১১ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১১ জন নিখোঁজ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১১ জন নিখোঁজ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে একাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কয়েকটি অংশ থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিস্ফোরণে দুই জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। ঢাকা ও রিয়াদের কূটনৈতিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিৎ করা গেছে। তবে তারা বাংলাদেশি কর্মী নাকি উমরাহ যাত্রী ছিলেন তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪১ জন উমরাহ যাত্রীর একটি বড় গ্রুপ রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান ছিলেন। তারা সবাই বাংলাদেশি। হঠাৎ রিয়াদ বিমানবন্দরের ভবন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে।

সূত্র বলছে, ব্যালিস্টিক মিসাইলের হামলা করা হয়েছে এবং সেটি সরাসরি বিমানবন্দরের টার্মিনালে আঘাত হানে। এতে ব্যাপক যাত্রী হতাহত হয়।

সূত্র অনুসারে, মৃতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা গেছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া ১১ জন নিখোঁজ আছেন। সংশ্লিষ্টরা ধারনা করছেন হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জানা গেছে, উমরাহ যাত্রীরা সবাই ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের একটি মাদ্রাসা জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুমের শিক্ষক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বিমানবন্দরের ভেতরে বিস্ফোরণের পর মেঝেতে একাধিক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। এ সময় এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিরা শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানে। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরাসরি টার্মিনাল ৩-এ আঘাত করে, এতে অনেক হতাহত হয়।

সৌদি কর্মকর্তারা ডাব্লুএসজেকে নিশ্চিত করেছেন যে, রিয়াদের এই হামলা বিমানবন্দরের অন্যতম প্রধান স্থাপনা টার্মিনালে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ১২, কার্যক্রম স্থগিত

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ১২, কার্যক্রম স্থগিত
হামলার ঘটনার পর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াদ, সৌদি আরব, ১০ অক্টোবরছবি: রয়টার্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জন।

গতকাল শনিবারের এ হামলার বিষয়ে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যে এ হামলা চালানো হলো।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন হামলার বিষয়ে অবগত দুজন পশ্চিমা ও একজন আরব কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনায় বড় আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন

রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১১ জন নিখোঁজ

রিয়াদকে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করতে চান তিনি। এসব হামলায় আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সীমান্তের ওপারে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে সৌদি যুদ্ধবিমান। হুতিদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটিতে শত শত বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আল-বুখাইতি বলেন, হুতিরা এই হামলা চালিয়েছে ‘যেন বিশ্ব বুঝতে পারে ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজার বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা ক্ষতি করা উচিত নয়। ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য কোথাও একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম প্রযোজ্য হতে হবে।’

আরও পড়ুন

সৌদির বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ, বাংলাদেশ বিমানের রিয়াদগামী দুটি ফ্লাইট স্থগিত

হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একজন প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যান্য দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

আরও পড়ুন

রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১১ জন নিখোঁজ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১১ জন নিখোঁজ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে একাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কয়েকটি অংশ থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিস্ফোরণে দুই জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। ঢাকা ও রিয়াদের কূটনৈতিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিৎ করা গেছে। তবে তারা বাংলাদেশি কর্মী নাকি উমরাহ যাত্রী ছিলেন তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪১ জন উমরাহ যাত্রীর একটি বড় গ্রুপ রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান ছিলেন। তারা সবাই বাংলাদেশি। হঠাৎ রিয়াদ বিমানবন্দরের ভবন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে।

সূত্র বলছে, ব্যালিস্টিক মিসাইলের হামলা করা হয়েছে এবং সেটি সরাসরি বিমানবন্দরের টার্মিনালে আঘাত হানে। এতে ব্যাপক যাত্রী হতাহত হয়।

সূত্র অনুসারে, মৃতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা গেছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া ১১ জন নিখোঁজ আছেন। সংশ্লিষ্টরা ধারনা করছেন হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জানা গেছে, উমরাহ যাত্রীরা সবাই ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের একটি মাদ্রাসা জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুমের শিক্ষক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বিমানবন্দরের ভেতরে বিস্ফোরণের পর মেঝেতে একাধিক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। এ সময় এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিরা শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানে। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরাসরি টার্মিনাল ৩-এ আঘাত করে, এতে অনেক হতাহত হয়।

সৌদি কর্মকর্তারা ডাব্লুএসজেকে নিশ্চিত করেছেন যে, রিয়াদের এই হামলা বিমানবন্দরের অন্যতম প্রধান স্থাপনা টার্মিনালে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ভয়াবহ বিস্ফোরণ! অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ও অবরুদ্ধ আকাশপথ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ভয়াবহ বিস্ফোরণ! অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ও অবরুদ্ধ আকাশপথ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলীফাইল ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ধরনের এই বিস্ফোরণের পর পুরো বিমানবন্দর এলাকা থেকে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।

শনিবার বিকট একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই রিয়াদের মূল এই বিমানবন্দরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনার পর এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ভ্রমণে বের হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল হামলার দাবি করেছিল। গত শুক্রবার হুথিদের চালানো দুটি পৃথক হামলায় এক পাইলটসহ তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এছাড়া গত ৬ ও ৭ অক্টোবর সৌদির দুটি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় আরও তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই এই হামলাগুলো ঘটছে। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীকে যে সমর্থন দিয়ে আসছে, তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই হামলা চালাচ্ছে।

ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো হুথিরা দখল করার পর থেকেই মূলত পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। এর মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এবং লোহিত সাগরের সংকীর্ণতম বিন্দু বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মোখা বন্দরও রয়েছে। পরবর্তীতে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করে।

সূত্র: বিবিসি

হুথিদের হামলায় নিহত পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করল সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
হুথিদের হামলায় নিহত পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করল সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত বেসামরিক পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও একটি যাত্রীবাহী বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। এতে ওই পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সৌদি সরকার জানিয়েছে, নিহত পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আলকালথামি। তিনি রাষ্ট্রয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাইলট ছিলেন।

হুথিদের হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানও ধ্বংস হয়েছে।

বিমান সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই তারা জরুরি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে প্রয়োজনীয় যে পদক্ষেপ রয়েছে তা গ্রহণ করে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, হামলার সময় বিমানটিতে কোনো সাধারণ যাত্রী ছিলেন না।

এ ঘটনার পর গতকালই সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়ে বলে জানিয়েছে সৌদি সরকার।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিরা রিয়াদ বিমানবন্দরে দুটি হামলা চালায়। প্রথমে হামলায় টার্গেট করা হয় বিমানবন্দরের অবকাঠামো। আর দ্বিতীয় হামলায় একটি বিমানকে টার্গেট করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এই বিমানের পাইলটই হামলায় নিহত হয়েছেন।

বাদশাহ খালিদ বিমানবন্দরে হুথিরা একাধিকবার হামলা চালায়। এতে সুদানের এক নাগরিকসহ গত সপ্তাহে একাধিক মানুষ নিহত হন।

আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক আছে উল্লেখ করে সৌদির বেসমারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলেছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আর কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন।

সৌদি আরবে বিমান চলাচল বিপর্যস্ত: বন্ধ শত শত ফ্লাইট

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
সৌদি আরবে বিমান চলাচল বিপর্যস্ত: বন্ধ শত শত ফ্লাইট

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের একের পর এক হামলার প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের বিমান চলাচলে। রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার পর নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবারই বাতিল হয়েছে কয়েক ডজন ফ্লাইট। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে সিঙ্গাপুর এয়ার রিয়াদে নতুন ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে ২৮ মার্চ করেছে। ফিলিপাইন এয়ারলাইনস অন্তত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।

সৌদির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া ছাড়াও ইজিপ্টএয়ার, ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া রিয়াদ থেকে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ইয়েমেন থেকে ধারাবাহিক হামলার কারণে গত কয়েক দিনে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম কয়েক ঘণ্টা করে একাধিকবার বন্ধ রাখতে হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় সৌদিতে উড়োজাহাজ ওঠানামাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ৩৭৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ১৬৯টি বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি। একই সময়ে রিয়াদে আসার কথা ছিলো ৩৬৯টি ফ্লাইট। এর মধ্যে ১২৪টি বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি।

সৌদিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ

হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া। রিয়াদ থেকে তাদের নির্ধারিত ১৪০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৯৭টি বাতিল হয়েছে বা উড্ডয়ন করেনি। অন্যদিকে রিয়াদগামী সৌদিয়ার ১৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৮৭টিও বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি।

এ ছাড়া ফ্লাইনাসের রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ৯১টি বহির্গামী ফ্লাইটের মধ্যে ৩০টি এবং ফ্লাইএডিলের ৫৪টির মধ্যে ২০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। রিয়াদ এয়ারের ১৫টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে দুটি বাতিল বা বন্ধ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও বড় ধাক্কা

রিয়াদ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। টার্কিশ এয়ারলাইনসের নির্ধারিত চারটি ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি। কাতার এয়ারওয়েজের আটটির মধ্যে তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের চারটির মধ্যে দুটি এবং ওমান এয়ারের তিনটির মধ্যে একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি ফ্লাইটের একটিও পরিচালিত হয়নি। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, ফিলিপাইন এয়ারলাইনস, ইয়েমেনিয়া ও এজেটের একটি করে নির্ধারিত ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি।

রিয়াদে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর পরিস্থিতিও প্রায় একই। টার্কিশ এয়ারলাইনসের চারটি নির্ধারিত আগমন ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে। ইজিপ্টএয়ারের চারটির মধ্যে দুটি, গালফ এয়ারের পাঁচটির মধ্যে একটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের তিনটির মধ্যে একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে ক্যাথে প্যাসিফিক দুবাই ও রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি এয়ারলাইনেও। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে তারাও অঞ্চলটিতে ফ্লাইট পরিচালনা সীমিত রেখেছে।