ: কোনো চুক্তিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্র আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় থাকলে তা কাতারের অনুমোদিত আইনি অনুবাদক দিয়ে আরবিতে অনুবাদ করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আইনি সহায়তা: পাওনা বা মামলার আর্থিক পরিমাণ বড় হলে কিংবা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় কোনো আইনজীবী বা লিগ্যাল কনসালটেন্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

চেকের মামলা থাকলে কি কাতার ত্যাগ করা যায়?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর পরিণতি মামলার বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দেশ ত্যাগ করলেই চেকের মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা একেবারেই অনুচিত। ভ্রমণের আগে আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে কাতারের কোনো যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার আইনি অবস্থা (Legal Status) যাচাই করে নিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট কোনো চেক বাউন্স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Exit ban), গ্রেফতার, নির্বাসন বা কারাদণ্ড হবেই—এমন তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি বিষয়টি মীমাংসা করতে চান

সম্ভব হলে কেবল মৌখিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো আপস-মীমাংসা বা অর্থ লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ, চেকের অর্থ পরিশোধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা একই বিষয় নয়।

(সতর্কীকরণ: কাতারের চেক সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। উপরের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আইন ও সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাধারণ তথ্য মাত্র। কোনো চলমান ফৌজদারি অভিযোগ, সমন, গ্রেফতার ঝুঁকি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যার জন্য অবিলম্বে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।)

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়