১০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও বিভিন্ন সম্পদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়।

জিএসিএর তথ্য অনুযায়ী, আবহা বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সৌদি আরবের দুই নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। আহত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।

হামলার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিমানবন্দর দুটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং যাত্রী ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। আর আবহা বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই সৌদির গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিমানবন্দরে নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটল।

সৌদিতে সেনা মোতায়েনের কথা স্বীকার করল পাকিস্তান

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
সৌদিতে সেনা মোতায়েনের কথা স্বীকার করল পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত সামরিক পরিস্থিতির মুখে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনার উপস্থিতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যকার 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যৌথ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে রিয়াদে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তিন দেশের যৌথ সামরিক সক্ষমতা অবিলম্বে সৌদি আরবে মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানি সেনারা ‘বিভিন্ন সক্ষমতায়’ সৌদি আরবে অবস্থান করছে।

ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক বলেন, গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (এমজেডিএ) কোনো শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি। এটি তিন দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ফল।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি সীমান্ত রক্ষা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় পাকিস্তান ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।

তবে রয়টার্সের এই তথ্যকে ‘অনুমানভিত্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। একই সাথে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি কোনো সেনা না পাঠানোর বিষয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইসলামাবাদ।

সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তিনি দাবি করেন, তাদের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে এবং এর ফলে বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেছে।

তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিয়াদের উত্তর আকাশে হুথিদের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

রিয়াদ তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত না করলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব ও তুরস্কের একটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া গেছে।

এর আগের দিন রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন বলে নিশ্চিত করে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সুদানি নাগরিকসহ মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নারী রয়েছেন।

লোহিত সাগর উপকূল ও কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে কেন্দ্র করে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে লড়াই জোরদার হওয়ায় পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সৌদির নিরাপত্তা রক্ষায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি সিরিয়ার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সৌদির নিরাপত্তা রক্ষায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি সিরিয়ার

সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে সিরিয়া।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের আনুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বার্তায় হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে কঠোরতম ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে জানায়, বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির এই তৎপরতা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিরিয়া সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিক ও অধিবাসীদের সুরক্ষায় সৌদি সরকার কর্তৃক নেওয়া সব বৈধ পদক্ষেপের প্রতি সিরিয়া পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের আবহা ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুজন নারীসহ তিন বিদেশি নাগরিক নিহত এবং আরও অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন।

এই সংহতির আবহেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা চলতি সপ্তাহে রিয়াদে সফরকালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বুধবারে অনুষ্ঠিত ওই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন, জ্বালানি, কৃষি ও বাণিজ্য খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিই প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে।

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোজান শিবারাসা নামের ওই যুবকের পরিবারের সাথে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। তার জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় এ ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো সময়সূচি প্রকাশ করেনি। কবে সাজা কার্যকর হবে, তা-ও জানা যায়নি। সৌদি আরবে অতীতে পরিবার বা বিদেশি দূতাবাসকে আগাম না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জুনের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার পর এক মুসলিম তরুণের একটি কুকুরকে লাথি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে অনলাইনে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়।

বিতর্কের একপর্যায়ে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

পরে তিনি মন্তব্যটি মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তা আনোজানের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুলাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করা হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোও মুছে দেয়।

আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসি বলেন, সৌদি আরবে কেউ প্রথমে বিষয়টি জানতেন না। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল পাঠানোর পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

পরে আনোজানকে প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। তার সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ।

এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় বড় পরিবর্তন আসে। সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে আনোজানের বিচার চেয়ে আপিল করে। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানকে সহায়তার জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সাথে দেখা করে। প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন, আনোজানের জন্য সাধারণ ক্ষমা আদায়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও বিভিন্ন সম্পদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়।

জিএসিএর তথ্য অনুযায়ী, আবহা বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সৌদি আরবের দুই নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। আহত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।

হামলার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিমানবন্দর দুটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং যাত্রী ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। আর আবহা বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই সৌদির গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিমানবন্দরে নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটল।