জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ভাষণ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় নজিরবিহীন বর্বরতার পক্ষে সাফাই বক্তব্য শুরুর আগেই অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের প্রতিনিধি।
বক্তব্য দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নাম ঘোষণা পরপরই প্রতিবাদী ওয়াকআউটে থমকে যায় বিশাল হলরুম। বেরিয়ে যান সৌদি আরব, ইরান, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, স্পেনসহ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা আর ওশেনিয়া অঞ্চলের ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিরা।
এসময় ইসরাইলের প্রতিনিধিরা দেশাত্ববোধক শ্লোগান শুরু করলে বারবার শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। ওয়াকআউটকারীদের কাপুরুষ বলে ভাষণ শুরু করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। যেখানে তিনি গাজায় গণহত্যা আর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অবৈধ বসতি স্থাপনের অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু "বর্বরদের" বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "সাহসী নেতৃত্ব" ও অংশীদারত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "এই শতাব্দীর সেরা মিথ্যা" বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।
তার মতে, 'ইসরায়েল হলো "একই ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা একটি জাতি—তা সে বামপন্থী বা ডানপন্থী, তরুণ বা প্রবীণ, ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ যে-ই হোক না কেন। সংকটময় মুহূর্তে ইতিহাসের শিক্ষা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সাহসের জোরে ইসরায়েলিরা একসূত্রে গেঁথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়।
এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধের "অষ্টম ফ্রন্ট"-এর প্রসঙ্গে আসেন। ইসরায়েলের প্রতি বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কাতার—যারা হামাস নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল অর্থায়ন করে এবং আল জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েল সম্পর্কে "মিথ্যা ছড়াতে" কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। তিনি বলেন, তারা ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে ঘৃণা করার জন্য তরুণদের মগজধোলাই করছে।'
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার পর ইহুদি নগরবাসী নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন না। আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী উল্লেখ করে নিউইয়র্কে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি।
এদিকে, নেতানিয়াহুর উপস্থিতির প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। নিউইয়র্কে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মিডিয়া সেলিব্রেটিরাও অংশ নেন। গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজনকে। ইসরাইলি নাগরিকদের একাংশ বিক্ষোভে শামিল হয়ে গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছেন।